Articles by "তথ্য কণিকা"
Showing posts with label তথ্য কণিকা. Show all posts

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী পাসপোর্টের র‌্যাঙ্কিংয়ে ইউরোপের দেশগুলোকে পেছনে ফেলে প্রথম তিনটি স্থানই দখলে নিয়েছে এশিয়া। ভ্রমণ বিষয়ক বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং হেনলি পাসপোর্ট সূচকের ওই তালিকাটি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে। এতে শীর্ষে জাপান। দেশটির পাসপোর্টে ১৯১টি দেশ ভ্রমণ করা হয়। সমান সংখ্যক দেশে প্রবেশের সুযোগ থাকা সিঙ্গাপুর দুই নম্বরে। আর দুটি দেশ কম নিয়ে তিন নম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া।

অগ্রিম বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা ছাড়া যে পাসপোর্ট নিয়ে সবচেয়ে বেশি দেশে ঢোকা যায়, সে পাসপোর্ট নিয়েই এই র‌্যাংকিং করা হয়েছে। 

তালিকায় পরের দেশগুলো হলো জার্মানি (১৮৯টি দেশ) ও ইতালি (১৮৮টি দেশ), ফিনল্যান্ড (১৮৮টি দেশ), স্পেন ((১৮৭টি দেশ), লুক্সেমবার্গ ((১৮৭টি দেশ) ও ডেনমার্ক (১৮৭টি দেশ)।

অন্যদিকে তালিকায় নিচের দিকেই রয়েছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ার মতো সন্ত্রাস বা যুদ্ধকবলিত দেশগুলো। এর মধ্যে আফগান নাগরিকরা তাদের পাসপোর্ট দিয়ে মাত্র ২৬টি দেশে আগে কোনো ভিসা আবেদন ছাড়া ঢুকতে পারে। 
সব সাবান সব ত্বকের জন্য উপকারী নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের পিএইচ স্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার একটু কমবেশি হলেই ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাজারের সব ধরনের সাবানে পিএইচ স্তর থাকে নয় থেকে এগারোর মধ্যে, যা ত্বকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তবে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য হারবাল সাবান অনেকটাই উপকারী। কারণ এর মধ্যে থাকে ক্যামোমাইল, ল্যাভেন্ডার, পেপারমিন্ট, জইচূর্ণসহ আরও একাধিক প্রাকৃতিক প্রোডাক্ট। অলিভ তেল এবং মাখন ব্যবহার করা হয় এ ধরনের সাবান তৈরিতে, যা ত্বকের উপকারী। সাবানে অলিভ ওয়েল থাকলে তা আপনার অ্যান্টি এজিংয়েও সহায়তা করবে। এছাড়া গ্লিসারিন থাকলে ত্বক নরম রাখবে। অতএব ভেবে-চিন্তে সাবান ব্যবহার করা উচিত।

আপনার ত্বকে ভেষজ সাবান ব্যবহারের গুণাবলী

ত্বকের রোগ থেকে মুক্তি : অনেক সাবান রাসায়নিক এবং সুগন্ধযুক্ত হওয়ায় চামড়ার রোগ নিরাময় করতে সক্ষম হয় না। আপনার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয় এবং ত্বকে আপনি বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন তবে আপনার সাবানটি পরিবর্তন করা উচিত।

আপনি যদি ভেষজ সাবান ব্যবহার করেন তবে এটি ত্বকের অনেক রোগ নিরাময় করবে। ভেষজ সাবান দিয়ে কোনো ফুসকুড়ি, চুলকানি বা ত্বকের অন্যান্য অবস্থার কোনো সম্ভাবনা নেই।

পরিবেশের জন্য আরও ভালো : তবে ভেষজ সাবান পরিবেশবান্ধব। পরিবেশের জন্য হুমকি এমন কোনো উপাদান তাদের মধ্যে নেই।

চুলকানি : মানুষের ত্বক খুব সংবেদনশীল। আপনি যদি ভুল সাবান ব্যবহার করেন তবে এটি ত্বকে চুলকানি তৈরি করতে পারে যা বিরক্তিকর। চুলকানি থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে ভেষজ সাবান ব্যবহার শুরু করতে পারেন। বেশিরভাগ ভেষজ সাবান ত্বকের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং ত্বকে কোনো চুলকানি হয় না।

পুষ্টিকর : ভেষজ সাবানে প্রকৃতির প্রাকৃতিক মঙ্গল রয়েছে এবং এটি আপনার ত্বককে পুষ্টিকর করে তোলে। এটি আরাম, নিরাময় এবং স্ট্রেস রিলিফও সরবরাহ করে।

ভেষজ : উত্তেজনা থেকে মুক্তি এবং ভেষজ সাবানে নিরাময়ের শক্তি হিসেবে বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে, যারা মন, দেহ এবং চেতনা পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছেন তাদের পক্ষে প্রচুর উপকারিতা রয়েছে।

ভেষজ সাবানের উপকারিতা : ভেষজ সাবান ১০০ শতাংশ জৈব এবং উদ্ভিদ নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ তেল ধারণ করে।

হারবাল সাবানের ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। যারা স্বাস্থ্য সচেতন তারা এখন নিয়মিত হারবাল সাবান ব্যবহার করে থাকেন।

