Articles by "খাবার ও রেসিপি"
Showing posts with label খাবার ও রেসিপি. Show all posts

সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম বাড়ায় বিপদে পড়েছেন বাড়ির গৃহিনীরা। সাধ থাকলেও হয়তো অনেক সময় ভালো কিছু রেঁধে খাওয়াতে পারছেন না প্রিয়জনদের। সাধ্যে কুলাচ্ছে না পেঁয়াজের যথেচ্ছ ব্যবহার।

অনেকেরই ধারণা, পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া মাছ-মাংস রান্না করা একদমই অসম্ভব। কিন্তু সে ধারণা ঠিক নয়। আজকের রেসিপিতে থাকছে পেঁয়াজ-রসুন ছাড়াই মাংস রান্নার সমাধান।
‘কাশ্মীরি মাটন’ ভোজনরসিকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই রেসিপিটিকে ‘মাটন রোগানজোস’-ও বলা হয়। কাশ্মীরি মশলা ও মরিচের ঝাঁজে রেসিপিটি তৈরি হবে পেঁয়াজ রসুন ছাড়াই।
কাশ্মীরি এই পদটির আগমন মোগলদের হাত ধরে। গরম ভাত বা নানের সঙ্গে লা-জবাব এই রেসিপি।
চলুন তবে জেনে নেয়া যাক রেসিপিটি:

উপকরণ:
মাটন ১ কেজি
সরিষার তেল ৪ টেবিল চামচ
ছোট এলাচ ৪/৫ টি
দারচিনি ২/৩ টি
লবঙ্গ ৫/৬ টি
বড় এলাচ ২টি
তেজপাতা ২/৩ টি
টকদই ১ কাপ
হিং ১ চা চামচ
কাশ্মীরি মরিচ গুড়া ২ টেবিল চামচ
শুকনা মরিচ গুড়া ১ টেবিল চামচ
মৌরি গুড়া ১ টেবিল চামচ
শুকনা আদা গুড়া ১ টেবিল চামচ
ধনে গুড়া ১ টেবিল চামচ
লবণ স্বাদ মতো
গরম মশলা গুড়া ১ টেবিল চামচ
রতনযোগ পরিমাণ মতো (রংয়ের জন্য)

প্রণালী:
প্রেসার কুকারে সরিষার তেল ঢেলে ধোঁয়া ওঠা পর্যন্ত গরম করুন। তারপর কুকারটি গ্যাস থেকে নামিয়ে রেখে সমস্ত গোটা মশলার ফোড়ন দিন।
পুনরায় কুকারটি গ্যাসে চড়ান। এরপর সেদ্ধ করে রাখা মাটন দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। মাটন হালকা ভাজা হয়ে গেলে তাতে ফেটানো টক দই দিন।
এরপর একে একে সব গুঁড়া মশলা যোগ করে অল্প আঁচে ভাল করে কষান।
মশলা থেকে তেল ছেড়ে এলে তাতে গরম পানি মিশিয়ে নাড়াচাড়া করুন।
স্বাদ মতো লবণ দিন।
গ্রেভির লাল রঙের জন্য যোগ করুন পরিমাণ মতো রতনযোগ।
প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে ৩ থেকে ৪ সিটি ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
সবশেষে গরম মশলার গুঁড়া মিশিয়ে নামিয়ে নিন।
ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু কাশ্মীরি মাটন। গরম ভাত, পরোটা বা নানরুটির সঙ্গে পরিবেশন করুন।
রেসিপিটি গরুর মাংস, মুরগি বা মাছ দিয়েও ট্রাই করতে পারেন।

মিষ্টির দোকানগুলোতে সাধারণত দুধের সানা দিয়ে তৈরি করা হয় রসগোল্লা। বাসায়ও অনেকে এটি তৈরি করে থাকেন। তবে ছানা তৈরি কিছুটা ঝামেলার এবং সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বাসায় রসগোল্লা তৈরির ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে চান না অনেকে। কিন্তু আপনি চাইলে সুজি দিয় বাসায় বসে সহজেই তৈরি করে ফেলতে পারেন মজাদার রসগোল্লা।

উপকরণ: 

দুধ, ঘি, চিনি, সুজি, পানি।

পদ্ধতি: মিডিয়াম আচে চুলায় একটা প্যান বসান। তাতে দিয়ে দিন দুই কাপ পরিমাণ (আপনার চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারেন) লিকুইড দুধ। ফুলক্রিম দুধ হলে ভালো হয়। দুধটা হালকা ফুটে উঠলে এক চা চামচ ঘি এবং আধা কাপ চিনি দিয়ে দিতে হবে। দুয়েক মিনিট ভালোভাবে নেড়ে চিনি এবং ঘি দুধের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। চিনিটা গলে দুধটা হালকা ফুটে উঠলে তার মধ্যে সুজি দিয়ে দিন। একবারে ঢেলে দেয়া যাবে না। অল্প অল্প করে ঢালতে হবে এবং অনবরত নাড়তে হবে। তাহলে দুধের মধ্যে সুজিগুলো দলা বেঁধে যাবে না। এরপর চুলার আঁচ মিডিয়াম লো করে দিয়ে অনবরত নাড়াচাড়া করে ভালোভাবে জাল দিয়ে নিতে হবে। এরমধ্যে একটু এলাচের গুড়া বা আস্ত এলাচ দিয়ে দিতে পারেন।

অনবরত নাড়তে নাড়তে এটা আঠালো ভাব হয়ে আসলে এবং প্যানের গা ছেড়ে দেয়ার মতো হয়ে আসলে বুঝতে হবে ডো তৈরি হয়ে গেছে। এবার চুলা অফ করে নামিয়ে নিন। এটাকে একটু ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। গরম অবস্থায় মিষ্টিগুলো তৈরি করা যাবে না।


চিনির শিরা তৈরি: চুলায় একটি প্যানে দুই কাপ পরিমাণ পানির মধ্যে এক কাপ পরিমাণ চিনি দিয়ে দিতে হবে। পানির সঙ্গে নেড়েচেড়ে চিনিটাকে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। একটু বলক উঠলেই চুলার আচ একেবারে কমিয়ে রেখে দিতে হবে।

গোল্লা তৈরি: আগে থেকে বানিয়ে রাখা ডো-টা ঠাণ্ডা হয়ে গেলে দুই হাতে একটু তেল বা ঘি মেখে নিয়ে ডো দিয়ে বলের মতো তৈরি করে নিতে হবে। বলগুলোর সাইজ আপনার পছন্দমতো করতে পারেন।

এরপর চুলায় আলতো আচে ফুটতে থাকা চিনির শিরার মধ্যে গোল্লাগুলোকে দিয়ে দিতে হবে। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ৭-৮ মিনিট জাল করিয়ে নিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ঢাকনা খোলা যাবে না। এরমধ্যেই মিষ্টিগুলো কিছুটা ফুলে নরম হয়ে যাবে।

এবার চুলাটি বন্ধ করে মিষ্টিগুলোকে প্যান থেকে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে পছন্দের একটি নাম ছানার সন্দেশ। খুব সহজেই এটি তৈরা করা যায় এবং খেতেও সুস্বাদু বলে অনেকেই বাড়িতে তৈরি করেন ছানার সন্দেশ। রেসিপি জানা থাকলে তৈরি করতে পারেন আপনিও।

বিভিন্নরকম পদ্ধতিতে সন্দেশ তৈরি করা যায়। আজকের রেসিপিতে দেখুন ভাপা সন্দেশ তৈরির পদ্ধতি।

