Articles by "স্বাস্থ্য"
Showing posts with label স্বাস্থ্য. Show all posts

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের তুলনায় অনেক কম। এ জন্য একটু অসাবধনতার কারণে শিশুদের অসুখ করে। তাই ছোট শিশুদের বেশি যত্নের প্রযোজন।
যেসব লক্ষণে বুঝবেন শিশুর পানিশূন্যতা, কী করবেন?
শিশুর খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে তার ওজন, সুস্থতার প্রতি নজর রাখতে হবে। আসুন জেনে নিই যেসব লক্ষণে বুঝবেন শিশুর পানিশূন্যতা-

১. শিশুর শরীরে পানির ঘাটতি হলে ঠোঁট ও মুখের চারপাশ শুকিয়ে যাবে।

২. পানিশূন্যতার কারণে মাঝেমধ্যে হাত ও পা অস্বাভাবিক রকম ঠাণ্ডা বা গরম হতে পারে।

৩. শিশু কান্না করলে যদি তার চোখ দিয়ে পানি না পড়ে, তা হলে বুঝতে হবে পানিশূন্যতা।

৪. শিশুর শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রসাব গাঢ় হলুদ রঙের হয়।

৫. দিনের বেশিরভাগ সময়ই সে ঘুমিয়ে যায়। শিশুর মধ্যে এ রকম লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কী করবেন?

পানিশূন্যতা রোধ করার জন্য খাবার স্যালাইন ও অন্যান্য তরল খাবার শিশুকে বারবার দিন। পানি, ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, ডাবের পানি, টক দই, ঘোল, ফলের রস ও লবণ গুড়ের শরবত খেতে দিতে হবে।

শরীর থেকে যে পানি ও লবণ বের হয়ে যায় তা স্যালাইন পূরণ করে মাত্র, সঙ্গে অবশ্যই স্বাভাবিক খাবার দিতে হবে।

শিশুর বয়স ছয় মাসের কম হলে তাকে বারবার মায়ের দুধ খেতে দিন।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

তেঁতুল যেমন লোভনীয় স্বাদের একটি ফল। এটির অনেক গুণ রয়েছে। তেতুল ওবেসিটি কমিয়ে ঝরঝরে রাখে। এছাড়া হৃদস্পন্দন নিয়মিত রেখে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনাও কমায়। প্রতিদিন পাতে একটু তেঁতুল মানেই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়। এছাড়াও ভিটামিন সি, ই, বি ছাড়াও তেঁতুলে পাবেন ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ আর ফাইবার। আর রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সব মিলিয়ে তেতুল স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গল।

১. তেঁতুলের এর মধ্যে থাকা হাইড্রোসিট্রিক অ্যাসিড শরীর থেকে ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।

২. ক্যান্সার রোধে তেঁতুল অপ্রতিরোধ্য। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আর টার্টারিক অ্যাসিড প্রচুর রয়েছে। যা ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

৩. সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস কমায়। কার্বোহাইড্রেট তৈরি হতে দেয় না রক্তে। এর জন্য সকালে খালিপেটে তেঁতুলের রস খেতে পারেন সুগারের রোগীরা।

৪. তেঁতুলের গুণে লিভারের সমস্ত সমস্যা গায়েব। হজম হয় দ্রুত। ওজন ধরে ঝটপট।

৫. তেকুলের এর মধ্যে থাকা আয়রন আর পটাশিয়াম লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ বাড়িয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৬. বিছে কামড়ানোর ব্যথা-জ্বালা কমায় তেঁতুলের রস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের পরে বিশ্বে স্থূলতার হার প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে।

জাতিসঙ্ঘের এই এজেন্সি ধারণা করছে, ২০১৬ সালে বিশ্বে ১৯০ কোটির বেশি মানুষের ওজন অতিরিক্ত ছিল, যাদের মধ্যে ৬৫ কোটি মানুষ স্থূলতা রয়েছে।

এই সংখ্যা থেকে বোঝা যায় কেন নানা ক্ষেত্রের মানুষজন 'স্থূলতার মহামারি' শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে এই রোগে প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

বিজ্ঞানী এবং নীতি নির্ধারকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যেভাবে স্থূলতার বিষয়টি মোকাবেলা করা হচ্ছে তা ভুল এবং কুসংস্কার নির্ভর হয়ে পড়েছে। কিন্তু মোটা হওয়া বা স্থূলতার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা?

এসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো আপনাকে অবাক করে দেবে।

'স্থূলতা একটি রোগ, পছন্দের ব্যাপার নয়'

স্থূলতা মহামারিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশের অন্যতম হলো যুক্তরাষ্ট্র।

আমেরিকান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ধারণা করছেন যে, দেশটির ৩৬ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠী এখন স্থূলতায় ভুগছে। ২০১৩ সাল থেকে স্থূলতাকে একটি রোগ হিসাবে বিবেচনা করে আসছে আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন।

তা সত্ত্বেও, ২০১৮ সালেও চিকিৎসকদের সংবাদ পোর্টাল 'মেডস্কেপে'র জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৩৬ শতাংশ চিকিৎসক আর ৪৬ শতাংশ সেবিকা এটিকে রোগ বলে মনে করেন না। ৮০ শতাংশ চিকিৎসক উত্তর দিয়েছেন যে, স্থূলতার পেছনের বড় কারণটি হলো জীবনযাপনের ধারা।

তবে ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটি থেকে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থূলতা কোন পছন্দের ব্যাপার নয়।

''শারীরিক এবং মানসিক কিছু বিষয় পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাবের সঙ্গে একত্রিত হয়ে মানুষের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা কারণ তৈরি হয়।'' ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

'স্থূলতাকারো ইচ্ছা অনিচ্ছার ব্যাপার নয়।'

১৯৯০ এর দশক থেকেই বিজ্ঞানীরা ধারণা করে আসছেন যে, স্থূলতার সাথে বংশগত সম্পর্ক রয়েছে।

গত জুলাই মাসে নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একদল গবেষক আবিষ্কার করেন যে, যাদের পরিবারের পূর্বে স্থূলতার ইতিহাস রয়েছে, তাদের বংশধরদের মধ্যে এটির বিস্তারের ঝুঁকিও বেশি। যা সাম্প্রতিক দশকগুলোয় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।

উচ্চতার সাথে ওজন মিলিয়ে সহজেই বুঝতে পারা যায় যে, আমাদের ওজন ঠিক এবং স্বাস্থ্যসম্মত আছে কিনা।

ওই দলটি নরওয়ের এক লাখ ১৯ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা করেছে, যারা নিয়মিতভাবে তাদের উচ্চতার সাথে ওজন মেপেছেন। সেখানে দেখা গেছে, সময়ের সাথে সাথে উচ্চতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের ওজন বেড়েছে। কিন্তু জিনগত কারণে কিছু মানুষের ওজন অতিরিক্ত বেড়ে গেছে।

''বর্তমানে ৩৫ বছর জিনগত প্রবণতার কারণে বয়সী একজন গড় উচ্চতার নরওয়েজিয়ানের ওপর প্রায় সাত কেজি বেশি হয়ে থাকে, যা অন্যদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না,'' বলছেন মারিয়া ব্রান্ডকভিস্ট, ওই দলের একজন গবেষক।

'অতিরিক্ত ওজন সবসময়ের জন্য অস্বাস্থ্যকর'

অতিরিক্ত ওজন এবং স্বাস্থ্যগত জটিলতার ব্যাপারটি অনেকেরই জানা এবং অনেকটাই প্রমাণিত একটি ব্যাপার।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রশ্ন উঠেছে যে, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা সবসময়েই কারো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিনা?

২০১২ সালে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অফ কার্ডিওলোজি বড় একটি গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে স্থূলতা নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণার বিপরীত তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেখানে দেখা যায় যে, কিছু মানুষের স্থূলতা থাকলেও সত্ত্বেও হজমের দিক থেকে স্বাস্থ্যবান এবং সুস্থ রয়েছেন, সাধারণ মানুষের তুলনায় হৃদরোগ বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কোনো ঝুঁকিতে নেই। তারা উচ্চ কোলেস্টেরল, রক্তচাপে ভোগেন না এবং অন্য স্থূল মানুষদের চেয়ে অনেক বেশি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন।

অনেকগুলো দীর্ঘস্থায়ী রোগের সাথে স্থূলতার সম্পর্ক রয়েছে বলে সবাই জানে, যেমন হৃদরোগ ও ক্যান্সার। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, স্থূল মানুষদের মধ্যেও এমন কিছু মানুষ আছেন যাদের এরকম বিপাকীয় জটিলতায় ভুগতে হয় না। লিখেছেন ইউনিভার্সিটি অফ গ্রানাডা ইন স্পেনের অধ্যাপক ফ্রান্সিসকো অর্টেগা, যিনি ওই প্রতিবেদনের প্রধান লেখক।

''চিকিৎসকদের এই বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত যে, সব স্থূল মানুষের একই ধরণের সমস্যা থাকে না।''

'সব ক্যালোরি একই রকম'

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে 'বেশি না খাওয়া' নীতি হচ্ছে সবচেয়ে ভালো নীতি। কিন্তু খাবারের ক্ষেত্রে ক্যালোরির পরিমাপের চেয়ে ক্যালোরির মানের বিষয়টি কি বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত নয়?

