Articles by "স্বদেশ"
Showing posts with label স্বদেশ. Show all posts
যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) এ বছরের ৯ই জানুয়ারি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেখানে 'গণতান্ত্রিক' কিংবা 'ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক' দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।

গত এক দশক ধরে স্বৈরতান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থার মাঝামাঝি 'হাইব্রিড রেজিম' তালিকায় দেশটি অবস্থান করছে বলে ইআইইউ বলছে। তবে বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর আগের বছরের তুলনায় ০.১৪ বেড়েছে। ফলে ২০১৭ সালে যেখানে দেশটির অবস্থান ছিলো ৯২তম, পরের বছর হয়েছে ৮৮তম।

ইআইইউ প্রতিটি দেশকে গণতন্ত্র সূচক পরিমাপ করতে পাঁচটি মানদণ্ড ব্যবহার করে। সেগুলো হলো - নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, নাগরিক অধিকার, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ।

প্রত্যেকটি মানদণ্ডকে ০ থেকে ১০ স্কোরের মধ্যে হিসেব করে গড় করা হয়।

প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোকে চারটি ক্যাটেগরিকে ভাগ করা হয় - 

স্বৈরতন্ত্র, হাইব্রিড রেজিম, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র এবং পূর্ণ গণতন্ত্র।

এই হিসেব অনুযায়ী, একটি দেশকে "পূর্ণ গণতান্ত্রিক" অবস্থায় যেতে হলে গণতান্ত্রিক সূচকে ৯ থেকে ১০ স্কোর করতে হয়।

যেসব দেশের স্কোর ৭ থেকে ৮ সেসব দেশকে "ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র" বলা হয়েছে।

তবে এর নিচের অবস্থান "হাইব্রিড রেজিম"-এ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর স্কোর ৫ থেকে ৬ এবং "স্বৈরতান্ত্রিক" দেশগুলোর স্কোর ০ থেকে ৪ এর মধ্যে।

১৬৭টি দেশের মধ্যে মাত্র ২০টি দেশ গণতন্ত্রের তালিকায়, ৫৫টি দেশ ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায়, ৩৯টি দেশ হাইব্রিড রেজিমের তালিকায় এবং ৫৩টি দেশ স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় আছে।



'হাইব্রিড রেজিম'-এর বৈশিষ্ট্য কী?
'ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র' এবং 'স্বৈরতন্ত্রের' মাঝামাঝি অবস্থান 'হাইব্রিড রেজিম' আসলে কী? একটি দেশের কোন কোন বৈশিষ্ট্যের জন্য এই তালিকায় পড়ে - ইআইইউ-এর গবেষণা পদ্ধতিতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সেখানে যা বলা হয়েছে তা হলো -

নির্বাচনে বেশ অনিয়মের ঘটনা ঘটে, যা নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে;

বিরোধী দল এবং প্রার্থীর ওপরে সরকারি চাপ খুবই সাধারণ ঘটনা; রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সরকারের সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়ে মারাত্মক দুর্বলতা দেখা যায়, যা ত্রুটিপূর্ণি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকেও বেশি; দুর্নীতির বিস্তার প্রায় সর্বত্র এবং আইনের শাসন খুবই দুর্বল; সিভিল সোসাইটি দুর্বল;

সাধারণত, সাংবাদিকরা সেখানে হয়রানি ও চাপের মুখে থাকে এবং বিচার ব্যবস্থাও স্বাধীন নয়;

বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান
ইকোনমিস্ট ইনটিলিজেন্স ইউনিট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৬.১১ (ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র), সেটি ২০০৬ সালে। কিন্তু ২০০৮ সাল থেকে দেশটি 'হাইব্রিড রেজিম'-এর তালিকায় আছে।


২০১৭ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫.৪৩। ইকোনমিস্ট গ্রুপ ২০০৬ সালে এই সূচক প্রকাশ শুরু করার পর সেটাই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বাজে অবস্থান।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান কত?
ইআইইউ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় 'ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র' বিরাজ করছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানে 'হাইব্রিড রেজিম' এবং আফগানিস্তানে 'স্বৈরতন্ত্র" সরকার ব্যবস্থা আছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০০৬ সাল থেকে এধরনের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করছে ইআইইউ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতন্ত্র পর্যালোচনা করে তারা এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে এবার ২০১৮ সালে বিশ্বে গণতন্ত্রের অবস্থায় বড় কোনো হেরফের হয়নি।

সর্বোচ্চ স্কোর ৯.৮৭ পেয়ে গণতন্ত্র সূচকে সবচেয়ে উপরের অবস্থানে আছে নরওয়ে। অন্যদিকে, মাত্র ১.০৮ স্কোর নিয়ে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান সবার নীচে।

সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় গোটা অর্থনীতির উপর বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 
বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
 
সরকারকে পদত্যাগ করে নিরেপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ারও এদিন দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচিত না হওয়ায় দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশের ক্ষতি করছে, রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছে। এ পথ থেকে মুক্তির একটাই পথ খালেদা জিয়ার মুক্তি দেওয়া। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নেই ওঠে না বলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার দেশের উন্নয়ন, আয়, স্থিতি বেশি বেশি দেখিয়ে উন্নয়নের রোল মডেলের নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করার কৌশল হাতে নিয়েছে। 

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ট্যাক্স বসিয়ে চলছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনোয়াগ হচ্ছে না অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এবার চামড়া ব্যবসায় ধস নেমেছে। সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় গোটা অর্থনীতির উপর বিপর্যয় নেমে এসেছে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী একটি পিকনিকের বাস ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লেগে সাতজনের প্রাণ গেছে; এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২১ জন। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি মো. শাহজাহান খান জানান।
 
নিহতদের মধ্যে দুই জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন ফেনীর ছাগলনাইয়ার শাহাদাত ও ঢাকার বিক্রমপুরের সুজন মিয়া। 