জাপানের সম্রাট নারুহিতো আজ এক জাঁকজমকপূর্ণ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে জাপানের সিংহাসনে আরোহণ করেছেন।
তার পিতা সাবেক সম্রাট আকিহিতো স্বাস্থ্যগত কারণে সিংহাসন ত্যাগ করার পর এ বছর মে মাস থেকেই ৫৯ বছর বয়স্ক সম্রাট নারুহিতোর শাসনকাল শুরু হয়েছিল, তবে মঙ্গলবার তার আনুষ্ঠানিক অভিষেক হলো।


টোকিও রাজপ্রাসাদে এই অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস সহ কয়েকশ বিদেশী অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সাড়ে ছয় মিটার উঁচু তাকামিকুরা সিংহাসনে বসা সম্রাট নারুহিতোর পোশাক ছিল হলুদ ও কমলা রঙের।

তার স্ত্রী সম্রাজ্ঞী মাসাকো ১২ স্তরের কাপড়ের তৈরি একটি পোশাক পরেন। তিনি বসা ছিলেন অপেক্ষাকৃত ছোট আরেকটি সিংহাসনে।

সম্রাট তার সিংহাসনে আরোহনের ঘোষণা পাঠ করার পর প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পড়েন, এবং 'সম্রাট দীর্ঘজীবী হোন' বলে হাঁক দেন।

১৯৯০ সালের পর এই প্রথম জাপানের সম্রাটের অভিষেক অনুষ্ঠান হলো। তবে সাম্প্রতিক ঘুর্ণিঝড়ে নিহতদের সম্মান দেখাতে রাস্তায় রাজকীয় শোভাযাত্রার কর্মসূচি বাদ দেয়া হয়। শিন্টো ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী এই সিংহাসনে আরোহণের অনুষ্ঠানগুলো হয়।

সম্রাটের তিন সম্পদ: আয়না, তলোয়ার ও মূল্যবান পাথর

এর কেন্দ্রস্থলে আছে জাপানের সম্রাটের তিনটি সম্পদ। অতি প্রাচীন তিনটি রাজকীয় সামগ্রী, যা রাজকীয় ক্ষমতার প্রতীক। এগুলো হচ্ছে একটি আয়না, একটি তলোয়ার এবং একটি মূল্যবান পাথর। প্রাচীন তলোয়ার এবং রত্ন অভিষেক অনুষ্ঠানে রাখা ছিল, তবে তা দেখানো হয় না।

রহস্য ও গোপনীয়তা

এই তিনটি রহস্যময় বস্তু কীভাবে জাপানের সম্রাটের রাজকীয় ঐশ্বর্যের মর্যাদা পেলো - সেই ইতিহাস কঠোর গোপনীয়তায় ঘেরা।

শিন্টো ধর্মমতে অতীত এবং মানুষের জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী অশরীরী আত্মার সাথে সংযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি রাজকীয় সম্পদ এরই একটা অংশ মনে করা হয় জাপানের সম্রাটরা ঈশ্বরের বংশধর এবং দেবতারাই এগুলো তাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছেন।

এগুলো এতই পবিত্র যে জাপানের বিভিন্ন মন্দিরে সর্বদা লোকচক্ষুর অন্তরালে এসব রাখা হয়।

"এগুলো কখন তৈরি হয়েছিল তা কেউ জানে না, এমনকি সম্রাটও কখনো এগুলো দেখেন নি" - বলেন জাপানের নাগোইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিদেয়া কাওয়ানিশি।

সম্রাট নারুহিতোর অভিষেকেও এগুলো দেখা যায়নি, পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় তার অবিকল নকল। এমনকি সেই নকল সামগ্রীগুলোও কেউ দেখতে পায় না।

পবিত্র আয়না 'ইয়াতা নো কাগামি'

মনে করা হয় এই আয়না এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো, এবং এটি রাখা হয়েছে ইসে জিঙ্গু মন্দিরে। সম্রাটের রাজকীয় ধনরত্নের মধ্যে এটিই সবচেয়ে মূল্যবান।

জাপানী উপকথায় বলা হয়, আয়নার স্বর্গীয় ক্ষমতা আছে এবং তা সত্য প্রকাশ করতে পারে। জাপানের প্রাচীন ইতিহাস অনুযায়ী ইয়াতা নো কাগামি নামের এই আয়না তৈরি করেছিলেন দেবতা ইশিকোরিদোম। এর সাথে জড়িয়ে আছে সূর্যের দেবী আমাতেরাসুর নাম।

কুসানাগি নোৎসুরুগি: পবিত্র তলোয়ার

এর অর্থ হচ্ছে 'ঘাস কাটা তলোয়ার' এবং সম্ভবত এটা রাখা আছে নাগোইয়ার আৎসুতা মন্দিরে। একে ঘিরে কাহিনি রয়েছে যে আটটি মাথাওয়ালা এক মানুষখেকো সাপের লেজে এই তলোয়ার ছিল।

সমুদ্র ও ঝড়ের দেবতা সুসানু ওই সাপকে কৌশলে মদ্যপান করিয়ে মাতাল করে তাকে হত্যা করেন, এবং তার লেজ কেটে ভেতর থেকে ওই তরবারি বের করেন।

গুজব রয়েছে আসল তলোয়ারটি দ্বাদশ শতাব্দীতে এক যুদ্ধের সময় সমুদ্রে পড়ে হারিয়ে গেছে।

