Articles by "দর্শনীয় স্থান"
Showing posts with label দর্শনীয় স্থান. Show all posts

ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য চমৎকার এক বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে ট্রাভেল গাইড ‘লোনলি প্ল্যানেট’ ।

তারা বলছে, দশ দেশের ১০ শহরে আগামী বছরে ভ্রমণ করা উচিত। কী কারণে সেই ১০ শহরে ২০২০ সালে যাওয়া উচিত জানিয়ে তালিকাও প্রকাশ করেছে তারা।

 
চলুন দেখে নেই কোন কোন শহর রয়েছে সেই তালিকায়-

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি

আগামী বছর ওয়াশিংটনে নারীদের ভোটাধিকার প্রদানের শততম বার্ষিকী পালন করবে যুক্তরাষ্ট্র। ৯৯ বছর আগে সংবিধানে ‘উনিশতম সংশোধনীর’ মাধ্যমে নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করে দেশটি। এই উপলক্ষে অনেকগুলো বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে ওয়াশিংটর। পাশাপাশি পর্যটকদের উদ্দেশ্যে শহরটির পুনরুজ্জীবিত ‘ওয়াটারফ্রন্ট’ আর বৈচিত্র্যময় খাবারের আয়োজন রয়েছে সেখানে, যা হবে মনমুগ্ধকর। আর এসব উপভোগ করতে পর্যটকদের ২০২০ সালে বিদেশ ভ্রমণের তালিকায় ওয়াশিংটনকে রাখা অবশ্যই উচিত বলে মনে করছে ট্রাভেল গাইড ‘লোনলি প্ল্যানেট’।

অস্ট্রিয়ার সালৎসবুর্গ

ট্রাভেল গাইড ‘লোনলি প্ল্যানেট’ ইউরোপের সুরের দেশ অস্ট্রিয়ার সালৎসবুর্গ শহরটিকে ‘হৃদয় চুরি করা এক আলপাইন শহর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আগামী বছর সেখানে সালৎসবুর্গ উৎসবের শতবর্ষ পূর্তি পালিত হবে৷ এ উপলক্ষে শহরটির ঐতিহাসিক কেন্দ্রে নানা প্রদর্শনী এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। দেশটির স্থানীয় সংস্কৃতি আর সুরের মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে উঠবে সালৎসবুর্গ। আর বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি উপভোগ করতে আগ্রহী এমন পর্যটকরা অবশ্যই সালৎসবুর্গ যাবেন বলে মনে করে ট্রাভেল গাইডটি।

মিসরের কায়রো

কায়রোকে জাদুঘরের শহর বলা হয়। পিরামিড আর প্রাচীন ঐতিহ্যের শহর কায়রো পর্যটকদের জন্য সবসময়ই আকর্ষণীয়। তবে এবার বিশেষ একটি কারণে কায়রোতে ঘুরে আসতে বলেছ ট্রাভেল গাইড লোনলি প্ল্যানেট। তারা জানিয়েছে, আগামী বছর কায়রোর বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম’ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। আর সেখানে স্থায়ীভাবে রহস্যময়ী ফারাও রাজা তুতানখামুনের সমাধিস্থ ধন-সম্পদ প্রদর্শন করা হবে। জানা গেছে, মিশরের অন্যান্য শহর থেকে এই শহর এবং সংলগ্ন পিরামিডগুলো ভ্রমণ করাও সহজ হবে, কেননা সেখানে নতুন একটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরও চালু করা হচ্ছে। তাই ২০২০ সালে কায়রো যে পর্যটকের আনাগোনায় মুখরিত থাকবে তা অনুমান করা যাচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই

কি না আছে বিশ্বের ধনী শহরের তালিকায় থাকা দুবাই শহের। এ শহরের বর্ণিল সব আয়োজন সবসময়ই পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে ২০২০ সালে দুবাই সাজবে ভিন্ন রঙে। আগামী বছর দুবাইতে বেশি কয়েকটি বড় প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে। এর মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে ছয়মাসব্যাপী এক বিশ্ব বাণিজ্যমেলা, যেখানে বিশ্বের ১৯০টি দেশ স্থায়িত্ব এবং গতিশীলতার নানা মডেল উপস্থাপন করবে। আর সেখান থেকে মাত্র দুই মাইল দূরে সমুদ্র উপকূলে এক কৃত্রিম দ্বীপে ইউরোপীয় থিমে তৈরি ফ্যান্টাসি রিসোর্টও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

আয়ারল্যান্ডের গ্যালওয়ে

বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য ২০২০ সালের পুরোটাই রেখে দিয়েছে আয়ারল্যান্ডের গ্যালওয়ে শহর। ২০২০ সালে এই শহর হবে ইউরোপের একটি সাংস্কৃতিক রাজধানী। ফলে সারা বছরই সেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হবে। তাই আগামী বছরে আয়ারল্যান্ডে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা গ্যালওয়ে না গেলে বড় ভুলই করবেন। লোনলি প্ল্যানেটের ভাষায় ‘উজ্জ্বলভাবে বোহেমিয়ান’ শহর গ্যালওয়ে চমৎকার সব পানশালার জন্য বিখ্যাত। তাই এ শহর পর্যটকদের জন্য বিশেষ আর্কষণও।