ছানার উপকরণ:
গরুর দুধ আধা কেজি, লেবু রস বা ভিনেগার হাফ কাপ।

ছানা বানানোর প্রণালী:
দুধ চুলায় দিয়ে জ্বাল দিতে হবে।
দুধ ফুটে উঠলে চুলা থেকে নামিয়ে কিছুক্ষণ পর লেবু রস বা ভিনেগার দিয়ে দেন।
যতক্ষণ দুধ ও ছানা আলাদা হয়ে সবুজ আভা দেখা না যায় ততক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। কিছুক্ষণ পর ছানা ভালো করে ধুয়ে পাতলা সুতি কাপড়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে পানি ঝরার জন্য। ছানার পানি ঝরে গেলে একটি বাটিতে ছানা তুলে রাখতে হবে।

সন্দেশ বানানোর উপকরণ:
১৫০ গ্রাম শুকনো ছানা ৮০ গ্রাম গুঁড়ো চিনি ৫০ গ্রাম ক্ষীর সামান্য জ়াফরান ২টা কলাপাতা ৫টি পেস্তা ২০ গ্রাম ভাঙা কাজু আধা চা চামচ গোলাপজল

পদ্ধতি:
ছানা আর ক্ষীরটা খুব ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে একটা বাটিতে রাখুন। এবার একে একে চিনি, কাজু, গোলাপজলটাও মিশিয়ে দিন এর মধ্যে। মিশ্রণটাকে ৮ ভাগে ভাগ করুন, খুব পাতলা হয়ে গেলে সামান্য ময়দা মিশিয়ে নিতে পারেন। তবে মিষ্টিতে ময়দা মেশানোর সময় খুব সাবধান, মাপের এদিক-ওদিক হলে কিন্তু স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে। প্রতিটি ভাগকে চৌকো আকার দিয়ে কলাপাতায় মুড়ে নিন। 

মোড়ার আগে কলাপাতাটা একটু সেঁকে নিলে মুড়তে সুবিধে হবে। কলাপাতাটা বেঁধে নিন সুতো দিয়ে, তা না হলে সন্দেশ বেরিয়ে আসবে। রঙের জন্য এক সুতো করে জ়াফরান দিতে পারেন সন্দেশের উপর। এবার মাঝারি আঁচে ৪/৫ মিনিট ভাপিয়ে নিলেই রেডি আপনার ভাপা সন্দেশ। ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।

এই রেসিপি খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এবং বানাতেও সময় লাগে খুবই কম। খুব কম সময়ে এই পুষ্টিকর খাবারটি বানাতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:
ছোলা ৫০ গ্রাম, টমেটো ১/২টা, আলু সেদ্ধ, পেয়াজ টুকরো করা, রসুন, মরিচগুড়ো ১ চামচ, কাঁচামরিচ ১টা, লবণ স্বাদমতো, চাট মশলা ১ চামচ, পুদিনা পাতা কুচি ১ চামচ, তিল ২ চামচ, লেবুর রস ১ চামচ, তেঁতুল গোলা ২ চামচ, পেয়াজের পাতা টুকরো করে কাটা ১ চামচ,

যেভাবে বানাবেন:
একটি পাত্রে সেদ্ধ ছোলা ও মটর দিন। তার সাথে পেঁয়াজ কুচি, টমেটো কুচি ও সেদ্ধ আলুর টুকরো মিশিয়ে দিন। কাঁচা লঙ্কা কুচি মিশিয়ে, সেদ্ধ করা মটর মিশিয়ে দিন। স্বাদানুসারে লবণ ও মরিচের গুঁড়ো দিন, তাতে চাট মশলা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে দিন। এতে রসুনের কোয়া, তিল, লেবুর রস, তেঁতুল গোলা, পুদিনার চাটনি মিশিয়ে ভালো করে নেড়ে নেবেন। ভালো করে মিশিয়ে, ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন।

শীত আসছে। বাজরও সাজছে হরেক রকমের সবজিতে। মৌসুমি এসব সবজি যেমন পুষ্টিকর তেমন স্বাদে অনন্য। পছন্দের সবজিগুলো দিয়ে রান্না করুণ স্বাস্থ্যকর নিরামিষ।

উপকরণ: 

তেল ৩ টেবিল চামচ, মিষ্টি জিরা ১ চা চামচ, লাল মরিচ ১টি, রসুন কুচি ১/৪ কাপ, পেয়াজ কুচি ১ কাপ, কাচা মরিচ ৪টি, লবণ স্বাদমতো, হলুদ ১ চা চামচ।

সবজি:
ফুলকপি, ব্রুকলী, শিম, গাজর, কর্ণ (ভুট্টা), মটরশুঁটি, টমেটো, ধনে পাতা। অথবা আপনার পছন্দের যেকোনো সবজি।

পদ্ধতি:
মিডিয়াম আচে চুলা জ্বালান। একটি প্যানে তেল দিয়ে তার মধ্যে জিরা, লাল মরিচ এবং রসুন কুচি দিয়ে একটু ভেজে নিন। এগুলো কিছুটা লালচে রং ধারণ করলে এরমধ্যে পেয়াজ কুচি এবং কাচা মরিচ কুচি দিয়ে দিন। লবণ হলুদ দিয়ে আরো কিছুক্ষণ ভাজুন। এরপর সামান্য পানি দিয়ে টমেটোর টুকরোগুলো দিয়ে দিন। 


কিছুক্ষণ জাল দিয়ে টমেটো সিদ্ধ হয়ে আসবে। এরপর আগে থেকে মিডিয়াম সাইজে কেটে রাখা সবজিগুলো প্যান বা কড়াইয়ে দিয়ে দিন। এভাবেই কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে একটু ভেজে নিয়ে এরমধ্যে পানি দিয়ে দিন। পানি যেনো খুব বেশি না হয়ে যায়। এরপর কড়াইটি সম্পূর্ণ ঢেকে দিয়ে কয়েক মিনিট মিডিয়াম আচে জাল দিন। নামিয়ে ফেলের আগ মুহূর্তে ধনেপাতার কুচিগুলো দিয়ে দিন। এরপর কড়াই থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

গ্রাম-বাংলার দারুণ সুস্বাদু শৈল মাছের পাতুরি। তবে শহরে এসব রান্না প্রায় হয় না বললেই চলে। যারা এই মজার রান্নাটি করতে চান তাদের জন্যই থাকছে রেসিপিটি। দেখে নিন শৈল মাছের পাতুরি রান্নার পুরো প্রণালী।


শৈল পাতুরি রান্নার উপকরণ যা যা লাগবে:

১. শৈল মাছ ছোট ছোট টুকরা করা

২. পেয়াজ বাটা ১ চা চামচ

৩. রসুন বাটা ১/২ চা চামচ

৪. সাদা সর্ষে বাটা ১ টেবিল চামচ

৫. কাচা মরিচ বাটা ১ চা চামচ

৬. আস্ত কাচা মরিচ ৫/৬ টি

৭. হলুদ গুড়া ১/২ চা চামচ

৮. লবন স্বাধমত

৯. সরিষার তেল ৩ টেবিল চামচ

যেভাবে রান্না করবেন শৈল পাতুরি:

মাছের সঙ্গে সব মশলা মাখিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। মাখানো মাছ কলাপাতায় সুতো দিয়ে বেধে একটি গরম পানে হালকা তেল দিয়ে পাতার ২ পাশ ভালোভাবে পুড়ে গেলে নামিয়ে নিয়ে হবে। ব্যস, ঝটপট হয়ে গেল শৈল মাছের পাতুরি। এবার গরম গরম পরিবেশন করুন ।