কক্সবাজারগামী একটি পিকনিকের বাস বৃহস্পতিবার সকালে ফেনীর লেমুয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনায় পড়ে। ওসি শাহজাহান বলেন, ঢাকার মিরপুর থেকে ‘প্রাইম প্লাস’ পরিবহনের পিকনিকের বাসটি কক্সবাজারে যাচ্ছিল। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মহাসড়কে পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় বলে জানান তিনি। 

পরে হাসপাতালে একজনের আরও একজনের মৃত্যু হয় বলে ফেনী হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের নায়েক মাইদুল হক জানান। 

ফেনীর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আবু তাহের পাটোয়ারী বলেন, আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দশজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনার বর্ণনায় পিকনিকের আয়োজক মিরপুরের পাপ্পু জানান, ঈদের ছুটি উপলক্ষে মীরপুরের বাসিন্দারা স্থানীয়ভাবে কক্সবাজার ও বান্দরবান যাওয়ার আয়োজন করে। সে অনুযায়ী চাঁদা সংগ্রহ শেষে বুধবার রাত ২টার দিকে মিরপুর থেকে দুইটি বাস কক্সবাজারের উদ্যোশে রওনা হয়। 

তার মধ্যে একটি বাস ফেনীতে দুর্ঘটনায় পড়ে; তবে অন্য বাসটি কক্সবাজারে পৌঁছায় বলে জানান তিনি। 

আহতদের মধ্যে রুমা আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, ভোরে যাত্রা বিরতির সময় কোন একটি রেস্তোরাঁয় যাত্রীরা সবাই নাস্তা করে। পরে সবাই বাসে উঠে ঘুমিয়ে পড়ার পর বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

মুন্সীগঞ্জ জেলার মাওয়া, মাদারীপুর জেলার শিবচর ও শরীয়তপুর জেলার জাজিরায় চলছে উৎসব। এটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের উৎসব। দিনরাত কাজ চলছে এই তিন জেলাবেষ্টিত পদ্মা নদীর পাড়ে। সেখানে পুরোদমে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। সেতু নির্মাণের সব কাজ তদারকি করছে সেনাবাহিনী। সরকারের পরিকল্পনামাফিক আগামী ২০১৮ সালের শেষের দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে পদ্মা সেতুর। এ সেতু নিয়ে দেশের মানুষের আগ্রহ অনেক। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হলো—

যা আছে পদ্মাসেতুতে?
১. পদ্মা সেতুর প্রকল্পের নাম ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প’।
২. পদ্মা সেতুর ধরণ দ্বিতলবিশিষ্ট। এই সেতু কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে।
৩. পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় (মূল সেতুতে) ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
৪. ২০১৭-১৮ অর্থবছর পদ্মাসেতু প্রকল্পে সরকারের বরাদ্দ ৫২৪ কোটি টাকা।
৫. পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসন ব্যয় ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
৬. পদ্মা সেতু প্রকল্পে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির নাম চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড।
৭. পদ্মা সেতুতে থাকবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ পরিবহন সুবিধা।
৮. পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন হবে নিচ তলায়।
৯. পদ্মা সেতুর প্রস্থ হবে ৭২ ফুট, এতে থাকবে চার লেনের সড়ক।
১০. পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।
১১. পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট ৩ দশমিক ১৮ কিলোমিটর।
১২. পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক দুই প্রান্তে (জাজিরা ও মাওয়া) ১৪ কিলোমিটার।
১৩. পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসন হয়েছে দুই পাড়ে ১২ কিলোমিটার।
১৪. পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ করছে প্রায় চার হাজার মানুষ।
১৫. পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট পিলার ৮১টি।
১৬. পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা হবে ৬০ ফুট।
১৭. পদ্মা সেতুর পাইলিং গভীরতা ৩৮৩ ফুট।
১৮. পদ্মা সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি।
১৮. প্রতি পিলারের জন্য পাইলিং হবে ৬টি।
১৯. পদ্মা সেতুর মোট পাইলিংয়ের সংখ্যা ২৬৪টি।
২১. পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে।

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য মানুষের মাথা লাগবে বলে যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, তার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি গুজবের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি মহল সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।



সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি তুলে ধরে ঐ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয় যে ব্রিজ নির্মাণে মানুষের মাথা প্রয়োজন হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি গুজব।


পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ঐ অঞ্চলের কাছে বেশ কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষ অপহৃত হচ্ছে বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় মানুষের মধ্যে ভিত্তিহীন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবরও বের হয়।

তবে কোনো এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকেই কোনো অপহরণের খবর পাওয়া যায়নি। তাহলে কেন এমন একটি ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়লো যার কারণে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই অপপ্রচারের প্রতিবাদ করতে হলো?

পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশে সেতু নির্মাণ বা এরকম বড় কোন স্থাপনা নির্মাণ কাজে নরবলির গুজব নতুন নয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী মনে করেন বাংলাদেশের দেশের শাসনব্যবস্থার ঐতিহাসিক পটভূমি এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিন্তাধারা পর্যবেক্ষণ করলেই এর কারণ বোঝা সম্ভব।

"ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখবেন আমাদের এই অঞ্চল বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন রাজা, সম্রাটদের মত বিভিন্ন ধাঁচের শাসকদের অধীনে ছিল।"

মিজ. চক্রবর্তী বলেন নানা কিংবদন্তীমূলক কাহিনী, আবহমান কাল ধরে চলে আসা জনশ্রুতি এবং স্থানীয় সংস্কৃতিতে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন গল্পের ওপর বিশ্বাস করার প্রবণতা মানুষের মধ্যে প্রবল।