ইতিহাসবিদরা বলেন, এখন যেটি আছে তা নকল। তারও একটি নকল রাজার অভিষেকে ব্যবহৃত হয়। ১৯৮৯ সালে সম্রাট আকিহিতোকে একটি বাক্সে করে এই তলোয়ার দেয়া হয়েছিল বলে জানা যায়, কিন্তু তা কখনো খোলা হয়নি।

ইয়াসাকানি নো মাগাতামা : পবিত্র রত্ন

মাগাতামা হচ্ছে এক রকম খোদাইয়ের কাজ করা ছিদ্রবিশিষ্ট পাথর- যা দিয়ে মালা বানানো যায়। খ্রীষ্টপূর্ব ১০০ সাল থেকে জাপানে এরকম পাথর তৈরি হতো।

বলা হয়, ইয়াসাকানি নো মাগাতামা হচ্ছে এমন একটি নেকলেসের অংশ যা দেবী আমে-নো-উজুমের জন্য বানিয়েছিলেন তামানুয়া-নো-মিকোতো।

বলা হয় এটি সবুজ জেড পাথরের তৈরি, এবং রাজকীয় ধনরত্নের মধ্যে এটিই একমাত্র -যার আসলটিই এখনো টিকে আছে। এটি রাখা আছে টোকিওর রাজকীয় প্রাসাদে।

জাপানের সম্রাটরা আমাতেরাসুর বংশধর বলে মানা হলেও, তারা এখন নিজেদেরকে দেবতা বলে দাবি করেন না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর জাপানের সম্রাট হিরোহিতো তার দেবতার মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন।

অধ্যাপক কাওয়ানিশি বলেন, জাপানের কিছু লোক এখনো মনে করেন যে সম্রাটের এই তিনটি জিনিসের স্বর্গীয় শক্তি আছে, তবে অন্য অনেকেই এগুলোকে রাজকীয় অলংকার বলেই মনে করেন।

এগুলোর গুরুত্ব এখানেই যে তারা সম্রাটের মহিমার সাথে সম্পর্কিত এবং এ পরিবারের প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতীক।

গাছ বেশি থাকলে ভালো? আজ আমরা গাছ উজাড় করে ফেলছি, আমাজন পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছি। এখন গাছ বাঁচানোই হয়ে গেছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন গাছ বেশি হয়ে যাওয়ায় পৃথিবী বিপদে পড়েছিল।



আজ থেকে প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা ছিল 
আজকের মাত্র ২০ শতাংশ। এর পরের পাঁচ কোটি বছরের মধ্যে পৃথিবীতে গাছের পরিমাণ এত বেড়ে যায় যে, বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ হয়ে যায় ৩৫ শতাংশের মতো। এর ফল ভালো হয়নি। অক্সিজেন দাহ্য। ফলে পৃথিবীজুড়ে তখন দাবানল লেগেই থাকত। আর এত বেশি অক্সিজেন থাকলে আজকের মানুষের পক্ষে বাঁচা সম্ভব হতো না।

কিন্তু আজকের দুনিয়ার কী অবস্থা? পৃথিবীতে আজকে গাছের সংখ্যা কত? ২০১৫ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক গবেষণা হয়েছে। জাতিসংঘের পরিবেশ কার্যক্রমের ‘বিলিয়ন ট্রি’ প্রচারের অনুরোধে করা সেই গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, পৃথিবীতে মোট গাছের সংখ্যা তিন ট্রিলিয়ন, অর্থাৎ তিন লাখ কোটির বেশি। এই গাছের প্রায় অর্ধেক আছে গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে। প্রত্যেক মানুষপ্রতি প্রায় ৪২২টি গাছ আছে!

এই গবেষণা ছিল বেশ জটিল। অ্যান্টার্কটিকা বাদ দিয়ে পৃথিবীর সব মহাদেশের সব গাছ আছে—এমন এলাকাকে চার লাখ ভাগে ভাগ করে স্যাটেলাইট দিয়ে তার ছবি নেওয়া হয়। এরপর সেই জায়গাগুলোর আবহাওয়া, সেখানে মানুষের কর্মকাণ্ড, মাটির অবস্থা ইত্যাদি তথ্য কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর মোট গাছের এই সংখ্যা বের করা হয়েছে। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে সুপার কম্পিউটার।

আজ থেকে ১২ হাজার বছর আগে কৃষিকাজ শুরু হওয়ার আগে ছিল আজকের থেকে দ্বিগুণ গাছ। তার মানে আমরা এই সময়ের মধ্যে অর্ধেক গাছ শেষ করে ফেলেছি। আর এখন গাছ নিধন করছি প্রতিবছর ১৫ বিলিয়ন করে।

গবেষণায় আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা চমকে দেওয়ার মতো। গাছ বেশি গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে হলেও গাছের ঘনত্ব বেশি চরম ঠান্ডা অঞ্চলে। মেরু প্রান্তে গাছের ঘনত্ব প্রতি মিটারে একটি করে। উত্তর আমেরিকা, স্ক্যান্ডেনেভিয়া আর রাশিয়ার সরু লম্বা কোনিফার-জাতীয় গাছের বোরিয়াল অরণ্য পৃথিবীর সবচেয়ে গহিন বন। সেখানে আছে ৭৫০ বিলিয়ন গাছ। পৃথিবীর মোট গাছের ২৪ শতাংশ আছে এই অঞ্চলে।