জার্মানির বন

রাজধানীর মর্যাদা হারানোর পর বন অনেক মানুষের ভ্রমণের তালিকা থেকে হারিয়ে গেছে। তবে আগামী বছর শহরটির প্রতি মানুষের আগ্রহ আবারো বাড়বে। বনে জন্ম নেয়া সুরস্রষ্টা লুডভিগ ফান বেটোফেনের ২৫০তম জন্মবার্ষিকী বড় করে পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। তবে, বেটোফোনের বাড়ি ঘুরে দেখা ছাড়াও রাইন নদীর পাড় ধরে ঘুরে বেড়াতেও পছন্দ করেন অনেক পর্যটক।

কানাডার ভ্যানকুভার

সমুদ্র এবং পাহাড়ের মাঝখানে থাকা ভ্যানকুভ্যার শহরও বেশ পরিবেশবান্ধব। গ্রিনপিসের জন্মস্থানে সাইকেল চালানো এবং হাঁটার জন্য রয়েছে বিস্তৃত সড়ক নেটওয়ার্ক।

চীনে কমিউনিস্ট পার্টির সত্তরতম বার্ষিকীর কয়েকদিন আগেই চালু হলো নতুন এক বিমানবন্দর। তারামাছের আদলে তৈরি বিশাল বিমানবন্দরটিতে চারটি রানওয়ে আছে। প্রয়োজনে আরো তিনটি রানওয়ে যোগ করা যাবে। 

তারামাছ সাধারণত সমুদ্রের নীচে দেখা গেলেও চীন সেটা তুলে এনেছে মাটির উপরে। রাজধানী বেইজিং থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে সাত লাখ বর্গমিটার এলাকায় তারামাছের আদলে এক বিমানবন্দর তৈরি করা হয়েছে। বেইজিং ডেক্সিং বিমানবন্দরটি ভবিষ্যতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরে পরিনত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর ডয়চে ভেলের।
বিমানবন্দরটির স্থপতি জাহারা হাদিদ ২০১৬ সালে মৃত্যবরণ করেন। তিনি এটি এমনভাবে ডিজাইন করেছিলেন যাতে ২০৪০ সাল নাগাদ বছরে সাত কোটি ২০ লাখ যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে পারে। এটি তৈরি করতে পাঁচ বছর সময় লেগেছে এবং এক হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। একছাদের নীচে সব টার্মিনাল থাকা বিশ্বের অন্যতম বড় বিমানবন্দরটিতে যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ছাদের ফাঁকা স্থান থেকে আলো একেবারে নীচ অবধি পৌঁছাতে পারে। বিমানবন্দরটির ডিজাইনে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে সাদাকে। 

বিমানবন্দরটির আকার বড় বলে অনেকে মনে করতে পারেন চেক-ইনের পর বুঝি লম্বা পথ হাঁটতে হবে। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বলয় পার হওয়ার পর বিমানে পৌঁছানোর দূরত্ব কোনক্ষেত্রেই ছয়শো মিটারের বেশি হবে না। অর্থাৎ দেখতে বড় মনে হলেও ডিজাইনের কারণে হাঁটতে হবে কম। 

আগামী দশকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এভিয়েশন মার্কেটে পরিণত হতে চায় চীন। সেই লক্ষ্য পূরণে এই বিমানবন্দর বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

চীনা নেতারা জানিয়েছেন যে ডেক্সিং হবে প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক বিমানবন্দর। হুয়াওয়ে বিমানবন্দরটিতে ফাইভ জি সেবা প্রদান করবে যা পুরো বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনাকে গতিময় করার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্যও সর্বাধুনিক ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি চেক-ইন এবং নিরাপত্তা চেকপোস্টে চেহারা সনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সূত্র: ডয়চে ভেলে

প্রতি বছর বিশ্বের প্রাকৃতিক নিদর্শন ও নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে তার গুরুত্বের জন্য বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়।

এবার ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি আজারবাইজানের বাকুতে ৪৩তম বৈঠকে বসেছে।
সেখানে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন কোন কোন যায়গাগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হবে।
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় তারা যেসব নতুন নিদর্শন বা স্থানের নাম সংযুক্ত করেছেন তার কয়েকটি ছবি।

                                              আইসল্যান্ডের ভাখনাইওকুল ন্যাশনাল পার্ক

আইসল্যান্ডের ভাখনাইওকুল ন্যাশনাল পার্কআইসল্যান্ডের মোট সীমানার ১৪ শতাংশ জুড়েই রয়েছে এই ভাখনাইওকুল ন্যাশনাল পার্ক।
বরফে আচ্ছাদিত এবং আগ্নেয়গিরির বৈশিষ্ট্য সম্বলিত পুরো অঞ্চলটি দারুণ দৃষ্টিনন্দন।
এখানে বিশাল অঞ্চল জুড়ে রয়েছে শুকিয়ে যাওয়া অগ্নুৎপাত।

ফ্রান্সের অস্ট্রাল ভূমি ও সমুদ্র


অনেকগুলো দ্বীপ সম্বলিত এই অঞ্চলটি।
বিশ্বের সবচাইতে বেশি পাখি এবং সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী বাস করে এখানে।
বিরল কিং পেঙ্গুইন দেখতে পাওয়া যাবে এখানে গেলে।