"কথিত আছে, ১৫৮০ সালের দিকে মৌলভীবাজারে কমলার দীঘি তৈরি করার সময় দীঘিতে যখন পানি উঠছিল না, তখন রাজা স্বপ্ন দেখেন যে তার স্ত্রী দীঘিতে আত্মবিসর্জন দিলে পানি উঠবে এবং পরবর্তীতে রাজার স্ত্রী আত্মাহুতি দেয়ার ফলেই ঐ দীঘিতে পানি ওঠে।"

দিনাজপুরের রামসাগর তৈরিতেও একই ধরণের কিংবদন্তী প্রচলিত রয়েছে বলে জানান মিজ. চক্রবর্তী। মিজ. চক্রবর্তী বলেন, "এসব ঘটনার কোনো প্রামাণিক দলিল বা সুনিশ্চিত ঐতিহাসিক প্রমাণ না থাকলেও শত শত বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে চলে আসার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এধরণের গল্পের একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।"

আবার ইতিহাস বিবেচনা করলে দেখা যায়, পৃথিবীর প্রায় সব এলাকার শাসকরাই তাদের প্রজাদের ওপর নিষ্ঠুর অত্যাচার করেছেন। শাসকদের সেসব অত্যাচারের কাহিনীও কালের বিবর্তনে মানুষের মুখে মুখে বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হলেও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বিদ্যমান থাকায় সরলমনা মানুষ সেগুলো বিশ্বাস করে।

                              পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি

সফলভাবে ব্রিজ তৈরি করতে পিলারের নিচে মানুষের মাথা দিতে হবে - আবহমান কাল থেকে মানুষের মধ্যে প্রচলিত এই কুসংস্কার নিয়ে বাংলা সাহিত্যে বেশকিছু গল্পও রয়েছে।

মিজ. চক্রবর্তী বলেন, "প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে যেসব গল্প শুনে আসে, কোনো ধরণের যাচাই ছাড়া সেগুলো বিশ্বাস করার প্রবণতার কারণেই এই প্রযুক্তির যুগেও সেসব গল্প সত্যি বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।"

পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে মানুষের মাথা লাগবে বলে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে 


'সমাধান: জনগণের কাছে তথ্যপ্রবাহকে অবারিত করা'সুস্মিতা চক্রবর্তীর মতে, "এ ধরণের গুজব যেন না ছড়িয়ে পড়ে তা নিশ্চিত করার একমাত্র পদ্ধতি, ব্রিজ নির্মাণের খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বিস্তারিত জানানো।"

"জনগণের কাছে তথ্যপ্রবাহকে যতটা অবারিত করা হবে, সাধারণ মানুষকে ধোঁয়াশা থেকে মুক্ত করার জন্য যতবেশি প্রয়াস নেয়া হবে, ততই এধরণের গুজব তৈরি হওয়া এবং ছড়িয়ে পড়া কমবে।"

এছাড়া বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সব বিষয়েই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার প্রবণতা থাকার কারণেও এধরণের গুজব তৈরি হয় বলে মনে করেন মিজ. চক্রবর্তী।

"পদ্মা সেতুর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক সবসময়ই ছিল। কাজেই এর নির্মাণকাজ নানভাবে পন্ড করার চেষ্টা করে কোনো একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের চেষ্টা করতেই পারে; বিশেষ করে যখন আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে সব বিষয়কে কেন্দ্র করেই বাজে রাজনৈতিক লড়াই তৈরি করার প্রবণতা রয়েছে।"
হিজাব কিংবা শাড়ির পিন শ্বাসনালীতে আটকে গেলে তা বয়ে আনতে পারে জীবনের ঝুঁকিও।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নুরুল হুদা নাইম জানিয়েছেন এমন তথ্য।
সম্প্রতি সিলেটের জকিগঞ্জের খাদিমান গ্রামের বাসিন্দা সুমনা বেগমের গলায় আটকে যাওয়া হিজাব পিনটি কোন অস্ত্রোপচার ছাড়াই বের করেছেন ডা. নাইম।
তিনি বলেন, "এক্সরের মাধ্যমে পিনটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ব্রঙ্কোসকপির মাধ্যমে সেটি অপসারণ করেছি আমরা।"
তবে এমন ঘটনা এটি প্রথম নয় বলে তিনি জানান।
"তিন চার মাস আগে গাড়ির এক মেকানিকের চিকিৎসা করেছি। মুখে গাড়ির পিন নিয়ে কাজ করার সময় ছোট একটি পিন শ্বাসনালীতে আটকে যায় তার।"
এধরণের ঘটনা ইদানীং অনেক বেশি দেখা যায় বলে জানিয়েছেন ডা. নাইম।
আর তার পরেই সচেতনতার অংশ হিসেবে এই সতর্কতা দিয়েছেন তিনি।


গলায় আটকে যাওয়া এই হিজাব পিনটি বের করেছিলেন ডা. নুরুল হুদা নাইম।
বিউটিশিয়ান জেবুন নাহার বলেন, "কাস্টমারদের শাড়ি কিংবা অন্য পোশাক পরাতে গেলে একটি পিন হাতে নেই। আরেকটি মুখে রাখি।"
তবে এ পর্যন্ত কখনো শ্বাসনালীতে পিন আটকে যায়নি তার।
তিনি বলেন, "আগে জানতাম না যে পিন গিলে ফেললে এতো বড় বিপদ হতে পারে। এখন জানলাম। ভবিষ্যতে সাবধান হবো।"
২০১১ সাল থেকে হিজাব পরেন তানজিম মুনিয়াত। তিনি জানান, হিজাব আটকাতে মুখে কখনও পিন রাখেন না তিনি।
তিনি বলেন, "অনেকে সেফটি পিন, টেইলরিং পিন কিংবা ববি পিন মুখে নিয়ে তারপর ব্যবহার করেন। তবে আমার একটু ওসিডি আছে বলে আমি এগুলো মুখেই দিতে পারি না।"
"আমি ড্রেসিংয়ের জায়গায় ছোট হাত বালিশ কিংবা তুলার বল রেখে দেই। যাতে পিনগুলো গেঁথে রাখি। আগে ডিস্ক বা কোন একটা বাক্সে রেখে দিতাম। কিন্তু সেটা বের করতে গেলে খোঁচা লাগতো," তিনি বলেন।
তবে এখন থেকে এসব পিন ব্যবহারে আরো বেশি সতর্ক হবেন এবং অন্যদেরও সতর্ক করবেন বলে জানান তিনি।

গলায় আটকে যাওয়া পিন কীভাবে তোলা হয়?