আবার যদি দেখতে যাই যে, পৃথিবীর কোন দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি গাছ আছে, তাহলে শোনা যাবে সব অচেনা ছোট ছোট দেশের নাম। দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে ছোট দেশ সুরিনাম। এর আয়তন ৬৩ দশমিক ২৫২ বর্গমাইল। দেশটির ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ অরণ্যে ঢাকা। দেশটির আদিবাসীরা তাদের অরণ্যের সুরক্ষার জন্য রাজনৈতিকভাবেও খুব তৎপর।

এরপর আসবে মাইক্রোনেশিয়া। প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েক হাজার দ্বীপ নিয়ে তৈরি এই দেশের আয়তন সব মিলিয়ে মাত্র ১ হাজার বর্গমাইল। এই দ্বীপগুলোর ৯২ শতাংশ ঘন অরণ্যে ঢাকা।

মধ্য আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলের দেশ গ্যাবন। আয়তনে ছোট নয়, এক লাখ বর্গমাইল। জনসংখ্যা মাত্র ২০ লাখ। গ্যাবনের ৯০ শতাংশ গাছে ঢাকা। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের দেশ পালাউ। আয়তন মাত্র ১৮০ বর্গমাইল। তার প্রায় ৮৮ শতাংশ অরণ্য। ভারত মহাসাগরের ছোট দ্বীপদেশ সেশলস। মাত্র ১৭৭ বর্গমাইল আয়তনের এই দেশটির ৮৫ শতাংশ অরণ্যে ঢাকা। ৮৩ বর্গমাইলের দেশ গায়ানা। দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র ইংরেজিভাষী এই দেশটির ৮৪ শতাংশ অরণ্য।

এই তালিকায় এশিয়ার একমাত্র দেশ লাওস। ৯১ দশমিক ৮৭৫ বর্গমাইলের এই দেশটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র দেশ, যার কোনো সমুদ্রতীর নেই। পাহাড়ে ঢাকা এই দেশটির ৮২ শতাংশ অরণ্যের অধিকারে।
পৃথিবীর ১৯৯টি পাসপোর্ট ও ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) বিশেষ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর পাসপোর্টের র‍্যা​ঙ্কিং প্রকাশ করেছে হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স। 


র‍্যা​ঙ্কিংয়ের প্রথম দুটি স্থানে রয়েছে এশিয়ার তিন দেশ। তবে এর মধ্যে যৌথভাবে এক নম্বরে আছে জাপান ও সিঙ্গাপুর। এই দুই দেশের নাগরিকরা ১৯০টি করে দেশে ভিসামুক্ত কিংবা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন।

২০১৯ সালের শীর্ষ ১০ শক্তিশালী পাসপোর্ট

১. জাপান, সিঙ্গাপুর (১৯০ দেশ)

২. ফিনল্যান্ড, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া (১৮৮ দেশ)

৩. ডেনমার্ক, ইতালি, লাক্সেমবার্গ (১৮৭ দেশ)

৪. ফ্রান্স, স্পেন, সুইডেন (১৮৬ দেশ)

৫. অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল (১৮৫ দেশ)

৬. বেলজিয়াম, কানাডা, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড (১৮৪ দেশ)

৭. মাল্টা, চেক রিপাবলিক (১৮৩ দেশ)

৮. নিউজিল্যান্ড (১৮২ দেশ)

৯. অস্ট্রেলিয়া, লিথুয়ানিয়া, স্লোভাকিয়া (১৮১ দেশ)

১০. হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া (১৮০ দেশ)

'১০০ বলের ক্রিকেট' নামটি ক্রিকেট ভক্তদের কাছে নতুন হলেও, নিয়ম খুবই সহজ - খেলা হবে ১০০ বলের, যে বেশি রান করতে পারবে সেই জিতে যাবে। 

আগামী গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হবে এই সংস্করণের প্রথম কোন টুর্নামেন্ট, যেখানে থাকবে ৮টি দল, যারা যুক্তরাজ্যের ৭টি শহরের প্রতিনিধিত্ব করবে, প্রতিটি দলের থাকবে নারী ও পুরুষ দল।

১০০ বলের ক্রিকেটে একজন বোলার সর্বোচ্চ করতে পারবেন ২০টি ডেলিভারি। 

বোলিং স্পেল হবে ৫ বা ১০ বলের। 

১০ বলের স্পেলের ক্ষেত্রে মাঝপথে উইকেটের প্রান্ত বদল করতে পারবেন বোলাররা। 

ইনিংসের প্রথম ২৫ ডেলিভারিতে দুজন খেলোয়াড় ৩০ গজের বাইরে থাকতে পারবেন। 

যুগ যুগ ধরেই ক্রিকেট খেলাটিতে সাধারণ মানুষের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তোলার প্রয়াস চলছে। 

যার ফলশ্রুতিতে সাদা পোশাকে পাঁচদিনের টেস্ট ক্রিকেটের পর আসে একদিনের ক্রিকেট, সেটাকেও টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে আরো উপভোগ্য করে তোলার জন্য যোগ করা হয় রঙিন পোশাক ও সাদা বল। 