নারকেল কোরানো বেশ ঝামেলার কাজ। কিন্তু খুব সহজ একটি পদ্ধতিতে এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন।

চলুন জেনে নেয়া যাক সেই উপায়টি:

প্রথমে বড় সাইজের একটি নারিকেল নিন। নারকেল ভেঙ্গে পানি বের করে নিন।
একটি বড় পাত্রে পানি ফুটতে দিয়ে তাতে নারকেলগুলো নৌকার মতন ভাসিয়ে দিন। খেয়াল রাখবেন নারকেল যেন ডুবে না যায়। তাহলে নারকেলের স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে।

১০ মিনিট ফুটন্ত পানির উপরে নারকেলটি রাখতে হবে। ১০ মিনিট পর পানি থেকে বের করে নিন। এবারে একটি ছুরি দিয়ে সামান্য চাপ দিতেই দেখবেন নারকেলের শাঁস কোনো ঝামেলা ছাড়াই মালা থেকে উঠে আসছে।

এবার পিলার দিয়ে নারকেলের শক্ত অংশ পরিষ্কার করে নিন। তারপর নিজের পছন্দের আকারে কেটে নিন।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। এই প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে বহুকাল থেকে বাঙ্গালীর ইলিশ প্রীতির কথা সুবিদিত। 

সর্ষে ইলিশ, ইলিশ পোলাও, ইলিশ দোপেয়াজা, ইলিশ পাতুরি, ইলিশ ভাজা, ভাপা ইলিশ, স্মোকড ইলিশ, ইলিশের মালাইকারী - এমন নানা পদের খাবার বাংলাদেশে জনপ্রিয়।

কিন্তু এত ভালোবাসার পরেও ইলিশের ভালো-মন্দ নিয়ে ধন্দে থাকেন কম বেশি সবাই। মানে কোন ইলিশ ভালো, কোন ইলিশের স্বাদ বেশী, কোন ইলিশ নদীর আর কোনটাই বা সমুদ্রের ইলিশ। 

নদীর ইলিশ বনাম সাগরের ইলিশ
সরকারের মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের ইলিশ বিষয়ক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান বলছেন, ইলিশ সারা বছর সাগরে থাকে। শুধু ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে। 

"দুইটি ইলিশই টর্পেডো আকারের। কিন্তু নদীর ইলিশ একটু বেঁটেখাটো হবে, আর সাগরের ইলিশ হবে সরু ও লম্বা। 

সেই সঙ্গে নদীর ইলিশ বিশেষ করে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ একটু বেশি উজ্জ্বল। নদীর ইলিশ চকচকে বেশি হবে, বেশি রুপালী হবে রং। সাগরের ইলিশ তুলনামূলক কম উজ্জ্বল।" 

এছাড়া নদীর ইলিশ বিশেষ করে পদ্মা-মেঘনা অববাহিকার ইলিশ মাছের আকার হবে পটলের মতো অর্থাৎ মাথা আর লেজ সরু আর পেটটা মোটা হতে হবে। 

এক্ষেত্রে লেজের একটু উপর থেকেই মাছটা গোল হতে শুরু করবে। নদী আর সাগরের ইলিশ মাছের আসল পার্থক্য বোঝা যাবে খাওয়ার সময়। 

নদীর ইলিশ বেটে-মোটা কেন হয়?
সাগর থেকে ইলিশ যখন ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে, মানে উজানে আসে তখন নদীর যে প্ল্যাংটন বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী খায় ইলিশ মাছ তার কারণে তার শরীর বেটে ও মোটা হয়। 

এই খাবারের কারণেই ইলিশের শরীরে এক ধরণের চর্বি জমে, যা তার আকৃতিকে সাগরের ইলিশের চেয়ে আলাদা করে। 

কোন ইলিশ বেশী স্বাদের?
ভোজন রসিকেরা মনে করেন, নদীর ইলিশ আর সাগরের ইলিশের মধ্যে স্বাদে অনেক পার্থক্য আছে। 

তবে খাদ্য বিষয়ক লেখক ও গবেষক শওকত ওসমান মনে করেন ইলিশের সব ধরণই স্বাদের। 

ইলিশ মাছ আকারে যত বড় হবে, তত তার স্বাদ বেশি হয়। আকারে বড় ইলিশকে অনেকে পাকা ইলিশ বলে অভিহিত করে থাকেন। 

"সমুদ্র থেকে ইলিশ নদীতে ঢোকার পরে নদীর উজানে মানে স্রোতের বিপরীতে যখন চলে, সেসময় এদের শরীরে ফ্যাট বা চর্বি জমা হয়। এই ফ্যাট বা তেলের জন্যই ইলিশের স্বাদ হয়।" 

বর্ষাকালে পাওয়া ইলিশের স্বাদ বেশি হয়। বর্ষার মাঝামাঝি যখন, ইলশে গুড়ি বৃষ্টি হয়, সেই সময়ে নদীতে পাওয়া ইলিশের স্বাদ সবচেয়ে বেশি। 

লোনা পানি ও মিঠা পানিতে বসবাসের কারণেও ইলিশের স্বাদে কিছুটা পার্থক্য হয়। আর সেক্ষেত্রে নদীর ইলিশের স্বাদই বেশি হয়। 

এছাড়া ডিম ছাড়ার আগ পর্যন্ত ইলিশের স্বাদ বেশি থাকে। ডিমওয়ালা ইলিশে মাছের পেটি পাতলা হয়ে যায়, এবং চর্বি কমে যায়---এ কারণে স্বাদ কমে যায়। 

ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে ইলিশ
পৃথিবীর মোট ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ উৎপন্ন হয় বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারসহ নানা-দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়। 

এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত পদ্মার ইলিশ। পদ্মার ইলিশের এই ব্যাপক খ্যাতির কী কারণ? 

পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় যে ধরণের খাবার খায় ইলিশ, এবং পানির প্রবাহের যে মাত্রা তার ফলে এর শরীরে উৎপন্ন হওয়া চর্বিই এর স্বাদ অন্য যেকোন জায়গার ইলিশের চেয়ে ভিন্ন করেছে। 

ইলিশের জীবনচক্রের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ইলিশ সমুদ্র থেকে এসে নদীতে ডিম ছাড়ার পর বাচ্চা ইলিশ আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। 

এবং তার যখন আবার প্রজনন মৌসুম আসে, অর্থাৎ ডিম ছাড়ার সময় হয়, সে তখন যেখানে তার জন্ম সেখানে ফিরে যায়। 

ফলে বছরের পর বছর ধরে পদ্মার ইলিশের সুখ্যাতি বজায় রয়েছে। 

ডিমওয়ালা ইলিশ আর ডিমছাড়া ইলিশ কিভাবে চিনবেন?
বাজারে ইলিশ সংক্রান্ত যেসব আলাপ প্রচলিত, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডিমওয়ালা ইলিশ আর ডিমছাড়া ইলিশ কেমন করে চেনা যাবে? 