ডা. নাইম বলেন, গলায় শ্বাসনালীতে পিন আটকে যাওয়ার ঘটনা এ পর্যন্ত বেশ কয়েক বার চিকিৎসা দিয়েছেন তিনি।
"হঠাৎ গলায় কিছু আটকে গেলে আমরা দুটি কাজ করি। প্রথমত শ্বাসটা তুলে ভেতরে টান দেই। ফলে এটি সরাসরি শ্বাসনালীতে চলে যায়।"
"আর দ্বিতীয়ত, ঢোক গেলার চেষ্টা করি। কিন্তু মুখ বন্ধ করে ঢোক গিলতে গেলে একটু সময় লাগে। আর এই সময়টাতেই ওই বস্তুটি শ্বাসনালীতে চলে যায়," তিনি বলেন।
শ্বাসনালীতে পিন আটকে যাওয়া কতটা ক্ষতিকর হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পিনের কারণে শ্বাসনালীর যে অংশ আটকে যেতো সে অংশটি ফুলে যায়। একটা সময় সেখানে সংক্রমণ দেখা দেয়।
"প্লাঙ্কস অকেজো হয়ে যায়। ফলে বাতাস আর পৌঁছায় না। প্রদাহ অনেক বেড়ে যায়। এমনকি ওই অংশটা ফোঁড়ার মতো হয়ে যেতে পারে।"
আমাদের দেশের অনেকে বেশিরভাগ সময়ে নারীরা সাজগোজ করার সময় মুখে পিন রেখে তারপর সেগুলো ব্যবহার করেন।
"হঠাৎ করেই যদি এটি মুখ থেকে গলায় চলে যায় তাহলে মারাত্মক বিপত্তি ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, "আমরা বলতে চাই যে, এই বদভ্যাসটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসতে পারে। একটা বড় ক্ষতির সম্ভাবনা নিয়ে আসতে পারে।"
কোনভাবেই মুখে কিছু আটকে কোন কাজ না করার আহ্বানও জানান তিনি।
বাংলাদেশে জুলাই মাস থেকে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট সুবিধা চালু করার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন। যেকোনো সময় ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়টি ঘোষণা করা হতে পারে।
কিন্তু এই ই-পাসপোর্টে কী সুবিধা হবে? প্রচলিত পাসপোর্টের সঙ্গে এর পার্থক্য কী?
জুলাই থেকে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা রয়েছে

ই-পাসপোর্ট কী?

বর্তমানে এমআরপি বা যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্টের মতো ই-পাসপোর্টের বইও একই রকমের থাকবে।
তবে যন্ত্রে পাসপোর্টের বইয়ে প্রথমে যে তথ্য সংবলিত দুইটি পাতা থাকে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। সেখানে বরং পালিমানের তৈরি একটি কার্ড ও অ্যান্টেনা থাকবে। সেই কার্ডের ভেতরে চিপ থাকবে, যেখানে পাসপোর্ট বাহকের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
ডাটাবেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরণের ছবি, ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ।
ফলে যেকোনো দেশের কর্তৃপক্ষ সহজেই ভ্রমণকারীর সম্পর্কে সব তথ্য জানতে পারবেন।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''এটি অত্যন্ত নিরাপত্তা সংবলিত একটি ব্যবস্থা। যে কারণে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এখন ই-পাসপোর্ট ব্যবহার শুরু করেছে। আমরাও সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছি।''
জার্মানির একটি ই-গেট, যার মাধ্যমে ই-পাসপোর্টধারীরা যাতায়াত করেন

এমআরপি আর ই-পাসপোর্টের পার্থক্য

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) আর ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) এর মধ্যে পার্থক্যকে তুলনা করা যেতে পারে অনেকটা চেকবই আর এটিএম কার্ডের মতো।
চেকবই যেভাবে স্বাক্ষর যাচাইবাছাই করে ব্যাংক কর্মকর্তারা অনুমোদন করে টাকা প্রদান করেন। কিন্তু এটিএম কার্ড দিয়ে যে কেউ নিজে থেকেই টাকা তুলতে পারেন।
তেমনি এমআরপি পাসপোর্টে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তথ্য যাচাই বাছাই করে পাসপোর্টে সিল দিয়ে থাকেন।
কিন্তু ই-পাসপোর্টধারী যন্ত্রের মাধ্যমে নিজে থেকেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন। তবে পরবর্তী ধাপে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারাই পাসপোর্টে আগমণ অথবা বর্হিগমন সিল দেবেন।
যুক্তরাজ্যের একটি বিমান বন্দরে ই-গেট

ই-পাসপোর্টের সুবিধা কী?

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান বলছেন, এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যে, খুব দ্রুত ও সহজে ভ্রমণকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। ই-গেট ব্যবহার করে তারা যাতায়াত করবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তাদের ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমে দ্রুত তাদের ইমিগ্রেশন হয়ে যাবে।
তবে যখন একজন ভ্রমণকারী ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে যাতায়াত করবেন, সঙ্গে সঙ্গে সেটি কেন্দ্রীয় তথ্যাগারের (পাবলিক কি ডাইরেক্টরি-পিকেডি) সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবে।
ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন।
তবে কোন গরমিল থাকলে লালবাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করবেন।
কারো বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে।
ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) এই পিকেডি পরিচালনা করে। ফলে ইন্টারপোলসহ বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য যাচাই করতে পারে।
এখানে ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকায় এ ধরণের পাসপোর্ট জাল করা সহজ নয় বলে তিনি জানান।
নানা দেশে ভ্রমণের চাবিকাঠি হচ্ছে পাসপোর্ট

কতদিন মেয়াদ হবে?