স্বাস্থ্যকর খাবারের বর্ণনা করতে গিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছেন, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গ্রহণ করা ক্যালোরির পরিমাণ হওয়া উচিত ২০০০ ক্যালোরি। কিন্তু সেখানে সতর্কবাণীও আছে। সংস্থাটি পরামর্শ দিয়েছে যে, ওই ক্যালোরির ৩০ ভাগেরও কম আসা উচিত চর্বিযুক্ত খাবার থেকে।

২০১১ সালের হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, 'ক্যালোরি মানে শুধু ক্যালোরি নয়' এবং কিছু খাবারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওজন বাড়তে পারে।

গবেষকরা চারবছর পর পর এক লাখ ২০ হাজার স্বাস্থ্যবান পুরুষ ও নারীর ওপর গবেষণা করেছেন যাদের বয়স সর্বোচ্চ বিশ বছর।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা প্রতি চার বছরে গড়ে ১.৫২ কেজি ওজন বেড়েছে আর পুরো বিশ বছরে ওজন বেড়েছে ৭.৬ কেজি।

ওজন বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রক্রিয়াজাত খাবার, পরিশোধিত শস্য, চর্বি এবং চিনি। শুধুমাত্র ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়ার কারণে প্রতি চার বছরে দেড় কেজি ওজন বেড়েছে। অন্যদিকে বেশি পরিমাণে সবজি খাওয়ার কারণে ওজন উল্টো ০.০৯ কেজি কমে গেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ''কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার কৌশল সবচেয়ে ভালো কাজ দেবে তখনি যখন, বিশেষ কিছু খাবার এবং পানীয় কম (বা বেশি) পরিমাণে খাওয়া হবে।''

'ওজন কমানো নিয়ে হতাশা এড়াতে হলে আমাদের অবশ্যই বাস্তববাদী হতে হবে।'

অনেক বেশি প্রত্যাশা করা না হলে সেটি জীবনের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে।

তবে গবেষণা বলছে, উচ্চকাঙ্খী লক্ষ্যমাত্রা এর ওজন কমানোর ক্ষেত্রে নেতিবাচক কোন সম্পর্ক নেই।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ নিউট্রিশন এন্ড ডায়েটিক্স এর একটি জার্নালে ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, মারাত্মক স্থূলতায় ভোগা ৮৮জন ব্যক্তির মধ্যে ওজন কমানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনেক ভালো ফল এনেছে।

'শুধুমাত্র ধনী দেশগুলোয় স্থূলতার সমস্যা আছে'

অবশ্যই উন্নত দেশগুলোয় স্থূলতার হার অনেক বেশি, কিন্তু বিশ্বের স্থূলতার তালিকার দিকে তাকালে অনেককেই অবাক হতে হবে।

স্থূলতার ব্যাপকতার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ, আমেরিকান সামোয়া, যেখানে বাসিন্দাদের ৭৫ শতাংশই স্থূলতায় আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়।

এটা সত্যি যে এসব দ্বীপের মানুষদের সংখ্যা অনেক কম। কিন্তু বেশি জনগোষ্ঠী রয়েছে, এমন উন্নয়নশীল দেশ- যেমন মিসর ও তুরস্কে-৩২ শতাংশ মানুষ স্থূলতায় ভুগছে (২০১৬ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য।)

''সামাজিক বৈষম্যের কারণে তৈরি হওয়া অন্যতম একটি জিনিস হলো স্থূলতা। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি স্থূলতার রাজ্য হলো আরাকানসাস, যেটি দেশের চতুর্থ গরিব রাজ্য। সবচেয়ে দরিদ্র রাজ্য মিসিসিপি স্থূলতার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থায় রয়েছে।'' বলছেন মার্টিন কোহেন, যিনি 'খাবার আগে আমি ভাবি' নামের বই লিখেছেন।

যুক্তরাজ্যে ২০১৫-২০১৬ সালের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে যে, সচ্ছল এলাকাগুলোর তুলনায় সবচেয়ে অসচ্ছল এলাকা গুলোয় বসবাসকারী শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার প্রায় দ্বিগুণ।

গবেষকরা বলছেন, এই তারতম্যের প্রধান কারণ হলো, স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম অনেক বেশি।

'বুকের দুধের সাথে স্থূলতার কোনো সম্পর্ক নেই'

গত কয়েক দশক ধরে বুকের দুধের বিকল্প হিসাবে গুড়া দুধের ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে।

কিন্তু গত এপ্রিল মাসে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় জানা যাচ্ছে যে, বুকের দুধ খাওয়ার কারণে শিশুর স্থূল হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যেতে পারে।

ইউরোপের ১৬টি দেশের তিন লাখ শিশুর ওপর গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, যে শিশুরা কখনো বুকের দুধ খায়নি, তাদের স্থূল হওয়ার সম্ভাবনা ২২ শতাংশ বেড়ে গেছে।

যদিও বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, যে নারী বুকের দুধ খাওয়াবেন, তার স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ব্যাপারটিও এক্ষেত্রে অনেকটা ভূমিকা রাখে। তারপরেও স্থূলতার বিরুদ্ধে বুকের দুধের ভূমিকা অকাট্য, বলছেন গবেষক জায়ো ব্রেডা।

''বুকের দুধের সত্যিই অনেক সুরক্ষা গুণ রয়েছে। সেসব প্রমাণ রয়েছে। এর সুবিধা যে এতো অসামান্য সেটি মানুষকে জানানো উচিত।''

আপনি আসলে কেমন ধরণের মানুষ? 
একটি গ্লাসে অর্ধেক পানি থাকলে আপনি এটিকে কিভাবে দেখেন? অর্ধেক খালি নাকি অর্ধেক ভর্তি? 

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা বলছে, আশাবাদী ব্যক্তিরা হতাশাবাদীদের চেয়ে অনেক বেশি দিন বাঁচেন।


এই তত্ত্ব মতে, আশাবাদীরা হয়তো নিজেদের আবেগকে অনেক সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন যা তাদেরকে মানসিক চাপের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখে। 

মার্কিন গবেষকরা বলছেন যে, হতাশাবাদী ব্যক্তিরা যদি নিজেদের এমন ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে পারেন যেখানে সব ধরণের সমস্যা দূর হয়ে যাবে, এমন দৃষ্টিভঙ্গিও তাদের জন্য উপকারী হতে পারে। 

মানুষ কিভাবে আশাবাদী হয় এবং হতাশা বাদীরা জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক থাকতে কি কি করতে পারেন সে বিষয়ে কিছু উপায় সম্পর্কে জানবো আমরা। 

"নেতিবাচকতা নিয়ে পিছিয়ে থাকবেন না"
বলা হয় যে, "নদীর অপর পাশের ঘাস সব সময় একটু বেশি-ই সবুজ দেখায়"। কিন্তু এ ধারণা সবাইকে সমানভাবে তেমন প্রভাবিত করতে পারেনা।

সবারই সমস্যা থাকে। আমার জীবন যেমন, সেভাবেই একে উপভোগ করার চেষ্টা করা উচিত। আমার যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট আমার সন্তুষ্ট থাকা দরকার। ভালো স্বাস্থ্য, পরিবার, একজন ভালোবাসার জীবন সাথী আর পছন্দের একটি চাকরী এটুকুই অনেক সময় ভাল থাকার জন্য অনেক কিছু।"

উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা কাটাতে বিশেষজ্ঞরা নিজেকে ব্যস্ত রাখা, এর পেছনের সমস্যা খুঁজে বের করা নিয়ে, এবং সেগুলো সমাধান করার পর কেমন অনুভব হয় তা নিয়ে ভাবতে পছন্দ করার প্রতি জোর দেন। 

বিশেষজ্ঞরা অন্যদের নেতিবাচকতাকে তেমন পাত্তা না দিতে পরামর্শ দেন , 

"হাস্যরস বোধ"
"গান আত্মাকে তৃপ্ত করে, হাস্যরস বোধ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নতুন ধারণা দেয় তা্হই বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত গান শুনতে পরামর্শ দেন। রস বোধ মানুষকে ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করে।

"নিজের প্রশংসা করুন"
নিজেই নিজের প্রশংসা করা একটা ইতিবাচক দিক। এর মাধ্যমে নিজের মধ্যে থাকা আবর্জনা বের করে দেয়া যায়। প্রত্যেকের নিজের জন্য এটা খুবই সঠিক এবং সহায়ক।

"কষ্টের সময়ও হাসুন"
ডাচ সংস্কৃতিতে একটি প্রবাদ রয়েছে। আর তা হলো: "গেন গ্রোটার ফারমাক ডান লিডফারমাক" অর্থাৎ, "দুর্ভোগের চেয়ে বড় বিনোদন আর কিছু নেই," 

তাই আজ আপনাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিচ্ছি আর তা হলো, নিজের দুর্ভাগ্য নিয়ে হাসো। এটি মেনে চলো এবং দেখবে জীবন হবে একটি বড় ধরণের আনন্দোৎসব।

"অনেকগুলো শখ তৈরি করুন"
সব সময় ভালো থাকতে অনেক গুলো প্লান তৈরি করুন যাতে "প্ল্যান এ ব্যর্থ হলেও সব সময়ই প্ল্যান বি থাকে" একজন মানুষের সব চেয়ে বড় ইতিবাচকতা আসে তার অনেক ধরণের শখ আর নির্মল বায়ু থেকে।

"ব্যায়াম করুন এবং সুস্থ থাকুন"
বন্ধুত্ব আর হাসির মতোই উপকারী আরেকটি বিষয় রয়েছে ইতিবাচক থাকার। আর তা হল শারীরিক ব্যায়াম।

নিয়মিত ব্যায়াম করুনঅ স্বার্থপরতা ত্যাগ করুন কৃতজ্ঞ হোন, তালিকা তৈরি করুন এবং সেগুলো পালন করুন, যা করতে আপনার ভালো লাগে সেগুলোই করুন।

হাসির সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের কতটা সম্পর্ক? আমাদের মুখের হাসি কি সবসময় আমাদের মনের ভাব প্রকাশ করে?

হাসি-আনন্দ দিয়ে বছরের একটি দিন আলাদাভাবে পালন করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ৪ অক্টোবর পালন করা হয় বিশ্ব হাসি দিবস।


মানুষ যখন ভালো থাকে, সুখে থাকে, আনন্দে থাকে, তখন সাধারণত প্রায়ই হাসে।

আমাদের মনের যে আনন্দ আবেগটা আছে, সেটার একটা তাৎক্ষণিক বহিঃপ্রকাশ হাসির মাধ্যমে হয়। সুতরাং যখন কাউকে প্রায়ই হাসতে দেখি, তখন বলা যায় যে, সে ভালো আছে।''

যারা সবসময় হাসে, তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে?