সাধারণত অগাস্ট মাসের পর থেকে শুরু হয় ইলিশের ডিম ছাড়ার মৌসুম, চলবে সেপ্টেম্বর অক্টোবর পর্যন্ত। তবে এখন তো বারোমাস বাজারে ইলিশ পাওয়া যায়। 

"ডিমওয়ালা ইলিশের পেটমোটা হবে এবং এটা চ্যাপ্টা হয়ে থাকে। 

এছাড়া ডিমওয়ালা ইলিশের পেট টিপলেই মাছের পায়ুর ছিদ্র দিয়ে ডিম বেরিয়ে আসবে। আর ডিম ছাড়া মাছের পেট আলগা বা ঢিলা থাকবে।" 

কোন্ ইলিশ কিনবেন না?
ইলিশের খ্যাতি এর স্বাদের জন্যই। ফলে ছোট ইলিশ বা জাটকা কখনোই কেনা উচিত নয়। 
কারণ ওগুলোর স্বাদ হয় না। 

এছাড়া ইলিশ যদি দীর্ঘদিন কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে এর স্বাদ কমে যায়। 

এটা চিনতে হলে খেয়াল রাখতে হবে এই মাছের ঔজ্জ্বল্য কম থাকবে। 

এছাড়া একটু নরম মাছ দেখলে বুঝবেন সেটা কয়েকদিন আগের আনা বাসি মাছ। 

ইলিশের উপকার
বাংলাদেশের জিডিপিতে এর অবদান এক শতাংশের মত। 

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের তথ্যানুযায়ী এই মূহুর্তে দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। 

বাংলাদেশে গত এক দশকে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। 

ফলে রসনা তৃপ্তির সাথে সাথে দেশের অর্থনীতির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে ইলিশ। 

এছাড়া ইলিশ মানব স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বলে জানান মৎসবিজ্ঞানীরা। 

"ইলিশ মাছে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, পটাশিয়াম। এই মাছ খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে, মস্তিষ্কের গঠন ভালো হয়, রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাক, এবং বাত বা আর্থারাইটিস কম হয়। ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারও কম হয়।" 

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
কেবল খাবার খাবার পাতে নয়, সাহিত্যে এমনকি কূটনীতিতেও ইলিশ প্রসঙ্গ উঠে এসেছে অনেকবারই। 

মাত্র গত মাসেই অর্থাৎ জুলাই মাসের শুরুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বিধানসভায় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্তব্য করেছিলেন যে, ভারত তিস্তার পানি না দেয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। 

এমনকি বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে ২০১৭ সালে ইলিশ মাছ স্বীকৃতি পেয়েছে। 

ফলে বাঙ্গালীর ইলিশ প্রীতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও মিলেছে। 

যদিও বেশি কাঁটা ও গন্ধের কারণে বাকী পৃথিবীর কাছে ইলিশের সমাদর তেমন নয়।

পেঁয়াজ নেই, এমন কোন রান্না ঘর হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ কোন রান্না শুরু করার আগে, কড়াইতে তেল দেয়ার পরপরই সাধারণত: যে উপাদানটি ব্যবহার করা হয় সেটি পেঁয়াজ। 

শুধু অন্য রান্নার অনুষঙ্গ নয়, কাঁচা খেতেও পেয়াজ বেশ সুস্বাদু। এছাড়া সরাসরি কাঁচা পেঁয়াজ, ভর্তা, আচার এবং সালাদ হিসেবেও পেঁয়াজের কদর কম নয়।


পেঁয়াজের রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগুণও। সব কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ তো বটেই বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চাহিদা রয়েছে পেঁয়াজের। 

তবে, বেশ কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজারে ঝাঁজ বাড়ছে। 

রবিবার, ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের রপ্তানি নীতি সংশোধন করে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর বাংলাদেশের বাজারে ঘণ্টার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেয়াজের দাম। 

পেঁয়াজ আসলে কী?
পেঁয়াজ আসলে কোন সবজি নয়। এটি আসলে একটি মশলা জাতীয় উদ্ভিদ। 

এর বৈজ্ঞানিক নাম এলিয়াম সেপা। 

এই বর্গের অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে রসুন, শ্যালট, লিক, চাইব এবং চীনা পেঁয়াজ। 

রসুনের মতোই এর গোত্র হচ্ছে লিলি। 

পেঁয়াজ কোথায় উৎপন্ন হয়? 
এটি এমন একটি উদ্ভিদ যা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই উৎপাদিত হয়। তবে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় ভারত এবং চীনে। 

'সেসব দেশগুলোতেই প্রধানত পেঁয়াজ হয় যেখানে বেশি বৃষ্টি হয় না। পাশাপাশি হাল্কা শীত থাকে। সেজন্যই বাংলাদেশে পেঁয়াজ হয় শীতকালে। সেসময় দামও কম থাকে'। 

বাংলাদেশে কী ধরণের পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়? 
বাংলাদেশে যে সব এলাকায় শীত বেশি থাকে সেসব এলাকায় পেঁয়াজ বেশি জন্মায

বাংলাদেশ এলিয়াম সেপা বা পেঁয়াজ যা মূলত একটি বাল্ব সেটাই উৎপাদিত হয়ে থাকে। আমাদের দেশের পেঁয়াজ তেমন বড় হয় না"। 

আকারে বড় না হলেও বাংলাদেশের পেঁয়াজের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি ঝাঁজালো বেশি হয়। কারণ এতে এলিসিনের মাত্রাটা বেশি থাকে। যা রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। 

এর জন্য আমাদের রান্নাটাও অনেক বেশি মজা হয়। 

বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকায় সারা বছর পেয়াজ উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর জন্য বৃষ্টি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পলি-টানেল বা গ্রিন হাউজ তৈরি করে পেঁয়াজ উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

পেঁয়াজের খাদ্যগুণ কী কী?


পেঁয়াজ আসলে মশলা জাতীয় খাবার। এর মূল উপাদান পানি, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার। 

তবে পেঁয়াজে পানির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি-প্রায় ৮৫%। এছাড়াও পুষ্টিগুণ বলতে গেলে, ভিটামিন সি, বি এবং পটাসিয়াম থাকে। 

পেঁয়াজের খোসা ছাড়ালে যে গাঢ় বেগুনি রঙের একটি আস্তরণ পাওয়া যায় এতে বেশি পরিমাণে এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ নিবারণ করে এমন উপাদানও রয়েছে পেঁয়াজে। এটি হাড়েরও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। 

শরীরে পটাসিয়াম এবং মিনারেল বা খনিজের চাহিদা পূরণের একটি ভালো উৎস পেয়াজ। এই উপাদানগুলোই পেয়াজে অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। 

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। 

ডায়েটারি ফাইবার থাকে অনেক বেশি যা প্রায় ১২%। পেয়াজে মধ্যে কোন ফ্যাট নাই। 

এছাড়া পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি এবং আয়রন পাওয়া যায়। 

রান্নায় পেঁয়াজ কী স্বাদ যোগ করে?
যেহেতু সালফার উপাদান থাকে তাই এটি রান্নায় এক ধরণের ঝাঁজালো স্বাদ যোগ করে"। 

তবে নিজস্ব স্বাদ যোগ করার ছাড়াও রান্নায় পেঁয়াজের সব চেয়ে বড় কাজ হচ্ছে, রান্নার অন্যান্য উপকরণের স্বাদ অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়। 

পেয়াজ তিতা, টক, মিষ্টি বা ঝাল এমন ধরণের কোন স্বাদ যোগ করে না। তবে সালফার কম্পোনেন্ট থাকায় পেয়াজ খাবারের যেকোনো স্বাদকে অনেক বেশি তীব্র করে। 

