Articles by "লাইফস্টাইল"
Showing posts with label লাইফস্টাইল. Show all posts
অনেক সময় দেখা যায়, বাজার থেকে ডিম কিনে আনার পর পচা বের হয়। তবে ডিম না পাঠিয়ে যদি পচা ডিম চেনা যায়, তবে মন্দ কি।

দোকান থেকে ডিম কিনে আনলেন। তার পর সিদ্ধ করে ডিমের কারি বা কষা কিছু একটা বানিয়েও ফেললেন। তার পর খেতে গিয়েই যত বিপত্তি বাধল! দেখলেন বা দুর্গন্ধ থেকে বুঝলেন, দু-একটা ডিম পচা। ব্যস, পুরো পরিশ্রমটাই মাটি! কিন্তু ডিম না ফাটিয়ে বোঝার উপায় কি যে সেটি পচা না ভালো! উপায় আছে– ডিম না ফাটিয়েও সহজেই দু-একটা ছোট্ট পরীক্ষা করে বুঝে নেয়া সম্ভব যে, কোন ডিমটি পচা আর কোনটি ভালো।

তবে পচা ডিম চেনার কিছু কৌশল রয়েছে। ডিম না ফাটিয়েও সহজেই দু-একটা ছোট্ট পরীক্ষা করে পচা ডিম চিনে নেয়া যায়।

আসুন জেনে নিই যেভাবে চিনবেন পচা ডিম- ১. বালতি ভর্তি পানির মধ্যে ডিমগুলো ডুবিয়ে দিন। যদি ডিমগুলো ডুবে থাকে, তা হলে বুঝবেন যে সেগুলো ভালো। আর যদি ডিমগুলো ভেসে ওঠে, তো জানবেন সেগুলো পচা।

২. কানের কাছে একটি একটি করে ডিম নিয়ে আলতো করে ঝাঁকান। যে ডিমগুলোর থেকে বেশি আওয়াজ আসবে, জানবেন সেগুলো পচা। ব্যস, ছোট্ট এই পরীক্ষার মাধ্যমে আগাভাগেই চিনে নিন পচা ডিম।

নিজেকে আকর্ষণীয় করতে অনেক পুরুষই নিয়মিত জিমে যান। অনেক মহিলাই পুরুষদের একটু মেদহীন চেহারা পছন্দ করেন। কিন্তু বর্তমানে অনেকটাই বদলে যাচ্ছে সেই ভাবনা। অনেক নারীপুরুষ সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশি সুঠাম চেহারা পছন্দ করছেন না। মেদ আছে এমন পুরুষদের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন নারীরা। এমনটাই বলছে সমীক্ষা।


ইউনিভার্সিটি অফ মিসৌরির একটি সমীক্ষা অনুযায়ী সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে অল্প মেদ আছে এমন পুরুষদেরই বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন বেশিরভাগ মহিলা। হালকা গোলগাল ও সাধারণ চেহারার মধ্যেই নিরাপত্তা খুঁজে পান তারা। গবেষকদের মতে, বেশি সুঠাম দেহের পুরুষ সঙ্গীকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগতে পারেন কেউ কেউ। সেই কারণেই একটু গোলগাল চেহারাই পছন্দ তাদের।

জিম করা সুঠাম দেহ রাখার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত ওয়ার্ক আউট ও পরিমিত ডায়েট। সিনেমার পর্দায় অভিনেতারা সেই দেহ পেতে কড়া নিয়মের মধ্যে জীবনযাপন করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী যদি এতটাই নিয়ম মেনে চলতে থাকেন, সেক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়ে সম্পর্কে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া নারীদের দাবি, "এটা খাব না, সেটা খাব না, মোটা হয়ে যাব... এই ধরনের কথা বলা পুরুষের থেকে অল্প মোটা পুরুষই ভাল।" তবে এর পেছনে বিবর্তন ও যুগেরও প্রভাব আছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। অল্প মোটা দেহকে মেয়েরা কেন এখন বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে ব্যাখ্যা। অল্প স্থুল পুরুষদের কাজের প্রতি বেশি মনযোগী বলে মনে করেন নারীরা। পরিবারকেও বেশি সময় দেন বলে মনে করা হয়। সেক্ষেত্রে সামাজিকভাবে বেশি নিরাপদ বোধ করেন তারা।

নিজের বডি ইমেজ নিয়ে চিন্তিত নারীরা একটু ভুঁড়িওয়ালা পুরুষই পছন্দ করেন। এর একটা বড় কারণ মোটা পুরুষদের পাশে বেশি রোগা লাগে নারীদের। আর সেই কারণেই পুরুষরা একটু মেদ হলেই তারা বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে করেন।
অনেক মেয়েই হাই হিলের জুতা পরতে পছন্দ করেন। তবে এমন জুতার অধিকাংশই আরামদায়ক নয়, দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আমরা যখন হাই হিলের জুতা পরি, তখন মেরুদণ্ডের আকৃতির স্বাভাবিক বিন্যাস বজায় থাকে না। শরীরের অধিকাংশ ওজন তখন পায়ের গোড়ালি দিয়ে না গিয়ে পায়ের পাতার সামনের দিকে স্থানান্তরিত হয়। ফলে পায়ের পাতার সামনের অংশ এবং আঙুলে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। হাই হিলের জুতা পরলে শরীর অনেকটা সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। বিশেষ করে কোমর ও হাঁটু বেশি ঝুঁকে যায়। এ জন্য কোমর ব্যথাসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে পায়ের গোড়ালি ব্যথা, পা মচকানো, পায়ের আঙুলে ব্যথা, কাফ মাসল শক্ত হওয়া, পায়ের রগে টান লাগা, মাংসপেশি বা রগ শক্ত হয়ে যাওয়া, হাঁটু ও কোমর ব্যথা, চলাফেরার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ থেকে ঘাড় ব্যথাও হতে পারে।

করণীয় ■ দীর্ঘ সময়ের জন্য খুব উঁচু হিলের জুতা পরার অভ্যাস ত্যাগ করুন। নরম স্লিপার বা আরামদায়ক জুতা পরলে ভালো। যদি পরতেই হয় তবে প্রয়োজনে হিল কুশন বা কৃত্রিম আর্চসমৃদ্ধ জুতা পরতে পারেন। অনুষ্ঠান বা কোনো উৎসব ছাড়া বেশি হাঁটতে হয় এমন স্থানে এ ধরনের জুতা না পরাই ভালো।

■ উঁচু হিল ব্যবহারের পর পায়ে যদি ব্যথা থাকে, তবে কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট অথবা যে জায়গায় ব্যথা হবে সেখানে ১০-১৫ মিনিট নরম কাপড়ে বরফ রেখে ম্যাসাজ করুন। কিছু স্ট্রেচিং ও স্ট্রেনদেনিং ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনার হাঁটু ও পায়ের গোড়ালির মাংসপেশিকে শক্তিশালী করুন। যেমন:

ক বিছানায় সোজা হয়ে বসে একটি তোয়ালে দিয়ে পায়ের পাতা সামনের দিকে টানুন এবং ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এটি ১০-১৫ বার করে দিনে ২-৩ বেলা করুন।

খ একটি দেয়ালের সামনে বৃদ্ধাঙ্গুলের ওপর ভর করে দাঁড়ান এবং ২০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এটি ১০-১৫ বার করে প্রতিদিন ২-৩ বেলা করুন। এরপরও যদি ব্যথা থাকে তবে আপনি একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।
প্রেসার কুকারে রান্নার সময় খেয়াল রাখা জরুরি যে বিষয়টা সেটি হলো এটির ঢাকনা ঠিকভাবে আটকানো হয়েছে কিনা। এছাড়াও অনেকেই রান্না শেষে প্রেসার কুকারে বাষ্প থাকা অবস্থায়ই ঢাকনা খোলার চেষ্টা করেন। যা ঠিক নয়। কারণ এর ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ভেতরের বাষ্প পুরোপুরি বের হলে তবেই প্রেসারের কুকারের ঢাকনা খুলবেন। ডাল বা এমন যে খাবারগুলো উপচে ওঠে বেশি, সেগুলো প্রেসার কুকারে রান্না করতে হলে অল্প পরিমাণে করুন। পরিমাণ বেশি হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও প্রেসার কুকারে যে খাবার রান্না করা থেকে বিরত থাকা উচিত সেগুলো নিচে দেওয়া হলো।
 