আমাদের যখন মন খারাপ থাকে, তখন আমরা কম হাসি। সহজে আমাদের হাসি আসে না।

যেমন বিষণ্ণতা থাকলে বা কোন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে সহজে আমরা হাসতে পারি না। হাসির শারীরিক দিকও আছে। হাসলে আমাদের হৃদযন্ত্র, শ্বাসযন্ত্র, এগুলোর একপ্রকার ব্যায়াম হয়।

সুতরাং যারা প্রায়শ হাসে, তারা শারীরিক মানসিক দিক থেকে ভালো আছে ধরে নেয়া যায়।

হাসির সাথে তাহলে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক কতটা?
হাসির সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। কারণ বিষণ্ণ থাকলে হাসিটা সহজে আসে না। "আমাদের সুখানুভূতির বহিঃপ্রকাশ হলো হাসি।"

সুতরাং দীর্ঘমেয়াদী সুখে থাকা অথবা তাৎক্ষণিকভাবে কোন কারণে উৎফুল্ল হয়ে যাওয়া, সেগুলো হাসির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

তাই যিনি হাসছেন, তিনি আসলে মানসিকভাবে ভালো আছে। অন্তত সে ভারাক্রান্ত নয় বলে মনে করে।

কেউ যদি একদম না হাসে, তার কী মানে?
আমরা দেখেছি, যারা খুবই বিষণ্ণ থাকে, তারা প্রায় হাসতে ভুলে যায়। তার আশেপাশের লোকজন বলে, তাকে তো কখনো হাসতে দেখি না।

তারা আসলে মানসিকভাবে ভালো নেই। হয়তো বিষণ্ণ আছে, অথবা অনেক বেশি দুশ্চিন্তায়, ব্যথা যন্ত্রণায় কাতর।

হাসির উপাদান তৈরি করা কী সম্ভব?
কেউ যদি হাসতে না পারে, যদি মনে হয় যে, তিনি হাসার মতো কিছু পাচ্ছেন না, তাহলে তিনি একজন মানসিক বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

পরিবারের সদস্যরা এমন দেখতে পেলে বা বুঝতে পারলে তারাও তাকে নিয়ে যেতে পারেন। কারণ এখানে চিকিৎসা করাটাই প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা

এছাড়া হাসির সিনেমা দেখা, কৌতুক পড়া, ঠাট্টা-তামাশা করা, তাতে কিন্তু আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, হাসির একটা সংক্রামক প্রবণতা আছে। হাসির একটা চেহারা আছে, সেটা দেখলে আমাদের মস্তিষ্কে সিগন্যাল যায়।

তাই হাসিখুশি মানুষের সাথে থাকলে, অন্যদের হাসতে দেখলে সেই হাসি অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে যায়।

"সেটিও আমাদের মনের অবস্থা কিছুটা ভালো করে।''

বাংলাদেশে গ্যাস্ট্রিকের খুব জনপ্রিয় কিছু ঔষধের ব্র্যান্ড রয়েছে যেগুলোর মূল উপাদান বা জেনেরিক নাম হলো রেনিটিডিন। যেকোনো সময় ঔষধের দোকানে গেলেই এটি কিনতে পাওয়া গেছে।

এই রেনিটিডিনে ক্যান্সার হতে পারে এমন কিছু উপাদান পাওয়া যাওয়ায় বিশ্বের অনেক দেশ ঔষধটি বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে।



যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ এবং ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি এই ঔষধের ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে এটি নিয়ে অধিকতর গবেষণা করছে।

রেনিটিডিন ঔষধটা নিজে ক্যান্সার তৈরি করে না। খাওয়ার সাথে সাথেই কিছু ঘটবে না। এর নিজের ক্যান্সার জাতীয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। রেনিটিডিনের কাঁচামাল উৎপাদনের সময়, কিছু কাঁচামালের একটি মিশ্রণে ক্যান্সারের ঝুঁকিযুক্ত কোন উপাদান তৈরি হয়েছে। বিশ্বে বহু ল্যাবে এর কাঁচামাল তৈরি হয়। এটি সব কাঁচামাল উৎপাদকের ক্ষেত্রে ঘটেনি।

ধরুন রান্নায় যদি লবণ বেশি হয়ে যায় বা একটা ভুল মশলা দিয়েছেন তখন সেটি আপনি খেতে পারবেন না। বিষয়টা সেরকম।

এখন যেটি করা হচ্ছে সেটি সতর্কতা।

একসময় পেপটিক আলসার হলে অস্ত্রোপচার করতে হতো। রেনিটিডিন বাজারে আসার পর সেটির দরকার অনেক কমে গিয়েছিলো।

বাংলাদেশ মূলত ভারতের দুটি ল্যাব থেকে রেনিটিডিন ঔষধের কাঁচামাল আমদানি করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে এটি য্যানট্যাক নামে বিক্রি হয়।

এই দুটি ল্যাবের কিছু নমুনায় "কারসিনোজেনিক" উপাদান বা ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে এমন উপাদান পাওয়া গেছে।

সেই কাঁচামাল ব্যবহার করে যারা বাংলাদেশে ঔষধটি বানাচ্ছে সেই ঔষধের ক্ষেত্রে এই সাবধানতা।

যে কোম্পানির কাঁচামালের সাথে এর সম্পর্ক এবং দেশের যে কোম্পানি তাদের কাছ থেকে কাঁচামাল এনে রেনিটিডিন জাতিয় ঔষধ বানায় সেটি সরকারের সরাসরি ঘোষণা দেয়া দরকার বলে তিনি মনে করছেন।

রেনিটিডিনে যা পাওয়া গেছে
ক্যান্সার হতে পারে এমন কিছু উপাদান বলতে ঠিক কী বলা হচ্ছে সেটি ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক ফারুক বলছেন, রেনিটিডিন জাতীয় সবগুলো ট্যাবলেটে ক্যান্সার তৈরি করতে পারে এমন উপাদান পাওয়া গেছে বিষয়টি তেমন নয়।

কিছু ট্যাবলেটে পাওয়া গেছে। "বিষয়টা হল রেনিটিডিন তৈরি করতে যেসব কেমিক্যাল লাগে, উৎপাদনের সময় অতি সামান্য পরিমাণে কিছু বাই-প্রোডাক্ট কেমিক্যাল তৈরি হল। যেটি পরিশোধন করতে হয়। সেরকম কোন উপাদান হয়ত থেকে যেতে পারে।"

"ট্যাবলেটের আকৃতি যাতে ঠিক থাকে, ট্যাবলেট যাতে শক্ত থাকে সেজন্য ট্যাবলেট বানাতে আরও কিছু জিনিস লাগে। সেসব জিনিসের সাথেও কোন বিক্রিয়া হতে পারে। ঔষধের যে প্যাকেজিং সেই আবরণ থেকেও কিছু পদার্থ তৈরি হতে পারে যাতে ইমপিউরিটিজ আছে। হতে পারে রেনিটিডিন ঔষধটির নিজের রাসায়নিক গঠনের পরিবর্তন হলো।"

এফডিএ এটি নিয়ে এখনো গবেষণা করছে। সাবধানতা হিসেবে ঔষধটি অনেক দেশে বিক্রি করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশে মানুষজন অনেকসময় চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ইচ্ছেমত ঔষধ খেয়ে থাকেন। এখন সবচেয়ে বড় কাজ হবে দরকার না হলে ঔষধ খাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রেনিটিডিনের বিকল্প ঔষধ ব্যাবহার করুন। বাজারে এখন অনেক ধরনের ঔষধ আছে। আর রোগের আগে থেকে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিন। ভয় পাবেন না।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসে মাত্র পাঁচটি পরিবর্তন এনে হৃদরোগ ও স্ট্রোক থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারি।

ব্রিটেনে পুষ্টি ফাউন্ডেশন তাদের নতুন এক রিপোর্টে বলছে, বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও এই দুটো কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
এক পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটেনে যতো মানুষের অকাল মৃত্যু হয় তার অন্তত চার ভাগের এক ভাগের মৃত্যুর জন্যে দায়ী হৃদরোগ।
বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যাবে।

স্বাস্থ্য গবেষকরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

পুষ্টি ফাউন্ডেশনের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মানুষের দেহের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অণুজীব মাইক্রোবায়োম যদি সুস্থ থাকে এবং কোমরের আকার যদি খুব বেশি বেড়ে না যায়, পাশাপাশি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখা যায় তাহলেই হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনেই এসব অর্জন করা সম্ভব।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে খাবার-দাবারের বেলায় কী ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে?

১. বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খান

যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ আছে সেসব খাবার খাবেন। এসব খাবারের কারণে শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়।

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে সাহায্য করে এই ব্যাকটেরিয়া।

বেশি আঁশ আছে এরকম সবজির মধ্যে রয়েছে শিম ও মটরশুঁটি জাতীয় সবজি, কলাই ও ডাল জাতীয় শস্য এবং ফলমূল।

পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলছেন, আলু এবং শেকড় জাতীয় সবজি খোসাসহ রান্না করলে সেগুলো থেকেও প্রচুর আঁশ পাওয়া যায়।

এছাড়াও তারা হোলগ্রেইন আটার রুটি এবং বাদামী চাল খাবারও পরামর্শ দিয়েছেন।

২. স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট-বাঁধা চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলুন

খাদ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেসব খাবারে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট-বাঁধা চর্বি থাকে সেসব খাবার খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে বেড়ে যায় হৃদরোগের ঝুঁকিও।

চিজ, দই, লাল মাংস, মাখন, কেক, বিস্কিট ও নারকেল তেলে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।

চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
তারা বলছেন, হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে হলে স্যাচুরেটেড নয় এমন চর্বি (যেসব খাবারের উপর চর্বি জমাট বাঁধে না) সে ধরনের খাবার খেতে হবে।

এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে, তেল সমৃদ্ধ মাছ, বাদাম ও বীজ। অলিভ, রেপসিড, সানফ্লাওয়ার, কর্ন এবং ওয়ালনাট তেল দিয়ে রান্নার বিষয়ে তারা জোর দিয়েছেন।

দুধের বেলায় স্কিমড বা সেমি-স্কিমড (দুধ থেকে চর্বি সরিয়ে নেওয়া) দুধ খেতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে খাবারে যাতে বাইরে থেকে চিনি মেশানো না থাকে। লাল মাংসের বদলে খেতে হবে মুরগির মাংস। মুরগির চামড়া তুলে ফেলে দিন। গরুর মাংস খেলে তার উপর থেকে চর্বি ফেলে দিয়ে রান্না করতে হবে।

সপ্তাহে অন্তত একদিন এমন মাছ খেতে হবে যাতে প্রচুর তেল আছে।
ক্রিস্প ও বিস্কিটের বদলে নানা ধরনের বাদাম ও বীজ খেতে পারেন।

৩. লবণকে বিদায় জানান

লবণ বেশি খেলে শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এর ফলে বৃদ্ধি পায় হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও।