আপাতত পাঁচ ও দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। বয়স ভেদে পাসপোর্টের এই মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে।

ফি কতো হবে?

ই-পাসপোর্টের ফি কতো হবে, তা জানাতে রাজি হননি সরকারি কর্মকর্তারা। এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে বলে তারা জানান।
তবে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন, ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ফি কিছুটা বেশি হতে পারে।

ই-পাসপোর্টেও কী ভিসা নিতে হবে?

প্রচলিত ব্যবস্থার মতো ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ভিসার বিষয়টি একই থাকবে। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি বা অনলাইনে ভিসার শর্ত পূরণ করেই ভিসা নিতে হবে।
ভিসা কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসগুলো এই পিকেডি ব্যবহার করে আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে নিতে পারবে। এরপরে তারা বইয়ের পাতায় ভিসা স্টিকার, সিল দিতে পারবে বা বাতিল করে দিতে পারবে।

ই-পাসপোর্টের প্রচলিত ব্যবস্থার মতো ভিসা নিতে হবে
এমআরপি পাসপোর্ট কী বাতিল হয়ে যাবে?

কর্মকর্তারা বলছেন, আপাতত ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি প্রচলিত এমআরপি পাসপোর্ট ব্যবস্থাটিও বহাল থাকবে।
তবে নতুন করে আর কাউকে এমআরপি পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে না। বর্তমানে এমআরপি পাসপোর্টধারীরা যখন নবায়ন করতে যাবেন, তখন তাদেরকেও ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে।
এভাবে পর্যায়ক্রমে সব এমআরপি পাসপোর্ট তুলে নেয়া হবে।

১৯৭৫ সালের ১৪ই জুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ায় প্রথম উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র স্থাপন করেন, তখন আমাদের অংশগ্রহণ ছিল শুধু ব্যবহারকারী হিসেবে। আর সেখান থেকেই পরবর্তীকালে নিজস্ব স্যাটেলাইট অর্জনের ভিত রচিত হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলা শুরু সেখান থেকেই। 
বাংলাদেশে প্রথম স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। সে সময় মহাকাশের ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে কক্ষপথ বরাদ্দ চেয়ে জাতিসংঘের অধীন সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে (আইটিইউ) আবেদন করে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের ওই আবেদনের ওপর ২০টি দেশ আপত্তি জানায়।কিন্তু থেমে থাকেনি লাল সবুজের দেশ। তারই ফলাফল আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের এর উৎক্ষেপণ।

চলুন ধাপে ধাপে আমরা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের বিস্তারিত তথ্য জানার পাশাপাশি বিশ্বের প্রথম স্যাটেলাইট, স্যাটেলাইটের কার্যাবলি এবং সেই সাথে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উপকারিতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি । 

বিশ্বের প্রথম স্যাটেলাইটের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

সময়টা ১৯৫৭ সাল, ৪ অক্টোবর, রাত ১০:২৯ । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির ক্ষমতা সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই অবগত সবাই। সেই সাথে প্রযুক্তির দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল রাশিয়া। ইতিহাসের সর্বপ্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক-১’ পৃথিবীর অভিকর্ষের মায়া কাটিয়ে চলে গেল তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে। স্পুটনিক রুশ শব্দ, যার অর্থই হলো ‘উপগ্রহ’।
A replica of Sputnik-1 at the US national air and space museum
অনেকটা ভলিবল আকৃতির সেই কৃত্রিম উপগ্রহটির ভর ছিল ৮৩৬ কেজি মাত্র। তবে স্থায়ীত্ব বেশিদিন ছিল না, মাত্র তিন মাস। সর্বমোট ৭০ মিলিয়ন কিলোমিটার আবর্তনের পর পৃথিবীর বুকে ছিটকে পড়ে।
আর সেই থেকেই মানুষ মহাশুন্যে পাড়ি জমানোর এতদিনের স্বপ্নকে বাস্তবে দেখা শুরু করে। একের পর এক সব দেশ স্যাটেলাইট পাঠাতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ৫৬টি দেশ এই পর্যন্ত নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হয়েছে। আমাদের দেশ আজ ৫৭ তম নিজস্ব স্যাটেলাইটের অংশীদার


বঙ্গবন্ধু-১ এর বৈশিষ্ট্য, উৎক্ষেপণ এবং কিছু তথ্য

 বঙ্গবন্ধু-১ হলো আমাদের দেশের প্রথম একটি ভূ-স্থির যোগাযোগ উপগ্রহ বা সহজ কথায় কৃত্রিম উপগ্রহ যা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে অবস্থিত ক্যাপ ক্যানাভেরাল-এর ‘কেনেডি স্পেস সেন্টার,লঞ্চ প্যাড ৩৯এ’ থেকে উৎক্ষেপিত হয়। 
বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর তারিখ ঠিক করা হয়, তবে হারিকেন ইরমার কারণে ফ্লোরিডায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলে তা পিছিয়ে যায়। ২০১৮ সালেও কয়েক দফা উৎক্ষেপণের তারিখ পিছিয়ে যায় আবহাওয়ার কারণে।
চূড়ান্ত পর্যায়ে উৎক্ষেপণ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৪ মে ২০১৮ তারিখে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে দুই পর্যায়ের এই রকেটের স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট সম্পন্ন হয়। কৃত্রিম উপগ্রহটি ১০ মে ২০১৮ তারিখে উৎক্ষেপণের তারিখ ঠিক করা হয়; কিন্তু ১০ মে উৎক্ষেপণের সময় t-৫৮ সেকেন্ডে এসে তা বাতিল করা হয়। শেষ মিনিটে কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়। অবশেষে এটি ১১ মে উৎক্ষেপণ করা হয়।