১০০ বলের ক্রিকেট খেলতে রাজি হয়েছেন গেইল, স্মিথ, সাকিবরা

এই ঘটনার দেড় দশক পরেই আসে আরো ছোট আঙ্গিকে ২০ ওভারের ক্রিকেট, যেখানে দুটো দল ২০ ওভার করে খেলবে, প্রথম দিকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে 'সিরিয়াস ক্রিকেট' মনে করা না হলেও ক্রমেই এই ফরম্যাটই ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ক্রিকেটারদের জন্য অর্থ উপার্জনের উৎস হয়ে উঠেছে। 

যদিও ১০০ বলের টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য যুক্তরাজ্যে আরো বেশি পরিবারকে মাঠে নিয়ে আসা। 

প্রথম টুর্নামেন্ট:
২০২০ সালের ১৭ই জুলাই থেকে ১৬ই অগাস্ট পর্যন্ত আয়োজিত হবে এই আসরটি। 

যেখানে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে লড়বে একবার করে। 

এখানে আবার জোড়ায় জোড়ায় দল থাকবে অর্থাৎ দুটি করে দল চার ভাগে ভাগ হবে যারা, হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুটো করে ম্যাচ খেলবে। 

লিডস ও ম্যানচেস্টার 

লন্ডনের দুটো দল 

বার্মিংহাম ও নটিংহ্যাম 

সাউদাম্পটন ও কার্ডিফ 

৩২টি লিগ ম্যাচ হবে, যার পরে যে দল প্রথম স্থানে থাকবে তারা সরাসরি ফাইনালে খেলবে। 

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দল দুটো একটি ম্যাচ খেলে সেখানে জিতে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। 

কোচ হিসেবে যারা থাকছেন
এই টুর্নামেন্টের কোচ হিসেবে বিশ্বের নামী-দামী কোচরাই থাকছেন, যারা নব্বইয়ের দশকে বা চলতি শতকের শুরুর দশকে ক্রিকেট মাঠ দাপিয়েছেন। 

কার্ডিফের কোচ হিসেবে থাকছেন গ্যারি কার্স্টেন, যিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ক্রিকেটে খেলেছেন এবং ভারতের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছেন ২০১১ সালে। 

ড্যারেন লেম্যান, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ লিডসের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন এই আসরে। 

শেন ওয়ার্নের অধীনে থাকবে লন্ডনের একটি দল, যার ভেন্যু লডর্স। 

লন্ডনের অপর ক্লাবটির ভেন্যু দ্য ওভাল, এই দলটির কোচ টম মুডি, আরেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ও কোচ। 

সাইমন ক্যাটিচের অধীনে খেলবে ম্যানচেস্টার। 
ভারতের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের বিখ্যাত দল চেন্নাই সুপার কিংসের সফল কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং। 

মাহেলা জয়াবর্ধনে সাউদাম্পটনের কোচ হিসেবে থাকবেন। 

খেলোয়াড়রা কে কোন দলে?
কে কোন দলে খেলবে সেটা এখনো ঠিক হয়নি, ৩রা অক্টোবর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুই স্তরের ক্রিকেটার নির্বাচনের প্রথম ধাপ আয়োজিত হবে। 

যেখানে ইংল্যান্ডের লাল বলে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ তিন জন ও অন্তত একজন নেয়া যাবে। 

যেসব ক্রিকেটারকে নির্বাচিত করা হবে না তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার এলাকার দলে জায়গা পাবেন। 

ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের সীমিত সংখ্যার কারণে তারা তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ও ফাইনালস ডে তে খেলবে। 

তবে আকর্ষণীয় ও মূল ড্রাফট হবে ২০শে অক্টোবর, যেখানে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড তৈরি করার প্রক্রিয়া থাকবে। 

ইতোমধ্যে ক্রিস গেইল, ইয়ন মরগান ও স্টিভ স্মিথের মতো ক্রিকেটাররা এই টুর্নামেন্টে খেলার কথা জানিয়েছেন। 

ক্রিকেটারদের সাতটি বেতন স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে: ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার, ১ লাখ ডলার, ৭৫ হাজার ডলার, ৬০ হাজার ডলার, ৫০ হাজার ডলার, ৪০ হাজার ডলার ও ৩০ হাজার ডলার। এছাড়া অধিনায়ক বাড়তি ১০ হাজার ডলার পাবেন। 

সাকিব আল হাসান একমাত্র বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে এই নিলামে আছেন। 
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়া অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন শহীদ আফ্রিদি। 

বাবর আজম, কুইন্টন ডি কক, ফ্যাফ ডু প্লেসি, ডেভিড ওয়ার্নাররাও আছেন তালিকায়

পেঁয়াজ নেই, এমন কোন রান্না ঘর হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ কোন রান্না শুরু করার আগে, কড়াইতে তেল দেয়ার পরপরই সাধারণত: যে উপাদানটি ব্যবহার করা হয় সেটি পেঁয়াজ। 

শুধু অন্য রান্নার অনুষঙ্গ নয়, কাঁচা খেতেও পেয়াজ বেশ সুস্বাদু। এছাড়া সরাসরি কাঁচা পেঁয়াজ, ভর্তা, আচার এবং সালাদ হিসেবেও পেঁয়াজের কদর কম নয়।


পেঁয়াজের রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগুণও। সব কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ তো বটেই বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চাহিদা রয়েছে পেঁয়াজের। 

তবে, বেশ কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজারে ঝাঁজ বাড়ছে। 

রবিবার, ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের রপ্তানি নীতি সংশোধন করে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর বাংলাদেশের বাজারে ঘণ্টার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেয়াজের দাম। 