মাছ: মাছ এমন একটি খাবার যা রান্না করতে খুব বেশি সময় লাগে না। এটি অতিরিক্ত রান্না করলে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। আবার বেশি সময় ধরে মাছ রান্না করা হলে তা সহজেই ভেঙে যায়। তাতে তরকারি দেখতে খারাপ লাগে আর স্বাদ তো নষ্ট হয়ই। তাই প্রেসার কুকারে মাছ রান্না না করাই ভালো।

দুধ: দুধ ফুটতে শুরু করলেই উপচে ওঠে। তাই প্রেসার কুকারে দুধ বা দুধ দিয়ে কোনো খাবার যেমন পায়েশ বা ফিরনি রান্না করতে নিলে তা আটকে গিয়ে প্রেসার কুকার ব্লাস্ট হতে পারে। তাই বড় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রেসার কুকারে দুধ বা দুধ দিয়ে কোনো খাবার রান্না করতে যাবেন না।

ডিম সেদ্ধ: ডিম সেদ্ধ করতে চাইলে বা রান্না করতে চাইলে সাধারণ হাঁড়িতেই করে নিন। কারণ ডিম প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করতে চাইলে বড় মাপের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই ভুলেও কখনো প্রেসার কুকারে ডিম সেদ্ধ করতে যাবেন না।

সবজি ও ফল: ফল কিংবা যেকোনো ধরনের শাক-সবজি বেশি রান্না করলে পুষ্টিগুণ পুরোপুরি চলে যায়। প্রেসার কুকারে এসব রান্না করলে এর ভিটামিন, মিনারেলসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ ধরনের খাবার কখনো প্রেসার কুকারে রান্না করবেন না।

এখন আর শুধুমাত্র শীতকালে নয়, সারা বছরই খুশকির সমস্যা লেগে থাকে। অতিরিক্ত দুষণ, ধুলো, ময়লার কারণে চুলের সর্বনাশ হয় অকালেই। খুশকি হল চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বিরাট একটা সমস্যা। অতিমাত্রায় চুল ঝরে যাওয়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া বা বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাল্প ইনফেকশন-এর জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ি এই খুশকি।

খুশকির সমস্যা থেকে রেহাই পেতে বাজারে চলতি নানা ধরনের শ্যাম্পু বা লোশন ব্যবহার করেন অনেকেই। কিন্তু এগুলিতে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবে কখনও কখনও উল্টে চুলেরই ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আর তাতে অকালে টাক পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নিচে দেখে নিতে পারেন কিছু কার্যকরী ঘরোয়া উপায় যেগুলি সামান্য খরচে খুশকির সমস্যা দ্রুত দূর করতে পারে কোনও রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই...

১) নারিকেল তেল: নঋকেল তেল খুর্শকির প্রকোপ কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী! নারিকেল তেল চুলের গোড়া ময়েশ্চারাইজ করে খুশকি এবং স্ক্যাল্প ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। সপ্তাহে অন্তত দুইবার চুলের গোড়ায় সামান্য উষ্ণ নারিকেল তেল দিয়ে মালিশ করতে পারলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।

২) টকদই: খুশকির সমস্যা থেকে বাচঁতে টকদই বেশ কার্যকরী। খুশকি দূর করতে টকদই মাথার ত্বকে মিনিট দশেক ধরে ভালভাবে মালিশ করুন। এরপর ১০ মিনিট রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত দু’বার এই ভাবে চুলে টকদই ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

৩) পেঁয়াজের রস: দু’টো মাঝারি মাপের পেঁয়াজ ভাল করে বেটে এক মগ পানিতে (অন্তত ৩০০-৩৫০ মিলিলিটার পানিতে) মিশিয়ে নিন। মাথায় এই পেঁয়াজের রস ভাল করে মাখিয়ে মিনিট পনেরো মালিশ করুন। এরপর ৫ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে দুই-তিন বার পেঁয়াজের রস মাথায় মাখলে খুশকির সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই পাবেন।

৪) রিঠা: চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে রিঠা অত্যন্ত কার্যকরী। খুশকির সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রেও এর জুরি মেলা ভার! রিঠা পাউডার বা রিঠা সিদ্ধ পানি চুলের ত্বকে লাগিয়ে ঘণ্টা খানেক রেখে তারপর ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে অন্তত দুই বার রিঠার পানি মাথায় মাখলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।

৫) মেথি: খুশকির সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে পারেন মেথি। সারারাত দু’-তিন চামচ মেথি পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিন। সকালে মেথির থেকে পানি ছেঁকে নিয়ে ভাল করে বেটে নিন। তবে ছেঁকে নেওয়া পানি ফেলে দেবেন না। এ বার বেটে নেয়া মেথি চুলের গোঁড়ায়, মাথার ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে নিন। ঘণ্টা খানেক রেখে চুল ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার পর মেথি ভেজানো পানি দিয়ে আরও একবার চুল ধুয়ে নিন। এ ভাবে সপ্তাহে অন্তত দুইবার মেথি মালিশ করলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাওয়া যাবে।

শীত প্রায় এসেই পড়লো। এসময় পায়ের গোড়ালি ফাটা নিয়ে অনেকেই চিন্তির। তবে পা ফাটা রোধ করতে আপনাকে কয়েকটি ঘরোয়া টিপস মেনে চলতে হবে। অনেক বেশি হাঁটাচলা, দিনের দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কাজ করা, আবহাওয়াজনিত কারণ, পরিবেশ দূষণ, ডায়াবেটিকস, থাইরয়েড, খাবার গ্রহণে অনিয়ম, শরীরে পুষ্টির অভাব, বয়সের প্রভাব ইত্যাদি দেখা দিলেই মূলত এই সমস্যাটি দেখা দেয়।

প্রতিকারের ঘরোয়া টিপসগুলো হলোঃ

১-বেকিং সোডার ব্যবহার

একটি বালতি অথবা গামলায় তিন লিটার পানি ঢালুন। পানিতে তিন চামচ বেকিং সোডা ভালোভাবে মিশান। পানিতে ২০মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। পানি থেকে পা তুলে পিউমিক স্টোনের সাহায্যে পায়ের গোড়ালি আস্তে আস্তে ঘষুন। মরা চামড়া তুলে ফেলুন। এরপর পরিষ্কার পানিতে পা ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। পা শুকিয়ে এলে ময়েশ্চারাইজার ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে অন্তত তিন বার এইভাবে বেকিং সোডা ব্যবহার করুন। তাহলে পা কোমল ও আকর্ষণীয় হবে। পা ফাটা রোধ হবে।

২-অ্যালোভেরা জেলের ব্যবহার

পরিষ্কার পাত্রে তিন লিটার কুসুম গরম পানিতে পরিমাণ মত লবণ মিশিয়ে তাতে ২০মিনিটের জন্য পা ভিজিয়ে রাখুন। পানি থেকে পা তুলে মুছে শুকিয়ে নিন। শুকনো পায়ের গোড়ালিতে অ্যালোভেরা জেল আলতো করে ম্যাসেজ করে মোজা পরুন। এভাবে সারারাত রেখে পরদিন সকালে কুসুম গরম পানিতে পা ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে অন্তত দুই বার ব্যবহার করুন। আস্তে আস্তে গোড়ালি কোমল ও মসৃণ হবে।

৩-ভেজিটেবল অয়েলের ব্যবহার

পা ফাটা রোধের জন্য কার্যকরী কিছু ভেজিটেবল তেল আছে। যেমন- অলিভ অয়েল, তিলের তেল, নারকেল তেল, সরষের তেল ও বাদাম তেল ইত্যাদির ব্যবহারে পা ফাটা রোধ হয়, পা আকর্ষণীয় ও কোমল হয়। রাতে ঘুমানোর পূর্বে পরিষ্কার পায়ে তেলের মালিশ করে ঘুমান। অল্প দিনের অধ্যেই আশানুরূপ ফল পাবেন।