ব্রিটেনে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হয় যে এনএইচএস থেকে তাদের পরামর্শ হলো দিনে সর্বোচ্চ ৬ গ্রাম (এক চা চামচের পরিমাণ) লবণ খাওয়া যেতে পারে।

চিনি ও লবন পরিহার করুন।

তারা বলছে, লবণ কম-বেশি খাওয়া একটি অভ্যাসের ব্যাপার। লবণ যতো কম খাওয়া হবে তার চাহিদাও ততো কমে যাবে। 
এই অভ্যাস বদলাতে মাত্র চার সপ্তাহের মতো সময় লাগে। এই সময় পর দেখা যাবে আপনি যে খাবারের সাথে লবণ খাচ্ছেন না, সেটি আপনি বুঝতেই পারবেন না।

খাদ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন, লবণের পরিবর্তে মশলা দিয়ে খাবার প্রস্তুত করলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে।

৪. ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খাবেন

যেসব খাবারে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ বেশি থাকে সেগুলো আমাদেরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
শুধু তাই নয়, এসব খাবার হৃদরোগের ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়।

ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো খনিজ উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করে। হৃদরোগের যেসব কারণ আছে সেগুলো ঠেকাতেও এসব খনিজ ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।

অনেক খাদ্য বিশেষজ্ঞ মনে করেন, স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েটের মাধ্যমেই এসব ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া সম্ভব।
এসবের জন্যে ট্যাবলেটের উপর নির্ভর করতে হবে না। তবে তার মধ্যে ব্যতিক্রম হচ্ছে ভিটামিন ডি।

কারো শরীরে ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব থাকলে যেসব খাবার খাওয়া প্রয়োজন:
প্রতিদিন পাঁচটি ফল বা সবজি খাওয়া। ছোট্ট এক গ্লাস জুস। শিম ও ডাল জাতীয় শস্যও খেতে পারেন। বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবারে থাকে ভিটামিন ই।

মাছ, দুগ্ধজাত খাবার ও হোলগ্রেইনে পাওয়া যায় ভিটামিন বি। কলা, আলু এবং মাছে পটাশিয়াম।
ডাল ও হোলগ্রেইনে ম্যাগনেসিয়াম। দুগ্ধজাত খাবার ও সবুজ পাতার সবজি থেকে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম।

৫. বেশি মোটা হলে ক্যালরি কমিয়ে দিন

হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেওয়ার জন্য উপরের চারটি ধাপ অনুসরণ করলেই আপনি অনেক দূর অগ্রসর হয়েছেন।

কারণ আপনি যদি চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড চর্বিযুক্ত খাবার কম খান, ভিটামিন ও মিনারেল আছে এরকম খাবার বেশি খান তাহলে আবার মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম।
ওজন যাতে বেড়ে না যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে।
মনে রাখতে হবে মোটা হলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে কোমরে চর্বি জমা হলে।
পুরুষের কোমর যদি ৩৭ ইঞ্চি আর নারীর কোমর ৩১ দশমিক ৫ ইঞ্চির বেশি হয় তাহলে ওজন কমাতে হবে।
ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরো যেসব উপায়:

১. প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।
২. সপ্তাহে অন্তত আড়াই ঘণ্টা ব্যায়াম করুন।
৩. মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলুন।
৪. ধূমপান ছেড়ে দিন।

রাজধানী ঢাকা সারাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগ। প্রতিদিন বেড়েই চলেছে এই রোগে আক্রান্ত্রের সংখ্যা। এরই মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত্র মারাও গেছেন বেশ কয়েকজন। ফলে ডেঙ্গু আতঙ্ক এখন সবার মধ্যেই।
 
তবে এই রোগকে মোকাবেলা করতে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সবসময় মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। এছাড়া ঘর থেকে মশা তাড়ানোর জন্য কয়েল, অ্যারোসল বা অন্য যেকোনও পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। 

এরপরও যদি কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তাহলে উদ্বিগ্ন না হয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এসময় স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে পানি, খাওয়ার স্যালাইন, স্যুপ, দুধ, তাজা ফলের রস বেশি বেশি পান করতে হবে। 

ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হতে খুবই কার্যকর হতে পারে পেঁপে পাতার রস। এতে আছে কাইমোপ্যাপিন ও প্যাপাইন, যা রক্তের প্লালিলেটের সংখ্যা বৃদ্ধি ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। ফলে ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বেড়ে যায়। 

একাধিক গবেষণায়ও এর প্রমাণ মিলেছে। 

যেভাবে রস তৈরি করবেন 
পেঁপের পাতার রস করতে প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে, পরিষ্কার পাটা বা হামান্দিস্তায় থেঁতো করে নিন। এবার রস ছেকে নিয়ে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। 

যেভাবে খাবেন 
পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গু রোগীকে প্রতিদিন তিন বেলা তিন কাপ পরিমাণ পান করতে দিন। রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে। 

সূত্র: মেডিকেল এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, স্টার

আম খেতে ভালবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কাঁচা হোক বা পাকা, আম সকলেই খান, কিন্তু ফেলে দেওয়া আমের আঁটি। সেটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু জানেন কি, আমের আঁটিও স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর!
 
আসুন এবার আমের আঁটির অজানা স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। প্রথমে আমের আঁটি শুকিয়ে ভাল করে গুঁড়ো করে নিন। এবার জেনে নিন আমের আঁটির গুঁড়োর আশ্চর্য ৫টি আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ- 

১) খুশকির সমস্যায় ২-৩ চামচ সরিষার তেলের সঙ্গে এক চিমটি আমের আঁটির গুঁড়া মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ভাল করে মালিশ করুন। এতে চুল হবে উজ্জ্বল আর দূর হবে খুশকির সমস্যা।
২) শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের পরিচর্যায় সরিষার তেলের সঙ্গে আমের আঁটির গুঁড়া মিশিয়ে দিনে অন্তত একবার মালিশ করে দেখুন। রুক্ষ ভাব কেটে গিয়ে ত্বক হয়ে উঠবে কোমল, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। 
৩) ঝকঝকে দাঁত আর সুস্থ মাড়ি পেতে চান? আমের আঁটির গুঁড়া মাজনের মতো ব্যবহার করে দেখুন। উপকার পাবেন।
৪) পিঁপড়া, মৌমাছি কামড়ালে মারাত্মক জ্বালা-যন্ত্রণা করে। আক্রান্ত স্থানে আমের রস বা আমের আঁটির গুঁড়া লাগালে সাময়িক ভাবে ব্যথার বোধ দ্রুত কমে যায়।
৫) যে কোনো খাবারের সঙ্গে আমের আঁটির গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারলে উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

চিরতার স্বাদ তেতো হলেও এই ফলটির রয়েছে নানান গুণ। চিরতার পাতলা ডালপালা ধুয়ে পরিষ্কার করে গ্লাস বা বাটিতে পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে ওই পানি খেতে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

ইউনানী চিকিৎসা অনুযায়ী চিরতা হৃৎপিণ্ড ও যকৃতের সবলকারক, চোখের জ্যোতিবর্ধক ও জ্বর রোগে বিশেষ উপকারী এই চিরতা। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে চিরতার উপকারিতা ও গুণাগুণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হল- 

১। শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
২। নিয়মিত তিতা খাবার খেলে অসুখ হওয়ার প্রবণতা কম থাকে। চিরতা এর মধ্যে অন্যতম।
৩। চিরতা খেলে যেকোনো কাটা, ছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত শুকায়।
৪। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য চিরতা ভীষণ জরুরি পথ্য। চিরতার রস দ্রুত রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে দেয়।
৫। উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, উচ্চরক্তচাপ, অতি ওজনবিশিষ্ট ব্যক্তির জন্যও চিরতা দরকারি।
৬। টাইফয়েড জ্বর হওয়ার পর আবারও অনেকের প্যারাটাইফয়েড জ্বর হয়। তাই টাইফয়েড জ্বরের পরে চিরতার রস খেলে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়।
৭। চিরতার রস কৃমিনাশক।
৮। তারুণ্য ধরে রাখতেও চিরতার গুরুত্ব অপরিসীম।
৯। শরীরের ঝিমুনিভাব, জ্বরজ্বর লাগা দূর করে চিরতার রস।
১০। নিয়মিত তিতা বা চিরতার রস খেলে ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।
১১। চিরতা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে।
১২। যাদের ডায়াবেটিস নেই কিন্তু রক্তে চিনির পরিমাণ সবসময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে, তাদের জন্য চিরতা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

আমার এক বন্ধু রাত তিনটার সময় বুকের জ্বালাপোড়া বা চাপ বোধ করায় দ্রুত ঢাকার হৃদরোগের সবচেয়ে বড় সরকারী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেবার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। রোগীর অত্যধিক চাপ থাকায় সিসিইউতে কোন বেড নেই। ফলে মেঝেতে ম্যাট্রেস বিছিয়ে জরুরি চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ streptokinase প্রয়োগ করে রক্তনালীর ব্লক খুলে দেবার চেষ্টা করা হয়েছে। যা খুবই প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু হার্ট এ্যাটাকের পাঁচদিন পর এ্যানজিওগ্রাম করে রিং পরানো হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন থেকে যায়। কেন না সময়ই এখানে মুখ্য নিয়ামক (principal predictor) ।

হার্ট এ্যাটাক একটি জীবন বিপন্নকারী ব্যাধি। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে লেখালিখি করে বা টেলিভিশনে আমি বারবার বলে আসছি। হার্ট এ্যাটাক সম্পর্কে সচেতন সকলের একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরী।