ভারতের জয়পুর নগরী


ভারতের উত্তর পশ্চিমে রাজস্থান প্রদেশের রাজধানী জয়পুরকে বলা হয় "গোলাপি নগরী"।
কারণ শহরের ভবনগুলোকে দুর থেকে গোলাপি মনে হয়।
এখানে বহু প্রাচীন ভবন রয়েছে। এমনকি শহরটি প্রথম যখন প্রতিষ্ঠা হয় সেই ১৭২৭ সালের সময়কার ভবনও রয়েছে।
দারুণ সব কারুকার্য দিয়ে সাজানো এসব ভবন।

জাপানের প্রাচীন সমাধি

জাপানের ওসাকা শহরে এরকম ৪৯ টি প্রাচীন সমাধি রয়েছে।
এগুলো তৈরি হয়েছে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শতাব্দী। এই সমাধিগুলোর নানান আকৃতির।
যেমন এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তালার ছিদ্রের মতো আকৃতির সমাধি। এটির নামকরণ করা হয়েছে ২৯০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মানো সম্রাট নিনতোকুর নামে।
এটি জাপানের সর্ববৃহৎ সমাধি ।

ইরাকের ব্যাবিলন

ইরাকের অবস্থিত প্রাচীন মেসোপটেমিয়া নগরীকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বহুদিন যাবত চেষ্টা চালাচ্ছিল ইরাকের কর্তৃপক্ষ।
দেশটির যুদ্ধ ও সংঘাতময় রাজনীতির কারণে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাবিলন নগরী।
তবে সম্প্রতি এর অতীত গৌরব সংরক্ষণে নানা ধরনের কাজ চলছে।

বাগান, মিয়ানমার

মিয়ানমারের প্রাচীন রাজধানী বাগান।
ছবিতে যেগুলো দেখছেন এগুলো বৌদ্ধ মন্দির। সবুজ প্রকৃতির মধ্যে এমন হাজার মন্দির আগে থেকেই পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

লাওসের বয়াম সদৃশ প্রাচীন স্থাপনা

লাওসের ঝিংখাওয়াং অঞ্চলে পাথর দিয়ে তৈরি এরকম হাজার হাজার বয়াম সদৃশ বস্তু রয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন এগুলো লৌহ যুগে তৈরি। কেন এগুলো তৈরি করা হয়েছিলো সেটি এখনো অনেক রহস্যময়।
অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদ মনে করেন এগুলো সম্ভবত মরদেহ সৎকারে ব্যবহৃত হতো।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু শিগগিরই সবার চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে।
পর্যটকদের জন্য আসছে সুখবর। ভ্রমণপিপাসুদের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি নতুনের স্থানের নাম। স্থানটি যুক্তরাষ্ট্রের গেটিলনবার্গ আর স্থাপনাটি একটি ঝুলন্ত সেতু। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু। ১৭ মে থেকে জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ঝুলন্ত সেতুটি। শিকলের সাহায্যে তৈরি ঝুলন্ত এই সেতুকে বলা হচ্ছে ‘স্কাইব্রিজ’।
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য টেনেসির রিসোর্ট শহর গেটলিনবার্গের পাহাড়ি অঞ্চলে তৈরি করা হয়েছে ৬৮০ ফুট লম্বা এ ঝুলন্ত সেতু। স্থলভাগ থেকে এটির উচ্চতা ১৪০ ফুট। পর্যটকেরা হেঁটেই পার হতে পারবেন এ সেতু। সেতুটি পারাপারের সময় পাহাড়ে মেঘের দেখা পাবেন পর্যটকেরা।