বেশিক্ষণ রান্না করলে পেঁয়াজে থাকা ভিটামিন নষ্ট হলেও অন্য উপাদানগুলো ঠিক থাকে। 

পেঁয়াজ দীর্ঘক্ষণ রান্না করলে খাদ্যগুণ কি নষ্ট হয়ে যায়?
পেঁয়াজে নানা ধরণের ভিটামিন ও প্রাকৃতিক তেল থাকে যা রান্নার পর নষ্ট হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়। 

তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, পেয়াজে ভোলাটাইল কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো নাকে-মুখে লাগে সেগুলো হয়তো নষ্ট হয়। কিন্তু পেঁয়াজের অন্য উপাদানগুলো নষ্ট হয় না। 

খোলা রান্না করলে বা কেটে খোলা রাখলে পেয়াজের খাদ্যগুণ নষ্ট হয় না। তবে সালফার কম্পোনেন্ট কমে আসে। রান্নার পর খোলা অবস্থায় রাখলে কোন সমস্যা হয় না। 

তবে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে খাদ্যগুণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে মধ্যম তাপমাত্রায় পেঁয়াজ রান্না করার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। 

পেঁয়াজের গুনাগুণ পেতে হলে কাঁচা পেয়াজে খাওয়ার অভ্যাস বেশি করতে হবে বলেও জানান তিনি। 

পেঁয়াজ কাটলে চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন?
পেঁয়াজ কেটেছেন কিন্তু চোখে পানি আসেনি এমনও কাউকে খুঁজে পাওয়া বেশ দুরূহ। 

পেঁয়াজের ভলাটাইল কম্পাউন্ড যা এলিসিন নামে পরিচিত, এটি পেঁয়াজের ঝাঁঝের জন্য দায়ী। আর কাটার সময় এটি চোখে লাগে বলেই চোখ জ্বালাপোড়া করে এবং পানি পড়ে। 

জাপান বা অন্য দেশে পেঁয়াজ বড় মাপের হয় এবং সেগুলোতে এলিসিনের মাত্রা কম থাকার কারণে সেখানে পেঁয়াজ কাটলে চোখ জ্বলে না। 

এসব দেশে পেয়াজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাঁচা খাওয়া হয় সবজি হিসেবে।

পেঁয়াজের রয়েছে নানা ধরণের ঔষধি গুণ
পেঁয়াজের ঔষধি গুণ কী?
বিবিসি গুড ফুড তাদের প্রতিবেদনে বলছে, ঐতিহাসিকভাবে পেঁয়াজের রয়েছে ঔষধি ব্যবহার। প্রাচীন আমলে কলেরা এবং প্লেগের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হতো পেঁয়াজ। 

রোমান সম্রাট নিরো ঠাণ্ডার ওষুধ হিসেবে পেঁয়াজ খেতেন বলেও শ্রুতি রয়েছে। 

অনেক সময় এটি কিছু কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখা, ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে পেঁয়াজের ব্যবহার দেখা যায়। 

পেঁয়াজ কাঁচা খেলে সর্দি-কাশি খুব কম পরিমাণে হয়। এটা মানুষের শরীরকে রোগ-প্রতিরোধক হিসেবে হিসেবে করে। 

পেঁয়াজের গন্ধ দূর করবেন কীভাবে? 
অনেক সময় পেঁয়াজ কাটলে বা কাঁচা পেঁয়াজ খেলে হাতে এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়। এর জন্য অনেক সময়ই পেঁয়াজকে এড়িয়ে চলি আমরা। 

তবে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলেই পেঁয়াজের এই দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

হাতে গন্ধ হলে পেঁয়াজ কাটার পর প্রথমে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। তার পর লবণ দিয়ে হাত কচলে আবার ধুয়ে ফেলতে হবে। এবার সাবান এবং গরম পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিলে থাকবে না কোন গন্ধ। 

নিঃশ্বাসের গন্ধ দূর করতে হলে ধনিয়াপাতা বা একটি আপেল খেয়ে নিলে দূর হবে তাও।


বর্তমানে বাজারে প্রচুর লটকন পাওয়া যায়। ফলটি পুষ্টি গুনে ভরা সেই সঙ্গে এটির দামও তুলনামূলক কম। এছাড়াও এই ছোচ ফলটি আরো অনেক গুণের গুনান্বিত। লটকনের আরো অনেক নাম রয়েছে। তবে বেশিরভাগ মানুষই ফলটিকে লটকন হিসেবেই জানে।

১. লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ আছে। সিজনের সময় প্রতিদিন দুই-তিনটি লটকন খাওয়া মানেই আমাদের দৈনন্দিন ভিটামিন ‘সি’র চাহিদা পূরণ হওয়া। এ ছাড়া এ ফলে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে চর্বি, আমিষ, লৌহ ও খনিজ পদার্থ।

২. লটকন গাছের শুকনো গুঁড়ো পাতা ডায়রিয়া বেশ দ্রুত উপশম হয়। এর গাছের পাতা ও মূল খেলে পেটের পীড়া ও পুরান জ্বর নিরাময় হয়। এমনকি গনোরিয়া রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এ ফলের বীজ।

৩. প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনের কোয়ায় খাদ্যশক্তি থাকে প্রায় ৯২ কিলোক্যালরি। অবাক বিষয় হলো এতে ক্যালরি আছে আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের প্রায় দ্বিগুণ।

৪. লটকনে আছে প্রচুর পরিমাণে নানা ধরনের ভিটামিন ‘বি’। এতে ভিটামিন বি-১ এবং ভিটামিন বি-২ আছে যথাক্রমে ১০ দশমিক ০৪ মিলিগ্রাম এবং ০.২০ মিলিগ্রাম। ফলে পাকা লটকন খাদ্যমানের দিক দিয়ে খুবই সমৃদ্ধ।

৫. লটকনে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম যা দেহ গঠন ও কোষকলার সুস্থতায় কাজে লাগে। এইসব উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৬. লটকন খেলে বমি বমি ভাব দূর হয় সহজেই। তৃষ্ণাও নিবারণ করে। মানসিক চাপ কমায় এ ফল। এর গাছের ছাল ও পাতা খেলে চর্মরোগ দূর হয়।
ক্লান্তি দূর করে কর্মব্যস্ত জীবনে কর্মোদ্যম থাকতে এক কাপ চা অনেকের কাছেই বেশ পছন্দের।তাই দিনের শুরুতে কিংবা পড়ন্ত বিকালে এক কাপ ধোঁয়া উঠা চায়ের জুড়ি নেই।

কিন্তু শরীরের জন্য কোন চা ভালো তা অধিকাংশ মানুষই জানেন না।এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, চায়ে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের জন্য উপকারী।
এই ফ্ল্যাভোনয়েড বেশি পাওয়া যায় হালকা জাল এর রং চা-তেই।ঐ গবেষণায় এছাড়া আরও বলা হয়, রং চা রক্তনালীর প্রসারণ ঘটায় যা উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
তাছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও রং চা উপকারী কারণ এটি কোষ থেকে সাধারণের তুলনায় প্রায় ১৫ গুণ বেশি ইনসুলিন নিঃসৃত করে এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে থাকে।
এছাড়া দুধ চা কিংবা অনেকক্ষণ জ্বাল দেওয়া চাপাতা থেকে ট্যানিন নিঃসৃত হয় যা ক্যানসারের অন্যতম উপাদান। তাই হালকা জ্বাল এর রং চা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