৪-গোলাপজল ও গ্লিসারিনের ব্যবহার

পা ফাটা রোধে গ্লিসারিন ও গোলাপজলের মিশ্রণ অধিক কার্যকরী। গ্লিসারিন ত্বককে কোমল করে আর গোলাপজলে আছে ভিটামিন এ, বি৩, সি, ডি ও ই। আরও আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিসেপটিকের মত উপাদান।যা ত্বকের জন্য কার্যকরী সমাধান বহন করে। প্রতিরাতে ঘুমানোর পূর্বে গ্লিসারিনের সঙ্গে সমপরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে পায়ে ম্যাসাজ করুন। অল্প দিনেই পা সুন্দর ও আকর্ষণীয় হবে। পা ফাটা রোধ হবে।

৫-মধুর ব্যবহার

পরিষ্কার পাত্রে দুই লিটার কুসুম গরম পানিতে দুই টেবিল চামচ মধু মিশান। এরপর পানিতে ১০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। পা মুছে শুকান এবং গ্লিসারিন, লেবুর রস এবং গোলাপ জলের মিশ্রন পায়ের ফাটা জায়গায় লাগিয়ে দিন। এভাবে কয়েকদিন ব্যবহার করুন।

৬-পাকা কলার ব্যবহার

পাকা কলা চটকে পায়ের ফাটা অংশে ২০মিনিট লাগান। কিছুক্ষণ পর কুসুম গরম পানি দিয়ে পা ধুয়ে ফেলুন। এতে প্রচুর ভিটামিন রয়েছে, যা পা ফাটা রোধ করতে সাহায্য করবে। পায়ের ত্বক কোমল ও মসৃণ হবে।

৭-ভেসলিন ও লেবুর রস

লেবুর রসের সঙ্গে ভেসলিন মিশিয়ে পা লাগাতে পারেন। পায়ের মরা কোষ তুলতে প্রতিদিন পিউমিক স্টোন দিয়ে পা ভালো করে ঘষুন। আস্তে আস্তে মরা চামড়া সরে গোড়ালি সফট হবে। গোড়ালি ফাটা রোধ হবে।

অনেকেরই অল্প বয়সে চুল পেকে যায়। কখনও দীর্ঘদিন ধরে চলা হজমের সমস্যা বা লিভারের সমস্যায় অকালে চুলে পাক ধরে, কখনও বা মাথার ত্বকে পর্যাপ্ত ভিটামিন আর খনিজের অভাবে এমনটা হয়। 

কিন্তু কারণ যা-ই হোক না কেন, অসময়ে মাথায় পাকা চুল কেউ-ই পছন্দ করেন না। তবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কয়েকটি বিশেষ খাবার-দাবার রাখতে পারলে সহজেই অকালে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক। অকালে চুল পেকে যাওয়া ঠেকাতে খাবার তালিকায় রাখুন এই ৭ খাবার: 

বাদাম: আখরোটে, আমন্ড বা যে কোনও ধরনের বাদামেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কপার যা চুলের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী! অকালে চুল পাকার সমস্যা ঠেকাতে বাদাম তেলও মাথায় মেখে দেখুন। উপকার পাবেন। 

সবুজ শাক-সবজি: যে কোনও সবুজ সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফোলিক অ্যাসিড যা চুলের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি অকালে চুল পাকার সমস্যা ঠেকাতেও সাহায্য করে। 

ছোলা: ছোলায় রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি-৯ বা ফোলিক অ্যাসিড। তাই অকালে চুল পেকে যাওয়া ঠেকাতে প্রতিদিন ছোলা খাওয়ার অভ্যাস করুন। 

মুরগীর মাংস: মুরগীর মাংসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১২ আর ফোলিক অ্যাসিড যা অকালে চুল পেকে যাওয়া ঠেকাতে সাহায্য করে। 

লিভার বা মেটে: পাঁঠার মাংসের লিভার বা মেটেতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি-১২ যা অকালে চুলে পাক ধরা ঠেকাতে সাহায্য করে। 

চিংড়ি: অকালে চুলে পাক ধরার সমস্যা ঠেকাতে পাতে রাখুন চিংড়ি। চিংড়িতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক যা চুলের গোড়ার রঞ্জক ধরে রেখে অকালে চুল পাকার সমস্যা রোধে সাহায্য করে। 

স্যামন মাছ: এই মাছে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা চুলের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী!

খাবার খাওয়ার সময়, গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের মধ্যে অথবা অবসর কাটানোর সময় হঠাৎ হেঁচকির প্রকোপ শুরু হওয়াটা খুব সাধারণ একটি বিষয়। এমনকি কোনো কারণ ছাড়াই যখন তখন মানুষের হেঁচকি শুরু হলে তা নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিপাকতন্ত্রের গোলমালের কারণেই মানুষের হেঁচকি আসে। 

মানুষের হেঁচকি আসে কেন? 


বিজ্ঞানীরা শত শত বছর ধরে আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিহীন এই শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। হেঁচকির সময় শ্বাসনালীতে সামান্য খিঁচুনির মত হয় যার ফলে শ্বাসযন্ত্রে দ্রুত বাতাস প্রবেশ করে। তখন ভোকাল কর্ড হঠাৎ বন্ধ হয়ে 'হিক' শব্দ তৈরি হয়। ফুসফুসের নীচের পাতলা মাংসপেশীর স্তর, যেটিকে ডায়াফ্রাম বলে, হঠাৎ সংকোচনের ফলেই হেঁচকি তৈরি হয়। 

হেঁচকি ওঠার একশো'র বেশি মেডিক্যাল কারণ থাকতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো খুবই সামান্য কারণেই হয়ে থাকে। 

ওষুধ নির্মাতা সংস্থা অ্যাকমে'র সিনিয়র ম্যানেজার ও চিকিৎসক আফরোজা আখতার বলেন, "হেঁচকির সবচেয়ে সাধারণ কারণ দ্রুত খাবার গ্রহণ করা।" 

দ্রুত খাওয়ার কারণে খাবারের সাথে সাথে পেটের ভেতর বাতাস প্রবেশ করার কারণে 'ভ্যাগাস' নার্ভের কার্যকলাপ বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে হেঁচকি তৈরি হয়। চেতনানাশক, উত্তেজনাবর্ধক, পার্কিনসন্স রোগ বা কেমোথেরাপির বিভিন্ন ধরণের ওষুধ নেয়ার ফলেও হেঁচকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া কিছু অসুখের ক্ষেত্রেও মানুষের হেঁচকি হতে পারে। 

মিজ. আখতার বলেন, "কিডনি ফেল করলে, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা মেনিনজাইটিসের ক্ষেত্রেও অনেকের হেঁচকি তৈরি হতে পারে।" 

কিন্তু অধিকাংশ সময়ই হেঁচকি শুরু হওয়ার জন্য এসব কোনো কারণেরই দরকার হয় না। 

হাসি বা কাশির মধ্যে, অতিরিক্ত মদ্যপান, অতিদ্রুত খাবার গ্রহণ করা বা ঝাঁঝসহ পানীয় বেশি পরিমাণে খেলে হেঁচকি শুরু হতে পারে, তবে কোনো ধরণের কারণ ছাড়াও হেঁচকি আসাটা একেবারেই অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। হেঁচকি ওঠাটা খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা এবং সাধারণত মিনিটখানেকের মধ্যেই তা স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় হেঁচকির উদাহরণও কিন্তু রয়েছে। 

যেমন সবচেয়ে বেশি সময় ধরে হেঁচকি ওঠার বিশ্ব রেকর্ডের উদাহরণ হিসেবে মনে করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের চার্লস অসবোর্নের ঘটনাকে। ১৯২২ সালে হেঁচকি তোলা শুরু করেন তিনি, কথিত আছে সেসময় তিনি একটি শূকর ওজন করার চেষ্টা করছিলেন। মি. অসবোর্ন হেঁচকি তোলা থামান ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে - মোট ৬৮ বছর পর। 