৬৮০ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি পর্যটকেরা হেঁটেই পার হতে পারবেন। ছবি: সংগৃহীতউচ্চতায় কারও ভয় থকলে এ সেতু ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ, সেতুটি মাঝের কিছু অংশ কাচ দিয়ে তৈরি। তাই ১৪০ ফুট উঁচুতে থাকা এ সেতুর নিচে কী আছে, তা স্পষ্টভাবেই দেখতে পারবেন ওপরে থাকা পর্যটকেরা।
গেটলিনবার্গের স্কাই লিফট পার্কের নতুন সংযোজন হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে এ ঝুলন্ত সেতু। এ পার্কের অন্য আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ‘চেয়ার লিফট’, যাতে চড়ে যাত্রীরা পাহাড়ের প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উঠতে পারবেন। এই ‘চেয়ার লিফটে’ উঠতে পকেট থেকে খরচ হবে বড়দের জন্য ১৫ ডলার আর শিশুদের জন্য ১২ ডলার করে।
৬৮০ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি পর্যটকেরা হেঁটেই পার হতে পারবেন
 পার্কের ওয়েবসাইটে তারা জানায়, সেতুটি পারাপারে পথচারীদের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তা ছাড়া এ অনিন্দ্যসুন্দর সেতু পারাপারের সময় ইচ্ছেমতো ছবিও তোলা যাবে। কারণ, পাশেই আছে সুন্দর গ্রেট স্মোকি মাউন্টেন ন্যাশনাল পার্ক। স্কাইব্রিজটি যাঁরা তৈরি করেছেন, তাঁদের দাবি, এটিই উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু।
 অন্যদিকে, কানাডার কেলোওনা পাহাড়ের ঝুলন্ত সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০০ ফুটেরও বেশি।
তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝুলন্ত সেতু হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের চার্লেস কুনেন। ২০১৭ সালে এটি জনসাধারণের উন্মুক্ত করা এ সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬২১ ফুট। আর উচ্চতা প্রায় ২৭৯ ফুট।
প্রিয়নবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের বরকতময় স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র শহর মদিনা। এই পুণ্যভূমিতেই সবুজ গম্বুজের ছায়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব, সায়্যিদুল মুরসালিন, রাহমাতুল্লিল আলামিন (সা.)।
তাঁর পবিত্র দেহ বুকে ধারণ করে মদিনা চিরধন্য। তাঁর নাম শোনামাত্রই হৃদয়ের আয়নায় ভেসে ওঠে এক স্বর্গীয় নগরীর ছবি। প্রেম, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধে ভরে যায় মন। মুমিনের জীবনে আল্লাহর ঘর জিয়ারত ও প্রিয় হাবিবের রওজার পাশে দাঁড়িয়ে সালাম জানানোর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি হতে পারে না। মুসলমানদের প্রাণের মদিনা সম্পর্কে জেনে অতীব গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য।
মদিনার মর্যাদা
মদিনা বরকতপূর্ণ নগরী। এর বরকতের জন্য প্রিয়নবী (সা.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি মক্কায় যে বরকত দান করেছেন, তার দ্বিগুণ বরকত মদিনায় দান করুন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৩৯২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমাকে এমন এক নগরীতে বসবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা মর্যাদায় সব শহরকে ছাড়িয়ে যাবে। মানুষ তাকে ইয়াসরিব বলে। তার নাম হলো মদিনা। তা মন্দ চরিত্রের লোকদের এমনভাবে দূর করে দেবে, যেমন কামারের ভাট্টি লোহার ময়লা দূর করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৭১)
মদিনার প্রতি রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা
আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি মদিনাকে আমাদের কাছে এমনই প্রিয় করে দাও, যেমনি প্রিয় করেছ মক্কাকে। বরং তার চেয়েও বেশি প্রিয় করে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩৭২)
আনাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো সফর থেকে মদিনায় ফিরে আসতেন, তখন দূর থেকে মদিনার ঘরবাড়ি দেখেই তাঁর উটের গতি বাড়িয়ে দিতেন। অন্য কিছুতে আরোহিত থাকা অবস্থায় ভালোবাসার আতিশয্যে তা নাড়াচাড়া শুরু করে দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৮৬)
আবু হুমাইদ সায়েদি (রা.) বলেন, “আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসছিলাম। যখন আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম, রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘এই তো পবিত্র ভূমি। এই তো ওহুদ পাহাড়, যে পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও তাকে ভালোবাসি’।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৪২২)
মদিনাবাসীর ফজিলত
মদিনাবাসী আনসার সাহাবিদের সম্পর্কে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর ওই সব লোক, যারা তাতে (মদিনায়) আগে থেকেই ইমানের সঙ্গে বসবাস করছে। যারা হিজরত করে তাদের কাছে আসে, তাদের তারা ভালোবাসে। আর যা কিছু তাদের (মুহাজিরদের) দেওয়া হয়, তার জন্য নিজেদের অন্তরে কোনো চাহিদা বোধ করে না। আর তাদের (মুহাজিরদের) তারা নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা অভাব-অনটনে ভোগে।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মদিনার অধিবাসীদের কোনো ক্ষতি সাধন করতে চায়, আল্লাহ তাকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন, যেভাবে লবণ পানির মধ্যে মিশে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৩৮৬)
মদিনা ইমান ও নিরাপত্তার স্থান
মদিনা থেকেই ইমানের আলো সারা বিশ্বে বিচ্ছুরিত হয়েছিল। শেষ যুগে মানুষ যখন ইমান থেকে বিচ্যুত হতে থাকবে, তখন ইমান তার গৃহে তথা মদিনার দিকে ফিরে আসবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ইমান মদিনার দিকে ফিরে আসবে, যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৭৬) দাজ্জালের আবির্ভাবে ফিতনা যখন বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে, পৃথিবীবাসী ভীত থাকবে। পৃথিবীর সর্বত্র বিচরণ করতে সক্ষম হলেও তখন সে পবিত্র মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। হাদিস শরিফে আছে, ‘মক্কা ও মদিনা ছাড়া এমন কোনো শহর নেই, যা দাজ্জালের পদার্পণে বিপর্যস্ত হবে না। মক্কা-মদিনার প্রতিটি ফটকেই ফেরেশতারা সারিবদ্ধ হয়ে পাহারা দেবেন। তখন মদিনা তার অধিবাসীদেরসহ তিনবার কেঁপে উঠবে। আর সব কাফির ও মুনাফিক মদিনা ছেড়ে চলে যাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৮১)
মদিনায় মসজিদে নববী
মদিনার মসজিদের রয়েছে সবিশেষ গুরুত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমার এই মসজিদে নামাজ আদায় মক্কার মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য সব মসজিদে নামাজ অপেক্ষা এক হাজার গুণ বেশি সাওয়াব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৯০)
আরেক বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার এই মসজিদে লাগাতার ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছে, এর মধ্যে কোনো নামাজ ছোটেনি, সে মোনাফেকি ও দোজখের আজাব থেকে নাজাত পাবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১২৫৮৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, ‘আমার মিম্বার ও ঘরের মাঝখানের অংশটুকু জান্নাতের বাগিচাসমূহের একটি বাগিচা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৯৫)
মসজিদে নববীর পাশে আয়েশা (রা.)-এর হুজরায় অবস্থিত নবীজির রওজা শরিফ। তারই পাশে হজরত আবু বকর (রা.) ও উমর (রা.)-এর কবর। এর পাশে আরেকটি কবরের জায়গা খালি আছে, এখানে হজরত ঈসা (আ.)-এর সমাধি হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬১৭)
রওজা শরিফের পশ্চিম দিকে রাসুল (সা.)-এর মিম্বার পর্যন্ত স্থানটুকুকে ‘রিয়াজুল জান্নাত’ বা বেহেশতের বাগিচা বলা হয়। এটি দুনিয়ায় একমাত্র জান্নাতের অংশ।
মসজিদে নববীর পূর্ব দিকে অবস্থিত ‘জান্নাতুল বাকি’ গোরস্তানে অসংখ্য সাহাবা, তাবেইন, আউলিয়া ও নেককার মুসলমানের কবর রয়েছে। এর মধ্যে হজরত উসমান, আলী, ইবনে মাসউদ, ফাতিমা, আয়েশা, রাসুল (সা.)-এর দুধমা হালিমা, চাচা আব্বাস, রাসুল (সা.)-এর ছেলে ইব্রাহিম, হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুমসহ অনেকের কবর আছে। রাসুল (সা.) প্রায়ই জান্নাতুল বাকিতে জিয়ারতে যেতেন।
পবিত্র রওজা জিয়ারত
মদিনা শরিফ যাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্যই হবে রওজাপাকের জিয়ারত। হাদিস ও ফিকাহ গ্রন্থগুলোতে এ বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। মদিনায় যাওয়া নিছক কোনো ভ্রমণ নয়, বরং তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আর তা হতে হবে রওজাপাকের জিয়ারতের নিয়তেই। আল্লামা সামহুদি (রহ.) বলেন, ওহুদের শহীদদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে নবী করিম (সা.) তাশরিফ নিয়েছেন। দুনিয়ার সব কবরের মধ্যে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে বেশি জিয়ারতের উপযুক্ত স্থান হলো রাসুল (সা.)-এর রওজা। তাই এর উদ্দেশে সফর করাও উত্তম। এ কথার ওপর পূর্বাপর সব উলামায়ে কেরামের ঐকমত্য রয়েছে। (ওয়াফাউল ওয়াফা : ৪/১৮৮)
হাদিস শরিফে রয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত করল, তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত।’ (সুনানে দারাকুতনি, হাদিস : ২৬৯৫, শুআবুল ইমান, হাদিস : ৩৮৬২) হাদিসটিকে ইমাম ইবনুস সাকান, আব্দুল হক ও তাকি উদ্দিন সুবকি (রহ.) সহিহ বলেছেন। (নায়লুল আওতার : ৫/৯৫) অন্য হাদিসে রয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি একমাত্র আমার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে এবং এ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই আমার জিয়ারতে আসবে, কিয়ামতের দিন তার সুপারিশ করা আমার ওপর জরুরি হয়ে পড়বে।’ (আল মুজামুল কাবির : হাদিস : ১৩১৪৯) হাদিসটিকে ইমাম ইবনুস সাকান ও ইরাকি (রহ.) সহিহ বলেছেন। (ওয়াফাউল ওয়াফা : ৪/১৭১, এলাউস সুনান : ৭/৩৬০৬)
অন্য হাদিসে রয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার মৃত্যুর পর আমার জিয়ারত করবে, সে যেন আমার জীবদ্দশায়ই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করল।’ (সুনানে দারাকুতনি, হাদিস : ২৬৯৪, শুআবুল ইমান, হাদিস : ৩৮৫৫) ইমাম জাহাবি রহ.-এর মতে, হাদিসটির সূত্র ভালো (জাইয়্যেদ)। (ওয়াফাউল ওয়াফা : ৪/১৭১)
মদিনায় মৃত্যুর ফজিলত
প্রিয় নবী (সা.) তাঁর উম্মতকে মদিনায় আবাসস্থল বানাতে এবং এর মধ্যে মৃত্যু কামনা করতেও উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে আমার কবর জিয়ারত করবে, কিয়ামতের দিন সে আমার পাশে থাকবে। আর যে মদিনায় বসবাস করবে এবং তার বিপদাপদের ওপর ধৈর্য ধারণ করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার সাক্ষী ও সুপারিশকারী হব। আর যে ব্যক্তি দুই পবিত্র নগরীর (মক্কা-মদিনা) যেকোনো একটিতে মৃত্যুবরণ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে নিশ্চিন্ত করে ওঠাবেন।’ (শুআবুল ইমান, হাদিস : ৩৮৫৬)
অন্য হাদিসে এসেছে : ‘তোমাদের মধ্যে যার পক্ষে সম্ভব হয়, সে যেন মদিনায় মৃত্যুবরণ করে। কেননা যে ব্যক্তি মদিনায় মৃত্যুবরণ করবে, আমি তার জন্য সুপারিশ করব।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৯১৭)
আল্লাহ তাআলা আমাদের রাসুল (সা.)-এর রওজাপাক জিয়ারত ও মদিনায় মৃত্যু নসিব করুন। আমিন।
                                                            লেখক : ফতোয়া গবেষক,
ইসলামিক রিচার্স সেন্টার, বাংলাদেশ
আমেরিকা বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় দেশগুলির মধ্যে একটি। প্রতিবছর দেশটিতে বিপুল পরিমান পর্যটক আসে দেশটির বিভিন্ন দর্শনীও ও আকর্ষণীয় স্থানগুলো ভ্রমন করতে। নিউইয়র্ক ও শিকাগোর স্কাইস্ক্রাপার বা সুউচ্চ অট্টালিকা থেকে শুরু করে আলাস্কার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ইয়োলোস্টোন কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ার, ফ্লোরিডা এবং হাওয়াইের সুদৃশ্য সৈকত – সবই আমেরিকান এবং আমেরিকায় আগত টুরিস্টদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। আর আমেরিকার এতো এতো আকর্ষণীয় স্থান থেকে বাছাই করে সবচেয়ে সেরা ৫ টি আকর্ষণীয় স্থান নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। তো চলুন দেখে নেই আমেরিকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ৫ টি স্থান সম্পর্কে:

লাস ভেগাস স্ট্রিপ (Las Vegas Strip)

৫. লাস ভেগাস স্ট্রিপ

লিস্টের ৫ম স্থানে রয়েছে লাস ভেগাস স্ট্রিপ (Las Vegas Strip)। বিশ্বের গ্যাম্বলিং রাজধানী হিসেবে খ্যাত, লাস ভেগাস আমেরিকার দক্ষিণ নেভাদা মরুভূমিতে অবস্থিত। লাস ভেগাস শহরের যে সমস্ত রাস্তা জুড়ে বড় বড় হোটেল, জুয়া খেলার আখড়া বা ক্যাসিনো গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সে জায়গাটুকুকে বলা হয়  লাস ভেগাস স্ট্রিপ। লাস ভেগাসের ৫ তারকা বা ৭ তারকা হোটেলগুলো নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন থিমকে ঘিরে। যেমন – কোনটা প্যারিস,  কোনটা আলাদীন,  কোনটা ট্রেজার আইল্যান্ড,  কোনটা সিজার সম্রাট, গ্রীস, আফ্রিকা, মিশরের ফারাও রাজাদের কেন্দ্র করে নির্মিত। তবে, শুধু হোটেল বা ক্যাসিনো নয়, এই শহরের এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে  সুপার মার্কেট, গ্যাস স্টেশন, সুপার মার্কেট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি সব জায়গাতেই সাজানো থাকে জুয়া খেলার স্লট মেশিন।
নায়াগ্রা জলপ্রপাত (Niagara Falls)

৪. নায়াগ্রা জলপ্রপাত

নায়াগ্রা জলপ্রপাত (Niagara Falls)
আমেরিকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানের ৪র্থ স্থানে রয়েছে প্রকৃতির অপার বিস্ময় –  নায়াগ্রা জলপ্রপাত (Niagara Falls)। বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত এটি।১৬৭ ফুট উঁচু এই জলপ্রপাত থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৬৪ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পানি নদীতে আছড়ে পড়ে। জলপ্রপাতটি আমেরিকার নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক সীমানার ওপর অবস্থিত। ভ্রমণ পিপাসু সকল প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে নায়াগ্রা জলপ্রপাতটি একটি রোমাঞ্চকর স্থান। তবে আমেরিকাতে জলপ্রপাতটি পিছন থেকে দেখতে হলেও কানাডাতে সরাসরি সামনে থেকেই দেখা যায় ফলে সম্পূর্ণ জলপ্রপাত ভালোমত দেখা যায়। এখানে মুগ্ধ পর্যটকদের খুব কাছেই জলপ্রপাতের জলরাশিতেই রংধনু এসে ধরা দেয়। আমেরিকাতে প্রতি বছরে ১৪ মিলিয়নেরও বেশি পর্যটক আসে প্রকৃতির অপার বিস্ময় এই নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখতে।

৩. ম্যানহাটন:

ম্যানহাটন (Manhattan)
আমেরিকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানের লিস্টের পরবর্তী স্থানে রয়েছে ম্যানহাটন (Manhattan)। ম্যানহাটন আমেরিকার বৃহত্তম শহর নিউইয়র্ক সিটির ৫ টি বরো বা কাউন্টির মধ্যে ক্ষুদ্রতম। ম্যানহাটনই মূলত নিউইয়র্ক শহরের প্রাণ। নিউইয়র্ক সিটির কথা চিন্তা করলেই আমাদের মনের মধ্যে ভেসে উঠে ম্যানহাটনের গগনচুম্বী সব দালান বা  স্কাইস্ক্রাপারের চিত্র। আকাশ ছোয়া এসব দালানের চিত্র আমরা হাজার বার এরও বেশি দেখেছি টিভির পর্দায়। এখানের গগনচুম্বী দালানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এম্পায়ার স্টেট, ক্রিস্‌লার এবং সিটিকর্প সেন্টার। আর ১০১ তলা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার যুগলের অবস্থানও ছিল এই ম্যানহাটন দ্বীপেই।