পেঁয়াজ আসলে কী?
পেঁয়াজ আসলে কোন সবজি নয়। এটি আসলে একটি মশলা জাতীয় উদ্ভিদ। 

এর বৈজ্ঞানিক নাম এলিয়াম সেপা। 

এই বর্গের অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে রসুন, শ্যালট, লিক, চাইব এবং চীনা পেঁয়াজ। 

রসুনের মতোই এর গোত্র হচ্ছে লিলি। 

পেঁয়াজ কোথায় উৎপন্ন হয়? 
এটি এমন একটি উদ্ভিদ যা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই উৎপাদিত হয়। তবে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় ভারত এবং চীনে। 

'সেসব দেশগুলোতেই প্রধানত পেঁয়াজ হয় যেখানে বেশি বৃষ্টি হয় না। পাশাপাশি হাল্কা শীত থাকে। সেজন্যই বাংলাদেশে পেঁয়াজ হয় শীতকালে। সেসময় দামও কম থাকে'। 

বাংলাদেশে কী ধরণের পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়? 
বাংলাদেশে যে সব এলাকায় শীত বেশি থাকে সেসব এলাকায় পেঁয়াজ বেশি জন্মায

বাংলাদেশ এলিয়াম সেপা বা পেঁয়াজ যা মূলত একটি বাল্ব সেটাই উৎপাদিত হয়ে থাকে। আমাদের দেশের পেঁয়াজ তেমন বড় হয় না"। 

আকারে বড় না হলেও বাংলাদেশের পেঁয়াজের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি ঝাঁজালো বেশি হয়। কারণ এতে এলিসিনের মাত্রাটা বেশি থাকে। যা রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। 

এর জন্য আমাদের রান্নাটাও অনেক বেশি মজা হয়। 

বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকায় সারা বছর পেয়াজ উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর জন্য বৃষ্টি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পলি-টানেল বা গ্রিন হাউজ তৈরি করে পেঁয়াজ উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

পেঁয়াজের খাদ্যগুণ কী কী?


পেঁয়াজ আসলে মশলা জাতীয় খাবার। এর মূল উপাদান পানি, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার। 

তবে পেঁয়াজে পানির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি-প্রায় ৮৫%। এছাড়াও পুষ্টিগুণ বলতে গেলে, ভিটামিন সি, বি এবং পটাসিয়াম থাকে। 

পেঁয়াজের খোসা ছাড়ালে যে গাঢ় বেগুনি রঙের একটি আস্তরণ পাওয়া যায় এতে বেশি পরিমাণে এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ নিবারণ করে এমন উপাদানও রয়েছে পেঁয়াজে। এটি হাড়েরও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। 

শরীরে পটাসিয়াম এবং মিনারেল বা খনিজের চাহিদা পূরণের একটি ভালো উৎস পেয়াজ। এই উপাদানগুলোই পেয়াজে অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। 

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। 

ডায়েটারি ফাইবার থাকে অনেক বেশি যা প্রায় ১২%। পেয়াজে মধ্যে কোন ফ্যাট নাই। 

এছাড়া পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি এবং আয়রন পাওয়া যায়। 

রান্নায় পেঁয়াজ কী স্বাদ যোগ করে?
যেহেতু সালফার উপাদান থাকে তাই এটি রান্নায় এক ধরণের ঝাঁজালো স্বাদ যোগ করে"। 

তবে নিজস্ব স্বাদ যোগ করার ছাড়াও রান্নায় পেঁয়াজের সব চেয়ে বড় কাজ হচ্ছে, রান্নার অন্যান্য উপকরণের স্বাদ অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়। 

পেয়াজ তিতা, টক, মিষ্টি বা ঝাল এমন ধরণের কোন স্বাদ যোগ করে না। তবে সালফার কম্পোনেন্ট থাকায় পেয়াজ খাবারের যেকোনো স্বাদকে অনেক বেশি তীব্র করে। 

বেশিক্ষণ রান্না করলে পেঁয়াজে থাকা ভিটামিন নষ্ট হলেও অন্য উপাদানগুলো ঠিক থাকে। 

পেঁয়াজ দীর্ঘক্ষণ রান্না করলে খাদ্যগুণ কি নষ্ট হয়ে যায়?
পেঁয়াজে নানা ধরণের ভিটামিন ও প্রাকৃতিক তেল থাকে যা রান্নার পর নষ্ট হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়। 

তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, পেয়াজে ভোলাটাইল কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো নাকে-মুখে লাগে সেগুলো হয়তো নষ্ট হয়। কিন্তু পেঁয়াজের অন্য উপাদানগুলো নষ্ট হয় না। 

খোলা রান্না করলে বা কেটে খোলা রাখলে পেয়াজের খাদ্যগুণ নষ্ট হয় না। তবে সালফার কম্পোনেন্ট কমে আসে। রান্নার পর খোলা অবস্থায় রাখলে কোন সমস্যা হয় না। 

তবে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে খাদ্যগুণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে মধ্যম তাপমাত্রায় পেঁয়াজ রান্না করার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। 

পেঁয়াজের গুনাগুণ পেতে হলে কাঁচা পেয়াজে খাওয়ার অভ্যাস বেশি করতে হবে বলেও জানান তিনি। 