হেঁচকি থামানোর উপায় 

ঘরোয়াভাবে হেঁচকি থামানোর প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে মূলত দুইটি মূলনীতি অনুসরণ করা হয়। একটি হলো রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া যেন শ্বাসনালীতে খিঁচুনি বন্ধ হয়। আরেকটি হলো শ্বাসপ্রশ্বাস ও গলধকরণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা 'ভ্যাগাস' স্নায়ুকে উদ্দীপ্ত করা। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী কয়েকটি পদ্ধতিতে হেঁচকি থামানো যায়। 

১. কাগজের ব্যাগে নিশ্বাস ফেলা (ব্যাগ মাথা দিয়ে ঢুকাবেন না) 

২. দুই হাঁটু বুক পর্যন্ত টেনে ধরে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া 

৩. বরফ ঠাণ্ডা পানি খাওয়া 

৪. কিছু দানাদার চিনি খাওয়া 

৫. লেবুতে কামড় দেয়া বা একটু ভিনেগারের স্বাদ নেয়া 

৬. স্বল্প সময়ের জন্য দম বন্ধ করে রাখা 

কখন চিকিৎসার পরামর্শ নিতে হবে 

হেঁচকি সাধারণত আপনা থেকেই ভাল হয়ে যায়, তবে যদি অতি দীর্ঘসময় ধরে হেঁচকি উঠতে থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। 

মিজ. আখতার বলেন, "হেঁচকি নিরাময়ে ঘরোয়া চিকিৎসা যদি কাজ না করে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।" 

হেঁচকির তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মিজ. আখতার। এছাড়া নিয়মিত হেঁচকিতে দৈনন্দিন জীবনের কার্যক্রম ব্যহত হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার উপদেশ দেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : বিবিসি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ধীরে হাঁটে তাদের মস্তিষ্ক ও শরীরের বয়স বেশি বেড়ে গেছে। চল্লিশ বছর বয়সে আপনি কত দ্রুত হাঁটতে পারেন তা বলে দেবে আপনার মগজ এবং শরীরের বয়স কত দ্রুত বাড়ছে বা বাড়ছে না- এ তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

হাঁটার গতির ওপর সহজ এক পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা কতো দ্রুত বয়স বাড়ছে সেটা পরিমাপ করতে সক্ষম হয়েছেন। 

যারা ধীরে হাঁটেন তারা যে শুধু তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যান তাই নয়, তাদের মুখও দেখায় বুড়োটে এবং তাদের মস্তিষ্কের আকৃতিও ছোট হয়ে যায়। 

আন্তর্জাতিক গবেষকদের দলটি বলেছে, তাদের এই গবেষণার ফলাফল ''দারুণ চমকপ্রদ।'' 

চিকিৎসকরা সাধারণত হাঁটার গতি ও ভঙ্গী দেখে কারো স্বাস্থ্যের সার্বিক অবস্থা বুঝতে পারেন, বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়স যাদের। কারণ হাঁটার গতিপ্রকৃতি থেকে মাংসপেশীর শক্তি, ফুসফুসের সুস্থতা, মেরুদণ্ডের শক্তি এবং দৃষ্টিশক্তির উজ্জ্বলতা বোঝা যায়। 

বৃদ্ধ বয়সে হাঁটার গতি ধীর হয়ে যাওয়ার সাথে স্মৃতিভ্রমের যোগাযোগও করেছেন কোন কোন বিজ্ঞানী। 

'সমস্যার লক্ষণ' 

এই গবেষণা চালানো হয়েছে নিউজিল্যান্ডে এক হাজার লোকের ওপর। যাদের জন্ম ১৯৭০ এর দশকে। ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের সবরকম তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের হাঁটার গতিপ্রকৃতির ওপর পরীক্ষা চালানো হয় আরো আগে থেকে। 

এই গবেষণায় যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা করা হতো, বিভিন্ন সময়ে তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার পরীক্ষা নেয়া হতো এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্ক্যান করা হতো। তাদের শিশু বয়স থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর বুদ্ধিবৃত্তি ও চিন্তাশক্তির সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হতো। 

''এই গবেষণায় দেখা গেছে বৃদ্ধ বয়স হওয়ার আগেই ধীরগতিতে হাঁটা সমস্যার প্রতি একটা ইঙ্গিত,'' বলছেন লণ্ডনের কিংস কলেজ এবং আমেরিকার ডিউক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং এই গবেষণা পত্রের প্রধান লেখক টেরি মফিট। 

তিনি বলছেন, এমনকী ৪৫ বছর বয়সী যারা ধীরে হাঁটেন তাদের মধ্যেও হাঁটার গতিতে বিস্তর ফারাক দেখা যায়। 

তবে তার কথায় মোদ্দা বিষয়টা হলো, যাদের হাঁটার গতি যত ধীর হয়ে যায় তাদের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াও তত দ্রুততা পায়। তাদের ফুসফুসের ক্ষমতা, দাঁতের অবস্থা এবং রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা যারা দ্রুত হাঁটেন তাদের থেকে খারাপ হয়ে যায়। 

এই গবেষণায় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত যে ফলাফল পাওয়া গেছে তা হলো মস্তিষ্কের স্ক্যান থেকে দেখা গেছে যাদের হাঁটার গতি যত ধীর হয়ে গেছে, তাদের মস্তিষ্কের বয়স তত বেশি বেড়ে গেছে। 

গবেষকরা আরো দেখেছেন, মাত্র তিন বছর বয়সে মানুষের বুদ্ধি, ভাষা ও স্নায়বিক দক্ষতা পরীক্ষা করে তারা নির্ধারণ করতে পারেন ৪৫ বছর বয়সে তাদের হাঁটার গতি কী হবে। 

তারা বলছেন, চল্লিশের বেশি বয়সে যাদের হাঁটার গতি ধীর হয়ে যায়, শিশুকালে তাদের আই.কিউ. (বুদ্ধিমত্তার মাপকাঠি) যারা ৪৫ বছরেও দ্রুত হাঁটেন তাদের থেকে ১২ পয়েন্ট কম ছিল। 

'জীবনযাপনের সাথে যোগাযোগ' 

আন্তর্জাতিক গবেষক দল তাদের গবেষণা ফলাফলে লিখেছেন, স্বাস্থ্য এবং বুদ্ধিমত্তার মধ্যে পার্থক্যের একটা কারণ শিশুকাল থেকে জীবনযাপনের মান। জীবনের শুরুতে যারা ভাল মানের জীবনযাপনের সুযোগ পেয়েছেন তাদের বুদ্ধিমত্তা ও স্বাস্থ্যের ওপর তার একটা প্রভাব পড়েছে। 

গবেষকরা বলছেন, অল্প বয়সে হাঁটার গতি পরিমাপ করে মানুষের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করার পদ্ধতি বা চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা সম্ভব। 

নিচু ক্যালরির খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে মেটফরমিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ার উপযোগিতা নিয়ে এখন গবেষণা চালানো হচ্ছে। 

তারা বলছেন, এই গবেষণার ফলাফল বয়স কম এবং স্বাস্থ্য ভাল থাকা অবস্থায় মানুষকে মস্তিষ্কের বয়স বাড়া বা সাধারণভাবে স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য জীবনযাপনের মান বদলানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে সাহায্য করবে।

খুব দ্রুত মানুষের অপছন্দের তালিকায় যেতে না চাইলে বাদ দিতে হবে কিছু স্বভাব।

সবার মন জয় করে চলা সম্ভব নয়। তবে নিজের অজান্তেই হয়ত কিছু আচরণের কারণে অযথাই অপছন্দের পাত্রে পরিণত হচ্ছেন। দিন শেষে কেনো মানুষ আপনাকে দেখতে পারছেনা তা নিয়ে ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছেন না।

