Articles by "সমরাস্ত্র"
Showing posts with label সমরাস্ত্র. Show all posts

যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্বাভাবিক ভাবেই যুদ্ধের কৌশলেরও পরিবর্তন হয়ে থাকে। যেমন প্রাচীনকালে যুদ্ধে জয় নির্ভর করত কার কত লোকবল আছে তার উপর কিন্তু আধুনিক যুগে এই ধারণা পুরোপুরি অচল না হলেও মোটামুটি অকার্যকরই বলা যায়। কারণ এখন প্রায় প্রতিটি সামরিক বাহিনীতেই কিছু কিছু বিশেষ বাহিনী থাকে যাদের ছোট্ট একটি ঝটিকা অপারেশনই একটি যুদ্ধের মোড় খুব সহজেই ঘুড়িয়ে দিতে পারে। তবে এইসব বাহিনীর ঝটিকা অপারেশনের জন্য প্রথমত এদের শত্রু এলাকায় পৌঁছানোটা জরুরী কিন্তু বেশিরভাগ সময় এই কাজটিই যেকোন অপারেশনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যাটিকে মোকাবিলা করার জন্য অনেকগুলো মাধ্যম থাকলেও অধিক দুরত্বে নিঃশব্দে কোন দলকে পৌঁছে দেয়ার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম নিঃসন্দেহে সাবমেরিন।




আমাদের মাঝে অনেকেরই ধারণা সাবমেরিনে করে যখন স্পেশাল ফোর্সের সৈন্যদের কোথাও পৌঁছে দেয়া হয় তখন তাদের সাবমেরিনের ভেতরে রাখা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে কথাটি সত্যি হলেও সবসময় কিন্তু সৈন্যদের সাবমেরিনের ভেতরে বহন করা হয় না। কারণ সাবমেরিনের ভেতরে বহন করলে তাদের ভূমিতে নামানোর জন্য সাবমেরিনকে পানির উপরিতলে উঠতে হয় কিন্তু শত্রু এলাকায় কোন সাবমেরিনকে পানির উপরিতলে উঠানো একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এবং এরফলে সাবমেরিনকে সহজেই সনাক্ত করে ধ্বংস করা সম্ভব। তাই সাবমেরিনে করে স্পেশাল ফোর্সকে কোন স্থানে মোতায়েনের সময় তাদের সাবমেরিনের শরীরের সাথে লাগানো একটি কম্পার্টমেন্টে বহন করা হয় ফলে সাবমেরিন পানির নিচে থাকা অবস্থায়ই এই কম্পার্টমেন্ট থেকে সৈন্যরা ভূমিতে অবতরণ করতে পারে।
এই কম্পার্টমেন্টগুলো ড্রাই ডেক শেল্টার নামে পরিচিত এবং এই সব কম্পার্টমেন্টে সাধারণ সাবমেরিনের মতোই বিদ্যুৎ, খাবার পানি, অক্সিজেনের সরবরাহ সহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা থাকে। তবে এই কম্পার্টমেন্টগুলো সবধরণের সাবমেরিনে লাগানো সম্ভব হয় না কারণ এগুলোতে বিভিন্ন জিনিস সরবরাহ করার জন্য আলাদা লাইনের প্রয়োজন হয় যা সব সাবমেরিনে থাকে না।




বর্তমানে শুধু রয়্যাল নেভি ও ইউএস নেভির কিছু নিউক্লিয়ার পাওয়ারড সাবমেরিনে এদের ব্যবহার করা সম্ভব। এই দুই নৌবাহিনীতে ব্যবহৃত ড্রাই ডেক শেল্টারগুলো মোটামুটি একই ধরণের এবং এরা প্রায় ২০ জন সৈন্যকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সহ বহন করতে পারে। এইসব শেল্টারগুলো যেহেতু নিউক্লিয়ার সাবমেরিনে লাগানো থাকে তাই এতে করে পৃথিবীর যেকোন স্থানে সৈন্যদের পৌঁছে দেয়া সম্ভব.....

সূত্র : বিভিন্ন ব্লগ থেকে সংগৃহিত ও সম্পাদিত
স্পেশাল ফোর্স। কথাটা নিউজ মিডিয়া যতটা না পরিচয় করিয়েছে, তার চেয়ে মানুষকে বেশি পরিচয় করিয়েছে হলিউডের সিনেমাগুলি। ধুন্ধুমার গুলির লড়াই আর বুদ্ধির খেলায় ভরপুর অ্যাকশন থ্রিলার মুভিগুলি দেখতে বেশ ভালোলাগে আমাদের অনেকেরই। কানের কাছে অনেকে যখন বলে ওঠেন, 'ধুর এসব সত্যি হয় নাকি, সব গাঁজাখুরি গল্প', তখন তাদেরকে আমরা পাত্তা না দেওয়ার চেষ্টা করি। কারণ, হাতের কাছে বলার মতো কোনও তথ্য থাকে না চটজলদি।
আসলে স্পেশাল ফোর্স মানেই ব্যাপারটা গোপনীয়তার সঙ্গে জড়িত। মার্কিন মুলুকে স্পেশাল ফোর্স যে আছে, আমাদের প্রজন্মে তা জেনেছে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদী নির্মূল করার আভিযানে মধ্য দিয়ে। পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে আল-কায়দার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে তার ডেরায় ঢুকে হত্যার খবর খবরের শিরোনামে আসায়।