পেঁয়াজ কাটলে চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন?
পেঁয়াজ কেটেছেন কিন্তু চোখে পানি আসেনি এমনও কাউকে খুঁজে পাওয়া বেশ দুরূহ। 

পেঁয়াজের ভলাটাইল কম্পাউন্ড যা এলিসিন নামে পরিচিত, এটি পেঁয়াজের ঝাঁঝের জন্য দায়ী। আর কাটার সময় এটি চোখে লাগে বলেই চোখ জ্বালাপোড়া করে এবং পানি পড়ে। 

জাপান বা অন্য দেশে পেঁয়াজ বড় মাপের হয় এবং সেগুলোতে এলিসিনের মাত্রা কম থাকার কারণে সেখানে পেঁয়াজ কাটলে চোখ জ্বলে না। 

এসব দেশে পেয়াজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাঁচা খাওয়া হয় সবজি হিসেবে।

পেঁয়াজের রয়েছে নানা ধরণের ঔষধি গুণ
পেঁয়াজের ঔষধি গুণ কী?
বিবিসি গুড ফুড তাদের প্রতিবেদনে বলছে, ঐতিহাসিকভাবে পেঁয়াজের রয়েছে ঔষধি ব্যবহার। প্রাচীন আমলে কলেরা এবং প্লেগের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হতো পেঁয়াজ। 

রোমান সম্রাট নিরো ঠাণ্ডার ওষুধ হিসেবে পেঁয়াজ খেতেন বলেও শ্রুতি রয়েছে। 

অনেক সময় এটি কিছু কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখা, ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে পেঁয়াজের ব্যবহার দেখা যায়। 

পেঁয়াজ কাঁচা খেলে সর্দি-কাশি খুব কম পরিমাণে হয়। এটা মানুষের শরীরকে রোগ-প্রতিরোধক হিসেবে হিসেবে করে। 

পেঁয়াজের গন্ধ দূর করবেন কীভাবে? 
অনেক সময় পেঁয়াজ কাটলে বা কাঁচা পেঁয়াজ খেলে হাতে এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়। এর জন্য অনেক সময়ই পেঁয়াজকে এড়িয়ে চলি আমরা। 

তবে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলেই পেঁয়াজের এই দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

হাতে গন্ধ হলে পেঁয়াজ কাটার পর প্রথমে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। তার পর লবণ দিয়ে হাত কচলে আবার ধুয়ে ফেলতে হবে। এবার সাবান এবং গরম পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিলে থাকবে না কোন গন্ধ। 

নিঃশ্বাসের গন্ধ দূর করতে হলে ধনিয়াপাতা বা একটি আপেল খেয়ে নিলে দূর হবে তাও।


সারা দুনিয়া জুড়ে কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করছেন এই গুগল, এবং অনেকের কাছেই এটি তাদের ইন্টারনেট কার্যক্রমে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

গুগল অবশ্য এখন আর শুধুই একটি সার্চ ইঞ্জিন নয়, এক বিশাল প্রযুক্তি কোম্পানি।
একুশ বছর পূর্তিতে গুগলের ডুডল
 তাদের ২১ বছর পূর্তির দিনে জেনে নিন এমন ২১টি তথ্য - যা হয়তো আপনার অজানা ছিল, অবশ্য যদি আপনি ইতোমধ্যেই এই তথ্যগুলো 'গুগল করে' জেনে নিয়ে না থাকেন!

১. প্রথমটিতে হয়তো বিস্মিত হবার তেমন কিছু নেই। গুগুল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভিজিটেড ওয়েবসাইট, অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই এই ওয়েবসাইটটিতে অন্তত একবার ঘুরে গেছেন।

২. গুগল শুরু করেছিলেন দু'জন কলেজ ছাত্র - তাদের নাম ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন। তারা চেয়েছিলেন এমন একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে - যার মাধ্যমে অন্য ওয়েবপেজগুলোর একটা তুলনামূলক তালিকা করা যাবে। এর ভিত্তি হবে অন্য ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে কতগুলো তাদের সাথে সংযুক্ত হয়েছেন ।

৩. গুগল শব্দটা উৎপত্তি 'গুগোল' (googol) থেকে - যা একটি বিশেষ সংখ্যার নাম। সংখ্যাটা হলো : ১ এর পিঠে ১০০টা শূন্য বসালে যা হয় - তাই। কেন এই নাম বেছে নিয়েছিলেন ল্যারি আর সের্গেই? তাদের ওয়েবসাইট যে বিপুল পরিমাণ উপাত্ত ঘাঁটাঘাঁটি-অনুসন্ধান করবে - সেটাই এই নাম দিয়ে বোঝাতে চেয়েছিলেন তারা।

৪. প্রথম গুগল ডুডল - অর্থাৎ গুগলের হোম পেজে কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা দিনের স্মারক হিসেবে যে ছবি ব্যবহৃত হয় - তা তৈরি করা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, বার্নিং ম্যান নামের একটি উৎসব উদযাপনের জন্য। গুগলেল প্রতিষ্ঠাতারা ভেবেছিলেন এর মাধ্যমে তারা জানিয়ে দেবেন যে কেন তারা অফিসে অনুপস্থিত।

৫.গুগলের সবচেয়ে স্মরণীয় ডুডলগুলোর অন্যতম হচ্ছে চাঁদে পানির আবিষ্কার, এবং জন লেননের ৭০তম জন্মদিন উদযাপনের জন্য। জন লেননের ডুডলটি আবার ছিল প্রথম ভিডিও ডুডল।