এরকম পরিস্থিতির শিকার হওয়া নিয়ে সম্পর্ক-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল বিস্তারিত। 

ফেইসবুকে অনেক বন্ধু: ২০০৮ সালে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি জরিপ চালায় যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। এই জরিপে শিক্ষার্থীদের কিছু কাল্পনিক ফেইসবুক প্রোফাইল দেখিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় ওই প্রোফাইলে মানুষগুলোকে তাদের কেমন লেগেছে।

ফলাফলে দেখা যায়, যার প্রায় ৩শ’ বন্ধু আছে ফেইসবুকে তাদেরকেই মানুষ বেশি পছন্দ করে। বন্ধুর সংখ্যা যদি ১শ’ বা তার কাছাকাছি হয় তবেও তাকে অংশগ্রহণকারীরা পছন্দ করছেন না। আবার যার ৩শ’র বেশি বন্ধু তাদেরকেও ঠিক ভালো ঠেকছে না। 

বেশি বন্ধু হলে অপছন্দ করার কারণ সম্পর্কে গবেষকরা বলেন, “অনেক বেশি বন্ধু থাকলে অপরের ধারণা হয় ওই ব্যক্তির কাছে ফেইসবুক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর তার আসলে জনপ্রিয়তা নেই, হতাশা মেটাতে ফেইসবুকে বন্ধু বাড়িয়েছে।” 

অপরদিকে যারা এই কাল্পনিক প্রোফাইল দেখে পেছনের মানুষগুলোকে বিচার করছিল তাদের প্রত্যেকেরই নিজেদের ফেইসবুকে বন্ধুর সংখ্যা প্রায় ৩শ’।

গবেষকরা বলেন, “মানুষের যে দলে ফেইসবুক বন্ধুর সাধারণ সংখ্যা প্রায় ১ হাজার সেখানে মানুষকে পছন্দ করার জন্য আদর্শ ফেইসবুক বন্ধুর সংখ্যাও ১ হাজার হওয়া উচিত ছিল। তবে মনে রাখতে হবে, ২০১৪ সালের এক জরিপ থেকে আমরা জেনেছি প্রাপ্তবয়স্কদের ফেইসবুক বন্ধুর সংখ্যা গড়ে ৩৩৮ জন।”

“গবেষণায় আরেকটি মজার বিষয় উঠে আসে। আর তা হল, যাদের ফেইসবুক বন্ধুর সংখ্যা খুব কম বা খুব বেশি তাদেরকে যে অংশগ্রহণকারীরা পছন্দ করছেন না সেটা তারা নিজেরাই বুঝতে পারছেন না।” 

সম্পর্কের শুরুতেই ব্যক্তিগত কথা জানিয়ে দেওয়া: পরস্পরের সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে আলোচনা সম্পর্ককে জোরদার করে। পরিণত বয়সে এসে নতুন বন্ধুত্ব গড়ে তোলার অন্যতম উপায় এটি। তবে মাত্র কদিনের পরিচয়ে কাউকে নিজের অত্যন্ত ব্যক্তিগত কথা বলে ফেলার কারণে অপর ব্যক্তি আপনাকে ভরসার অযোগ্য মনে করার পাশাপাশি অপছন্দ করতে পারে।

তাই গোপন কথা বলার আগে সময়জ্ঞান থাকতে হবে। 

২০১৩ সালে শিকাগোর এলেনোয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সুস্যান স্প্রিচারের করা গবেষণা অনুযায়ি, “যেকোনো সম্পর্কের প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেদের শখ ও পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করাই নিজেকে আন্তরিক হিসেবে তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট।”

নিজের কথা না বলেই অপরের সম্পর্কে প্রশ্ন: স্প্রিচারের ২০১৩ সালের ওই গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা যায়, নিজের সম্পর্কে জানানো সম্পর্ক গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা দুই পক্ষ থেকেই হতে হবে।

নিজের সম্পর্কে একান্ত কোনো তথ্য ভাগাভাগি করে না নিলে মানুষ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগ্রহ হারায়।

এই গবেষণায় অপরিচিত ব্যক্তিদের গল্প করতে দেওয়া হয়। একদল কথার পিঠে কথা বলে গল্প করেছে আর অপর দলে একজন ব্যক্তিই ১২ মিনিট নিজের কথা বলেছে। পরে অপরজন নিজের সম্পর্কে বলেছে। 

ফলাফলে দেখা গেছে যে দল কথার পিঠে কথা বলে গল্প করেছেন তাদের পারস্পারিক সম্পর্ক হয়েছে জোরালো। 

গবেষকরা বলেন, “লাজুক ব্যক্তিরা হয়ত নিজের উপর থেকে অপরের মনোযোগ সরানোর জন্য তাদের সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারে। তবে আমাদের গবেষণা বলে সম্পর্কের সুত্রপাতের ক্ষেত্রে এই কৌশল হিতে বিপরীত হতে পারে। সম্পর্ক গড়তে চাইলে উভয়কেই এগিয়ে আসতে হবে।” 

অনুভূতি লুকিয়ে রাখা: মানুষের পছন্দের পাত্র হতে নিজের সত্য অনুভূতিটাই তাদের সামনে তুলে ধরা উচিত।

২০১৬ সালে এবিষয়ে গবেষণা চালান ইউনিভার্সিটি অফ ওরেগন’য়ের গবেষকরা। এতে অংশগ্রহণকারীদের দুটি সিনেমার অংশ দেখানো হয়, একদলকে মন খুলে অনুভূতি প্রকাশ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। আরেকদলকে নিজেদের অনুভূতি চেপে রাখতে বলা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা যখন এই দৃশ্যগুলো দেখছিলেন, গবেষকরা তখন পর্যবেক্ষণ করছেন তাদের প্রতিক্রিয়া। ফলাফলে দেখা যায়, যারা অনুভূতি লুকিয়ে রেখেছিলেন তাদেরকে অন্যান্যরা পছন্দ করছেন না। 

গবেষকরা বলেন, “ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মানুষ স্বার্থপরতা দেখায়। তারা দেখে কাদের কাছে তাদের সখ্যতার মূল্য আছে। আর এই মানুষটি যখন দেখবে কেউ তার অনুভূতি লুকিয়ে রাখে তখন তার প্রতি সে আগ্রহ হারাবে।”

অতিরিক্ত ভালো ব্যবহার: একজনের সঙ্গে যত ভালো ব্যবহার করবেন তার সঙ্গে সম্পর্ক ততই ভালো হওয়া উচিত, তাই না? তবে সবসময় তেমনটা ঘটে না।

২০১০ সালে ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ডেজার্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট কলেজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গবেষণা চালায়। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে পাঁচজনের একটি দলে অন্তর্ভুক্ত করে কম্পিউটার গেইমস খেলতে বলা হয়। যার মধ্যে চারজনই গবেষকদের নিজস্ব প্রভাবক।

প্রত্যেকেই তাদের নিজেদের অর্জন অপরকে দান করে দিতে পারবে পুরোপুরি কিংবা আংশিক। নিজের অর্জনের পরিমাণ বাড়ানোর লোভও তৈরি করে দেন গবেষকরা। যার অর্জন বেশি হবে সে লটারির মাধ্যমে পুরষ্কার পাবে। 

চারজন নকল অংশগ্রহণকারী তাদের অর্জন পঞ্চম জনকে দিয়ে দেয় অনেকটাই, আন্তরিকতার প্রকাশ হিসেবে। তবে প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মধ্যে অনেকেই তা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে।

তাদের মনে হয় অন্যদের এই আন্তরিকতা তাকে হেয় করেছে। কারও আবার মনে হয়েছে এই আন্তরিকতার পেছনে অন্য রহস্য আছে। 

ভদ্রভাবে নিজের বড়াই: অপরকে আকর্ষণ করতে অনেকেই আত্মসমালোচনার সুরে নিজের গুণগান গায়, যা আসলে সম্পর্ক গড়ে ওঠার আগেই দূরে সরিয়ে দেয়।