মার্কিন মুলুকের মতো বিশ্বের সব দেশেই স্পেশাল ফোর্স আছে। আর তা গোয়েন্দাগিরি এবং গোপন অভিযানের উদ্দেশ্যে তৈরি। এই স্পেশাল ফোর্সের উত্‍পত্তি জার্মানদের হাত ধরে। বিংশ শতাব্দীতে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল, সেই সময়কার কথা। জার্মানি গোপনে লড়াই চালানো এবং অন্যান্য দেশের সামরিক খবর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে ব্র্যান্ডেরবুর্গ নামে একটি ফোর্স গঠন করে। ওখান থেকেই স্পেশাল ফোর্সের উত্‍পত্তি। আগেই বলেছি, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও স্পেশাল ফোর্স আছে, আর তা নিরাপত্তার ক্ষেত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের মধ্যে সেরা স্পেশাল ফোর্স কোনটি বেছে নেওয়া খুব মুশকিল হলেও, বিভিন্ন দেশের স্পেশাল ফোর্সদের নিয়ে সেরা পনেরোর একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হলো।


১. ইউনাইটেড স্টেটস নেভি সিলস
সিলস বিশ্বের সেরা স্পেশাল ফোর্স। ১৯৬২ সালে গঠিত এই স্পেশাল ফোর্স নৌসেনার অন্তর্গত হলেও, এর সেনাদের স্থল, বায়ু এবং জলে সামরিক লড়াইয়ের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। টোয়াইন টাওয়ারে ৯/১১'র হামলার পর থেকে সিলস আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসদমন কর্মযজ্ঞে। সিআইএ'র দুই শাখা স্পেশাল অ্যাকটিভিটিস ডিভিশন এবং স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপে এই সিল থেকেই অফিসার নিয়োগ করা হয়। সিলস এবং সিআইএ একসঙ্গে কাজ করছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকে। পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে গোপন ডেরায় ঢুকে লাদেনকে হত্যার কাজও সিলস এবং সিআইএ একসঙ্গে করেছিল।

২. এসবিএস - ব্রিটিশ যুক্তরাষ্ট্র
স্পেশাল বোট সার্ভিসেস। ব্রিটিশ যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি প্রখ্যাত স্পেশাল ফোর্স। এর উত্‍পত্তিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে। মূলত নৌযুদ্ধেই একে কাজে লাগানোর জন্য তৈরি। তবে, সামুদ্রিক পথে গিয়ে স্থলে নেমেও যুদ্ধ করতে বিশেষ প্রশিক্ষনরত সেনারা। এসবিএস যোগ দেওয়ার আগে অত্যন্ত কঠোর প্রশিক্ষণ পাশ করতে হয়। পাহাড়ি এলাকা এবং জঙ্গলের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, কিভাবে বেঁচে থেকে লড়াই করতে হয়। এসবিএসে যোগ দেওয়ার জন্য কোনও প্রার্থীকে পাশ করার জন্য দু'বারের বেশি সুযোগ দেওয়া হয় না।


৩. এসএএস - ব্রিটেন
ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসেস, সংক্ষেপে এসএএস। এসবিএস ও এসএএস বিশ্বের অন্যতম বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শাখা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে এই শাখা গঠন করেছিল ব্রিটিশ সেনা। বিশ্বের অন্যতম পুরনো স্পেশাল ফোর্সের মধ্যে অন্যতম এই শাখা বিশ্বের অন্যান্য দেশকে উদ্বুদ্ধ করেছে স্পেশাল ফোর্স গঠনে। ১৯৪৭ সালে এসএএসকে পুনর্গঠিত করা হয়েছিল স্থলসেনার জন্য। ১৯৮০ সালে লন্ডনে ইরানের দূতাবাস সন্ত্রাসবাদীদের হাত থেকে মুক্ত করার কাজ এসএএস'ই করেছিল। তারপর থেকে দুনিয়াজুড়ে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। আর এরপর থেকেই তিন ধরনের সেনার সঙ্গেই কাজ করার শুরু করে এসএএস। সন্ত্রাসবাদ দমন করে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে গোপনে কাজ করে যাওয়াই এই স্পেশাল ফোর্সের কাজ।



৪. সায়েরেত মতকল - ইজরায়েল


ইজারেয়িলে সেনার এই স্পেশাল ফোর্সের অন্যতম কাজ হল গোয়েন্দাগিরি চালানো এবং গোপন খবর সংগ্রহ করা। শত্রুদেশের সীমা পার করে খবর আনতেও বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। ব্রিটিশ যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদলেই গঠিত এই স্পেশাল ফোর্স।