৬.প্রথম গুগল সার্ভার রাখা হয়েছিল লেগো দিয়ে তৈরি একটি কাস্টম কেসে।

৭. গুগলের হেডকোয়ার্টার পরিচিত 'গুগলপ্লেক্স' নামে এবং এটি অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে।

৮.গুগলপ্লেক্সে টি-রেক্স জাতীয় ডাইনোসরের একটি বিশাল মূর্তি আছে - যার ওপর প্রায়ই অসংখ্য প্লাস্টিকের তৈরি গোলাপি ফ্ল্যামিঙ্গো বসে থাকতে দেখা যায়। গুজব রয়েছে যে এটা হচ্ছে কর্মচারীদের প্রতি এক সতর্কবার্তা যেন তারা কখনো গুগলকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে না দেন।

৯. গুগলের হেডকোয়ার্টারটি বিশাল এবং এর ভেতরে অনেক সবুজ জায়গা আছে। এখানে ঘাস কাটার জন্য লন-মোয়ার মেশিন ব্যবহার করা হয় না। এ জন্য গুগল বাইরে থেকে ছাগল ভাড়া করে নিয়ে আসে।

১০. গুগল হচ্ছে প্রথম বড় প্রযুক্তি কোম্পানি যারা তাদের কর্মচারীদের বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করে। তা ছাড়া কর্মচারীদেরকে তাদের পোষা কুকুর অফিসে নিয়ে আসতে দেয়া হয়।

১১. ২০০১ সালে চালু করা হয় গুগল ইমেজ সার্চ -যার অনুপ্রেরণা ছিল ২০০০ সালের গ্র্যামি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে জেনিফার লোপেজের পরা সবুজ পোশাক। এটি গুগলের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চে পরিণত হয়েছিল।

১২. গুগলের নিজস্ব ইমেইল সেবা জিমেইলের কথা ঘোষণা করা হয় ২০০৪ সালে ১লা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুলস ডে-তে। অনেকেই ভেবেছিলেন যে এটা আসলে একটা রসিকতা।

১৩. গুগলকে একটি ক্রিয়াপদ হিসেবে ('গুগল করা' অর্থে) প্রথম অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ২০০৬ সালে। মিরিয়াম-ওয়েবস্টার অভিধান লিখেছিল, গুগল করা মানে হচ্ছে 'ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব থেকে কোন তথ্য অনুসন্ধান করার জন্য গুগল সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করা।'
গুগল ইউটিউব কিনে নেয় ২০০৬ সালে
  ১৪. ইউটিউব গুগল পরিবারের সদস্য হয় ২০০৬ সালে। দেড়শ' কোটি ডলারেরও বেশি দামে ইউটিউবকে কিনে নেয় গুগল।এখন ইউটিউবের মাসিক ব্যবহারকারী প্রায় ২০০ কোটি। প্রতি মিনিটে ইউটিউবে আপলোড হয় ৪০০ ঘন্টার ভিডিও। ১৫. গুগলের একজন ইঞ্জিনিয়ার ২০০৯ সালে একবার ইন্টারনেট ব্যবস্থা 'ধসিয়ে দিয়েছিলেন' । তিনি দুর্ঘটনাবশত: গুগলের ব্লকড ওয়েবসাইটের রেজিস্ট্রিতে ফরোয়ার্ড স্ল্যাশ ('/') চিহ্নটি যোগ করে ফেলেছিলেন। যেহেতু প্রায় প্রতিটি ওয়েবসাইটেই '/' চিহ্নটি আছে, তাই সেসময় অনলাইনে কোন ওয়েবসাইটেই ঢোকা যাচ্ছিল না।

১৬.গুগল সার্চে ১৫ শতাংশ অনুসন্ধানই হচ্ছে একেবারে নতুন - যা আগে কখনো সার্চ করা হয় নি।

১৭. গুগল ২০১৮ সালের এপ্রিলে পরিণত হয় প্রথম কোম্পানিতে যারা শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করছে। এর অর্থ হচ্ছে তারা প্রতি এক কিলোওয়াট বিদ্যুত খরচ করার সাথে সাথে এক কিলোওয়াট বিদ্যুত ক্রয় করছে।

১৮. গুগলের আসলে ৬টি জন্মদিন আছে। কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে শুধু ২৭ সেপ্টেম্বরকেই তারা জন্মদিন হিসেবে পালন করবে।


১৯. গুগলের হাতে নানা রকম কূটকৌশল আছে। যেমন আপনি যদি এস্কিউ (askew) শব্দটি ইংরেজিতে সার্চ করেন তাহলে দেখবেন পুরো পেজটাই একদিকে কাত হয়ে গেছে।

২০. এ্যাপোলো ১১তে চড়ে চাঁদে মানুষ পাঠাতে যতটুকু কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহৃত হয়েছিল - এখন মাত্র একটি গুগল সার্চে প্রায় সেই পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা কাজে লাগানো হয়।

২১. গুগল এখন শুধু একটি সার্চ ইঞ্জিন নয়। ভবিষ্যতে এখানে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্ট্রিমিং-ভিত্তিক গেম খেলার ব্যবস্থা, এমনকি ড্রাইভারবিহীন গাড়ি।