শরীর ঠিক রাখতে চান। তাহলে খেয়ে নিন পান্তা ভাত। বাঙালির বহু পছন্দের খাবারের মধ্যে পান্তা অন্যতম। তাপমাত্রা যেখানে ৪০ ছুঁই ছুঁই তখন শরীর ঠাণ্ডা রাখতে পান্তা ভাতের থেকে ভালো কিছু হতে পারে না। তাই গরমে গরম ভাত না খেয়ে শরীর সুস্থ রাখতে অব্যর্থ পান্তা ভাত।
পান্তা ভাত গরমে কতটা উপকারী ? আজকের এই প্রতিবেদনে সেটাই তুলে ধরা হলো-
১. পান্তা ভাত খেলে শরীর হালকা থাকে এবং কাজে বেশি শক্তি পাওয়া যায়।
২. রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।
৩. পেটের ব্যথা ভালো হয় এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে।
৪. কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীর সতেজ থাকে।
৫. মানব দেহের জন্য উপকারি বহু ব্যাকটেরিয়া পান্তা ভাতের মধ্যে বেড়ে যায়।
৬. শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৭. সব রকম আলসার দূরীভূত হয়।
কিছু পেঁয়াজের ঝাজ বেশি থাকে। এসব পেঁয়াজ কাটার সঙ্গে সঙ্গেই চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। এজন্য এটা কাটতে চান না অনেকে। কিংবা কাটলেও অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। তবে কয়েকটি পদ্ধতি মেনে পেঁয়াজ কাটলে চোখে পানি আসবে না। দেখে নিন সেই পদ্ধতিগুলো-
১। পেঁয়াজের গোঁড়ার অংশটি (অর্থাৎ যেখানে মূল থাকে) ভালো করে কেটে ফেলে দিন। একইসঙ্গে প্রথম আস্তরটিও ফেলে দিন। কেননা, বেশিরভাগ এনজাইম থাকে এই গোঁড়ায় ও ওপরের আস্তরণে।
২। পেঁয়াজ এক ঘণ্টার মতো ফ্রিজে রেখেও কেটে দেখতে পারেন। একদমই চোখ জ্বালা করবে না।
৩। পেঁয়াজ কুচি করতে চান? পেঁয়াজের শুকনো খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। বেশ খানিকটা সময় পর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন, চোখ জ্বলবে না।
৪। পেঁয়াজ কাটার সময়ে ধারালো ছুরি বা বটি ব্যবহার করুন। এতে কোষগুলো কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে এনজাইম কম নিঃসৃত হবে আর চোখও জ্বলবে কম।
৫। চপিংবোর্ডে ভিনেগার মাখিয়ে নিয়ে তারপর পেঁয়াজ কাটুন। ভিনেগারের এসিড এনজাইমকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
৬। লবণ পানিতে পেঁয়াজ ভিজিয়ে রাখুন পনেরো মিনিটের মতো, তারপর কাটুন। একদম চোখ জ্বালা করবে না।
আজকাল অনেকেই বাড়িতে গ্রিল চিকেন তৈরি করে থাকেন। কিন্তু তাতে শতভাগ রেস্তোরাঁর স্বাদ আসে কি? আসে না। কারণ গ্রিল চিকেন তৈরি করতে চাই বিশেষ ধরনের গ্রিল মেশিন, যাতে আস্তে আস্তে রান্না হয়ে মুরগির মাংস হয়ে যায় নরম ও তুলতুলে। মেশিনের স্বাদে গ্যাসের তুলাতেই আস্ত মুরগি গ্রিল করতে কী করবেন?
যা লাগবে
  • মুরগি বড় সাইজের ১টি
  • আদা বাটা দেড় চা-চামচ
  • রসুন বাটা দেড় চা-চামচ
  • লাল মরিচের গুঁড়ো ১ চা-চামচ অথবা স্বাদ অনুযায়ী
  • পাপরিকা ১ চা-চামচ
  • জিরা গুঁড়ো ১ চা-চামচ
  • ধনিয়া গুঁড়ো ১ চা-চামচ
  • গরম মসলা গুঁড়ো ১ চা-চামচ
  • লবণ ২ চা-চামচ অথবা পরিমাণমতো
  • টমেটো সস ৩ টেবিল চামচ
  • সয়াসস ২ টেবিল চামচ
  • যে কোনো আচারের মসলা ১ চা-চামচ
  • টক দই ২ চা-চামচ
  • পেঁয়াজ বাটা বড় সাইজের ২টি
  • চিনি ১ চা-চামচ
  • সয়াবিন তেল ২ টে চামচ
  • সরিষার তেল ১/৪ কাপ
  • এক টুকরো কয়লা
প্রস্তুত প্রণালি
  • প্রথমে আস্ত চিকেন ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে একটা কিচেন টাওয়েল দিয়ে পানি মুছে নিন। এবার সবগুলো মসলা দিয়ে ৬ ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন।
  • একটি পাত্রে সয়াবিন তেল ও সরিষার তেল দিন। তেলটা যখন গরম হবে তাতে আস্ত মুরগি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ডেকে দিন।
  • এবার কম জ্বালে মুরগিটা ১৫ মিনিট করে মোট ৩০ মিনিট এপিঠ-ওপিঠ করে ভাজুন। ঢাকনা সরিয়ে এবার চিকেনের অবশিষ্ট মসলাগুলো তেলে দিন।
  • এবার চুলার জ্বাল বাড়িয়ে কয়লাটা একটা ছোট ফয়েল পেপারে নিয়ে পাত্রের একসাইডে দিন। তার উপর সামান্য তেল দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ডেকে আরও ৫ মিনিটের মতো রান্না করুন।
  • মশলা তেলের উপরে উঠে এলে ও চিকেনের গায়ে মাখো মাখো হলে নামিয়ে নিন। পরিবেশন করুন গরম গরম।
শুধু রান্না নয়, পরিবেশন নিয়েও কাজ করেন রেসিপি-ভাবুকরা। পরিবেশনের কারণে খুব সাধারণ পদও অসাধারণ হয়ে উঠে। নিরামিষ থালি তার উত্তম এক উদহারণ।
উপকরণ
  • চিনিগুঁড়া চালের ভাত ১ কাপ
  • আলু ভাজা ৪ টুকরা
  • বেগুন ভাজা ৪ টুকরা
  • পটল ভাজা ৪ টুকরা
  • মিষ্টি কুমড়ো ভাজা ৪ টুকরা
  • করলা ভাজা ৪ টুকরা
পরিবেশন প্রণালিকাঁসার থালার মাঝখানে ভাত রেখে চারদিকে এক এক করে ভাজাগুলো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
ভেবে দেখুন তো, গত এক সপ্তাহে আপনি খাবারের পেছনে কত খরচ করেছেন? বাইরে খাওয়া, বাসায় ডেলিভারি নিয়ে খাওয়া, প্রতিদিন ভারী খাবার খাওয়া—এসব ক্ষেত্রে প্রচুর খরচ হয়ে গেছে, তাই না? এমনকি বাসা ভাড়া বাদ দিলে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে খাবারের পেছনে। কোনো কারণে যদি আপনার আয় কমে যায় (চাকরি চলে যাওয়া বা ব্যবসায় ক্ষতি), তাহলে এমন বিলাসী খাদ্যভ্যাসের কারণে আপনার ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। এখন থেকেই খাদ্যাভ্যাসে এমন অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা দূর করুন, হয়ে উঠুন মিতব্যয়ী। দেখে নিন খাবারের খরচ কমানোর ৫টি উপায়—
১) বাসায় খাওয়া
এই কাজটিতে সবচেয়ে বেশি খরচ বাঁচবে। রেস্টুরেন্টে খেতে হলে ইদানীং ওয়েটারকে টিপস দেওয়ার পাশাপাশি বড় অঙ্কের ভ্যাট গুনতে হয়। এরচেয়ে বাসায় রান্না করে খাওয়াটা অনেকগুণে বেশি সাশ্রয়ী। মাঝে মাঝে বাইরে খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু ঘন ঘন নয়।
২) পুরো রান্না নিজে করা
রান্নার পেছনে সময় দিতে হয় বলে অনেকে বাইরে খান। কিন্তু তাতে খরচ অনেক বেড়ে যায়। একদম কাঁচামাল থেকে শুরু করে পুরো রান্না নিজে করুন। পাউরুটি না কিনে বাসায় রুটি তৈরি করে খান। ফ্রোজেন খাবার তো একেবারেই খাওয়া যাবে না, তাতে অযথা খরচ হবে। এরচেয়ে সপ্তাহে একদিন কাঁচাবাজারে ঢুঁ মারুন আর তাজা মালমশলা কিনে আনুন।
৩) কোনো কিছুই ফেলনা নয়
খাবারের যেসব অংশ সাধারণত ফেলে দেন, যেমন বিভিন্ন সবজির খোসা, মুরগির হাড় ও গিলা-কলিজা এসব বাদ দেবেন না। অনেক সবজির খোসা দিয়ে ভর্তা ও ভাজি করা যায়, মুরগির গিলা-কলিজা দিয়ে দিব্যি সকালের নাশতা হয়ে যায়, হাড়গোড় দিয়ে স্বাস্থ্যকর স্যুপ রান্না করা যায়।  একটু মাথা খাটালেই কাজটি করতে পারেন। এমনকি বাসায় মরিচ, লেবু বা ধনেপাতার গাছ রাখলে সেদিক থেকেও খরচ কমে আসবে।
৪) মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য কম খান
গরু বা খাসির মাংস, মাখন, পনির, দই, মিষ্টি, আইসক্রিম—এসব খাবার নিয়মিত খাওয়া বন্ধ করে দিন। সপ্তাহে একদিন গরু বা খাসির মাংস খেতে পারেন। প্রোটিনের জন্য মুরগির মাংস, ডিম, ডাল—এগুলো খেতে পারেন।
৫) নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করুন
প্রথম প্রথম এমন আঁটসাঁট বাজেটে খাওয়া-দাওয়া করতে বেশ বিরক্তি লাগতে পারে। এ কাজটিকে মজাদার করতে নতুন নতুন রেসিপিতে খাবার তৈরি করতে পারেন। ইন্টারনেটে অনেক রেসিপি পাবেন, যাতে অল্প কিছু উপাদানেই মজার খাবার রান্না করা যায়। এমনকি সবজি রান্নার জন্য কিছু বইও পাওয়া যায়, যা কিনে নিতে পারেন। কত কম খরচে রান্না করা যায়, একে একটা অ্যাডভেঞ্চার মনে করতে পারেন।
সূত্র: অ্যাপার্টমেন্ট থেরাপি
এই ভেজালের বাজারে বাইরে থেকে কেনা ভাজাপোড়া কেন খাবেন? বরং ঘরেই তৈরি করে নিন সুস্বাদু স্ন্যাক্স। একবার তৈরি করে বেশকিছু দিন ঘরে রাখতে পারবেন ঝাল স্বাদের এই নিমকি। যারা ঘরে বসে ক্যাটারিং করেন, তারা অনায়াসে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করতে পারবেন।

যা লাগবে
  • ময়দা ২ কাপ
  • তেল ২ চা চামচ
  • লবণ ১ চা চামচ
  • চিনি ১/২ চা চামচ
  • কালোজিরা ১ চা চামচ
  • পানি ১/২ কাপ
  • ভাজার জন্য তেল


মশলা ছড়িয়ে দিতে পারেন নিজের ইচ্ছেমত।

প্রণালি
  • একটি বড় পাত্রে পানি বাদে ময়ানের জন্য বাকি সব উপকরণ নিন। ময়দা, অল্প তেল, লবন ,চিনি ও কালোজিরা নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • এবার খুব অল্প অল্প করে পানি দিয়ে সব উপকরণ একসঙ্গে মাখতে থাকুন। যতক্ষণ না আপনার আঙুল থেকে সব ময়দা ছেড়ে যাচ্ছে এবং মাখা ময়দার তালটা সুন্দর মসৃণ নরম হচ্ছে, ততক্ষণ মাখতে থাকুন। প্রায় ৫-৬ মিনিট ধরে মাখলে তবে আপনার পছন্দসই মাখা হবে।
  • মাখা ময়দাটা একটা ভেজা সুতির কাপড়ে জড়িয়ে অন্তত আধ ঘণ্টা রেখে দিন। এবার রুটির পিঁড়ি আর বেলুনে সামান্য শুকনো ময়দা ছড়িয়ে নিন। মাখানো ময়দার থেকে ৫-৬টি সমান মাপের লেচি কেটে নিন।
  • এবার এক একটি লেচি শুকনো ময়দা ছড়ানো পিঁড়ির ওপর রেখে পাতলা বড় রুটির আকারে বেলে নিন। এক একটি রুটি বেলা হয়ে গেলে প্রতিটি রুটি একটি ছুরি দিয়ে অনেক ছোট ছোট বরফির আকারে কেটে নিন।
  • কড়াইয়ে ভাজার জন্য তেল ঢেলে গরম হতে দিন। তেল গরম হলে মাঝারি আঁচে বরফির আকারে কেটে নেওয়া ময়দার টুকরোগুলো ডুবো তেলে ভেজে তুলুন।
  • ভাজা নিমকির টুকরোগুলো পেপার টাওয়েলের ওপর ছড়িয়ে দিন, অতিরিক্ত তেল বেরিয়ে গিয়ে নিমকিগুলো মুচমুচে হবে। এরপর বিট লবণ ও মরিচের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। ইচ্ছে হলে ম্যাগি স্বাদ-ই-ম্যাজিকও দিতে পারেন।
  • নিমকিগুলো ঠান্ডা হয়ে গেলে এয়ারটাইট বাক্স স্টোর করে খেতে পারবেন যখন-তখন। গরম চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন এই নিমকি।
রোজ রোজ একঘেয়ে নাস্তায় চাই স্বাদবদল? তাহলে জেনে নিন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি পিঠার রেসিপি। নানা অঞ্চলে এই পিঠাকে ডাকা হয় নানা নামে। তৈরি করতে উপকরণ লাগে সামান্য, কিন্তু স্বাদে দারুণ খোলাজা পিঠা। নারকেল বা গুড়ের সাথে পরিবেশন করা যায়, সবজি বা মাংসের তরকারি কিংবা চাটনির সাথে খেতেও লাগে সমান সুস্বাদু। একদিন ব্যাটার তৈরি করে বেশ কয়েকদিন ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করা যাবে। রোজ সকালেই গরম গরম পরিবেশন করতে পারবেন মাত্র মিনিট দশেক সময় হলেই!
যা লাগবে
  • ২৫০ গ্রাম চাল
  • দেড় কাপ পানি
  • লবণ স্বাদ অনুযায়ী
  • শুকনো ইস্ট আধা চা চামচ
  • আধা কাপ নারকেল কোরা
  • আধা চা চামচ চিনি
প্রণালি
  • চাল ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে পাঁচ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।
  • এরপর অল্প পানি দিয়ে ভাত রান্না করে নিন। একটু নরম ভাত হবে।
  • সামান্য কুসুম গরম পানির সাথে ইস্ট ও চিনি মিশিয়ে নিন। ফেনা ওঠার অপেক্ষা করুন।
  • এবার লবণ, রান্না করা ভাত ও পানি দিয়ে গরম থাকতে থাকতেই ব্লেন্ড করে নিন। ব্লেন্ড করা হলে তাতে নারকেল কোরা মিশিয়ে দিন। খুব সাবধানে কয়েকটা পালস দিন যেন নারকেল পেস্ট না হয়ে যায়। আধা ভাঙা হয়ে থাকবে।
  • ইস্টের মিশ্রণ ভাতের সাথে মিশিয়ে দিন। এবার একে ৭/৮ ঘণ্টা বা সারা রাত ফারমেন্ট হতে দিন। ইস্ট ব্যবহার করতে না চাইলে মিশ্রণে ১ চা চামচ টক দই মিশিয়ে নিন ও গরম স্থানে রেখে দিন। এতেও ফারমেন্ট হবে।
  • সকালে ভালো করে নেড়ে নিন। বেশি ঘন মনে হলে সামান্য পানি দিতে পারেন। বেশি পাতলা মনে হলে অল্প চালের গুঁড়ো দিতে পারেন।
  • প্যান গরম করুন, তেল মাখা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। এবার প্যানে ভাতের মিশ্রণ দোসার মতো করে ছড়িয়ে দিন। আঁচ কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিন। ৩/৪ মিনিটের মাঝে তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু খোলাজা পিঠা।
  • পরিবেশন করুন গুড়, চাটনি বা পছন্দের তরকারির সাথে।
সাধারণ কেক বা পেস্ট্রির তুলনায় বেশ আলাদা একটি ডেজার্ট হলো টার্ট। বিভিন্ন ধরনের ফল দিয়ে টার্ট তৈরি করা হয়, আর তাই এর স্বাদটাও হয় দারুণ।
টার্ট তৈরির অনেক ধরন থাকলেও আসলে খুব সহজেই তা তৈরি করা সম্ভব। বাংলাদেশের অনেক কাঁচাবাজারেই স্ট্রবেরি পাওয়া যায়, তা দিয়ে আপনিও তৈরি করে নিতে পারেন মজাদার স্ট্রবেরি টার্ট। তা তৈরিতে উপকরণ যেমন কম লাগে, তেমনি ঝামেলাও অনেক কম।

উপকরণ
  • বেকিং প্যানে মাখানোর জন্য মাখন
  • ফ্রোজেন পাফ পেস্ট্রির ১টি শিট (ফ্রিজ থেকে বের করে সাধারণ তাপমাত্রায় নিয়ে আসুন)
  • দেড় কাপ স্ট্রবেরি, স্লাইস করা
  • দেড় চা চামচ চিনি
  • ১ কাপ হুইপিং ক্রিম
  • আধা চা চামচ ভ্যানিলা এক্সট্রাক্ট
  • পরিবেশনের জন্য আইসিং সুগার বা পাউডার সুগার
প্রণালি
১) ওভেন প্রিহিট করুন ৩৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে।
২) বেকিং প্যানে মাখন মাখিয়ে এর ওপরে পাফ পেস্ট্রিটি রাখুন।
৩) চৌকো পাফ পেস্ট্রির চার দিকে আধা ইঞ্চি জায়গা খালি রেখে বাকিটুকুতে সুন্দর করে বিছিয়ে দিন স্ট্রবেরির স্লাইসগুলো। এর ওপরে আধা চা চামচ চিনি ছড়িয়ে দিন।
৪) একে বেক করুন ১৫-২০ মিনিট। পাফ পেস্ট্রি বাদামি হয়ে এলে এবং স্ট্রবেরি থেকে রস বের হওয়া শুরু করলে বের করে নিন।
৫) টার্ট যখন বেক হচ্ছে, তখন একটি স্ট্যান্ড মিক্সার বা হ্যান্ড মিক্সার ব্যবহার করে হুইপিং ক্রিম, ভ্যানিলা ও এক চা চামচ চিনি একসঙ্গে হুইপ করে নিন।
৬) টার্ট ওভেন থেকে বের করে গরম থাকতে থাকতেই ওপরে আইসিং সুগার ছড়িয়ে দিন। টার্ট কেটে পরিবেশন করুন এক চামচ হুইপড ক্রিমের সঙ্গে।
সূত্র: পপসুগার
শীতের দিনে নতুন ডাল দিয়ে এই হালুয়া খেতে অসাধারণ হলেও রান্না করা যায় সারা বছরই। মুগ ডালের হালুয়া দিয়ে তৈরি করা যায় লাড্ডু ও বরফি। একবার রান্না করে ঘরে রাখা যায় বেশ কিছুদিন।
 বুটের ডালের হালুয়া কমবেশি সকলেই ভালবাসেন খেতে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, মুগ ডাল দিয়েও রান্না করা যায় অসাধারণ হালুয়া। শীতের দিনে নতুন ডাল দিয়ে এই হালুয়া খেতে অসাধারণ হলেও রান্না করা যায় সারা বছরই। মুগ ডালের হালুয়া দিয়ে তৈরি করা যায় লাড্ডু ও বরফি। একবার রান্না করে ঘরে রাখা যায় বেশ কিছুদিন। চাইলে ঘিয়ের সাথে খানিকটা তেল মিশিয়েও রান্না করা যায়।

উপকরণ
  • মুগ ডাল ১ কাপ (ধুয়ে ৪-৫ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন)
  • ঘি ১ কাপ
  • সুজি ২ টেবিল চামচ
  • এলাচ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ
  • বাদাম কুচি পরিবেশনের জন্য
  • চিনি ১ কাপ
  • পানি ১ কাপ
  • এলাচ ৩-৪ টি
প্রণালি
  • ডাল পানি থেকে তুলে ব্লেন্ডারে পেস্ট বানিয়ে নিন। (ব্লেন্ডারে কম পানি দিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে যাতে বেশি নরম না হয়) পাটায় বেটে নিলে সবচাইতে ভাল।
  • ননস্টিক প্যান বা তলা ভারি এমন হাঁড়িতে ঘি দিয়ে গরম করুন। চুলার আঁচ মাঝারি থেকে লো হবে। এখন সুজি দিয়ে ২-৩ মিনিট ভেজে নিন।
  • এখন ডালের পেস্ট দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। চুলার আঁচ কমিয়ে রেখে রান্না করুন নয়তো ডাল দলা বেঁধে যাবে। ১-২ মিনিট পর পর নেড়ে দিন। ডালের পানি শুকিয়ে মাখামাখা ও রং বদলানো পর্যন্ত রান্না করুন। ২০ মিনিটের মতো লাগবে।
  • অন্য প্যানে চিনি, পানি, এলাচ দিয়ে ৪-৫ মিনিট ফুটিয়ে চুলা বন্ধ করুন।
  • ডাল পানি শুকিয়ে ঘি উঠলে চিনির শিরা দিয়ে দিন। এখন চুলার আঁচ মাঝারি করে নাড়তে থাকুন।
  • শিরা টেনে ডাল মাখামাখা হলে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। উপরে বাদাম ছিটিয়ে হালকা গরম পরিবেশন করা যাবে। নয়ত ইচ্ছেমতো আকারে কেটে বা সাজিয়েও পরিবেশন করা যাবে।