৫. জিআইজিএন - ফ্রান্স
ফ্রান্সের ন্যাশনাল গেন্ডারমেরি ইন্টারভেনশন গ্রুপের সঙ্গে পেরে ওঠার মতো খুব কম এলিট ফোর্স রয়েছে। অত্যন্ত সুক্ষভাবে কাজকর্ম চালায় জিআইজিএন। ২০০জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অফিসারের এই ফোর্স যে কোনও পরিস্থিতিতে বন্দি উদ্ধারে সিদ্ধহস্ত। মিউনিখ অলিম্পিক গেমসের সময় ইজরায়েলী অ্যাথলিটদের অপহরনের ঘটনার পরই এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করে ফ্রান্সের সেনাবাহিনী। ১৯৭৩ সাল থেকে জিআইজিএন কাজ করে আসছে। যে কোনও ধরনের বড় হামলাও রুখতে সক্ষম এই শাখা।


৬. আলফা গ্রুপ - রাশিয়া


গোপন সামরিক অভিযানে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পেশাল ফোর্স হিসেবে স্বীকৃত রাশিয়ার এই বিশেষ বাহিনী। ১৯৭৪ সালে কেজিবি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করেছিল। আলফা গ্রুপের কাজকর্ম গোপনেই রাখে রাশিয়া। বর্তমানে তার সঙ্গে এফএসবি নামে আরও একটি শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে কেজিবি। আলফা গ্রুপ দেশের ভেতর এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পুলিশের কাজ, প্যারামিলিটারি অপারেশন, গোপন লড়াইয়ের কাজ করে।



৭. ইউনিদাদ দে অপারেসিওনেস এসস্পেশিয়ানেস - স্পেন


স্পেনের স্পেশাল ফোর্স বিশ্বের অন্যতম সেরা। ২০০৯ থেকেই মূলত এর সঙ্গে পরিচয় হয় গোটা বিশ্বের। তার আগে গোপনই ছিল নাম। স্পেনীয় নৌসেনার বিশেষ এই শাখা ইউরোপেরও অন্যতম সেরা। সামুদ্রিক লড়াই ও উপকূলীয় অঞ্চলে লড়াই, দেশের অভ্যন্তরে যে কোনও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মোকাবিলায় পটু এই শাখা ১৯৫২ সাল থেকে কাজ করে আসছে।




৮. মার্কোস - ভারত


মেরিন কমান্ডো ফোর্স ভারতীয় নৌসেনার একটি বিশেষ শাখা। জল ও স্থলে শত্রুপক্ষের মোকাবিলা করা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সম্মুখসমর, বিশেষ ধরনের হামলা চালানো, যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা, বন্দি উদ্ধার, অস্থাবর যুদ্ধ এবং যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আটকানোর মতো বিভিন্ন কাজে দক্ষ ভারতীয় নৌসেনার এই স্পেশাল ফোর্স। মার্কোসের প্রতিটি সদস্য জলযুদ্ধের সময় যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম। সেইভাবেই তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।


৯. ডেল্টা ফোর্স - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

ফাস্ট স্পেশাল ফোর্সেস অপারেশনাল ডিটাচমেন্ট-ডেল্টা (ফাস্ট এসএফওডিডি), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই স্পেশাল ফোর্স বিশ্বখ্যাত। ডেল্টা ফোর্স নামেই সবাই চেনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদের মুখে বারবার পড়ায়, ১৯৯৭ সালে ডেল্টা ফোর্স গঠন করে, তার মোকাবিলার জন্য। ব্রিটিশ যুক্তরাষ্ট্রের এসএএসের আদলে তৈরি এই স্পেশাল ফোর্স যাঁর হাত দিয়ে তৈরি, তিনি এসএএসের প্রাক্তন কর্মী ছিলেন। সন্ত্রাসদমন, গোপনে আক্রমণ চালানো, বন্দি উদ্ধারের মতো নানান গোপন মিশনে ডেল্টা ফোর্সকে ব্যবহার করা হয়।


১০. জিএসজি ৯ - জার্মানি

জার্মান ফেডারেল পুলিশের সন্ত্রাস দমন এবং বিশেষ কার্যসম্পাদন শাখা। মিউনিখে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক চলার সময় ১১ জন ইজরায়েলী অ্যাথলিটকে বন্দি করে সন্ত্রাসবাদীরা। জার্মান পুলিশ প্রথম দফায় সফল না হলেও, পরে সবাইকে উদ্ধার করে। এরপর এইধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য জার্মান পুলিশ ১৯৭৩ সালে এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করে। বন্দি উদ্ধার, অপহরণের ঘটনা, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা এবং উত্‍পীড়নের মতো পরিস্থিততে মোকাবিলায় জিএসজি ৯'কে ব্যবহার করে জার্মান পুলিশ। তাদের সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত, দেড় হাজারেরও বেশি স্পেশাল অপারেশন সামলেছে এই স্পেশাল ফোর্স। আর তার মধ্যে মাত্র পাঁচবার বন্দুকের ভারি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয়েছে।