এই ধারণা প্রমাণ করতে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গবেষণা চালান সেখানকার গবেষকরা।

শিক্ষার্থীদের বলা হয় নিজেদের দুর্বলতা সম্পর্কে লিখতে। দেখা যায় চারভাগের তিনভাগই দুর্বলতার অন্তরালে নিজের বড়াই করেছে।

চাকরির সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে এমন প্রশ্ন মোকাবেলা করার একটি বিশেষ উপায় হল এমন একটি দুর্বলতা তুলে ধরা যা ওই চাকরির জন্য প্রযোজ্য নয়। 

যেমন লেখালেখির কাজ করতে হবে এমন পদের জন্য সাক্ষাৎকারে জনসমাবেশে কথা বলতে না পারাকে দুর্বলতা হিসেবে প্রকাশ করা।

বর্তমান জীবনযাত্রায় ঘুম কমে গেছে অনেকেরই। অনেক রাত পর্যন্ত চলে কাজ। ফলে ঘুমের সময় ক্রমশ কমে আসছে। এর ফলেই বাড়ছে রোগ 

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কম ঘুমায় কিংবা যারা বেশি ঘুমায় তারা নানা রোগে আক্রান্ত হয় এবং কম বাঁচে। এমনকি মোটাও হয়ে যেতে পারে কম ঘুমালে। মোটের উপর অন্তত ৬ ঘণ্টা ঘুম প্রত্যেকের প্রয়োজন।

গবেষণা বলছে, বয়ঃসন্ধিকালের আগ পর্যন্ত প্রতি রাতে ১১ ঘণ্টা ঘুমানো উচিৎ। সদ্যজাতদের প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছর তাদের প্রতিরাতে ১০ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।

ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজের মস্তিষ্ক বিষয়ক গবেষক শেন ও’মারা বলেন, শুধু কম ঘুমের কারণেই স্বাস্থ্য খারাপ হয় কি না সেটি বলা খুব কঠিন। তবে একটির সাথে আর একটির সম্পর্ক আছে। অনেকে আছেন যারা সাংঘাতিকভাবে ঘুম বঞ্চিত। রাতে এক-দু’ঘণ্টার বেশি তাদের ঘুম হয় না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর কারণে স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়। 

ঘুম কম হওয়ার কারণে শারীরিকভাবে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। পৃথিবীজুড়ে ১৫৩টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কম ঘুমের কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং মোটা হয়ে যাবার সম্পর্ক আছে। প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের উপর এসব গবেষণা চালানো হয়েছে। 

গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, একটানা কয়েক রাত যদি ঘুম কম হয় তাহলে সেটি ডায়াবেটিসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই ধরনের নিদ্রাহীনতা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে শরীরের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। 

ঘুম কম হলে টিকার কার্যকারিতা এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম হলে ক্ষুধার তীব্রতা বাড়ে এবং এতে বেশি খাবারের চাহিদা তৈরি হয়। ফলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মৃতদেহ বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর কারণ জানার যে চেষ্টা করা হয়, তাকেই পোস্টমর্টেম বা ময়নাতদন্ত বলা হয়।

পোস্টমর্টেম শব্দটি অটোপসি, নিক্রোপসি ইত্যাদি দ্বারাও বোঝানো হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর কয়েকশো ময়না তদন্ত হয়ে থাকে। তবে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালে আলাদা আলাদাভাবে সেটি হওয়ায় এর মোট সংখ্যাটি কারো জানা নেই।



পোস্টমর্টেম কেন করা হয়?


মৃত্যুর কারণ জানার জন্য পোস্টমর্টেম বা ময়নাতদন্ত করা হয়।
''কোন ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে বা তার মৃত্যু নিয়ে কোন সন্দেহ তৈরি হলে, মৃত্যুর সঠিক কারণটি জানার জন্য মৃতদেহের পোস্টমর্টেম করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে মৃতদেহ বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করা হয়, ঠিক কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।''

অনেক সময় শরীরের ভেতরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখা হয়। যেমন ধর্ষণের অভিযোগে সিমেন সংগ্রহ করে ডিএনএ ম্যাচ করা হতে পারে। আবার আত্মহত্যার মতো অভিযোগে ভিসেরা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বোঝা যায় যে বিষপ্রয়োগের কোন ঘটনা ঘটেছে কীনা।

অনেক সময় কোন ব্যক্তি অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করার পরেও যদি ওই মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, তাহলে তখন যে পোস্টমর্টেম করা হয়, তাকে বলা হয় ক্লিনিক্যাল পোস্টমর্টেম।

ময়নাতদন্ত নাম কীভাবে এলো?
অটোপসি শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ অটোপসিয়া থেকে। যার অর্থ মৃতদেহ পরীক্ষা-নিরীক্ষার করার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা।

ময়না শব্দটি ফার্সি বা উর্দু থেকে এসেছে, যার অর্থ ভালো করে খোঁজা বা অনুসন্ধান করা। ফলে ময়না তদন্ত মানে হলো ভালো করে তদন্ত করে দেখা।

যেহেতু মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা এই কাজটি করে থাকেন, এ কারণেই এর নাম হয়েছে ময়না তদন্ত।

কীভাবে ময়না তদন্ত করা হয়
হত্যা, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনার মতো যেকোনো অপমৃত্যু বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পোস্টমর্টেম বা ময়না তদন্ত করা হয়ে থাকে।

এ ধরনের ঘটনায় প্রথমেই পুলিশ একটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। অর্থাৎ মৃতদেহ কী অবস্থায় পাওয়া গেছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর মৃত্যু সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য ময়না তদন্ত করতে পাঠানো হয়।

মর্গে ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকরা সেই সুরতহাল প্রতিবেদন দেখে, প্রথমে মৃতদেহের বাহ্যিক অবস্থার বিশ্লেষণ করেন। সেখানে কোন আঘাত বা ক্ষত আছে কিনা, ত্বক ও জিহ্বার রঙ ইত্যাদি দেখে প্রথম প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

এরপরে মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে মস্তিষ্ক, ফুসফুস, লিভারসহ শরীরের ভেতরটা যাচাই করে দেখা হয়। ফলে শরীরের ভেতরে কোন আঘাত থাকলে, রক্তক্ষরণ বা বিষক্রিয়া থাকলে, সেটি চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন। কোথাও আঘাতের চিহ্ন থাকলে সেটি কীভাবে হয়েছে, তা ভালো করে যাচাই করা হয়।

এই কাজটি করতে গিয়ে মৃতদেহের নানা অংশ কেটে দেখতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। এ সময় শরীরের নানা প্রত্যঙ্গও সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়ে থাকে।

ময়না তদন্ত শেষে মৃতদেহ আবার সেলাই করে আগের মতো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। তবে শরীরের অভ্যন্তরীণ কোন কোন অংশ কেটে আরো পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হতে পারে।

ময়না তদন্ত থেকে কী জানা যায়?
ময়না তদন্তে বেশ কয়েকটি বিষয় জানার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি বিষয় হলো মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এবং কখন মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিনা, আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে কিনা, বিষ খাওয়ানো হয়েছে কিনা, রক্তক্ষরণের কোন ঘটনা আছে কিনা- ইত্যাদি বিষয়ও ময়না তদন্তে বেরিয়ে আসে।

কোন মৃত্যুর ময়না তদন্ত করা হয়?
ফৌজদারি কার্যবিধিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, কোন মৃত্যুর ঘটনাগুলোয় ময়না তদন্ত করা হবে।

''হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনায় মৃত্যু, বিষপানে মৃত্যু, শরীরের যদি কোন আঘাতের দাগ থাকে, অর্থাৎ স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি বলে সন্দেহের অবকাশ থাকলেই সেখানে মৃত্যুর কারণ জানার জন্য পোস্টমর্টেম করতে হবে।''

এ ধরনের ঘটনায় প্রথমে পুলিশ একটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। অর্থাৎ পুলিশ কর্মকর্তা কী অবস্থায় মৃতদেহটি দেখেছেন, মৃতদেহের বিস্তারিত বর্ণনা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এরপর থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়রির পরে পুলিশ মৃতদেহটি ময়না তদন্ত করার জন্য পাঠিয়ে থাকে।

তবে পুলিশের হেফাজতে মৃত্যু হলে একজন ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এরপর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

ময়না তদন্ত কোথায় হয়?
বাংলাদেশের ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বেশ কয়েকটি মেডিকেল কলেজে মর্গ রয়েছে। সেখানে ময়না তদন্তের জন্য বিশেষ স্থান থাকে। সেখানে ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা ময়না তদন্ত করে থাকেন।

এর বাইরে যেসব জেলা শহরে আড়াইশো শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে ময়না তদন্ত করা হয়ে থাকে। মেডিকেল কলেজগুলোয় ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপকরা ময়না তদন্ত করলেও, জেলা শহরে সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে আবাসিক সার্জনরা সেটা করে থাকেন।

যত দ্রুত ময়না তদন্ত করা যাবে, তত ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

তবে অনেক সময় মৃত্যুর অনেক পরেও, দাফন হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ সময় পরেও পুনরায় ময়না তদন্তের উদাহরণ রয়েছে।

ময়না তদন্তের প্রকারভেদ
মৃত্যুর কারণ জানার জন্য মূলত ময়না তদন্ত করা হলেও এর আরো কয়েকটি ভাগ রয়েছে। যেমন:

মেডিকেল: অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ জানতে এই ময়না তদন্ত করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি একটি প্রচলিত পদ্ধতি।

একাডেমিক: চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করা হয়ে থাকে।

ক্লিনিক্যাল: অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুর পরেও কারো মৃত্যু নিয়ে যদি বিতর্ক তৈরি হয়, তখন ক্লিনিক্যাল পোস্টমর্টেম করা হয়।

ময়না তদন্তের ব্যতিক্রম
অনেক সময় অস্বাভাবিক মৃত্যু হলেও পরিবারের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত ছাড়াও মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়ে থাকে।

''বাস দুর্ঘটনার মতো অনেক অস্বাভাবিক মৃত্যুর মতো ঘটনায় যখন মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ থাকে না, তখন পরিবারের অনুরোধে ময়না তদন্ত ছাড়াই মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়ে থাকে। কারণ পরিবারের সদস্যরা চান না, তাদের স্বজনদের মৃতদেহ কাটাছেঁড়া করা হোক। তখন ম্যাজিস্টেটের অনুমতি নিয়ে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হতে পারে।''

কিন্তু মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ থাকলে অবশ্যই ময়না তদন্ত করা হবে,

ময়না তদন্তের ইতিহাস
সতেরশো শতক থেকেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর পোস্টমর্টেমের রীতি চালু রয়েছে।
তবে তখনকার তুলনায় এখন অনেক আধুনিকভাবে ময়নাতদন্ত করা হয়ে থাকে।
প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ নিমপাতা ব্যবহার করে আসছেন।কারো শরীরে বসন্ত বা পক্স হলে শরীরে জ্বালাপোড়া কমাতে নিম পাতা ব্যবহার করা হয়।তাছাড়া নিম পাতা ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভেষজ ওষুধ হিসেবে কাজ করে থাকে। এগুলো ছাড়াও নিমের রয়েছে আরো অনেক স্বাস্থ্যকর গুণ।


নিমের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিফাংগাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা খুশকি রোধে খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
খুশকি থেকে মুক্তি পেতে গোসলের পানির মধ্যে কিছু নিমপাতা মিশিয়ে মাথায় ঢালুন।
যে জায়গায় চুলকানি হচ্ছে সেখানে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন। এটি ত্বককে নিরাময় হতে সাহায্য করবে এবং ত্বকের ওপরের মৃত চামড়া দূর করবে।

নিমপাতার গুঁড়ো পানিতে মিশিয়ে মুখ ধুতে পারেন। আর এতে করে আপনার মুখের ব্রণ দূর হবে এবং ব্রণের কারণে হওয়া জ্বালাপোড়া ভাবও দূর হবে।অন্যান্য উপায়ের চেয়ে ব্রণ দূর করার এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি। 

নিমপাতা ক্ষত নিরাময়েও বেশ কার্যকরি ভূমিকা রাখে।কোনো জায়গায় ক্ষত হলে নিমপাতা বেটে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে রাখতে পারেন।কেননা এর অ্যান্টিমাক্রোবাইয়াল উপাদান ক্ষত নিরাময়ে দ্রুত কাজ করে থাকে। 

একজিমা, ফোঁড়া অথবা বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা নিরাময়ে নিম পাতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আর ত্বকের যেসব জায়গায় এ ধরনের সমস্যা রয়েছে সেখানে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন। এবং ত্বককে স্বাস্থ্যকর রাখতে নিমের তেলও ব্যবহার করতে পারেন।
সুন্দর এই পৃথিবীতে বাঁচতে চাইলে ধূমপান অবশ্যই ছেড়ে দিন। কারণ ‘ধূমপান মৃত্যুর কারণ’। আর আমরা এটা সবাই জানি।
আজকাল দেশ-বিদেশে অনেক সিগারেটের প্যাকেটে এধরনের সতর্ক সংকেত লেখা হয়ে থাকে। “ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর”। মূলত ধূমপানের কুফল হিসেবে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালি সরু হয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা, যৌন ক্ষমতা হ্রাসসহ নানা প্রকার মারাত্মক ক্ষতিকর দিক রয়েছে।
আপনারা অনেকেই ধূমপান নামক এই ঘাতককে চিরতরে নির্বাসনে দিতে চান কিন্তু নানা কারণে ধূমপান আর ছাড়তে পারেন না। বিশেষজ্ঞগণ ধূমপানের আসক্তি থেকে নিজেকে রক্ষার কয়েকটি উপায় বলে দিয়েছেন। এসব অনুসরণ করলে অবশ্যই ধূমপান ছাড়া সম্ভব বলে মনে করা হয়।
তাই আসুন দেখে নিই ধূমপানের আসক্তি থেকে নিজেকে রক্ষার কয়েকটি উপায়:
  • প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন কেন ধূমপান ছাড়া আপনার জন্য জরুরি।অর্থাৎ কি কারণে আপনি ধূমপান ছাড়তে চান। যেমন ক্যান্সার ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে।
  • নিকোটিনের বিকল্প হিসেবে গাম, লজেন্স ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
  • নিকোটিনের বিকল্প ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
  • একা একা ধূমপান না ছেড়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্য (যদি ধূমপায়ী থাকেন), বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের উৎসাহিত করে একসঙ্গে ধূমপান ত্যাগের ঘোষণা দিন।
  • মানসিক চাপ কমাতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে হালকা ম্যাসাজ নিন।
  • অ্যালকোহল পরিহার করুন।
  • মনোযোগ অন্যদিকে নিতে ঘরের কাজ করতে চেষ্টা করুন।
  • ধূমপান ত্যাগের জন্য বার বার চেষ্টা করুন।একবার ছেড়ে দিলে দ্বিতীয় বার আর ধূমপান করবেন না।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • প্রচুর পরিমাণ সবুজ শাক-সবজি ও রঙিন ফলমূল খান।
  • ধূমপান বন্ধ করে যে আর্থিক সাশ্রয় আপনার হবে তার একটা অংশ জনকল্যাণ অথবা হালকা বিনোদনে ব্যয় করুন।
  • আর ধূমপান ছাড়ুন বন্ধু-বান্ধব বা প্রেমিক-প্রেমিকাকে খুশি করার জন্য নয়, বরং আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্যই এটা করেছেন।এমন জোরালো অবস্থান নিন।
ডিম না ফাটিয়েও সহজেই দু-একটা ছোট্ট পরীক্ষা করে বুঝে নেওয়া সম্ভব যে কোন ডিমটা পচা আর কোনটা ভাল।


পচা ডিম চেনার পদ্ধতি:

১) ডিম ভাল না পচা জানতে চান? খুব সহজে বুঝে নেওয়া সম্ভব। গামলা ভরতি পানির মধ্যে ডিমগুলো ডুবিয়ে দিন। যদি ডিমগুলো ডুবে থাকে তাহলে বুঝবেন যে সেগুলো ভাল। আর যদি ডিমগুলো ভেসে ওঠে, তো জানবেন সেগুলো পচা।

২) কানের কাছে একটি একটি করে ডিম নিয়ে আলতো করে ঝাঁকান। যে ডিমগুলোর থেকে বেশি আওয়াজ আসবে, জানবেন সেগুলো পচা।

ছোট্ট এই পরীক্ষার মাধ্যমে আগাভাগেই চিনে নিন পচা ডিম।
জামা-কাপড় আয়রনের জন্য ইস্ত্রি ছাড়াও আছে অনেক উপায়। জানা খাকলে লেগে যেতে পারে যেকোন সময়। যেকোন সমস্যা ইস্ত্রি ছাড়াই করুন কাপড় আয়রন। এর মাধ্যমে কুচকানো জামা-কাপড়ও খুব সহজেই সমান করতে পারেন।


লোহার তৈরি তলা সমান যে কোনও একটি পাত্রে অল্প পানি ফুটিয়ে নিন। এবার ফুটন্ত পানি ফেলে দিয়ে, গরম পাত্রটি দিয়েই কুচকানো জামা-কাপড়ের উপর ইস্ত্রি চালানোর মতো করে ঘষে নিন। দেখবেন কুচকানো পোশাক সমান হয়ে যাবে।

হাতের কাছে হেয়ার স্ট্রেটনার থাকতে কুচকানো জামা-কাপড় সমান করতে ভাবনা কিসের! হেয়ার স্ট্রেটনার দিয়ে পোশাকের ভাঁজে ভাঁজে সমান ভাবে টেনে ঘষে নিন। জামা-কাপড়ে ইস্ত্রি করার মতোই ফল পাবেন।
কুচকানো জামা-কাপড়ের ভাঁজের উপর সামান্য ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে তার উপরে কিছু ক্ষণ হেয়ার ড্রায়ার চালিয়ে নিন। দেখবেন কুচকানো পোশাক অনেকটাই সমান হয়ে গেছে।
কুচকানো জামা-কাপড় সমান করতে সাদা ভিনিগার অত্যন্ত কার্যকরী। ২ কাপ পানিতে ৩/৪ চামচ সাদা ভিনিগার মিশিয়ে নিন। এবার ওই মিশ্রণটি কুচকানো জামা-কাপড়ের ভাঁজে স্প্রে করে আলতো হাতে পোশাকটা একটু সমান করে ঘষে নিলেই পোশাকের কুচকানো ভাব অনেকটাই দূর হবে।

কেটলিতে অল্প পানি গরম করুন। পানি ফুটে উঠলে, কেটলির নীচের অংশটা দিয়ে সামান্য চাপ দিয়ে জামা-কাপড়ের কুচকানো অংশের উপর ঘষুন। দেখবেন জামা-কাপড়ে ইস্ত্রি করার মতোই হয়ে গেছে। এছাড়াও অনেক ওয়াশিং মেশিনে ‘আয়রনিং’ অপশন থাকে। এই ‘আয়রনিং’ অপশন কাজে লাগিয়েও জামা-কাপড় দিব্যি আয়রন করে নিতে পারেন।
স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ত্বকের রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। প্রয়োজনে ঘামের মাধ্যমেও শরীরের তাপ কমানো হয়। কিন্তু প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে অনেকক্ষণ থাকলে বা পরিশ্রম করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ আর সম্ভব হয় না। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায় এবং হিটস্ট্রোক দেখা দেয়।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ : তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেহে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হিটস্ট্রোকের আগে অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক হিট ক্র্যাম্প অথবা হিট এক্সাসশন হতে পারে। হিট ক্র্যাম্পে শরীরের মাংসপেশি ব্যথা করে, দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা লাগে। এর পরের ধাপে হিট এক্সাসশনে দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়। এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর প্রচণ্ড ঘামতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হিটস্ট্রোক হতে পারে। এর লক্ষণগুলো হলো :
তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।
ঘাম বন্ধ হয়ে যায়। ত্বক শুষ্ক ও লালাভ হয়ে যায়।
নিঃশ্বাস দ্রুত হয়। নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়। রক্তচাপ কমে যায়। খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক ব্যবহার, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।
প্রতিরোধের উপায় : গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিটস্ট্রোকের বিপদ থেকে বেঁচে থাকা যায়। এগুলো হলো : হালকা, ঢিলেঢালা কাপড় পরিধান করুন। কাপড় সাদা বা হালকা রঙের হতে হবে। সুতি কাপড় হলে ভালো। যথাসম্ভব ঘরের ভিতর বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন। বাইরে যেতে হলে চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন। বাইরে যারা কাজকর্মে নিয়োজিত থাকেন, তারা ছাতা বা কাপড়জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে পারেন। প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন। মনে রাখবেন, গরমে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। তাই পানির সঙ্গে সঙ্গে লবণযুক্ত পানীয় যেমন খাওয়ার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি ইত্যাদি পান করতে হবে।
আক্রান্ত হলে করণীয় : দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যান। ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিন। ভেজা কাপড়ে শরীর মুছে ফেলুন। সম্ভব হলে গোসল করুন। প্রচুর পানি ও খাওয়ার স্যালাইন পান করুন। চা বা কফি পান করবেন না। যদি হিটস্ট্রোক হয়েই যায়, রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, ঘরে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে রোগীর আশপাশে যারা থাকবেন, তাদের করণীয় হলো : রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান। গায়ের কাপড় খুলে দিন। শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করুন। এভাবে তাপমাত্রা কমাতে থাকুন। সম্ভব হলে কাঁধে, বগলে ও কুচকিতে বরফ দিন। রোগীর জ্ঞান থাকলে তাকে খাওয়ার স্যালাইন দিন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। সবসময় খেয়াল রাখবেন, হিটস্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস ও নাড়ি চলছে কিনা। প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিঃশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। হিটস্ট্রোকে জীবন বিপদাপন্ন হতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন।
অনেক সময় আমরা শরীরের নানা নীরব লক্ষণ এড়িয়ে যাই কিংবা অবহেলা করি। যা পরবর্তীতে বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। তাই যদি কখনও অনুভূত হয় যে শরীরের আকস্মিক পরিবর্তন ঘটছে, তা মোটেই অবহেলা করা উচিত নয়।
যেসব পরিবর্তন অবহেলা করবেন না-
১. শরীরের কোনো স্থান হতে অনভিপ্রেত রক্তক্ষরণ
২. বার বার মলত্যাগ
৩.আকস্মিক ওজন হ্রাস
৪. হঠাৎ রেগে যাওয়া
৫. শারীরিক ক্ষমতা হ্রাস
৬. স্কিন র‌্যাশ যা থেকে চুলকানো হয়
৭. নাক ডাকা
৮. দীর্ঘস্থায়ী খুশখুশে কাশি
৯. দাঁতের সমস্যা হওয়া
১০. প্রিয়জনের নাম মনে রাখতে না পারা
এ সমস্যাগুলো এক বা একাধিক এক সঙ্গে থাকতে পারে। যেমন- আকস্মিক ওজন হ্রাস, পাকস্থলী, গলনালী, প্যানক্রিয়াস অথবা ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ। এ ব্যাপারে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির প্রধান ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ড. রিসার্ড ওয়েন্ডারের মতে কোনো ধরনের ডায়েটিং অথবা এক্সারসাইজ ছাড়া শরীরের ওজন ১০ কেজি কমে গেলে অবশ্যই ক্যান্সারের বিষয়টি মাথায় আনতে হবে।
উল্লেখ্য, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসব সমস্যা চিহ্নিত করা যায়। তাই তাদের মতে, শরীরের যে কোনো ধরনের রোগের লক্ষণ কোনো ভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়