কৃত্রিম উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করার পর, বাংলাদেশ ১২ মে ২০১৮ তারিখে এটি থেকে পরীক্ষামূলক সংকেত পেতে শুরু করে।






 Launch Pad 39A, Kennedy Space Center

বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন কর্তৃক বঙ্গবন্ধু-১ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। এর প্রধান কন্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে স্পারসো (SPARRSO)। বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালের ১১ই নভেম্বর ‘’থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস’’ নামক এক ফরাসি কোম্পানির সাথে যাবতীয় যন্ত্রপাতির ডিজাইন বা নকশার জন্য চুক্তি করে।
বিটিআরসিকে শুধু ডিজাইন এবং যন্ত্র নির্মানের জন্য গুনতে হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বমোট খরচ প্রায় ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা যার অর্ধেক সরকারি তহবিলের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক বিদেশি সংস্থার কাছে থেকে প্রাপ্ত।
এই কৃত্রিম উপগ্রহটির সর্বমোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ব্যান্ড আছে । হয়তো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে ট্রান্সপন্ডার ব্যান্ড কী । একদম সহজ! ধরুন একটি প্রেরক অ্যান্টেনা এবং আরেকটি প্রাপক অ্যান্টেনা । এই দু’য়ের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল গঠন, যা ইন্টার-কানেক্টেড ইউনিট সিরিজে যুক্ত থাকে ।



This is not actual Bangabandhu-1 satellite. But its’s 4000b2 space bus which is same as bangabandhu-1.

৪০ টি ট্রান্সপন্ডার ব্যান্ডের মধ্যে ১৪টি ‘সি’ ব্যান্ড এবং ২৬টি ‘কেইউ’ ব্যান্ড। সর্বমোট ৪০টি ব্যান্ডের মধ্যে ২০টি ব্যান্ড নিজেদের জন্য এবং বাকি ২০টি ব্যান্ড বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। এটি ৪০০০বি২ স্পেসবাস প্লাটফর্মের।
১৬০০ ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন(যার উৎস ২টি সৌর ব্যাটারি) স্যাটেলাইটটির ভর ১৩০০ কেজি হলেও বাহক রকেটসহ উৎক্ষেপণ ভর ছিল প্রায় ৩৬০০ কেজি ।

স্পেস এক্স এবং বঙ্গবন্ধু-১

এবার আসি স্পেস এক্স এর কথায়। এলন মাস্ক, যাকে আমরা কমবেশি সবাই চিনি। বর্তমানে প্রযুক্তির বরপুত্র বলা হয় কাকে? উত্তরটি চোখ বন্ধ করেই বলে দেয়া যায় বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা উদ্ভাবক এবং বিখ্যাত স্পেস এক্স এর কর্ণধার এলন মাস্কের নাম। যিনি ‘হাইপারলুপ’ নামক একটি নকশার পরিকল্পনা করেছেন যেখানে একটি বিশেষ টিউবের মধ্য দিয়ে দ্রুতগতির ট্রেন সিস্টেম পরিচালিত হবে। এলন মাস্কের আরো একটি বড় পরিচয় হচ্ছে তিনি ‘টেসলা মটরস’ এরও প্রধান নির্বাহী।
বলতে গেলে দ্রুতগতির যোগাযোগ ব্যবস্থার বর্তমান রক্ত মাংসের একক হচ্ছেন ‘এলন মাস্ক’। নাসার সাথে একযোগ হয়ে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনায় মত্ত এই স্বপ্নবাজ মানুষেরই রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স। আর এই স্পেস এক্স হলো আমাদের দেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১’ এর লঞ্চ অপারেটর। অর্থাৎ উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে দেয়ার গুরু দায়িত্ব কোম্পানিটির উপরে।
আর তাই আমাদের বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি স্পেস এক্স-এর তৈরি ‘ফ্যালকন-৯’ নামক রকেটের স্পেস শাটলের কার্গো বে এর মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। ফ্যালকন হচ্ছে একটি রকেট পরিবার যেখানে ৩ ধরণের ফ্যালকন রকেটের সমাহার দেখা যায়।
‘ফ্যালকন-১, ফ্যালকন-৯  এবং ফ্যালকন হেভি’। তবে আমাদের বঙ্গবন্ধু-১, ৬ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ফ্যালকন -৯ রকেটের অত্যাধুনিক ১.২ ভার্সনের(ফুল থ্রাস্ট) নাকের ডগায় অবস্থান নিয়ে উড়াল দিয়েছিল পৃথিবী থেকে।
উৎক্ষেপণের মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় রকেটের নিচের অংশ পৃথিবীতে ফেরত আসে এবং উপরের স্যাটেলাইট চেম্বার নিয়ে যায় তার গন্তব্যস্থলে। সেখানে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (ISS)-এ পৌঁছার পর প্রয়োজনীয় ধাপ পার করে একে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ছেড়ে দেয়া হয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ফ্যালকন-৯ রকেট বেশ সফল। তবে মহাকাশে সর্বপ্রথম গাড়ি টেসলা রোডস্টার পাঠানো হয় কিন্তু ফ্যালকন-হেভি নামক রকেটের সাহায্যে।



Image: Falcon 9 FT (v1.2)