১১. এসএসজি - পাকিস্তান

স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ। পাকিস্তানের আই স্পেশাল ফোর্স'কে ব্ল্যাক স্টর্কস বলা হয়। মাথায় বিশেষ ধরনের হেডগিয়ার পরেন এসএসজি কমান্ডোরা। মার্কিন আর্মি এবং ব্রিটিশ আর্মির বিশেষ শাখার আদলে পাকিস্তান আর্মি ১৯৫৬ সালে এই এসএসজি গঠন করে। অত্যন্ত কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এসএসডি কমান্ডোদের। সবধরের যন্ত্র, অস্ত্র নিয়ে বারো ঘণ্টায় ৩৬ মাইল এবং পঞ্চাশ মিনিটে ৫ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করতে পারলে, তবেই এই বাহিনীতে যোগ দিতে পারেন পাকিস্তানের কোনও সেনা অফিসার। অসীম সাহস এবং সাহসিকতার জন্য এসএসজি সারা বিশ্বে বিখ্যাত। নানা রকমের গোপন সামরিক অভিযান সহ সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাক সেনা এসএসজি'কে ব্যবহার করে।


১২. জে ডব্লু গ্রম - পোল্যান্ড
জেদনসত্‍কা ওজকোয়া গ্রম নামের এই স্পেশাল ফোর্স পোল্যান্ডের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা শাখা। সারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ক্রমাগত বেড়ে চলায় ১৯৯০ সালের ১৩ জুলাই পোল্যান্ড সরকারিভাবে এই শাখাকে গোয়েন্দা বিভাগে কার্যকর করে। গ্রম শব্দের অর্থ হল থান্ডার। পোলিশ সেনাবাহিনীতে পাঁচটি স্পেশাল ফোর্সের শাখা রয়েছে। তার মধ্যে জে ডব্লু গ্রম সেরা। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি শত্রুদেশের সীমারেখা পার করে তাদের ডেরায় আক্রমণ হানতেও সিদ্ধহস্ত পোলিশ আর্মির এই বিশেষ শাখা।


১৩. একো কোবরা - অস্ট্রিয়া
১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিকের সময় ইজরায়েলী অ্যাথলিটদের ওপর হামলা হয়। ওই ঘটনার কথা মাথায় রেখে ১৯৭৮ সালে অস্ট্রিয়া একো কোবরার গঠন করে। পুরো নাম হলো - আইনস্যাত্‍জকমান্ডো কোবরা। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে কাজ করা এই স্পেশাল ফোর্সের দায়িত্ব হলো সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং যুদ্ধকালীন কোনও পরিস্থিতিতে গোপন খবর সংগ্রহ করার পাশাপাশি তা প্রতিহত করা। ১৯৯৬ সালে গ্রাজ-কার্লৌ জেল থেকে আটকদের মুক্তি করার মতো এরকম আর অনেক গোপন অপারেশন চালিয়ে সফালতা পেয়েছে একো কোবরা। প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যতম সেরা অস্ট্রিয়ার এই স্পেশাল ফোর্স।


১৪. জিআইএস - ইতালি
ইতালীয় ভাষায় পুরো নাম - গ্রুপো দি ইন্তারভেন্তো স্পেশিয়ালে। ইতালিয়ান কার্বিনিয়েরি মিলিটারি পোলিস-এর সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা শাখা জিআইএস। দুনিয়া জুড়ে সন্ত্রাসবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে থাকায় দেশের নিরাপত্তার জন্য ১৯৭৮ সালে ইতালিয়ান স্টেট পোলিস এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করে। বর্তমানে জিআইএসে খ্যাতি সারা বিশ্বজুড়ে। একশো জনের বেশি বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত অফিসারদের এই গ্রুপ সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের স্পেশাল ফোর্সকেও নিরাপত্তা জনিত এবং বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়।


১৫. মারুন বেরেটস - তুর্কি


তুর্কি সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ শাখা। বিশেষ বিশেষ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালানোর জন্য মারুন বেরেটস'কে ব্যবহার করে তুর্কি সেনা। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পেসাল ফোর্সের মধ্যে অন্যতম মারুন বেরেটস টানা চারবার ন্যাটোর স্পেশাল ফোর্স প্রতিযোগিতা জিতেছে। টার্কিশ আর্মিতে চার বছর ধরে কঠোর অনুশীলন নেওয়ার পর যে কেউ স্বেচ্ছায় এই স্পেশাল ফোর্সে যোগ দিতে পারেন।


শ্রীলঙ্কার একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী, উগ্র গেরিলাসংগঠন। তারা শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলে অবস্থান
করে উত্তর এবং পূর্বাংশ নিয়ে পৃথক ও স্বাধীন তামিল রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে যা শ্রীলঙ্কায় তামিল ইলম নামে পরিচিত। এছাড়াও, এলটিটিই তামিল টাইগার্স নামে সর্বসমক্ষে পরিচিত হয়ে আসছে। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মে, ১৯৭৬ সালে। এর প্রধান ছিলেন ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ, যিনি ১৮ মে, ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনীর সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় নিহত হন। প্রভাকরণের মৃতদেহ দ্রুত দাহ করে ফেলা হয় এবং সরকারীবাহিনী সেখানে কোন জনসমাগম হতে দেয়নি। মানবাধিকার লঙ্ঘন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এলটিটিই'র বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ন্যায় গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করে। 

এফবিআই এলটিটিইকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অন্যান্য দেশও এলটিটিইকে একই পর্যায়ে ফেলেছে।প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি অনেকবার সাধারণ জনগণকে লক্ষ্য করে আক্রমণ কার্য পরিচালনা করেছে। উল্লেখযোগ্য আক্রমণের মধ্যে রয়েছে অরন্থালয়া গণহত্যা, অনুরাধাপুরা গণহত্যা , কত্তানকুদি মসজিদে গণহত্যা, কেবিথিগোলেয়া গণহত্যা, এবং দেহিওয়ালা গাড়ীতে বোমা হামলা অন্যতম। অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বোমা হামলায়ও অনেক নিরীহ গ্রাহক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন।

হত্যাকাণ্ড পরিচালনা: 

শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রানাসিংহে প্রেমাদাসা হত্যাকাণ্ড এলটিটিই কর্তৃক পরিচালিত হয়েছিল।১ মে, ১৯৯৩ তারিখে অনুষ্ঠিত মে

দিবসের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠানে এলটিটিই’র আত্মঘাতি বোমা হামলায় প্রেমাদাসা নিহত হন।তামিল নাডুর মাদ্রাজ থেকে ৩০ মাইল দুরে শ্রীপেরুম্বুদুর লোক সভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে প্রচার- অভিযান সভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে এলটিটিই'র কর্মী ও আত্মঘাতী বোমাবহনকারী থেনমঝি রাজারত্মম ২১মে, ১৯৯১ সালে হত্যা করেছিলেন
এলটিটিই কর্তৃক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের হিসাব:

শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি: ১ জন ভারতীয়

প্রধানমন্ত্রী: ১জন 
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী: ১ জন 
শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক দলের নেতা: ১০ জন
শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী: ৭ জন সংসদ সদস্য: ৩৭ জন
স্থানীয় সরকারের সদস্য: ৬ জন 
প্রদেশিয়া সভার সদস্য: ২২ জন 
রাজনৈতিক দলের সংগঠক: ১৭ জন
মেয়র: ৪ জন

এক নজরে তামিল টাইগার:

জন্ম: ১৯৭৬ নেতা:ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ
উদ্দেশ্য: পৃথক তামিল রাষ্ট্র গঠন 
সক্রিয় অঞ্চল: শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
মূলমন্ত্র : তামিল জাতীয়তাবাদ
বার্ষিক আয়: সামরিক বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পূর্বে $২০০-৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার 
আয়ের উৎস: রাজস্ব অর্থ,দেশত্যাগী তামিলদের কাছ থেকে দান, জোরপূর্বক আদায়, জাহাজ ব্যবসা, অস্ত্র বিক্রয়, এলটিটিই নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে কর আদায়।




সামরিক শক্তি:


তাদের ট্যাংক ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। ট্যাংকের সংখ্যা ১০ টির বেশি নয়। অস্ত্রের মধ্যে তাদের যেসব ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে তা হল:
এসকেএস রাইফেল, একে ৪৭,এম৪ কারবাইন, কালাসনিকভ, আরপিজি, ফিম স্টিংগার,
বিমান: মাইক্রোলাইট এয়ারক্র্যাফট ২টি, হেলিকপ্টার ২

টি, ড্রোন ২ টি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সবচাইতে দক্ষ ও এলিট স্পেশাল ফোর্স ব্যাটেলিয়ন হচ্ছে এই "১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটেলিয়ন"। যেকোনো পরিস্থিতি তে শত্রুকে ধ্বংস করে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এই ব্যাটেলিয়ন এর মুখ্য উদ্দেশ্য। অফিসিয়ালি এই স্পেশাল ফোর্স এর কোড নেম "চিতা"।


গঠনকাল:-
১৯৯২ সালে ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিস-SAS এর কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গড়ে তুলে এই স্পেশাল ফোর্স "চিতা"। তবে শুরুর দিকে এর নাম খুব একটা না ছড়ালেও ২০০০ সালের পরবর্তী সময় যখন 'সায়েখ আব্দুর রহমান' ও 'বাংলাভাই' এর "জেএমবি" জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে মাথা চারা দিয়ে ওঠে তখন 

সরকার কিছু এলিট ফোর্স মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সিদ্ধান্ত এর জের ধরে ২০০৪ সালে সেনাবাহিনী, পুলিশ,বিডিআর ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় ৩ টি স্পেশাল এলিট ফোর্স। এর ভেতর সেনাবাহিনীর '১ প্যারাকমান্ডো ব্যাটেলিয়ন' এর কিছু সদস্য নিয়ে গঠন করা হয় ★চিতা★ কমান্ডো হামলার জন্য,,,কিছু সেনা অফিসার ও পুলিশ এবং অন্য কিছু সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় "RAB" ঝটিকা অভিজন পরিচালনার জন্য এবং আরেকটি ফোর্স গঠন করা হয় যার কোড নেম "কোব্রা"। পরে জেএমবি নিধন মিশন শেষ হলে RAB হয়ে যায় পুলিশ এর সায়েত্তশাসিত এন্টি-টেরেরিজাম & নারকোটিক স্কোয়াড এবং কোব্রা হয়ে যায় গায়েব আর "#চিতা" মিশে যায় সেনাবাহিনীতে অর্থাৎ ১ প্যারাকমান্ডো ব্যাটেলিয়নে। কিন্তু টুইস্ট টা আসে পরের কিছু বছরে যখন দেখা যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর "১ প্যারাকমান্ডো ব্যাটেলিয়ন" অফিসিয়ালি স্পেশাল এলিট ফোর্স হিসেবে আত্তপ্রকাশ করে এবং জানা যায় যে এই স্পেশাল ফোর্সের কোড নাম ই চিতা।

নিয়োগ:-বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্ট থেকে যোগ্যতা ভিত্তিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের রেকর্ড যাচাই বাছাই করে সিলেক্ট করা হয়। তারপর কিছু প্রসিডিওর এর মাঝ দিয়ে সেরাদের বাছাই করে পাঠিয়ে দেয়া হয় সবুজে ঘেরা অপরূপ সুন্দরের লীলাভূমি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্যারাকমান্ডো দের আতুর ঘর বলে পরিচিত "জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট" সিলেটে। আর সেখানেই যাত্রা শুরু হয় ১ প্যারাকমান্ডো ব্যাটেলিয়নের।

  ট্রেনিং :-

ভাইরে এরা এতোটাই সাইলেন্স মেইন্টেন করে যে বাংলাদেশের শেরা স্পেশাল ফোর্স "নেভি সোয়াডস" এর ট্রেনিং সমন্ধে আমরা তাও অনেকটাই জানতে পারি কিন্তু এদেরটার ৮০% জানা যায় না বললেই চলে তবে একটু বলি ব্যক্তিগত ভাবে শোনা থেকে।

খুব কম সংখ্যক সেনারাই কমান্ডো ইউনিটে যোগদানে আগ্রহী হয় কারনটা অনেকে জানেন অনেকে জানেন না,, সুধু একটা কথা বলি…"বলা হয়ে থাকে যে একটা ৬ মাসের বেসিক কমান্ডো ট্রেনিং সম্পূর্ন করতে মায়ের বুকের দুধ মুখ দিয়ে উগলে আসে"। এতটাই কঠর ট্রেনিং পায় আমাদের কমান্ডোরা, আর এদের আরো একধাপ উপড়ে ওঠে যারা তারাই " ১ প্যারাকমান্ডো ব্যাটেলিয়ন *চিতা*  প্রথমে ৬ মাসের বেসিক কমান্ডো এবং এয়ারবর্ন কোর্স কমপ্লিট করে, তারপর নিয়মিত বাংলাদেশে এভেইলেবল সমস্ত ট্রেনিং,ড্রিল,কমান্ডো ড্রিল কমপ্লিট করা ছারাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এক্সেরসাইজে বিভিন্ন দেশ এর স্পেশাল ফোর্স গুলোর সাথে অংশ নেয়। তবে এরা কোন বিদেশি স্পেশাল ফোর্স এর কাছ থেকে ট্রেনিং পায় কিনা তা জানা যায় নাই।


একজন কমান্ডো কে যে কোন পরিবেশে সার্ভাইভ করে যুদ্ধ করতে সক্ষম করে গড়ে তোলা হয় তাই তাদের প্রায় সব কিছুই খেতে হয় বা সব অবস্থাতেই নিজেকে টিকিয়ে রাখার় মতো সক্ষমতার অর্জন করতে হয়,, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ডো ট্রেনিং এর শেষটা হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি বন জঙ্গলে,, ট্রেনিং প্রিয়ড এর শেষের দিকে তাদের জঙ্গল সার্ভাইভাল মিশনে পাঠান হয় সুধুমাত্র একটা কমান্ডো নাইফ দিয়ে যেখানে এই কমান্ডোদের কে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম বিপদের সাথে লড়াই করে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকতে হয়। যে সময় বন থেকে নিজের খাবার নিজেই যোগাড় করে নিতে হয়। অনেকটা নেভি সোয়াডস এর "হেল উইক" এর মতন এদের ও একটি নরকিয় যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা সম্বলিত সার্ভাইভাল মিশন টাইম কাটাতে হয় পাহাড়-পর্বতের গহীন অরণ্যে।
  
কার্যক্ষেত্র -আপনারা আমরা যেই পর্যন্ত চিন্তা করতে পারি একজন প্যারাকমান্ডো এর ক্ষমতার তা হয়তো মাত্র ৩০-৪০% কিন্তু বাস্তবে একজন প্যারাকমান্ডো আমাদের কল্পনার চাইতেও কয়েক ধাপ এগিয়ে। কেননা শারীরিক ও মানুষিক দিক দিয়ে এদের এতটাই মজবুত করে গড়ে তুলা হয় যেনো যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়।

 Amphibious warfare
 Counter-insurgency
 Counter-narcotics
 Counter-terrorism
 Covert insertions/extractions
 Special reconnaissance
 Hostage rescue and personnel recovery
 Raids
 Underwater demolition

আর তাছাড়া গুলশান রেস্টুরেন্ট এট্যাকের মিশন অপারেশন থান্ডারবোল্ট এ কি পরিমাণ দক্ষতা এই স্পেশাল ফোর্স টি দেখিয়েছে তাতো পুরো বিশ্ব দেখেছে।


.
 M4A1 Assault Rifle
 BD-08 Assault Rifle
 H&K G3A2 Assault Rifle
Type-56 Assault Rifle Full Metal Version
 H&K-MP5 A3 Submasingun
 Accuracy International AWM
 Dragunov SVD & Type-81
 Short Barrel S.Addition Carbine
 M1911 9mm Pistols
 Barrett 9mm Pistols
 Commando Grenade
 Commando Knife

এছাড়াও এরা বিভিন্ন ধরনের এসল্ট ও ইলেকট্রিকাল ইকুইপমেন্ট ব্যাবহার করে থাকে যা এক কথায় হাইড ওয়েপন্স।
 

দায়িত্ব


আমেরিকান স্পেশাল ফোর্সের সঙ্গে যৌথ মহড়া দিচ্ছে বাংলাদেশের কমান্ডোরা
কমান্ডোরা প্রশিক্ষিত থাকে দেশে এবং বাহিরে যেকোনো ধরনের মিশনে অংশগ্রহন করতে। তাদের কাজ হল (কিন্তু এগুলোতেই কেবল সীমাবদ্ধ নয়):

  • উন্নত ওয়ারফেয়ার
  • উভচর যুদ্ধবিগ্রহ
  • কাউন্টার-বিদ্রোহ
  • কাউন্টার মাদক
  • সন্ত্রাসবাদ বিরোধী
  • কোভার্ট সন্নিবেশ / extractions
  • বিশেষ পরিদর্শনকরণ
  • জিম্মি উদ্ধার এবং কর্মীদের পুনরুদ্ধারের
  • রেইড
  • জলতলের ধ্বংস
  • রীতিবিরুদ্ধ ওয়ারফেয়ার


হলি আর্টিসান বেকারী জিম্মি সংকট

১ জুলাই ২০১৬, স্থানীয় সময় রাত ০৯:২০ মিনিটে,নয়জন হামলাকারী ঢাকার গুলশান এলাকায় অবস্থিত হলি আর্টিসান বেকারিতে গুলিবর্ষণ করে। হামলাকারীরা বোমা নিক্ষেপ ও কয়েক ডজন মানুষকে জিম্মি করে এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের বোমাবর্ষণের ফলে অন্তত চার পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানায় হামলার সময় তারা "আল্লাহু আকবার" (আল্লাহ সর্বশক্তিমান) ধ্বনি উচ্চারণ করে গুলি ছুড়ে ও বোমা ফাটায়।সরকার প্রধানের নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১নং প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়ন 'অপারেশন থান্ডারবোল্ট' পরিচালনা করে। ৬ জুলাই শুক্রবার রাত থেকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থানরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। সেনাবাহিনীর ১নং প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাবসহ যৌথভাবে অপারেশন থান্ডারবোল্ট পরিচালনা করা হয়। সেনাবাহিনীর ১নং প্যারা-কমান্ডোর নেতৃত্বে ঘটনা শুরুর পরদিন, শনিবার, সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে অপারেশন শুরু করে ১২-১৩ মিনিটে ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিকভাবে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ৪টি পিস্তল, একটি ফোল্ডেডবাট একে-২২, ৪টি অবিস্ফোরিত আইআইডি, একটি ওয়াকিটকি সেট ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

হতাহত

বিশ জন বিদেশী নাগরিক, ছয় জন বন্দুকধারী এবং দুই জন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনার রাতেই নিহত হন। বিদেশীদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। যেখানে আরও পঞ্চাশ জন, যাদের বেশিরভাগ পুলিশ সদস্য,আহত হন।নিহতদের মধ্যে দুই জন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন, যাদের একজন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার, এবং অন্যজন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। নিহতদের মধ্যে জাপানি ও ইতালীয় নাগরিক ছিল।১৯ বছর বয়সী এক ভারতীয় নাগরিকও নিহত হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করে যে নিহতদের সকলে বিদেশী ছিল, এবং তারা অপরাধীরা যাদের "ধারালো অস্ত্র দ্বারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল"।এদের মধ্যে যারা কুরআনথেকে একটি আয়াত বলতে পেরেছিল শুধুমাত্র সেসকল অ-মুসলিমরা রক্ষা পেয়েছিল।
নিহতদের মধ্যে সাত জন জাপানি নাগরিক ছিল – পাঁচ জন পুরুষ এবং দুই জন নারী – যাদের জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির সাথে যুক্ত করা হয়েছে।পরবর্তীতে অপারেশন থান্ডারবোল্টের সময় ছয় সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং সন্দেহভাজন একজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়। এছাড়া এই অভিযানে জিম্মিদশা থেকে তিন বিদেশিসহ ১৩ জনকে মুক্ত করা হয়।

নিহত জিম্মিদের জাতীয়তা
দেশসংখ্যা
                                ইতালি
                                জাপান
                              বাংলাদেশ
                               ভারত
                         মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সর্বমোট২৪
অনেকেই মনে করে থাকেন US Navy SEAL Team-VI আমেরিকার সবচাইতে সেরা এলিট স্পেশাল ফোর্স, তবে এটা ভুল। মার্কিন স্পেশাল ফোর্সদের ভেতর সবচাইতে দক্ষ এলিট কমান্ড ফোর্স হচ্ছে এই "ডেল্টা ফোর্স"। এরা এতটাই এলিট যে এদের পুরো ইউনিট এর সংখ্যা মাত্র ১০০০+-, যার ভেতর মাত্র ৩০০ জন অপারেশন কমান্ডো বা যারা মাঠে মিশন পরিচালনা করে আর বাকি ৭০০ জন ই সহায়ক বিভিন্ন শাখার। অর্থাৎ আমেরিকান বিশাল বাহিনীর সেরাদের সেরা এই ৩০০ জন। এদের বেশিরভাগ ই আর্মি রেঞ্জার্স ইউনিট থেকে আসে, বাকিরা অন্য শাখা থেকে। অনেকেই বলতে পাড়েন রেংকিং এ রাখা হয় না বা রাখলে পড়ে কেনো..! আসলে এদের আজ অব্দি দুই-একটা মিশন ছাড়া কোন মিশন সম্পর্কে প্রকাশ করা হয় নি বা নিয়ম ই নেই তাই।

সয়ং SEAL Team-6/VI এর অপারেটর রাও এই ফোর্সে জয়েন করার সপ্ন দেখে বলা হয়, এতটাই মর্যাদাসম্পন্ন এই এলিট ফোর্স। এদের কাজের পুরোটাই আন-অফিসিয়ালি বা এতটাই ক্লাসিফাইড ভাবে ঘটে যে সয়ং প্রেসিডেন্ট এবং আর্মি-চীফ এর অনুমতি ছাড়া এদের ফাইল খোলার অনুমতি কারো কাছেই নেই বা দেখতে পারেনা।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক বাহিনীর অধিকারী দেশ উত্তর কোরিয়া। শুধু তাই নয়, এ দেশটির রয়েছে সবচেয়ে বড় বিশেষ বাহিনী। প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার সদস্য নিয়ে এই বাহিনী গঠিত। বিশেষ বাহিনীর আনুষ্ঠানিক নাম হচ্ছে ‘স্পেশাল অপারেশন্স ফোর্স’। বাহিনীর সদস্যরা খুবই প্রশিক্ষিত। এই বাহিনী প্রায় সব সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে এবং নিয়মিত দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিযান চালাতে প্রস্তুত থাকে। ১৯৬৮ সালে ‘ব্লু হাউজ রেড’ এর সময় ইউনিট ১২৪ এর ৩১ জন সদস্য দক্ষিণ কোরিয়ায় ঢুকে পড়েছিল এবং তাদের দেশের প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনা জঙ্গলে কাঠ কুড়াতে যাওয়া কিছু ছেলে তাদের দেখে ফেলে এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে তাদের ফাঁদে ফেলে ২৯ জনকে হত্যা করে, একজনকে ধরে কারাগারে নেয় এবং একজন পালিয়ে উত্তর কোরিয়ায় ফিরে আসে।
তার্কিশ মেরুন বেরেট হলো তুরস্কের একটি বিশেষ স্পেশাল ফোর্স।মূলত তুরস্কের সেনাবাহিনীর দক্ষ এবং উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অফিসারদের নিয়ে এই ফোর্স গঠিত।দেশ বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন পরিচালনার জন্য এদের তৈরি করা হয়েছে।ভূমি এবং পানি উভয় জায়গায়ই সমান পারদর্শী এই ফোর্স।

তুর্কিশ মেরুন বেরেট অফিসার হতে মোট ৪৭ টি ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়।এরপর দেশে ৭২ সপ্তাহ ট্রেনিং নেয়ার পর বিভিন্ন দেশে আরো ৫২ সপ্তাহ বিভিন্ন ধরণের ট্রেনিং নিতে হয়।একজন মেরুন বেরেট অফিসার হতে মোট ৩.৫ বছর লাগে।তাই এই ফোর্সটি বিশ্বের অন্যতম শিক্ষিত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্পেশাল ফোর্স।

বর্তমানে এই ফোর্স্টি তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর ইরাকের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।