২.  ইয়েলোস্টোন জাতীয় উদ্যান

ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক (Yellowstone National Park)
আমেরিকার দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে অন্যতম হল ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক (Yellowstone National Park)। এটি বিশ্বের বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ন্যাশনাল পার্ক। পার্কের ভিতরে রয়েছে পর্বতমালা, সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, উপ আ্যলপাইন অরণ্য, গিরিখাত, নদী ও হ্রদ। এটি ১৮৭২ সালের ১লা মার্চ রাষ্ট্রপতি ইউলিসিস এস. গ্র্যান্টের সাক্ষরানুক্রমে মার্কিন কংগ্রেস একটি আইন পাস করে স্থাপিত হয়েছিলো। পার্কটি মূলত ওয়াইওমিং রাজ্যে অবস্থিত হলেও মন্টানা ও আইডাহো রাজ্যেও এর কিছু অংশ রয়েছে৷ জীববৈচিত্র্য ও জিওথার্মাল বৈশিষ্ট্যের জন্য পার্কটি খুবই বিখ্যাত। পার্কটিতে বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণীরও দেখা মিলে; যার মধ্যে রয়েছে ইয়েলোস্টোন পার্ক বাইসন, কালো ভাল্লুক, নেকড়ে, প্রোঙ্গহর্ন অ্যান্টিলোপ (এক ধরণের হরিণ), বড় শিংওয়ালা ভেড়া, মেঠো কাঠবিড়ালি, পালকহীন ঈগল, লাল শিয়াল, ছাই বর্ণের ঘুঘু ইত্যাদি।

১. গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (Grand Canyon)
আমেরিকান টুরিস্টদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হল গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (Grand Canyon)। আমেরিকার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যেের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যেন পৃথিবীর ২০০ কোটি বছরের এক নীরব সাক্ষী। এর অধিকাংশ এলাকা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কের মধ্যেই অবস্থিত। এই গিরিখাতটি দৈর্ঘ্যে ২৭৭ মাইল এবং প্রস্থে সর্বোচ্চ ১৮ মাইল এবং গভীরতায় প্রায় ১৮০০ মিটার। অসামান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে এনে দিয়েছে আমেরিকায় আগত পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের খ্যাতি। প্রতি বছর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ছুটে আসেন গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বাহারি রংয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তবে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে ঘুরতে আসা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হলো সূর্যোদয় দেখা।
আমেরিকার আরো কিছু দর্শনীয় স্থান হলো – গোল্ডেন গেট ব্রিজ, হোয়াইট হাউস, ওয়াল্ট ডিজনী ওয়ার্ল্ড, টাইমস স্কয়ার, স্ট্যাচু অফ লিবার্টি ইত্যাদি।
চীন বিশ্বের ২য় বৃহত্তম দেশ। আর জনসংখ্যার দিক দিয়ে প্রথম। দেশটি সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের দিক দিয়ে খুবই সমৃদ্ধ। চীনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, নদী, সমুদ্রসহ আধুনিক নগরায়নের জন্যই সারা বিশ্বের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। আর তাই চীন বিশ্বের পর্যটন গন্তব্যস্থলগুলির মধ্যে অন্যতম। চলুন এ পর্বে দেখে নেই চীনের সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় ৫টি স্থান সম্পর্কে।

চীনের জায়ান্ট পান্ডা শুধুমাত্র চীনা পর্যটকদের কাছেই জনপ্রিয় না, এই প্রাণীটি পৃথিবী জুড়ে শিশু থেকে শুরু করে সবার কাছে জনপ্রিয়। আপনি যদি পাণ্ডা সম্পর্কে না জানেন তবে আপনার জন্য বলছি, চীনের জায়ান্ট পান্ডা ভালুকের মত দেখতে সাদাকালো রঙের এক প্রকার প্রাণী। চীনের অনেক চিড়িয়াখানাতেই আপনি এদের দেখতে পাবেন। তবে সবচেয়ে বেশি জায়ান্ট পাণ্ডার দেখা মেলে সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু শহরে – যা জায়ান্ট পাণ্ডার হোমটাউন হিসেবে পরিচিত। এই শহরের উত্তরে অবস্থিত চেংদু রিসার্চ বেজ অব জায়ান্ট পান্ডা ব্রিডিং (Chengdu Research Base of Giant Panda Breeding) সেন্টারে প্রাকৃতিক পরিবেশে খুব কাছ থেকে এই কিউট প্রানিটিকে দেখার সুযোগ আছে। ১৯৮৭ সালে মাত্র ৬টি বৃহৎ পাণ্ডা নিয়ে এই রিসার্চ সেন্টার এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এই সেন্টারে ৮০টির মত জায়ান্ট পাণ্ডা রয়েছে। এখানে এখন পর্যন্ত ১২৪টি জায়ান্ট পাণ্ডার জন্ম হয়েছে। এখানে আপনি ভলান্টিয়ার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে পান্ডাদের কাছাকাছি যেতে পারেন এবং এদের জীবনধারণ ও বংশবিস্তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

লি নদী

লি নদী; Credit: ChinaDiscovery
চীনের গ্রামাঞ্চলের দিকে অবস্থিত লি নদী (Li River) বিখ্যাত এর ক্রিস্টাল ক্লিয়ার পানি, শহরের মধ্য দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে বয়ে যাওয়া এবং নদী পাশের চমৎকার পাহাড়ের জন্য। গুইলিনে অবস্থিত এই লি নদী শিল্পীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বলা হয়ে থাকে, লি নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে চীনের চিত্রশিল্পীগণ এবং কবিগণ তাদের শিল্পকর্মের প্রেরণা পেয়ে থাকেন। ৮৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের লি নদীটির গুইলীং এবং ইয়াংসু এর মধ্যবর্তী স্থানটি সবচেয়ে বেশি সুন্দর। নদীটির দুপাশে চমকপ্রদ আড়াআড়ি পাহাড়, নলখাগড়ার বন, গ্রামগুলির সুসজ্জিত চাষাবাদ এবং ঘন বাঁশ বাগান পর্যটকদের নজর কেঁড়ে থাকে। মেঘলা এবং রৌদ্রজ্জ্বল দিনে লি নদীর অপরূপ সৌন্দর্য পর্যটকদের মন কেঁড়ে নেয়। পর্যটকদের সুবিধার্থে নদীটি ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছোট ছোট বাঁশের নৌকা এবং সুসজ্জিত জাহাজ রয়েছে। পর্যটকরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী নৌকা বা জাহাজে চড়ে নদী ভ্রমণ করে থাকেন

দ্য ট্যারাকোটা আর্মি

দ্য ট্যারাকোটা আর্মি; Credit: ChinaDiscovery

১৯৭৪ সালে সাংহাই প্রদেশের সিয়ান শহরের প্রান্তদেশে সেখানকার কৃষকেরা খনন কাজের মাধ্যমে যে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি উন্মোচিত করে তা নিঃসন্দেহে চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার – দ্য ট্যারাকোটা আর্মি (The Terracotta Army)। প্রায় ২০০ বছর ভূগর্ভস্থ ছিল এই টেরাকোটা আর্মি। এটি চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং এর সমাধি মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত। আসলে এই টেরাকোটা আর্মি জীবন্ত কোন সেনাবাহিনী নয়। সম্রাট কিন শি হুয়াং এর মৃত্যুর পর স্থানীয় লিনথং জেলার কৃষকেরা সম্রাটের সম্মানার্থে এসব পোড়ামাটির সৈন্যবাহিনী তৈরি করে। এখানে মানুষের মত দেখতে ৮০০০ টি সৈন্য মূর্তি আছে যেগুলো লম্বায়ও প্রায় মানুষের মত। এই মূর্তিগুলোর একটির সাথে অন্যটির চেহারার মিল নেই। তাই নির্মাণের দক্ষতা দেখে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। সৈন্যর পাশাপাশি আরো রয়েছে ৫২০ টি ঘোড়া, ১০০ টির মত রথ এবং বেশকিছু বেসামরিক লোকজন। পোড়ামাটির এই সৈন্যবাহিনীতে সামরিক পদমর্যাদার স্বরূপ সাজানো হয়েছে। এক কথায় বলা যায়, প্রাচীন সামরিক বাহিনী যেভাবে সুসজ্জিত থাকতো, কৃষকদের তৈরি মূর্তিগুলোতে সেই রূপ দেয়া হয়েছে।

বেইজিং এর নিষিদ্ধ নগরী

বেইজিং এর নিষিদ্ধ নগরী; Credit: WallpaperGuru

চীনের আরেকটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান হল বেইজিং এর নিষিদ্ধ নগরী (The Forbidden City in Beijing)। একসময় এই নগরীতে জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ ছিল, তাই এর নাম হয় নিষিদ্ধ নগরী। এখানে চীনের প্রাচীন স্থাপত্যবিদদের দ্বারা নির্মিত এই প্রাসাদটিতে চার হাজারেরও বেশি সুসজ্জিত কামড়া রয়েছে। এসব কামড়াগুলিতে লাল এবং হলুদ রংয়ের কারুকার্য রয়েছে। এই প্রাসাদের ছাদ সোনা দিয়ে তৈরি। এটি ‘ইম্পেরিয়াল প্যালেস’ নামেও পরিচিত। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জটিল প্রাসাদ। কথিত আছে এখানে ৯৮০টি ভবন ও ৯৯৯৯ টি কক্ষ আছে! মিং এবং কিং সম্রাটদের থেকে শুরু করে ১৯১২ সালে চীনের শেষ সম্রাট পুই পর্যন্ত এই প্রাসাদই ছিল সম্রাটদের বাসস্থান। বর্তমানে এই প্রাসাদটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান হিসেবে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

চীনের মহাপ্রাচীর

চীনের মহাপ্রাচীর; Credit: Chinacarservice

চীনে ভ্রমণের কথা উঠলেই আমাদের চোখের সামনে সবার আগে ভেসে উঠে চীনের মহাপ্রাচীর (The Great Wall of China) – ‘দ্যা গ্রেট ওয়াল অফ চায়না’। এটি বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাচীর এবং চীনের প্রতীক। প্রাচীরটি চীনের পূর্ব উপকূল থেকে পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার। গড়ে এর উচ্চতা প্রায় ৬ থেকে ৮ মিটার এবং কিছু কিছু জায়গায় প্রায় ১৬ মিটার পর্যন্ত। চীনের এই প্রাচীরটি বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি। প্রাচীন যাযাবর জাতি, বিশেষত, যাযাবর মঙ্গোলিয়ানদের থেকে বাঁচানোর জন্য চীনা সম্রাটরা এই প্রাচীর নির্মাণ করেন। চীনে ভ্রমণে গেলে অবশ্যই দেখতে ভুলবেন না এই প্রাচীন আত্মরক্ষামূলক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শনটি।
আরো আছে: রেইনবো মাউন্টেইন, লাসায় অবস্থিত পোতালা প্রাসাদ, সাংহাই এর দ্যা বান্ড, ভিক্টোরিয়া হারবার, হুয়াংশান এর হলুদ পাহাড় (মাউন্ট হুয়াং), হংজ়ৌ এর ওয়েস্ট লেক, লেশান জায়ান্ট বুদ্ধ, হানি টেরেস, লংমেন গুহা, ইয়ুংগ্যাং গুহা ইত্যাদি।