প্রকট (acute) হার্ট এ্যাটাক দুধরনের হয়:১। STEMI, ২। NSTEMI , প্রথমটির ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসা হল সঙ্গে সঙ্গে এ্যানজিওগ্রাম করে রিং বা stent পরিয়ে দেয়া। এবং এটি করতে হবে লক্ষণ শুরুর ১২ ঘণ্টার মধ্যে, নইলে হার্টের মাংসপেশির মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। হার্ট ও ব্রেনের টিসু একবার ধ্বংস হলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না। সময়ই এখানে মুখ্য নিয়ামক। দেরি হয়ে গেলে বা দেরি করে রিং পরালে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এতে দীর্ঘমেয়াদী হার্ট ফেইল্যুর বা হার্টের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। যেসব জায়গায় (যেমন ঢাকার বাইরে দিনাজপুর, খুলনা, খাজা ইউনুস, চট্টগ্রাম ইত্যাদি ছাড়া) জরুরি এ্যানজিওগ্রাম বা রিং পরাবার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই সেখানে streptokinase বা tenectiplase দিয়ে রক্তনালীর ব্লক খুলে দিতে হবে। তবে এর সাফল্য জরুরি রিং (primary angioplasty) এর চেয়ে অনেক কম। এবং এসব ওষুধ প্রয়োগের ৩ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই এ্যানজিওগ্রাম করতে হবে। নইলে হার্টের মাংসপেশির অপূরণীয় ক্ষতি হবে। বাস্তবতা হল এই যে, অফিসটাইমের পরে কোন সরকারি হাসপাতালে জরুরি এ্যানজিওগ্রাম বা রিং পরানোর কোন সুযোগ নেই। সুতরাং যাঁদের সামর্থ্য আছে তাঁদের এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে রাত হোক দিন হোক বুকে অস্বাভাবিক ব্যথা , জ্বালাপোড়া , চাপ, গ্যাস বা শ্বাসকষ্ট হলে প্রথমেই জরুরি বিভাগে এসে ইসিজি করতে হবে। রাতে ব্যথা হলে সকাল পর্যন্ত বাড়িতে অপেক্ষা করা যাবে না।

এখন পর্যন্ত অফিসটাইমের বাইরে কেবল বেসরকারী হাসপাতালে জরুরি এ্যানজিওগ্রাম এবং জরুরি রিং ( primary angioplasty) পরাবার সুযোগ রয়েছে । আপাতঃদৃষ্টিতে এটি ব্যয়বহুল মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা নয়। কেননা মাত্র তিন দিনের মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। এতে হার্টের পাম্পিং বা কার্যক্ষমতা প্রায় স্বাভাবিক থাকে। দীর্ঘমেয়াদে রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয়ত রিং বা stent এর দাম সরকার নির্ধারিত হওয়ায় সরকারী বেসরকারী সব হাসপাতালে একই দাম নিতে বাধ্য। তাই সময়ক্ষেপণ করে পরে রিং লাগালে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। উন্নত বিশ্বসহ সারা দুনিয়ায় এটাই হল হার্ট এ্যাটাকের বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক চিকিৎসা।

আরেকটি বিষয়। STEMI হার্ট এ্যাটাক নির্ণয় করতে শুধুমাত্র একটি ইসিজি-ই যথেষ্ট , কোন রক্ত পরীক্ষার আবশ্যকতা নেই। ইসিজি করে যদি দেখা যায় রোগীর STEMI হয়েছে তাহলে সাথে সাথে তাকে জরুরি বিভাগ থেকে সরাসরি ক্যাথলাবে নিয়ে জরুরি এ্যানজিওগ্রাম করে রিং পরাতে হবে।

প্রকট হার্ট এ্যাটাকের দ্বিতীয় ধরণটি হল NSTEMI যেটা শুধু ইসিজি দিয়ে বুঝা যাবে না। রোগীর লক্ষণ, ইসিজি এবং রক্ত পরীক্ষা Troponin করে যদি দেখা যায় এটি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি তাহলে কিছু ওষুধ প্রয়োগ করে একধরণের রক্তজমাটবিরোধী হেপারিন (injection Clexane) দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব এ্যানজিওগ্রাম করে দেখতে হবে ব্লকের সংখ্যা, ধরণ ও মাত্রা কেমন। ব্লকের চরিত্রের উপর নির্ভর করবে রোগীর রিং লাগবে, বাইপাস (ওপেন হার্ট) সার্জারি লাগবে নাকি শুধু ওষুধ দিয়ে রাখা যাবে। এবং প্রয়োজনে দ্বিতীয় আরেকজন কার্ডিওলজিস্ট বা সার্জনের সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে।



ডা. মাহবুবর রহমান 
সিনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিওলজিস্ট ও সিসিইউ ইন-চার্জ, 
ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল
মাইগ্রেন, টেনশন টাইপ হেডএক, দাঁত বা কানে ব্যথা ইত্যাদি মাথাব্যথার কারণ। তবে কোন কারণে মাথাব্যথা হচ্ছে, সেটি কি বোঝার উপায় রয়েছে? 

এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৩৬০তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. সৌমিত্র সরকার। বর্তমানে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।



প্রশ্ন : কী কারণে মাথাব্যথা হচ্ছে, বোঝার কোনো উপায় রয়েছে?

উত্তর : মাথাব্যথার ধরনের সঙ্গে আমরা বুঝতে পারি, এটি কি সাধারণ মাথাব্যথা, নাকি আমাদের একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। সাধারণত যে মাথাব্যথা হয়, যাকে আমরা মাইগ্রেনের মাথাব্যথা বলি, সেটি একদিকে হয়। রোগী কিন্তু বলতে পারে, ‘আমার এক পাশে দপদপ করে মাথাব্যথা করছে। চোখের সামনে আমি তারার মতো কিছু দেখি।’ এর সঙ্গে বমি হয়। এর সঙ্গে পারিবারিক ইতিহাস থাকে। ব্যথাটা অনেক তীব্র হয়। আমরা মোটামুটি লক্ষণ দেখলে বুঝতে পারি। 

অথবা আরেকটি মাথাব্যথা সাধারণভাবে হয়। একে আমরা বলি টেনশন টাইপ হেডএক। যারা উদ্বেগে ভোগে, দুশ্চিন্তায় থাকে, তাদের মাথার একদিকে হয় না, পুরো মাথাজুড়েই ব্যথা হয়। সাধারণত দেখা যায়, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা থাকলে মাথাব্যথা হয়। 

আমাদের দেশে মাইগ্রেন ও টেনশন টাইপ হেডএক দুটোর সমন্বয়ে মাথাব্যথা পাওয়া যায়। তখন আমরা বুঝি এটি সাধারণ ধরনের মাথাব্যথা। কিন্তু একজন মানুষ মাথাব্যথায় ভুগছে, হঠাৎ করে যদি তার ব্যথার ধরন পরিবর্তন হয়ে যায়, সে জানে বা বুঝতে পারে, আমার এতটার সময় মাথাব্যথা হয়, তীব্র ব্যথা হয়; আবার দেখা যায় যে মাথাব্যথা সে অনুভব করত এর সঙ্গে বমির পরিমাণ অনেক—বমি বেশি হচ্ছে, তখন আমরা বলি সেকেন্ডারি মাথাব্যথা। একে আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। 

ঘুম হলে কিন্তু মাথাব্যথা চলে যায়। কেউ যদি ঘুম থেকে তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে ওঠে, তখন কিন্তু আমরা সেকেন্ডারি হেডএক চিন্তা করব। অথবা তার খুব ঘন ঘন বমি হচ্ছে, হঠাৎ চোখের দৃষ্টি আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। অথবা মাথাব্যথার সঙ্গে তার কোনো একটি পাশ একটু দুর্বল হয়ে যাচ্ছে অথবা কারো খিঁচুনি হচ্ছে, তখন কিন্তু আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। 

সূত্র : বিভিন্ন ব্লগ থেকে সংগৃহিত ও সম্পাদিত



সম্প্রতি আমি একটি পাত্র থুথু ফেলে একটি খামে ভরে সেটি বিশ্লেষণের জন্য পাঠিয়ে দেই। বহু মানুষ ইদানীংকালে নিজের ইচ্ছায় তাদের ডিএনএ দিয়ে দিচ্ছে। নিজের পূর্বপুরুষ সম্পর্কে জানা এবং নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানার জন্য তারা এ কাজ করছেন।

নিজের সবচেয়ে গোপনীয় তথ্য কেন আমরা অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছি? এর বিনিময়ে আমরা কী পাচ্ছি?
যদি আপনি আপনার তথ্য ফেরত চান, তাহলে কী হবে?
সাম্প্রতিক বছরে ডিএনএ টেস্ট করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৯ সালের শুরু পর্যন্ত চারটি ডাটাবেস প্রতিষ্ঠানে দুই কোটি ষাট লাখ মানুষ তাদের ডিএনএ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে - অ্যানসেসট্রি, ২৩এন্ডমি, মাইহেরিটেজ এবং জিন বাই জিন।

২০১৬ সালে টুয়েন্টি থ্রি অ্যান্ড মি নামের প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে সংরক্ষিত ডিএনএ তথ্য ১৩টি ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিকে দিয়েছে।

জেনেটিক নামের একটি ঔষধ কোম্পানি ১০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে পারকিনসন্স রোগে ভুগছে এমন ব্যক্তিদের ডিএনএ তথ্য নিয়েছে। অন্যদিকে এই তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশ করার জন্য গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।

'টুয়েন্টি থ্রি অ্যান্ড মি' বিবিসিকে জানিয়েছে, তাদের গ্রাহকদের ৮০ শতাংশ ডিএনএ দিয়েছে গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য। তারা চাইলে যে কোন সময় সেটি প্রত্যাহার করতে পারে।

অ্যালবার্টা ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য আইন ইন্সটিটিউটের পরিচালক টিম কলফিল্ড বলেন, মানুষ জেনে-বুঝে তার ডিএনএ দিচ্ছে কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

কারণ, ডিএনএ দেবার আগে তারা একটি লম্বা প্রশ্নমালা পূরণ করে। তখন মানুষ বুঝেশুনে এটি করছে কিনা সে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

"ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর দিকে মানুষের নজর দেয়া উচিত। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান অনেক সময় ঔষধ কোম্পানিগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কাজ করে", বিবিসিকে বলেন কলফিল্ড।

ডিএনএ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গ্রাহক যে কোন সময় চাইলেই তাদের সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা বেশ জটিল।

"এই তথ্যগুলো যখন একত্রিত করা হয়, তখন এগুলো ফিরে পাওয়া বেশ জটিল। যদি প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হয়ে যায় তাহলে কী হবে?" প্রশ্ন তোলেন মি: কলফিল্ড।



দেউলিয়া হয়ে যাওয়াটাই একমাত্র বিষয় নয়। গত মে মাসে ভাইস নিউজ-এর সাংবাদিক সামন্থা কোল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই তার যোনিপথ সংক্রান্ত পরীক্ষার কিছু কাগজপত্র জব্দ করেছে। ডিএনএ ফার্ম ইউবায়োমি'র কাছে যোনিপথ সংক্রান্ত নমুনা দিয়েছিলেন মিস কোল। এফবিআই যখন এই প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করে তখন এসব তথ্য তারা নিয়ে যায়।

এছাড়াও বিভিন্ন সময় মার্কিন পুলিশ ডিএনএ তথ্য সংগ্রহকারী ফার্মগুলোর তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করেছে।

গত এপ্রিল মাসে মার্কিন পুলিশ এমন এক ব্যক্তির ডিএনএ তথ্য আপলোড করেছে যিনি ক্যালিফোর্নিয়াতে একাধিক ধর্ষণ, হত্যা এবং চুরি-ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ত। পুলিশ যেখানে এই ডিএনএ তথ্য আপলোড করেছে সেটি একটি ফ্রি অনলাইন তথ্যভাণ্ডার। এখানে যে কোন ব্যক্তি তার জেনেটিক কোড আপলোড করে তার স্বজনদের খুঁজে নিতে পারে।

+- লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজ-এর ইনফরমেশন সিকিউরিটি রিসার্চ গ্রুপের প্রধান এমিলিয়ানো ক্রিসটোফারো বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান মানুষের ডিএনএ তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছে, তারা কখনো তথ্য নিরাপদ রাখার নীতি মেনে চলে না। গ্রাহকদের স্বার্থের বিষয়টি তাদের মনে থাকে না।

" আমরা যখন বিভিন্ন কোম্পানিকে সাধারণ কোন তথ্য দিয়ে থাকি, তখন সেটি আমাদের বিষয়। যদি আমি নিজের জন্মগত তথ্য অন্যকে দিই তাহলে সেটি আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কেও প্রভাবিত করবে। আমরা জানিনা এসব তথ্যের ভেতরে কী রয়েছে। প্রতি মাসে আমরা এ ধরণের জন্মগত তথ্য সম্পর্কে নতুন-নতুন বিষয় শিখছি। এই মুহূর্তে বিষয়টি স্পর্শকাতর না হলেও ভবিষ্যতে এটি বেশ স্পর্শকাতর হয়ে উঠবে।"

ইউসিএল ইন্সটিটিউট-এর অধ্যাপক জয়েস হারপার বলেন, তিনি দুটো ডিএনএ তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করেছেন তার বংশতালিকা খুঁজে বের করার জন্য। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে তথ্য নিরাপদ রাখার নীতি ব্যবহার করা হয় কিনা সেটি নিয়ে তার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

সাধারণ মানুষের জীবন রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় এবং চিকিতসার ক্ষেত্রে উন্নতি করা যাবে। কিন্তু তারপরেও কিছু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

টিম কলফিল্ড মনে করেন, স্বাস্থ্য সম্পর্কে তাকে যে তথ্য দেয়া হয়েছে সেটি খুব একটি সহায়ক নয়।

" আমি যে পরীক্ষা করেছি, সেখানে দেখা গেছে আমার কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে।আমাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে ধূমপান না করতে, বেশি ব্যায়াম করতে এবং মধ্যম মাত্রায় মদ্যপান করতে। এটা জানার জন্য আমার জেনেটিক টেস্ট করা লাগেনি। "

'টোয়েন্টি থ্রি এন্ড মি' বিবিসিকে বলেছে, এ ধরণের পরীক্ষা করার একমাস পর অর্ধেক উত্তরদাতাই তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করার জন্য চিন্তা করছে, পরিকল্পনা করছে নতুবা পরিবর্তন আনা শুরু করেছে।

মানুষের বংশ সম্পর্কে যে তথ্য দেয়া হয় সেটি কতটা সঠিক তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ২০১৭ সালে তিনজন যমজ ভাইবোন তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করেছিল।

তাতে দেখা গেছে, প্রতিটির ফলাফল ভিন্ন-ভিন্ন হয়েছে। একজনকে বলা হয়েছে, তার বংশ ১১ শতাংশ ফ্রেঞ্চ এবং জার্মান। আরেকজনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ১৮ শতাংশ এবং আরেকজনের ২২ শতাংশ।

বর্তমানে বাজারে প্রচুর লটকন পাওয়া যায়। ফলটি পুষ্টি গুনে ভরা সেই সঙ্গে এটির দামও তুলনামূলক কম। এছাড়াও এই ছোচ ফলটি আরো অনেক গুণের গুনান্বিত। লটকনের আরো অনেক নাম রয়েছে। তবে বেশিরভাগ মানুষই ফলটিকে লটকন হিসেবেই জানে।

১. লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ আছে। সিজনের সময় প্রতিদিন দুই-তিনটি লটকন খাওয়া মানেই আমাদের দৈনন্দিন ভিটামিন ‘সি’র চাহিদা পূরণ হওয়া। এ ছাড়া এ ফলে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে চর্বি, আমিষ, লৌহ ও খনিজ পদার্থ।

২. লটকন গাছের শুকনো গুঁড়ো পাতা ডায়রিয়া বেশ দ্রুত উপশম হয়। এর গাছের পাতা ও মূল খেলে পেটের পীড়া ও পুরান জ্বর নিরাময় হয়। এমনকি গনোরিয়া রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এ ফলের বীজ।

৩. প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনের কোয়ায় খাদ্যশক্তি থাকে প্রায় ৯২ কিলোক্যালরি। অবাক বিষয় হলো এতে ক্যালরি আছে আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের প্রায় দ্বিগুণ।

৪. লটকনে আছে প্রচুর পরিমাণে নানা ধরনের ভিটামিন ‘বি’। এতে ভিটামিন বি-১ এবং ভিটামিন বি-২ আছে যথাক্রমে ১০ দশমিক ০৪ মিলিগ্রাম এবং ০.২০ মিলিগ্রাম। ফলে পাকা লটকন খাদ্যমানের দিক দিয়ে খুবই সমৃদ্ধ।

৫. লটকনে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম যা দেহ গঠন ও কোষকলার সুস্থতায় কাজে লাগে। এইসব উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৬. লটকন খেলে বমি বমি ভাব দূর হয় সহজেই। তৃষ্ণাও নিবারণ করে। মানসিক চাপ কমায় এ ফল। এর গাছের ছাল ও পাতা খেলে চর্মরোগ দূর হয়।

কাঁচা মরিচ একটি অতি পরিচিত সবজি। প্রতিদিনই আমরা হাতের কাছেই পাই কাঁচা মরিচ আসুন জেনে নেই কাঁচা মরিচের সব ঔষধি গুণ।

১. হজমে মহৌষধের মতো কাজ করে কাঁচা মরিচ। খুব তেল-মশলার রান্নায় ঝালের পরিমাণ কমিয়ে দিন। হজমের সমস্যা থাকবে না।
২.কাঁচা মরিচে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। এই ভিটামিন হাড়, দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভাল রাখতে সাহায্য করে।
৩.কাঁচা মরিচে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। এছাড়া মুখের বলিরেখা পড়তে দেয় না।
৪. কাঁচা মরিচে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ। ফলে জ্বর, সর্দি-কাশি ইত্যাদি থেকে বাঁচায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।
৫. প্রস্টেট ক্যানসারে ঝুঁকি কমায় কাঁচা মরিচ। স্নায়ুরোগ নিরাময় ও দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক অসুখের পথ্য হিসাবে কাজ করে।
৬. কাঁচা মরিচ খেলে মস্তিষ্কে সুখী হরমোন এনডরফিন নিঃসৃত হয়।
৭. ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম কাঁচা মরিচ। এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান বিভিন্ন ক্রনিক অসুখ ও সংক্রমণ থেকেও শরীরকে দূরে রাখে।

কেশর চা: এই চা-কে কাহওয়া বলে। কাশ্মীরে এই চা খুবই প্রচলিত। কেশর, লবঙ্গ, দারচিনি জলে ভিজিয়ে এলাচ মিশিয়ে এই চা তৈরি হয়। এই চা শরীরকে গরম রাখে ইমিউনিটি বাড়ায়।

গরম দুধে মেশান: সবথেকে সহজ উপায়ে কেশর খেতে হলে একে এক গ্লাস গরম দুধে মেশান। এতে সারাদিনের ধকল কেটে গিয়ে রাতে শান্তির ঘুম হবে।

খুব ঠান্ডা লেগে মাথাব্যথা করছে, তা হলে দুধে কেশর মিশিয়ে উষ্ণ অবস্থায় কপালে মালিশ করুন। এটি ঘরোয়া টোটকা। ত্বকের স্বাস্থ্য ফেরাতেও কেশর ব্যবহার করতে পারেন।

তবে দেখেশুনে কেশর কিনবেন। কারণ অনেক সময় বাজারে জাল কেশর বিক্রি হয়। আসল কেশরকে জলে ভেজালেও সে রং ছাড়ার পরে নিজের রং বজায় রাখে, নকল কেশরের দানা সাদা রং হয়ে যায়।
উল্লেখ্য এই লেখায় শুধুমাত্র জেনেরিক তথ্য রয়েছে। এটি কোনও চিকিৎসকের সুচিন্তিত মতামত নয়।

ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর দৈনন্দিন কর্মকান্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যখন সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া স্তিমিত থাকে। জাগ্রত অবস্থার সাথে ঘুমন্ত অবস্থার পার্থক্য হল এ সময় উত্তেজনায় সাড়া দেবার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং শীতনিদ্রা বা কোমার চেয়ে সহজেই জাগ্রত অবস্থায় ফেরত আসা যায়। সকল স্তন্যপায়ী ও পাখি এবং বহু সরীসৃপ, উভচর এবং মাছের মধ্যে ঘুমানোর প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।


মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী এবং অন্য বেশ কিছু প্রাণীর (যেমন কিছু প্রজাতির মাছ, পাখি, পিঁপড়া এবং ফ্রুটফ্লাই) অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে নিয়মত ঘুম আবশ্যক। বর্তমানে অস্বাভাবিক জীবন যাপনের কারণে ঘুম নামক শব্দটি প্রায় মানুষের জীবন থেকে চলে যেতে বসেছে। ঠিক এ কারণেই বেড়েছে অবসন্নতা এবং মানসিক অবসাদ। তবে কিছু খাবার নিয়মিত খেলে ভালো হয় বলে জানিয়েছেন পুষ্টি বিজ্ঞানীরা।