স্যাটেলাইটের কাজ এবং ধরণ:
আমরা জানি একটি স্যাটেলাইট পৃথিবীর চারদিকে ডিম্বাকার পথে পরিভ্রমণরত থাকে। তবে একে উৎক্ষেপণের পর একটি নির্দিষ্ট দ্রুতি প্রদান করা হয় যাতে কক্ষপথে ঘুরতে থাকে এবং কেন্দ্রমুখী বলের মাধ্যমে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
আমরা পদার্থবিজ্ঞানে পড়েছি যে কোনো বস্তুকে ১১.২ কি.মি/সেকেন্ড বেগে উপরে নিক্ষেপ করলে তা আর পৃথিবীতে ফেরত আসে না। অর্থাৎ চাঁদের মত পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু একটি স্যাটেলাইটকে ২৫০ কি.মি. উপরে তুলে এবং পৃথিবী পৃষ্ঠের সমান্তরালে এমন ভাবে উৎক্ষেপ করতে হয় যেন তা প্রতি সেকেন্ডে ৮ কি.মি পথ অতিক্রান্ত করে। যা রকেটের সাহায্য ছাড়া একদমই অসম্ভব।
সাধারণত পৃথিবী থেকে রেডিও অ্যাকটিভ বা বেতার তরঙ্গ ব্যবহারের মাধ্যমে স্যাটেলাইটে তথ্য প্রেরণ করা হয়। সেক্ষেত্রে স্যাটেলাইট তখন প্রাপক যন্ত্র হিসেবে কাজ করে এবং রিসিভ করা উপাত্তকে বিবর্ধিত করে পুনরায় পৃথিবীতে প্রেরণ করে। স্যাটেলাইট থেকে আসা সিগন্যাল কিছুটা কম শক্তিসম্পন্ন যার জন্য প্রথমে ডিশ অ্যান্টেনা ব্যবহার করে প্রাপ্ত সিগন্যালকে কেন্দ্রীভূত করা হয় এবং রিসিভার দিয়ে গ্রহণ করে পরবর্তী কাজগুলো সম্পন্ন হয়। আমরা নিরবিচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা পেয়ে থাকি।
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট হচ্ছে জিওস্ট্যাশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট যা শুধুমাত্র যোগাযোগ ক্ষেত্রে অর্থাৎ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ, টেলিভিশন সম্প্রচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। তবে আপাতত আবহাওয়া সম্পর্কিত কোনো উপাত্ত সংগ্রহে ভূমিকা রাখতে পারছে না বঙ্গবন্ধু-১।
এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইট আছে। মিলিটারি, ওয়েদার, ন্যাভিগেশন, আর্থ অবজারভেশন সহ আরও বিভিন্ন স্যাটেলাইট কাজের ধরন অনুযায়ী মহাকাশে স্থাপন করা হয়। এক এক স্যাটেলাইটের কাজের ধরণ বিবেচনায় এক এক উচ্চতায় স্থাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন স্যাটেলাইটের কাজে ভিন্নতা থাকলেও প্রতিটি স্যাটেলাইটেরই শক্তির উৎস হচ্ছে সূর্য। এদের গায়ে সৌরকোষ লাগানো থাকে যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শক্তি গ্রহণ করে তথ্য প্রেরণে ভূমিকা রাখে।

কমিউনিকেশন এবং ভূ-স্থির স্যাটেলাইট কী?

এক কথায় যোগাযোগ সম্পন্নের জন্য যে স্যাটেলাইট। একটু বুঝিয়ে বলি। আপনি যদি কোনো স্যাটেলাইটকে পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে প্রায় ৩৫ হাজার ৭৮৬ কি.মি. উচ্চতায় স্থাপন করেন তবে তার পৃথিবীর চারদিকে সমবেগে একবার আবর্তন করতে সময় লাগবে ২৪ ঘন্টা(২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড)। আবার পৃথিবীও নিজ কক্ষপথে চারদিকে একবার ঘূর্ণন সম্পন্ন করতে সময় নেয় ২৪ ঘন্টা। তার মানে পৃথিবীর সাপেক্ষে আপনি ভূ-উপগ্রহকে দেখলে মনে হবে স্থির হয়ে আছে। আর যেহেতু ভূপৃষ্ঠের সাপেক্ষে কক্ষপথ স্থির সেহেতু এই কক্ষপথের নাম হচ্ছে জিওস্ট্যাশনারি অরবিট বা ভূ-স্থির কক্ষপথ।
তবে একটু সমস্যা আছে । আমাদের পৃথিবীর আকৃতিগত বক্রতার কারণে এই ধরণের শুধু একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ রক্ষার্থে পুরো পৃথিবীকে সেবাদান করতে পারে না ।
সেক্ষেত্রে তিনটি স্যাটেলাইটকে পরষ্পর ১২০ ডিগ্রি কোণে জিও স্ট্যাশনারী অরবিটে স্থাপনের মাধ্যমে সহজেই পুরো পৃথিবীর কভারেজ প্রদান সম্ভব।
কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমাদের টেলিভিশন সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ, রেডিও বার্তা প্রদান, দ্রুতগতির নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা ইত্যাদি নিশ্চিত হবে।
আর আমাদের বঙ্গবন্ধু-১ হচ্ছে ঠিক এরকম ভূ-স্থির কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট।