নিচে দেওয়া হলো এরকমই ৭টি ঘুমের উদ্রেককরি খাবারের নাম।

গরম দুধ
আয়ুর্বেদ বলে একগ্লাস গরম দুধ ভালো ঘুমের জন্য উপকারী। বিজ্ঞানও এই মতকে সমর্থন করে। দুধে থাকে ট্রিপ্টোফ্যান নামক এমিনো এসিড যা রূপান্তরিত হয় সেরোটোনিনে। সেরোটোনিন মস্তিষ্কে আরামদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি করে যা ঘুমের জন্য ভালো। আয়ুর্বেদিক বই এর মতে দুধের সাথে সামান্য এক চিমটি জায়ফল গুঁড়ো, এক চিমটি এলাচের গুঁড়ো এবং গুঁড়ো করা কাজু বাদাম মিশিয়ে নিলে শুধু দুধেরই স্বাদ বাড়ে না, এগুলি ভালো ঘুমেও সাহায্য করে। এমনকি রসুনযুক্ত দুধও ঘুমের জন্য খাওয়া যেতে পারে। এক কাপ দুধের সাথে ৪ ভাগের ১ কাপ পানি এবং ১ কোয়া রসুন মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এটি গরম গরম খেয়ে ফেলুন।

চেরি
চেরিতে থাকে মেলাটোনিন। এটি মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে তৈরি হয় এবং আমাদের ঘুম এবং জাগরণের অবর্তনটি নিয়ন্ত্রণ করে। ‘দ্য কমপ্লিট বুক অফ হোম রেমেডিস’ বইটি অনুসারে, করি মানসিক ক্লান্তি এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। দিনে ১০ থেকে ১২টা চেরি খেলে ভালো ঘুম হবে আপনার।

কাঠ বাদাম বা আমন্ড
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে আমন্ড গাঢ় ঘুমেও সাহায্য করে। দুধের মতোই এতে থাকে ট্রিপ্টোফ্যান যা মস্তিষ্কে এবং স্নায়ুতে আরামদায়ক অনুভূতি এনে দেয়। অন্যদিকে ম্যাগনেসিয়াম আমাদের হার্টের ছন্দকে ঠিক রাখে।

ড্রাক চকোলেট
হ্যাঁ আপনি ঠিকই পড়েছেন। ডার্ক চকলেট কিন্তু সেরা নিদ্রা উদ্রেককারী খাবারগুলোর মধ্যে একটি। এতিতে সেরোটোনিন থাকায় এটি মস্তিষ্ককে এবং মনকে শান্ত করে। তার মানে এই নয় যে আপনি যত খুশি ডার্ক চকলেটই খাবেন। সবসময় মনে রাখা উচি ত পরিমিত আহার সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ।

কলা
কলাও কিন্তু ভালো ঘুমের জন্য ব্যাপক ভাবে কাজ করে। কলাতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম পেশী এবং স্নায়ুকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট আপনাকে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘুম পাড়িয়ে দেবে।

ওটস
ওটস খেলে কেবল পেটই ভরে না, এটি ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে এবং এটি সেরা নিদ্রা উদ্রেক খাবারগুলির মধ্যে একটি। ওটসের সাথে যোগ করুন অল্প বেরি, মধু এবং খেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমান।

চ্যামোমিল চা
এটি খুবই সুগন্ধুযুক্ত, উদ্দীপক এবং সতেজতা প্রদানকারী পানীয়। স্নায়ুকে অবশ করে এটি ভালো নিদ্রার উদ্রেক করে। আয়ুর্বেদের মতে এটি হালকা অবশকারী পদার্থ হিসাবে কাজ করে। এটিতে থাকা ফ্ল্যাভনয়েড, এপিজেনিন যেটি মস্তিষ্কের বেনজোডায়াজেপিন রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়ে নিদ্রার উদ্রেক করে।

অসুখ-বিসুখ হলেই সুস্থ হতে মুঠো মুঠো ওষুধ সেবন করে থাকি। অথচ প্রকৃতি কত অকৃপণ ভাবে সাজিয়ে রেখেছে নানা প্রাকৃতিক উপাদান। যার সাহায্যে সহজে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই সুস্থ থাকা যায়। সেসবের মধ্যে আছে নানা ধরনের সবজি, ফল, মশলা এবং ভেষজ উপাদান। এর মধ্যে অন্যতম মেথি। আয়ুর্বেদ মতে, শরীর সুস্থ রাখতে মেথি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।


সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেথি চা দারুণ কার্যকরী? তাই যাঁরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের সুস্থ থাকতে অনেক সময়েই মেথি চা পানের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। সুগার ছাড়া অন্য আধি-ব্যাধিও দূর করে মেথি চা। জেনে নিন সেগুলো।

মেথি চায়ের উপকারিতা
সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে: এই মুহূর্তে বিশ্বে ক্রমশ বাড়ছে ডায়াবেটিস। আগাম সাবধানতার জন্য তাই শুরু করতেই পারেন মেথ চা-পান। বেঙ্গালুরুর পুষ্টিবিশেষজ্ঞ ডা. অঞ্জু সুদের মতে, ইনসুলিনের কার্য ক্ষমতা এবং পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় মেথি চা। ফলে, রোজ এই চায়ে চুমুক দেওয়া মানেই সুগার আপনার থেকে শতহস্ত দূরে।

ওবেসিটি কমায়: সকালে খালি পেটে এক কাপ মেথি চা মানেই হজম ক্ষমতা বেড়ে যাওয়া। একই সঙ্গে ঝরবে মেদও।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে পালাবে: মেথির মধ্যে থাকা অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করে হজমের যাবতীয় সমস্যা। যেমন, আলসার, অম্বর ইত্যাদি। একই সঙ্গে মেথির মধ্যে থাকা ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এতে দ্রুত হজম হয়।

হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায়: রোজ সকালে মেথি চা মানেই কোলেস্টেরল কম। আর তাতে ধমনী, শিরার চর্বি থাকতে পারে না। এতে রক্ত চলাচল ভালো হয়। ভালো থাকে হার্ট।

কিডনি ভালো রাখে: রোজ মেথি চা পান করলে পরিষ্কার থাকে কিডনিও। মেথির প্রভাবে ইউরিন ক্লিয়ার থাকে। কিডনিতে স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

যেভাবে বানাবেন মেথি চা
এক চা-চামচ মেথি গুঁড়ো করে নিন। এক কাপ ফুটন্ত গরম জলে ওই গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। এক চা-চামচ মধু মেশাতে পারেন। চাইলে রোজের চা পাতা বা তুলসী পাতাও মেশানো যেতে পারে এতে। সমস্ত উপকরণ দিয়ে মিনিট তিনেক ভিজিয়ে রাখুন। ছেঁকে নিয়ে গরমাগরম চুমুক দিন।
অসুস্থতা কাউকে বলে কয়ে আসেনা। হঠাৎ করেই আপনি অথবা আপনার পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে গেল। এই মুহূর্তে আপনি কোন হাসপাতালে যাবেন বুঝতে পারছেন না। অথবা ভালো কোন হাসপাতালের ঠিকানা ও ফোন নাম্বার আপনার জানা নেই। তাই ঐ রকম বিপদে আপনাকে সাহায্য করতে আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম ঢাকার সব হাসপাতালের ঠিকানা ও ফোন নাম্বার। আশা করি সবাই উপকৃত হবেন।



♣ 
Al Deen Hospital,
Moghbazar, Dhaka.
Phone: 02-9353391-3

♣ 
Ahmed Medical Center
House#71, Road#15/A,
New Dhanmondi C/A, Dhaka
Phone: 02-8113628

♣ 
Aichi Hospital
House#13,
Escaton Avenue, Sector#6,
Uttara, Dhaka
Phone: 8916290, 8920165

♣ 
Al Enayetur Modern Hospital
House#36, Road#3, Dhanmondi, Dhaka
Phone: 8631619

♣ 
Al Helal Specialist Hospital,
150, Rokeya Swarani, Senpara, Mirpur,
Dhaka
Phone: 9006820, 9008181

♣ 
Al Jahal-e-Noor Heart Ltd.
House#21, Road#9/A, Dhanmondi,
Dhaka
Phone: 02-8117031

♣ 
Al Razi Hospital
12, Farmgate, Dhaka
Phone: 8119229, 8121172, 9117775

♣ 
Al Ashraf General Hospital,
House#12, Road#21, Sector#4,
Uttara, Dhaka
Phone: 8952851-2

♣ 
Al Beeruni Hospital
23/1, Khiljee Road, Shayamoli, Dhaka
phone: 8118905, 9115953

♣  
Al-Fatah Medical Services (Pvt.) Ltd
11, Farmgate over Bridge East Side, Dhaka
phone- 02-9120615

♣  
Al-Medina General Hospital (Pvt.) Ltd.
2/A, Golden Street, Ring Road,
Shamoly, Dhaka
phone: 02-8118709

♣ 
Al-Maanar Hospital Ltd
5/4, Block-F, Lalmatia
Dhaka- 1207
phone- 02-9121387, 9121588

♣ 
Al-Maarkazul Islaami Hospital
21/17, Babar Road, Mohammedpur
Phone- 02-8114980, 9129426

♣ 
Al-Mohit General Hospital & Diagnostic Center
House # 11, Road # 2,
Shamoli, Dhaka
phone- 9113831, 9114220 Ext 238

♣ 
Aanjuman-E-Mofidul Islam
Dhaka. phone- 9336611

♣ 
Apollo Hospital
Bashundhara R/A, Dhaka
PABX : (02) 8401661- 5,
Ambulance : 01714-090000,
Duty Manager : 01713-064563,
Master Health Check : 8401600

♣ 
Aroggya Nikatan Hospital Ltd.
242-243, New Circular Road,
Malibagh, Dhaka
phone- 9333730

♣ 
Ayesha Memorial Specialized Hospital
74/G, Arjatpara,
Mohakhali, Dhaka
phone- 9122689, 9122690

♣ 
B.D.F. Hospital
5/7, Humayaun Road, Block # D,
Mohammedpur, Dhaka
phone- 8123730, 8116637

♣ 
Bongabandhu Shiek Mujib Medical University
Shahabagh, Dhaka.
phone- 8614001-9, 8614545

♣ 
Bengal Nursing Home Ltd.
Lake Circus,
Kalabagan, Dhaka,
phone- 9114824

♣ 
Bangkok Hospital Office, Bangladesh
Lion Complex (4th Floor), 73, New Airport Road,
Tejgaon, Dhaka
phone- 9139777, 9134982, 9113864

♣ 
Bangladesh Association For The Aged & Institute Of Gerecitric Medicine
Agargaon, Sher-e-Bangla Nagar, Dhaka
phone- 9129814

♣ 
Bangladesh Heart & Chest Hospital
Road # 27 (Old), 16 (New), House # 47,
Dhanmondi, Dhaka
Phone- 9114266, 8123977

♣ 
Bangladesh Medical College
House # 35, Road # 14/A,
Dhanmondi, Dhaka
phone- 9118202, 8115843

♣ 
 Bangladesh Telemedicine Services Ltd.
Comfort Tower, 167/B, Green Road,
Dhanmondi, Dhaka
phone- 8124990 Ext 660, 284

♣ 
Bari-Llizarov Orthopedic (Bio) Center
House # 77 (New) 831 (Old), Road # 9/A (New) 19 (Old),
Dhanmondi R/A, Dhaka
phone- 9120309, 8117876

♣ 
 Bari-Llizarov Orthopedic Center
House # 831, Road # 19 (Old),
Dhanmondi R/A, Dhaka
Phone- 9120309, 8117876

♣ 
 Bdm Hospital
5/17, Humaund Road, Block # B,
Mohammedpur, Dhaka
Phone- 8113481

♣ 
Bengal Nursing Home (Pvt.) Ltd.
70/C, Clke Circus kalabagan,
Dhanmondi, Dhaka
phone- 8116007

♣ 
Birdem
Shahbagh, Dhaka,
phone- 8616641-50

♣ 
Bnsb Dhaka Eye Hospital
Mirpur-1, Dhaka
phone- 8014476

♣ 
Brain & Maind Hospital Ltd.
149/A, Airport Road, Farmgate, Baityl Shoraf Mosque Complex,
phone- 8120710

♣ 
Brighton Hospital Ltd
163, Sonargaon Road Hitirpool, Dhaka- 1205
phone- 8626901,9671186

♣ 
Brighton Hospital Ltd.
169, Sonargaon road, Hatirpool, ph- 8626901-3
(36) Bumrungrad Hospital
House- 154, Road- 11, Block- E, Banani,
Dhaka, phone- 8855254

♣ 
Cancer Home Cancer & Breast Clinic
GP-Cha, 149/1, Mohakhali, Dhaka
phone- 8815244

♣ 
Care Medical Center Ltd.
41, Chamelibagh, Shantinagar, Dhaka
phone- 8318827, 9351190-11/23

♣ 
Central Hospital Ltd.
House # 2, Road # 5, Green Road, Dhanmondi, Dhaka
phone- 9660015-19

♣ 
Center For Health And Development Medical Complex (Chd Medical Complex)
House # 16, Road # 16, Sector # 4, Uttara Model Town,
phone- 8920670

♣ 
Center For The Rehabilitation Of The Paralyzed (Crp)
Post CRP Chapin, Savar, ph- 7710464-5, 7711766

♣ 
Chandshi Medical Center
House # 9, Road # 27, Block # K, Banani, Dhaka
phone- 8821875, 9554571

♣ 
China-Bangla Hospital (Jv) Ltd.
Plot # 1, Road # 7, Sector # 1, Uttara, Dhaka
phone- 8913674, 8913606

♣ 
Cholera Hospital (Icddrb)
Dhaka, Mohkhali, Dhaka
phone- 871751-60,600171-8

♣ 
Christian Medical Hospital
6/3, Nadda, Baridhara (North), Dhaka
phone- 9886298, 8813375

♣ 
City Dental College & Hospital
1085/1, Malibagh, Chowdhurypara, ph- 9341662-4, 8313305

♣ 
City Hospital (Pvt) Ltd.
69/1/1, Panthapath, Dhaka
phone- 8617852, 8623205

♣ 
City Hospital Ltd
69/1/1, Panthpath Dhaka
phone- 8623205,8617852

♣ 
CMH (Dhaka Cantonment)
Dhaka, ph- 882770

♣ 
Community Hospital
190/1, Wireless Rail Gate, Baramaghbazar,
Dhaka,
phone- 9351190-1, Fax 882-2-93387706

♣ 
Community Maternity Hospital
22, Bijay Nagar, Dhaka
phone- 9358513

♣ 
Control Of Diarrheal Disease Programme
1/13, Humayun Road, Block # B, Mohammadpur,Dhaka
phone- 9114574, 9114581

♣ 
Crescent Gastroliver & General Hospital Ltd.
House- 60, Road- 8/A, Dhanmondi R/A, Dhaka
phone- 9116851

♣ 
Crescent Hospital & Diagnostic Complex Ltd.
22/2, Babor Road, Mohammadpur, Dhaka
phone- 9117524, 8119775

♣ 
Crescent Hospital & Dignostic
22/2, Babar Road, Mohammadpur, Dhaka
phone- 9119524, 8119775

♣ 
Crecent Gestolever & General Hospital
House #60, Road #8/A, Dhanmondi R/A,
Phone- 9116851

♣ 
Delta Medical Centre Ltd.
House # 20, Raod # 4, Dhanmondi R/A, Dhaka
phone- 8617141-3

♣ 
 Dhaka Community Hospital
190/1, Baro Moghbazar, Wireless Railgate, Dhaka
phone- 9351190-91

♣ 
Dhaka Ent (Ear, Nose, Thot) Hospital
House # 56, Road # 4/A, Dhanmondi R/A, Dhaka
phone- 8617503, 9613986

♣ 
Dhaka General Hospital (Pvt) Ltd.
17, Hatkhola Road, Dhaka
phone- 7115351, 7116708

♣ 
Dhaka Medical College & Hospital Polashi
Dhaka,
phone- 8616744, 9663429

♣ 
Dhaka Monorogh Clinic House
13, Road # I Block # 11/A, Mirpur, Dhaka,
phone- 9005050

♣ 
Dhaka National Hospital Ltd.
House # 55/1, Road # 27 (Old) 16 (New), Dhanmondi R/A, Dhaka
phone- 8122588

♣ 
Dhaka Orthopedic Hospital
843, Ring Road, Shamoli, Dhaka-1207,
phone- 9112684, 912603

♣ 
Dhaka Renal Center & General Hospital
5 Green Corner, Green Road,Dhaka- 1205,
phone- 8610928, 8621841-2

♣ 
Dhaka Sishu Hospital
Sher-E-Bangla Nagar, Dhaka,
phone- 8116061-62, 8114571-72

♣ 
Dhanmondi Hospital (Pvt) Ltd.
House #19/E, Green Road, Middle of Road #6&7,
Dhanmondi, Dhaka
phone- 8628849

♣ 
Diabetic Association Of Bangladesh
122, Kazi Nazrul Islam Avenue, Shahbagh.
phone- 8616641-50 Ext 2225

♣ 
Diagnosis
44/C, Ahsad Avenue, Mohammadpur.
phone- 814822

♣ 
Diganta Anti Drug Hospital
House #353, Road #14, Block# B, Chanduaon R/A,
Dhaka
phone- 031-671393

♣ 
Doctors General Hospital
31/32, DIT Industrial Area, Postogola.
phone- 7410731, 7413239

♣ 
Dr. Salahudding Hospital
House #37, Road #9/A, Dhanmondi R/A
Dhaka
phone- 9122264, 9121779

♣ 
Dr. Sultanas Poly Clinic
651, Shahinbagh, Tejgaon, Dhaka
phone- 9115244

♣ 
Dushta Shasthya Hospital (D.S.K)
21/1, Khilji Road, Mohammadpur, Dhaka
phone- 8124952

♣ 
Dustha Shasta Hospital
21/1, Khiljee Road, Mohammadpur,
Dhaka-1207
phone- 8124952

♣ 
Eden Malticare Hospital
753, Satmajid Road Dhanmondi, Dhaka-1209
phone- 8150507-10, 8151506

♣ 
Farabi General Hospital
Road #14 (New), House #8/3,Dhanmondi R/A, Dhaka- 1209
phone- 81222471, 9140442

♣ 
Fashion Eye Hospital Ltd.
98/6-A, Elephant Road, Bara Moghbazar, Dhaka
phone- 9338986, 9343961

♣ 
Faud Al Khatib Hospital
Almas Tower, 282/1, 1st Colony, Majar Road, Mirpur, Dhaka
phone- 9007188, 9004317, 8013638

♣ 
Federal Medical College Hospital Ltd
20, Link Road, Bangla Motor, Dhaka
phone- 8613097-8

♣ 
Gastroliver Hospital & Research Institute
69/D, Green Road Panthpath, Dhaka-1205
phone- 8620960, 8625393, 8627853

♣ 
General Hospital Ltd
House #60, Road #8/A,Dhanmondi, R/A, Dhaka.
phone- 9116851,91137181,9137182

♣ 
General Medical Hospital (Pvt.) Ltd.
103, Elephant Road, Dhaka-1205
Phone- 861932

♣ 
Grain & Mind Hospital Ltd.
149/A, Airport Road, Farmgate, Baitus Sharaf Mosque Complex.
phone- 8120710

♣ 
Green Hospital
House #31, Road #6, Dhanmondi R/A.
phone- 8612412

♣ 
Green Land Hospital
Azampur, Uttara, Dhaka.
phone- 8914175

♣ 
Greenland Hospital
House #4, Road #4, Sector #7, Uttara Model Town, Dhaka
phone- 8912663

♣ 
Harun Eye Foundation & Green Hospital
Road #6, House #31, Dhanmondi R/A, Dhaka.
phone- 8612412, 8619068

♣ 
Harun Green Hospital
House #31, Road #6, Dhanmondi R/A, Dhaka
phone- 8612412, 8619068

♣ 
Hasnabad Hospital (Pvt) Ltd.
South West Side of Buri Ganga Bridge, Hasnabad, Dhaka
phone- 7419977

♣ 
Health And Hope Ltd.
152/1-H, Green Road, Panthopath (Green Road – Panthopath Crossing)
phone- 9145786

♣ 
Holy Family R. C. Hospital
Eskaton Garden Road, Dhaka.
phone- 8311721-25

♣ 
Hyfia General Hospital
1/A, Adabar, Ring Road, Shamoli, Dhaka.
Dhaka- 9120519