বঙ্গবন্ধু-১ এর কক্ষপথ

২০১১ সালে বাংলাদেশের পাঠানো ভবিষ্যত স্যাটেলাইটের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ১০২ ডিগ্রি পূর্ব স্লট নির্ধারন করেছিল। সেক্ষেত্রে রাশিয়ান সর্ববৃহৎ স্যাটেলাইট কোম্পানি ‘ইন্টারস্পুটনিক’ এর কাছ থেকে অরবিটাল স্লটের জন্য চুক্তিও করা হয়। আমাদের দেশ সবসময়ই চেয়েছিল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে যেন ১০২ ডিগ্রি পূর্ব স্লটকেই দেয়া হয়।
কিন্তু দু:খের বিষয় সেই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া সহ প্রায় ২০টি দেশ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য আপত্তি প্রকাশ করে। তবে তার মূল কারণ ছিল ১০২ ডিগ্রি স্লট নিয়ে। কারণ ১০২ ডিগ্রির আশেপাশে অন্যান্য স্যাটেলাইটের অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট এবং সেই সাথে অন্যান্য স্যাটেলাইটেও ফ্রিকোয়েন্সি পেতে সমস্যা হতে পারে।
তখন আমাদের দেশ পুনরায় ভিন্ন একটি উপায় বের করে এবার ৬৯ ডিগ্রিতে আবেদনের চিন্তা করে। কিন্তু তা বাতিল করতে হয় সিঙ্গাপুর, চীন এবং মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য আপত্তির কারণে। তাই স্পুটনিকের কাছ থেকে ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ স্লট কিনে নেয়া হয়, যার জন্য খরচ পড়েছে প্রায় ২১৯ কোটি টাকা (২.৮০ কোটি মার্কিন ডলার)। কিন্তু আমাদের দেশের অবস্থান ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে বিধায় স্যাটেলাইটের অবস্থান হয় ইন্দোনেশিয়া বরাবর।
আমাদের এই স্যাটেলাইটের প্রাথমিক মেয়াদ ধরা হয়েছে ১৫ বছর। এর মানে হলো ‘স্পুটনিক’ আমাদেরকে তাদের ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখাকে ১৫ বছরের জন্য ভাড়া দিয়েছে। তবে আরও দু’বার ১৫ বছর করে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত কক্ষপথ কেনা যাবে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকার আরও দুটি স্লটের জন্য আবেদন করবে। স্লট দুটি হলো ৬৯ ডিগ্রি পূর্ব এবং ১৩৫ ডিগ্রি পূর্ব। অদূর ভবিষ্যতে আরও ২টি স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীর কভারেজ নেয়া সম্ভব হবে।
তাই আপাতত ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ কক্ষপথেই স্থাপিত হয় আমাদের লাল সবুজের গর্বের বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট।

বঙ্গবন্ধু-১ নিয়ন্ত্রণের গ্রাউন্ড স্টেশন:

একটি স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে ছেড়ে দিলেই যদি কাজ শেষ মনে করেন, তবে ভুল ভাবছেন। একে কন্ট্রোল করতে হয়। ২৪ ঘণ্টা রক্ষণাবেক্ষণ না করলে যেকোনো সময় কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়তে পারে। আর সেই লক্ষ্যে আমাদের দেশ থেকেই বঙ্গবন্ধু-১-কে নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ করছে দেশের সেরা ১৮ জন স্যাটেলাইট প্রকৌশলী। গ্রাউন্ড স্টেশন দু’টি হলো ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরের বিসিএসসিএল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।
ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া ৩ বছরের জন্য একে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিলেও মূল কাজ সম্পাদিত হয় জয়দেবপুরের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকেই।

বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু-১ :

প্রযুক্তিগত উন্নয়নে মানুষের কল্যাণের পরিধি কখনোই ছোট হয় না। যে দেশ প্রযুক্তিতে যত বেগবান, সেই দেশ ততো বেশি সমৃদ্ধশালী। রাশিয়ার ইতিহাসে চোখ রাখলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে। আমাদের দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। অর্থাৎ যোগাযোগের ব্যবস্থাও উন্নত হচ্ছে। তার মানে স্যাটেলাইটের ব্যবহারও বাড়ছে। কিন্তু আমরা সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট সেবা ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করে আসছি, যার জন্য সরকারকে প্রতি বছর গুণতে হয় ১২৫ কোটি টাকা। তাহলে একবার ভাবুন দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু!
একটি হিসেবে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সেবায় শুধু বৈদেশিক মুদ্রাই সাশ্রয় হবে না, উপরন্তু এর কিছু অব্যবহৃত অংশ মায়ানমার, নেপাল, ভূটানের মতো দেশে ভাড়া দিয়ে প্রতি বছর ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা সম্ভব। যার ফলে বঙ্গবন্ধু-১ প্রকল্পের সর্বমোট খরচ তুলতে ৫-৭ বছরের বেশি লাগবে না। এখন আর আমাদেরকে অন্য দেশের স্যাটেলাইটের উপর নির্ভর করে চলতে হবে না। টেলিভিশন সম্প্রচারের খরচও অনেকটা কমে যাবে।
এছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্র যেমন টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা উন্নত হবে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তথ্য আদান-প্রদানে গোপনীয়তা অত্যন্ত জরুরি যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশ ‘স্যাটেলাইট ফোন’ ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের জন্য এই প্রথম বারের মত নিজস্ব স্যাটেলাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব হবে।



This is offical photo of Falcon 9 Block 5, carrying Bangabandhu-1. Source: Twitter, SpaceX Update.

কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটের অন্যতম সেবা হচ্ছে দূর্যোগের সময়েও দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রদান যা বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় কম খরচ সহ প্রযুক্তিখাতে এক নতুন ভিত্তি রচনা করবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে দেশের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এই স্যাটেলাইট প্রয়োজনীয় ‘ই-সেবা’ প্রদান করে জরুরি মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় এই স্যাটেলাইট সাফল্যের সাথে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই দুনিয়ায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট থেকে ৩ ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে।



  • টিভি চ্যানেলগুলো তাদের সম্প্রচার কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য স্যাটেলাইট ভাড়া করে। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট চ্যানেলের সক্ষমতা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। আবার দেশের টিভি চ্যানেলগুলো যদি এই স্যাটেলাইটের সক্ষমতা কেনে তবে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। এর মাধ্যমে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস চালু সম্ভব।
  • বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মোট ফ্রিকোয়েন্সি ক্ষমতা হলো ১ হাজার ৬০০ মেগাহার্টজ। এর ব্যান্ডউইডথ ও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে ইন্টারনেটবঞ্চিত অঞ্চল যেমন পার্বত্য ও হাওড় এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া সম্ভব। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং সেবা, টেলিমেডিসিন ও দূরনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থা প্রসারেও ব্যবহার করা যাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট।
  • বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে। তখন এর মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে।