সব সাবান সব ত্বকের জন্য উপকারী নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের পিএইচ স্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার একটু কমবেশি হলেই ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাজারের সব ধরনের সাবানে পিএইচ স্তর থাকে নয় থেকে এগারোর মধ্যে, যা ত্বকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তবে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য হারবাল সাবান অনেকটাই উপকারী। কারণ এর মধ্যে থাকে ক্যামোমাইল, ল্যাভেন্ডার, পেপারমিন্ট, জইচূর্ণসহ আরও একাধিক প্রাকৃতিক প্রোডাক্ট। অলিভ তেল এবং মাখন ব্যবহার করা হয় এ ধরনের সাবান তৈরিতে, যা ত্বকের উপকারী। সাবানে অলিভ ওয়েল থাকলে তা আপনার অ্যান্টি এজিংয়েও সহায়তা করবে। এছাড়া গ্লিসারিন থাকলে ত্বক নরম রাখবে। অতএব ভেবে-চিন্তে সাবান ব্যবহার করা উচিত।
আপনার ত্বকে ভেষজ সাবান ব্যবহারের গুণাবলী
ত্বকের রোগ থেকে মুক্তি : অনেক সাবান রাসায়নিক এবং সুগন্ধযুক্ত হওয়ায় চামড়ার রোগ নিরাময় করতে সক্ষম হয় না। আপনার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয় এবং ত্বকে আপনি বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন তবে আপনার সাবানটি পরিবর্তন করা উচিত।
আপনি যদি ভেষজ সাবান ব্যবহার করেন তবে এটি ত্বকের অনেক রোগ নিরাময় করবে। ভেষজ সাবান দিয়ে কোনো ফুসকুড়ি, চুলকানি বা ত্বকের অন্যান্য অবস্থার কোনো সম্ভাবনা নেই।
পরিবেশের জন্য আরও ভালো : তবে ভেষজ সাবান পরিবেশবান্ধব। পরিবেশের জন্য হুমকি এমন কোনো উপাদান তাদের মধ্যে নেই।
চুলকানি : মানুষের ত্বক খুব সংবেদনশীল। আপনি যদি ভুল সাবান ব্যবহার করেন তবে এটি ত্বকে চুলকানি তৈরি করতে পারে যা বিরক্তিকর। চুলকানি থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে ভেষজ সাবান ব্যবহার শুরু করতে পারেন। বেশিরভাগ ভেষজ সাবান ত্বকের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং ত্বকে কোনো চুলকানি হয় না।
পুষ্টিকর : ভেষজ সাবানে প্রকৃতির প্রাকৃতিক মঙ্গল রয়েছে এবং এটি আপনার ত্বককে পুষ্টিকর করে তোলে। এটি আরাম, নিরাময় এবং স্ট্রেস রিলিফও সরবরাহ করে।
ভেষজ : উত্তেজনা থেকে মুক্তি এবং ভেষজ সাবানে নিরাময়ের শক্তি হিসেবে বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে, যারা মন, দেহ এবং চেতনা পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছেন তাদের পক্ষে প্রচুর উপকারিতা রয়েছে।
ভেষজ সাবানের উপকারিতা : ভেষজ সাবান ১০০ শতাংশ জৈব এবং উদ্ভিদ নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ তেল ধারণ করে।
হারবাল সাবানের ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। যারা স্বাস্থ্য সচেতন তারা এখন নিয়মিত হারবাল সাবান ব্যবহার করে থাকেন।
জাপানের সম্রাট নারুহিতো আজ এক জাঁকজমকপূর্ণ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে জাপানের সিংহাসনে আরোহণ করেছেন। তার পিতা সাবেক সম্রাট আকিহিতো স্বাস্থ্যগত কারণে সিংহাসন ত্যাগ করার পর এ বছর মে মাস থেকেই ৫৯ বছর বয়স্ক সম্রাট নারুহিতোর শাসনকাল শুরু হয়েছিল, তবে মঙ্গলবার তার আনুষ্ঠানিক অভিষেক হলো।
টোকিও রাজপ্রাসাদে এই অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস সহ কয়েকশ বিদেশী অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সাড়ে ছয় মিটার উঁচু তাকামিকুরা সিংহাসনে বসা সম্রাট নারুহিতোর পোশাক ছিল হলুদ ও কমলা রঙের।
তার স্ত্রী সম্রাজ্ঞী মাসাকো ১২ স্তরের কাপড়ের তৈরি একটি পোশাক পরেন। তিনি বসা ছিলেন অপেক্ষাকৃত ছোট আরেকটি সিংহাসনে।
সম্রাট তার সিংহাসনে আরোহনের ঘোষণা পাঠ করার পর প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পড়েন, এবং 'সম্রাট দীর্ঘজীবী হোন' বলে হাঁক দেন।
১৯৯০ সালের পর এই প্রথম জাপানের সম্রাটের অভিষেক অনুষ্ঠান হলো। তবে সাম্প্রতিক ঘুর্ণিঝড়ে নিহতদের সম্মান দেখাতে রাস্তায় রাজকীয় শোভাযাত্রার কর্মসূচি বাদ দেয়া হয়। শিন্টো ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী এই সিংহাসনে আরোহণের অনুষ্ঠানগুলো হয়।
সম্রাটের তিন সম্পদ: আয়না, তলোয়ার ও মূল্যবান পাথর
এর কেন্দ্রস্থলে আছে জাপানের সম্রাটের তিনটি সম্পদ। অতি প্রাচীন তিনটি রাজকীয় সামগ্রী, যা রাজকীয় ক্ষমতার প্রতীক। এগুলো হচ্ছে একটি আয়না, একটি তলোয়ার এবং একটি মূল্যবান পাথর। প্রাচীন তলোয়ার এবং রত্ন অভিষেক অনুষ্ঠানে রাখা ছিল, তবে তা দেখানো হয় না।
রহস্য ও গোপনীয়তা
এই তিনটি রহস্যময় বস্তু কীভাবে জাপানের সম্রাটের রাজকীয় ঐশ্বর্যের মর্যাদা পেলো - সেই ইতিহাস কঠোর গোপনীয়তায় ঘেরা।
শিন্টো ধর্মমতে অতীত এবং মানুষের জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী অশরীরী আত্মার সাথে সংযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি রাজকীয় সম্পদ এরই একটা অংশ মনে করা হয় জাপানের সম্রাটরা ঈশ্বরের বংশধর এবং দেবতারাই এগুলো তাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছেন।
এগুলো এতই পবিত্র যে জাপানের বিভিন্ন মন্দিরে সর্বদা লোকচক্ষুর অন্তরালে এসব রাখা হয়।
"এগুলো কখন তৈরি হয়েছিল তা কেউ জানে না, এমনকি সম্রাটও কখনো এগুলো দেখেন নি" - বলেন জাপানের নাগোইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিদেয়া কাওয়ানিশি।
সম্রাট নারুহিতোর অভিষেকেও এগুলো দেখা যায়নি, পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় তার অবিকল নকল। এমনকি সেই নকল সামগ্রীগুলোও কেউ দেখতে পায় না।
পবিত্র আয়না 'ইয়াতা নো কাগামি'
মনে করা হয় এই আয়না এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো, এবং এটি রাখা হয়েছে ইসে জিঙ্গু মন্দিরে। সম্রাটের রাজকীয় ধনরত্নের মধ্যে এটিই সবচেয়ে মূল্যবান।
জাপানী উপকথায় বলা হয়, আয়নার স্বর্গীয় ক্ষমতা আছে এবং তা সত্য প্রকাশ করতে পারে। জাপানের প্রাচীন ইতিহাস অনুযায়ী ইয়াতা নো কাগামি নামের এই আয়না তৈরি করেছিলেন দেবতা ইশিকোরিদোম। এর সাথে জড়িয়ে আছে সূর্যের দেবী আমাতেরাসুর নাম।
কুসানাগি নোৎসুরুগি: পবিত্র তলোয়ার
এর অর্থ হচ্ছে 'ঘাস কাটা তলোয়ার' এবং সম্ভবত এটা রাখা আছে নাগোইয়ার আৎসুতা মন্দিরে। একে ঘিরে কাহিনি রয়েছে যে আটটি মাথাওয়ালা এক মানুষখেকো সাপের লেজে এই তলোয়ার ছিল।
সমুদ্র ও ঝড়ের দেবতা সুসানু ওই সাপকে কৌশলে মদ্যপান করিয়ে মাতাল করে তাকে হত্যা করেন, এবং তার লেজ কেটে ভেতর থেকে ওই তরবারি বের করেন।
গুজব রয়েছে আসল তলোয়ারটি দ্বাদশ শতাব্দীতে এক যুদ্ধের সময় সমুদ্রে পড়ে হারিয়ে গেছে।
ইতিহাসবিদরা বলেন, এখন যেটি আছে তা নকল। তারও একটি নকল রাজার অভিষেকে ব্যবহৃত হয়। ১৯৮৯ সালে সম্রাট আকিহিতোকে একটি বাক্সে করে এই তলোয়ার দেয়া হয়েছিল বলে জানা যায়, কিন্তু তা কখনো খোলা হয়নি।
ইয়াসাকানি নো মাগাতামা : পবিত্র রত্ন
মাগাতামা হচ্ছে এক রকম খোদাইয়ের কাজ করা ছিদ্রবিশিষ্ট পাথর- যা দিয়ে মালা বানানো যায়। খ্রীষ্টপূর্ব ১০০ সাল থেকে জাপানে এরকম পাথর তৈরি হতো।
বলা হয়, ইয়াসাকানি নো মাগাতামা হচ্ছে এমন একটি নেকলেসের অংশ যা দেবী আমে-নো-উজুমের জন্য বানিয়েছিলেন তামানুয়া-নো-মিকোতো।
বলা হয় এটি সবুজ জেড পাথরের তৈরি, এবং রাজকীয় ধনরত্নের মধ্যে এটিই একমাত্র -যার আসলটিই এখনো টিকে আছে। এটি রাখা আছে টোকিওর রাজকীয় প্রাসাদে।
জাপানের সম্রাটরা আমাতেরাসুর বংশধর বলে মানা হলেও, তারা এখন নিজেদেরকে দেবতা বলে দাবি করেন না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর জাপানের সম্রাট হিরোহিতো তার দেবতার মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন।
অধ্যাপক কাওয়ানিশি বলেন, জাপানের কিছু লোক এখনো মনে করেন যে সম্রাটের এই তিনটি জিনিসের স্বর্গীয় শক্তি আছে, তবে অন্য অনেকেই এগুলোকে রাজকীয় অলংকার বলেই মনে করেন।
এগুলোর গুরুত্ব এখানেই যে তারা সম্রাটের মহিমার সাথে সম্পর্কিত এবং এ পরিবারের প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতীক।
সারা দুনিয়া জুড়ে কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করছেন এই গুগল, এবং অনেকের কাছেই এটি তাদের ইন্টারনেট কার্যক্রমে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
গুগল অবশ্য এখন আর শুধুই একটি সার্চ ইঞ্জিন নয়, এক বিশাল প্রযুক্তি কোম্পানি।
একুশ বছর পূর্তিতে গুগলের ডুডল
তাদের ২১ বছর পূর্তির দিনে জেনে নিন এমন ২১টি তথ্য - যা হয়তো আপনার অজানা ছিল, অবশ্য যদি আপনি ইতোমধ্যেই এই তথ্যগুলো 'গুগল করে' জেনে নিয়ে না থাকেন!
১. প্রথমটিতে হয়তো বিস্মিত হবার তেমন কিছু নেই। গুগুল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভিজিটেড ওয়েবসাইট, অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই এই ওয়েবসাইটটিতে অন্তত একবার ঘুরে গেছেন।
২. গুগল শুরু করেছিলেন দু'জন কলেজ ছাত্র - তাদের নাম ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন। তারা চেয়েছিলেন এমন একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে - যার মাধ্যমে অন্য ওয়েবপেজগুলোর একটা তুলনামূলক তালিকা করা যাবে। এর ভিত্তি হবে অন্য ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে কতগুলো তাদের সাথে সংযুক্ত হয়েছেন ।
৩. গুগল শব্দটা উৎপত্তি 'গুগোল' (googol) থেকে - যা একটি বিশেষ সংখ্যার নাম। সংখ্যাটা হলো : ১ এর পিঠে ১০০টা শূন্য বসালে যা হয় - তাই। কেন এই নাম বেছে নিয়েছিলেন ল্যারি আর সের্গেই? তাদের ওয়েবসাইট যে বিপুল পরিমাণ উপাত্ত ঘাঁটাঘাঁটি-অনুসন্ধান করবে - সেটাই এই নাম দিয়ে বোঝাতে চেয়েছিলেন তারা।
৪. প্রথম গুগল ডুডল - অর্থাৎ গুগলের হোম পেজে কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা দিনের স্মারক হিসেবে যে ছবি ব্যবহৃত হয় - তা তৈরি করা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, বার্নিং ম্যান নামের একটি উৎসব উদযাপনের জন্য। গুগলেল প্রতিষ্ঠাতারা ভেবেছিলেন এর মাধ্যমে তারা জানিয়ে দেবেন যে কেন তারা অফিসে অনুপস্থিত।
৫.গুগলের সবচেয়ে স্মরণীয় ডুডলগুলোর অন্যতম হচ্ছে চাঁদে পানির আবিষ্কার, এবং জন লেননের ৭০তম জন্মদিন উদযাপনের জন্য। জন লেননের ডুডলটি আবার ছিল প্রথম ভিডিও ডুডল।
৬.প্রথম গুগল সার্ভার রাখা হয়েছিল লেগো দিয়ে তৈরি একটি কাস্টম কেসে।
৭. গুগলের হেডকোয়ার্টার পরিচিত 'গুগলপ্লেক্স' নামে এবং এটি অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে।
৮.গুগলপ্লেক্সে টি-রেক্স জাতীয় ডাইনোসরের একটি বিশাল মূর্তি আছে - যার ওপর প্রায়ই অসংখ্য প্লাস্টিকের তৈরি গোলাপি ফ্ল্যামিঙ্গো বসে থাকতে দেখা যায়। গুজব রয়েছে যে এটা হচ্ছে কর্মচারীদের প্রতি এক সতর্কবার্তা যেন তারা কখনো গুগলকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে না দেন।
৯. গুগলের হেডকোয়ার্টারটি বিশাল এবং এর ভেতরে অনেক সবুজ জায়গা আছে। এখানে ঘাস কাটার জন্য লন-মোয়ার মেশিন ব্যবহার করা হয় না। এ জন্য গুগল বাইরে থেকে ছাগল ভাড়া করে নিয়ে আসে।
১০. গুগল হচ্ছে প্রথম বড় প্রযুক্তি কোম্পানি যারা তাদের কর্মচারীদের বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করে। তা ছাড়া কর্মচারীদেরকে তাদের পোষা কুকুর অফিসে নিয়ে আসতে দেয়া হয়।
১১. ২০০১ সালে চালু করা হয় গুগল ইমেজ সার্চ -যার অনুপ্রেরণা ছিল ২০০০ সালের গ্র্যামি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে জেনিফার লোপেজের পরা সবুজ পোশাক। এটি গুগলের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চে পরিণত হয়েছিল।
১২. গুগলের নিজস্ব ইমেইল সেবা জিমেইলের কথা ঘোষণা করা হয় ২০০৪ সালে ১লা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুলস ডে-তে। অনেকেই ভেবেছিলেন যে এটা আসলে একটা রসিকতা।
১৩. গুগলকে একটি ক্রিয়াপদ হিসেবে ('গুগল করা' অর্থে) প্রথম অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ২০০৬ সালে। মিরিয়াম-ওয়েবস্টার অভিধান লিখেছিল, গুগল করা মানে হচ্ছে 'ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব থেকে কোন তথ্য অনুসন্ধান করার জন্য গুগল সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করা।'
গুগল ইউটিউব কিনে নেয় ২০০৬ সালে
১৪. ইউটিউব গুগল পরিবারের সদস্য হয় ২০০৬ সালে। দেড়শ' কোটি ডলারেরও বেশি দামে ইউটিউবকে কিনে নেয় গুগল।এখন ইউটিউবের মাসিক ব্যবহারকারী প্রায় ২০০ কোটি। প্রতি মিনিটে ইউটিউবে আপলোড হয় ৪০০ ঘন্টার ভিডিও। ১৫. গুগলের একজন ইঞ্জিনিয়ার ২০০৯ সালে একবার ইন্টারনেট ব্যবস্থা 'ধসিয়ে দিয়েছিলেন' । তিনি দুর্ঘটনাবশত: গুগলের ব্লকড ওয়েবসাইটের রেজিস্ট্রিতে ফরোয়ার্ড স্ল্যাশ ('/') চিহ্নটি যোগ করে ফেলেছিলেন। যেহেতু প্রায় প্রতিটি ওয়েবসাইটেই '/' চিহ্নটি আছে, তাই সেসময় অনলাইনে কোন ওয়েবসাইটেই ঢোকা যাচ্ছিল না।
১৬.গুগল সার্চে ১৫ শতাংশ অনুসন্ধানই হচ্ছে একেবারে নতুন - যা আগে কখনো সার্চ করা হয় নি।
১৭. গুগল ২০১৮ সালের এপ্রিলে পরিণত হয় প্রথম কোম্পানিতে যারা শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করছে। এর অর্থ হচ্ছে তারা প্রতি এক কিলোওয়াট বিদ্যুত খরচ করার সাথে সাথে এক কিলোওয়াট বিদ্যুত ক্রয় করছে।
১৮. গুগলের আসলে ৬টি জন্মদিন আছে। কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে শুধু ২৭ সেপ্টেম্বরকেই তারা জন্মদিন হিসেবে পালন করবে।
১৯. গুগলের হাতে নানা রকম কূটকৌশল আছে। যেমন আপনি যদি এস্কিউ (askew) শব্দটি ইংরেজিতে সার্চ করেন তাহলে দেখবেন পুরো পেজটাই একদিকে কাত হয়ে গেছে।
২০. এ্যাপোলো ১১তে চড়ে চাঁদে মানুষ পাঠাতে যতটুকু কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহৃত হয়েছিল - এখন মাত্র একটি গুগল সার্চে প্রায় সেই পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা কাজে লাগানো হয়।
২১. গুগল এখন শুধু একটি সার্চ ইঞ্জিন নয়। ভবিষ্যতে এখানে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্ট্রিমিং-ভিত্তিক গেম খেলার ব্যবস্থা, এমনকি ড্রাইভারবিহীন গাড়ি।
সামাজিক কোনও বিষয়ের কথা এলে দেখা যায় মিথ্যার অস্তিত্ব থাকতে পারে কিংবা অন্তত সাদাসিধে কিছু নির্দোষ মিথ্যা-যা হয়তো সমাজে আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে।
এবং যদিও আমরা মিথ্যা ধরে ফেলতে খুব দক্ষ নই, কিন্তু তারপরও কিছু সহজ উপায় আছে যা হয়তো আপনাকে কোনটি মিথ্যা তা সহজে বুঝতে সাহায্য করবে...
মানুষের এবং প্রাণী জগতের মধ্যে বিদ্যমান অসদাচরণের পেছনে কি কারণ তা অনুসন্ধানের জন্য গবেষণা শুরু করেন জীববিজ্ঞানী এবং লেখক লুসি কুক। শান্তির জন্য সত্যকে কলুষিত করছি
প্রায়ই লোকজন যখন তাদের কথা বা কাজ দিয়ে আমাদের প্রতারিত করার চেষ্টা করে তখন আমরা তাকে বলি মিথ্যাচার।। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সাধারণ কথাবার্তায় সেটা ঘটতে পারে কারণ যেটা আমরা সত্যিকারে ভাবি সেটা কিন্তু আমরা বলি না।কল্পনা করুন তো, প্রতিটি আড্ডায়, আপনার সাথে যাদের আলাপ হয়েছে তাদের যদি আপনি বলেন, আপনার সম্পর্কে এবং আপনার জীবনের সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে তাদের সত্যিকার ভাবনা কি- সেটা জানাতে? সেটা হবে প্রচণ্ড অসহনীয়।
এমনকি যদি কারো অনেক টাকা দিয়ে করা নতুন হেয়ার স্টাইল দেখে তা আমাদের পছন্দ নাও হয় তবুও আমাদের বেশিরভাগই তা প্রকাশ করার দু:স্বপ্ন দেখবে না।
আমাদের বিবেচনা বলে যে, একশো ভাগ সত্যবাদী হওয়ার ফলে ভালোর চেয়ে তা ক্ষতিই করতে পারে এবং এইরকম পারস্পরিক সহযোগিতার আদান-প্রদানই মানুষের সামাজিক যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু ।
হ্যাঁ এভাবে প্রবঞ্চনা বা মিথ্যাচার হলো এক ধরনের আঠা যা আমাদের একে অপরের সাথে যুক্ত রাখে, সহযোগিতার চাকায় তেল দেয় এবং বিশ্বকে রাখে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শান্তিময়।
আমাদের এক-তৃতীয়াংশ রোজ মিথ্যা বলে
"প্রতিদিনই জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ গুরুতর মিথ্যা বলে"-মনোবিজ্ঞানী রিচার্ড ওয়াইজম্যান বলেছেন।
এবং যদিও সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে, পাঁচ শতাংশ মানুষ দাবি করেছে যে তারা কখনোই মিথ্যা বলেনি। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে আমাদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করে চালানো জরিপেও সত্যি বলতে অপারগ...
মিথ্যা শনাক্তকরণে বিচারকদের চেয়ে কয়েদীরা এগিয়ে
মনোবিজ্ঞানী রিচার্ড ওয়াইজম্যান বলেন, "আমরা মিথ্যা বলায় বেশ ভালো, মিথ্যা শনাক্ত করণে বেশ বাজে"।
আমরা মনে করি যে প্রতারণা ধরে ফেলতে আমরা বেশ দক্ষ, কিন্তু যখন দুইজন মানুষকে আপনি গবেষণাগারে নিয়ে যাবেন এবং একটি ভিডিও দেখাবেন যেখানে একজন মানুষ মিথ্যা বলছেন এবং আরেকটিতে তারা সত্যি কথা বলছে- এরপর যখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন কোনটা কি-তখন তাদের মধ্যে কেবল ৫০ শতাংশ মানুষ সঠিকভাবে বলতে পারবে।
এবং পুলিশ, আইনজীবী এবং এমনকি বিচারকদের ক্ষেত্রেও তা সত্য। সেখানে কেবল একটি গ্রুপ আছে যারা ভিন্ন এবং হল কারাবন্দী কয়েদীরা।
কারও মিথ্যা ধরতে হলে চোখ নয় নিজের কান-দুটো ব্যবহার করুন
মিথ্যা ধরে ফেলতে আমরা খুব একটা দক্ষ নই কারণ আমরা সব চাক্ষুষ করে বা চোখ দিয়ে দেখে তারপর বিচার-বিবেচনা করি। আমাদের ব্রেইনের বিশাল অংশ নিয়োজিত রয়েছে দৃষ্টিগোচর করার কাজে এবং সেকারণে কেউ মিথ্যা বলছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য আমরা এভাবেই বোঝার চেষ্টা করি।
তারা কি তাদের বসার আসনের চারদিকে ঘোরাঘুরি করছে? তারা কি ইঙ্গিত করছে? তাদের মুখের ভঙ্গি কেমন?
এর অধিকাংশ বিষয় মোটামুটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সুদক্ষ মিথ্যাবাদীরা জানে অন্য লোকেরা কিভাবে চেষ্টা করে এবং মিথ্যা ধরে ফেলতে চায়।
এর বাইরের সংকেতগুলি হচ্ছে মৌখিক: আমরা যা বলি এবং যেভাবে বলি।
এটা নিয়ন্ত্রণ করা মিথ্যাবাদীদের জন্য বেশ কঠিন -সুতরাং সেদিকে যদি আপনি নিজের মনোযোগ দেন তাহলে আপনি হবেন আরও ভালো মিথ্যা শনাক্তকারী। যারা মিথ্যাবাদী তারা সাধারণভাবে কম কথা বলে; তারা একটি প্রশ্নের পর উত্তর দিতে দীর্ঘ সময় নেয়; এবং তারা মিথ্যা থেকে নিজেদের দূরত্ব দেখাতে চায়: তাই "আমি", "আমার" এবং "আমি" শব্দগুলো প্রায়শই বাদ পড়ে যায়।
যা দেখছেন সবসময় কি তাই বিশ্বাস করেন?
যদি আপনি দক্ষ মিথ্যাবাদী হন, তাহলে কপালে 'কিউ' লিখুন
আমাদের মধ্যে কেউ কেউ একে অপরের চেয়ে বেশি মিথ্যা বলতে ওস্তাদ, এবং রিচার্ড ওয়াইজম্যান দুটি গ্রুপের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য একটি পরীক্ষা চালান। এটাকে বলে "কিউ" টেস্ট এবং এটা সম্পন্ন করার জন্য মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় লাগে। আপনার তর্জনী আঙ্গুল হাতের ওপর রাখুন এবং কপালের ওপর বড় হাতের "কিউ" আঁকুন।
প্রশ্ন হল, কিউ'র লেজের অংশটি কি আপনার ডান চোখের ওপরে পড়েছে? নাকি বা চোখের ওপরে?
অন্য কথায়,আপনি কি "কিউ" এমনভাবে লিখেছেন যাতে করে কেউ আপনার দিকে তাকালে সেটি পড়তে পারে? নাকি যাতে আপনি নিজেই সেটি পড়তে পারেন?
এই তত্ত্বের মানে হল যে, যদি "কিউর লেজ বাম চোখের ওপরে থাকে - তাহলে আপনার দিকে তাকালে লোকজন সেটা পড়তে পারে- সর্বদা আপনি ভাবছেন যে অন্যান্য লোকেরা আপনাকে কিভাবে দেখছে এবং সুতরাং আপনি একজন দক্ষ মিথ্যাবাদী হবেন।
কিন্তু যদি সেটি আপনি ডান চোখের বরাবর রাখেন তাহলে বুঝতে হবে যে আপনি বিশ্বকে দেখছেন আপনার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে -আপনার মধ্যে সততার প্রতি একটু বেশি ঝোঁক আছে।
পৃথিবী জালিয়াত শিল্পীদের দ্বারা পরিপূর্ণ
সব জায়গাতেই প্রতারণা। প্রাকৃতিক পৃথিবীতে প্রাণীকুল ছদ্মবেশ এবং ব্যবহার দ্বারা প্রতিনিয়ত একজন আরেকজনকে প্রতারণা করে যাচ্ছে ।
ধরা যাক সামুদ্রিক মাছ স্কুইডের কথাই, যেটি শিকারীর থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য ছদ্মবেশ ধারণ করে, কেবল নিজের দেহের একপাশে যৌন সংকেত পাঠিয়ে যা তার প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে নিজেকে গোপন রাখে।
এবং কখনো একটি মুরগীকে বিশ্বাস করবার নয়...পুরুষ মোরগগুলো এমনভাবে আওয়াজ করে খাবারের মিথ্যে প্রলোভন তুলে ধরবে যে নারী মোরগগুলো ছুটে আসবে। এরপর তাদের রাতের খাবারের পরিবর্তে যৌনকার্যে বাধ্য করবে।
সামুদ্রিক পাখিরা বেশিরভাগই আজীবনের জুটি বেঁধে থাকে এবং আমরা ভাবি যে, তারা হয়তো সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকে।
কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে এমনকি আজীবনের জন্য জুটি-বদ্ধ পাখিরাও-যেমন গিলিমট (উত্তর মেরু অঞ্চলের সামুদ্রিক পাখি) যদি মনে করে যে তাদের আরও এবং উন্নতমানের বংশ বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে তাহলে তারা গোপন "বিবাহ-বহির্ভূত" সম্পর্কে যুক্ত থাকবে।
মানুষ কখন মিথ্যাচার শুরু করে?
গবেষক রিচার্ড ওয়াইজম্যান বলেছেন, বাচ্চারা কখন থেকে মিথ্যা বলতে শুরু করে সে বিষয়ে কিছু মজার বিষয় উঠে এসেছে।
"আপনি শিশুদের একটি কক্ষে নিয়ে যাবেন, এবং তাদের বলবেন, 'আমরা তোমার প্রিয় খেলনা তোমার পেছনে রেখে দেবো, কিন্তু প্লিজ তাকাবে না'- এবং এরপর আপনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাবেন এবং তাদের আবারো মনে করিয়ে দিন খেলনার দিকে না তাকাতে"।
যেহেতু কোনও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড আপনি প্রত্যক্ষ করবেন, আপনি বুঝতে পারবেন যে, কয়েক মিনিট পরেই তারা খেলনার দিকে তাকাবে।
এরপর কক্ষে ফিরে গিয়ে তাদের কাছে জানতে চান, "তোমরা কি খেলনার দিকে তাকিয়েছিলে?"
"যখন তিন বছর বয়সী বাচ্চাদের সাথে আপনি এই টেস্ট করবেন এবং যে বয়সে তারা কথাবার্তায় পাকা হতে শুরু করেছে- দেখবেন ইতোমধ্যে তাদের ৫০শতাংশই মিথ্যে বলছে"-বলেন গবেষক রিচার্ড। "আর যখন তাদের বয়স পাঁচ বছরে পৌঁছাবে তখন তাদের একজনও সত্যি কথা বলবে না!"
আমাদের আছে কৌশলপূর্ণ ছলচাতুরীর দীর্ঘ ইতিহাস
জটিলতাপূর্ণ সামাজিক বিশ্বে দিক-নির্দেশনার জন্য অনেকক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে মিথ্যা।
শিম্পাঞ্জির মতো প্রাণীদের একটি বড় গ্রুপে থাকার বিশাল সুবিধা রয়েছে: আপনি খাদ্য শিকারের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে পারেন, এবং শিকারিদের খুঁজে বের করার জন্য আরও অনেক চোখ সক্রিয় থাকে।
কিন্তু যদি আপনি খাবারের জন্য অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকেন , সেটা লড়াইয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে যা আপনাকে এবং অন্যকে আহত করার ঝুঁকি তৈরি করে এবং সেটা একটি দলের জন্য নিশ্চয়ই বেহিসাবি ফলাফল আনবে। ফলে কৌশলপূর্ণ হওয়াটা আসলেই আপনার এবং অন্য সবার জন্য ভালো। সামাজিক প্রজাতির বিবর্তনে কৌশলগত প্রতারণার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
একটি অগ্রগামী সমাজ একতার সুরের সাথে এগিয়ে চলে যা একে অপরের সাথে একসূতোয় আবদ্ধ থাকার কথা বলে: গবেষণা বলছে যত বেশি কেতাদুরস্ত প্রাণী, তত বেশি ছল-চাতুরীর খেলা।
সুতরাং, মিথ্যাবাদী হওয়াটা সবসময়ই যে খুব খারাপ বিষয় তেমনটি নাও হতে পারে। সর্বোপরি, মিথ্যে ছাড়া আমরা থাকতে পারবো না: এটা আসলে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য খুব গুরুতর রূপ নিয়েছে।
আলঝেইমার্স রোগের গবেষণার জন্য নিজের মায়ের মৃতদেহ দান করেছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু সেটি গবেষণার কাজে ব্যবহৃত না হয়ে বিস্ফোরক পরীক্ষা করার কাজে ব্যবহার করা হয়। গত সপ্তাহে আমেরিকার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে একটি বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলার বিস্তারিত প্রকাশ পেয়েছে।
২০১৪ সালে সেই সেন্টারটিতে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই অভিযান চালিয়ে মানবদেহের কয়েকশত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পেয়েছে। এই সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, মৃতদেহ দানকারী ব্যক্তিদের ইচ্ছা অনুযায়ী সেগুলো গবেষণার কাজে ব্যবহার না করে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। আদালতের কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে, মৃতদেহ দানকারী ব্যক্তিদের পরিবারগুলো বলছে যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য মৃতদেহ দান করা হয়েছিল। একটি মামলার বাদী জিম স্টফার বলেন, তাঁর মা আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসার গবেষণার জন্য মৃতদেহ দান করেছিলেন। যেহেতু তিনি নিজে আলঝেইমার্স রোগে ভুগছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মি: স্টফার জানতে পারেন যে বিস্ফোরকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনী তার মায়ের মৃতদেহ ব্যবহার করেছিল।
শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ বা দেখভাল করে যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিসেস বিভাগ। কিন্তু মৃতদেহ দান করার বিষয়টি দেখভালের কেউ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃতদেহ কেনা-বেচা একটি অপরাধ। কিন্তু মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া, সংরক্ষণ করা, পরিবহন করা এবং ফেলে দেয়ার জন্য কিছু যৌক্তিক অর্থ নেয়া আইনসিদ্ধ কাজ।
কিন্তু এই 'যৌক্তিক অর্থ' বলতে কী বোঝায় সেটি অবশ্য পরিষ্কার নয়। চিকিৎসা গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর কত মৃতদেহ দান করা হয় সেটির কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে ধারণা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর কয়েক হাজার মানুষ শিক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য মৃতদেহ দান করে। তারা মনে করে, এই মৃতদেহ গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে।
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শেখানোর জন্য এই মৃতদেহ ব্যবহার করা হয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা কাজটি স্বচ্ছ উপায়ে করে। ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি অ্যানথ্রোপলজিক্যাল রিসার্চ ফ্যাসিলিটি বলছে, মানুষের মৃতদেহ কিভাবে পঁচে যায় সেটি নির্ণয় করার জন্য ফরেনসিক দলকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যানাটমিক্যাল সার্ভিসেস-এর এক কর্মকর্তা জানালেন, মৃতদেহগুলো কোথায় যাচ্ছে সেটি নির্ণয় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন বর্তমানে যেসব নিয়মকানুন আছে সেগুলো যথেষ্ট নয়। সুনির্দিষ্ট আইনের অভাবে দানকরা মৃতদেহগুলো যে উদ্দেশ্যে দেয়া হচ্ছে, সেটি পুরোপুরি পালন করা হচ্ছে না। এগুলোর অপব্যবহার হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যেসব প্রতিষ্ঠানে মৃতদেহ দান করা হয় সেগুলোকে সনদ দেয় আমেরিকান এসোসিয়েশন অব টিস্যু ব্যাংকস।
যদিও এ ধরণের সনদ বাধ্যতামূলক নয়। অ্যারিজোনার যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মৃতদেহ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তাদের কোন সনদ ছিল না এবং তারা সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক-ভিত্তিতে পরিচালিত। এই প্রতিষ্ঠানটি বিনা খরচে মৃতদেহ নিয়ে আসা এবং সমাহিত করার ব্যবস্থা করে। ফলে বিষয়টি নিম্ন আয়ের মানুষকে আকৃষ্ট করে।
কাতারের অ্যাসপিটার হাসপাতাল, যেটি ২০০৭ সালে চালু হয়েছে।
অন্যান্য দেশে মৃতদেহ দান ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে হিউম্যান টিস্যু অথরিটি নামে একটি সংস্থা আছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা গবেষণার জন্য মৃতদেহ দান করা হয়, সেখানে নিয়মিত পরিদর্শন করে টিস্যু অথরিটি। ব্রিটেনে ১৯টি প্রতিষ্ঠান আছে যারা দান করা মৃতদেহ গ্রহণ করে। অনেক দেশ আছে যেখানে ধর্মীয় কারণে চিকিৎসা গবেষণার জন্য মৃতদেহ দান করার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হয়। আফ্রিকার অনেক দেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার ক্ষেত্রেও নানা ধরণের সামাজিক বিধি-নিষেধ আছে। কাতারে একটি হাসপাতাল আছে যেখানে চিকিৎসা গবেষণার জন্য মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমদানি করা হয়। এই হাসপাতালটি ১২ বছর যাবত কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বায়োলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টারে যে ঘটনা ঘটেছে সেটি মৃতদেহ দানকারী শিল্পে অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে।
কিন্তু তারপরেও মৃতদেহ দানকরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মানবদেহকে বোঝার জন্য এটি অমূল্য একটি বিষয়। মৃতদেহ দানকরা নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারের সুসান পর্টারের ঘটনা। ২০১৫ সালে এই বৃদ্ধ নারী তার মৃতদেহ দান করেন কলোরাডো ইউনিভার্সিটির ভিজিবল হিউম্যান প্রজেক্ট-এর ড. ভিক স্পিটজারের কাছে। এই প্রজেক্টর মাধ্যমে মানবদেহকে ভার্চুয়াল নমুনায় রূপান্তর করা হয়।
সুসান পর্টারের মৃতদেহ কেটে ২৭০০০ টুকরা করা হয়। প্রতিটি টুকরার ছবি নিয়ে সেগুলোর ভার্চুয়াল স্তূপ করা হয় এবং সেগুলোর মাধ্যমে তার শরীরের থ্রিডি ইমেজ তৈরি করা হয়।
প্রতি বছর বিশ্বের প্রাকৃতিক নিদর্শন ও নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে তার গুরুত্বের জন্য বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়।
এবার ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি আজারবাইজানের বাকুতে ৪৩তম বৈঠকে বসেছে। সেখানে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন কোন কোন যায়গাগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হবে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় তারা যেসব নতুন নিদর্শন বা স্থানের নাম সংযুক্ত করেছেন তার কয়েকটি ছবি।
আইসল্যান্ডের ভাখনাইওকুল ন্যাশনাল পার্ক
আইসল্যান্ডের ভাখনাইওকুল ন্যাশনাল পার্কআইসল্যান্ডের মোট সীমানার ১৪ শতাংশ জুড়েই রয়েছে এই ভাখনাইওকুল ন্যাশনাল পার্ক। বরফে আচ্ছাদিত এবং আগ্নেয়গিরির বৈশিষ্ট্য সম্বলিত পুরো অঞ্চলটি দারুণ দৃষ্টিনন্দন। এখানে বিশাল অঞ্চল জুড়ে রয়েছে শুকিয়ে যাওয়া অগ্নুৎপাত।
ফ্রান্সের অস্ট্রাল ভূমি ও সমুদ্র
অনেকগুলো দ্বীপ সম্বলিত এই অঞ্চলটি। বিশ্বের সবচাইতে বেশি পাখি এবং সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী বাস করে এখানে। বিরল কিং পেঙ্গুইন দেখতে পাওয়া যাবে এখানে গেলে।
ভারতের জয়পুর নগরী
ভারতের উত্তর পশ্চিমে রাজস্থান প্রদেশের রাজধানী জয়পুরকে বলা হয় "গোলাপি নগরী"। কারণ শহরের ভবনগুলোকে দুর থেকে গোলাপি মনে হয়। এখানে বহু প্রাচীন ভবন রয়েছে। এমনকি শহরটি প্রথম যখন প্রতিষ্ঠা হয় সেই ১৭২৭ সালের সময়কার ভবনও রয়েছে। দারুণ সব কারুকার্য দিয়ে সাজানো এসব ভবন।
জাপানের প্রাচীন সমাধি
জাপানের ওসাকা শহরে এরকম ৪৯ টি প্রাচীন সমাধি রয়েছে। এগুলো তৈরি হয়েছে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শতাব্দী। এই সমাধিগুলোর নানান আকৃতির। যেমন এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তালার ছিদ্রের মতো আকৃতির সমাধি। এটির নামকরণ করা হয়েছে ২৯০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মানো সম্রাট নিনতোকুর নামে। এটি জাপানের সর্ববৃহৎ সমাধি ।
ইরাকের ব্যাবিলন
ইরাকের অবস্থিত প্রাচীন মেসোপটেমিয়া নগরীকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বহুদিন যাবত চেষ্টা চালাচ্ছিল ইরাকের কর্তৃপক্ষ। দেশটির যুদ্ধ ও সংঘাতময় রাজনীতির কারণে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাবিলন নগরী। তবে সম্প্রতি এর অতীত গৌরব সংরক্ষণে নানা ধরনের কাজ চলছে।
বাগান, মিয়ানমার
মিয়ানমারের প্রাচীন রাজধানী বাগান। ছবিতে যেগুলো দেখছেন এগুলো বৌদ্ধ মন্দির। সবুজ প্রকৃতির মধ্যে এমন হাজার মন্দির আগে থেকেই পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
লাওসের বয়াম সদৃশ প্রাচীন স্থাপনা
লাওসের ঝিংখাওয়াং অঞ্চলে পাথর দিয়ে তৈরি এরকম হাজার হাজার বয়াম সদৃশ বস্তু রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন এগুলো লৌহ যুগে তৈরি। কেন এগুলো তৈরি করা হয়েছিলো সেটি এখনো অনেক রহস্যময়। অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদ মনে করেন এগুলো সম্ভবত মরদেহ সৎকারে ব্যবহৃত হতো।
ইংল্যান্ডের এসব স্টেডিয়ামের একটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে –সচারচর যেমন আকৃতির স্টেডিয়াম দেখা যায়, এগুলো তেমন গোলাকার নয়। চলুন দেখি কোনটার কেমন আকার
লর্ডস
লর্ডস, লন্ডন ধারণ ক্ষমতা: ৩০,০০০ ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান: ৩৩৪ (ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ১৯৭৫) ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান: ১০৭ (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০০৩)
কার্ডিফ ওয়েলস স্টেডিয়াম, কার্ডিফ
কার্ডিফ ওয়েলস স্টেডিয়াম, কার্ডিফ ধারণ ক্ষমতা: ১৫,৬৪৩ ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান: ৩৮৬ (বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ২০১৯) ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান: ১২৫ (দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আফগানিস্তান, ২০১৯)
ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড
ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড, ব্রিস্টল ধারণ ক্ষমতা: ১৭,৫০০ ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান: ৩৬৯ (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ২০১৭) ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান: ৯২ (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে, ২০০৩)
এজবাস্টন, বার্মিংহাম
এজবাস্টন, বার্মিংহাম ধারণ ক্ষমতা: ১৫,৬৪৩ ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান: ৩৮৬ (বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ২০১৯) ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান: ১২৫ (দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আফগানিস্তান, ২০১৯)
হেডিংলি, লীডস
হেডিংলি, লীডস ধারণ ক্ষমতা: ১৮,৩৫০ ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান: ৩৫১ (পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ২০১৯) ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান: ৯৩ (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ১৯৭৫)
দি ওভাল, লন্ডন
দি ওভাল, লন্ডন ধারণ ক্ষমতা: ২৪,৫০০ ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান: ৩৯৮ (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড, ২০১৫) ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান: ১০৩ (দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ১৯৯৯
ওল্ড ট্যাফোর্ড, ম্যানচেস্টার ধারণ ক্ষমতা: ২৬,০০০ ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান: ৩৩৪ (আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ২০১৯) ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান: ৪৫ (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডা, ১৯৭৯)
ট্রেন্ট ব্রিজ, নটিংহ্যাম
ট্রেন্ট ব্রিজ, নটিংহ্যাম ধারণ ক্ষমতা: ১৭,৫০০ ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান: ৪৮১ (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ২০১৮) ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান: ৮৩ (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০০৮)
দ্য রিভারসাইড, চেস্টার-লে-স্ট্রিট
দ্য রিভারসাইড, চেস্টার-লে-স্ট্রিট ধারণ ক্ষমতা: ১৭,০০০ ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান: ৩৩৮ (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শ্রীলংকা, ২০১৯) ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান: ৯৯ (শ্রীলংকার বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ২০১৪)
হ্যাম্পশায়ার বোল, সাউদাম্পটন
হ্যাম্পশায়ার বোল, সাউদাম্পটন ধারণ ক্ষমতা: ২৫,০০০-এর মত ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান: ৩৭৩ ( পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ২০১৯) ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান: ৬৫ (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, ২০০৪)
কাউন্টি গ্রাউন্ড, টনটন
কাউন্টি গ্রাউন্ড, টনটন ধারণ ক্ষমতা: ১২,৫০০-এর মত ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান: ৩৭৩ (শ্রীলংকার বিপক্ষে ভারত, ১৯৯৯) ওয়ানডেতে এই মাঠে সর্বনিম্ন রান: ১৭২ (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তান, ২০১৯)
আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রথম কবে কথা বলতে শিখেছিল? এখন যে হাজার হাজার ভাষায় মানুষ কথা বলে সেগুলো কি ওই একজন পূর্বপুরুষের কাছ থেকেই এসেছিল? এসব ভাষার ইতিহাস থেকে কি তার উৎস খুঁজে বের করা সম্ভব? লেখক ও ভাষা-প্রেমিক মাইকেল রোজেন সেটাই অনুসন্ধান করে দেখছেন... "পৃথিবীতে মানুষই হলো একমাত্র প্রাণী যাদের ভাষা আছে, এই ভাষার কারণে আমরা অন্যসব প্রাণী থেকে আলাদা হয়েছি," বলেছেন নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাগি টলারম্যান।
ভাষার মাধ্যমে এই যে ভাবের বিনিময়, কথার আদান প্রদান, সেটাকে দেখা হয় বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হিসেবে। সবকিছুকে বদলে দিয়েছে এই ভাষা। আর একারণেই মানুষ ভাষার উৎস সম্পর্কে জানতে দারুণ উৎসাহী।
"জটিল যতো বিষয় আছে তার একটি এই ভাষা এবং এটিই আমাদের মানুষ বানিয়েছে, বলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানব বিবর্তন বিভাগের শিক্ষক ও নৃবিজ্ঞানী রবার্ট ফোলি।
মানুষকে বুঝতে হলে তার ভাষাও বুঝতে হবে।
ভাষার বয়স কতো
বর্তমানে পৃথিবীতে মানুষ সাড়ে ছ'হাজারের মতো ভাষায় কথা বলে। কিন্তু এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ভাষা কোনটি? সবচেয়ে পুরনো ভাষার নাম জানতে চাইলে আমরা অনেকেই ভাবি ব্যাবিলনীয়, সংস্কৃত কিম্বা মিশরীয় ভাষার কথা। কিন্তু অধ্যাপক টলারম্যান বলছেন, এসব ভাষা তার ধারে-কাছেও নেই। সাধারণত আমরা বলি যে ভাষা ছ'হাজার বছর পুরনো। কিন্তু ভাষার প্রকৃত উৎস যদি খুঁজে দেখতে হয় তাহলে অন্তত ৫০ হাজার বছর পেছনে ফিরে যেতে হবে। বহু ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন, ভাষার ইতিহাস আসলে এর চেয়েও পুরনো। "আমাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন যে ভাষার উৎপত্তি পাঁচ লাখ বছর আগেও হতে পারে," বলেন অধ্যাপক টলারম্যান।
ভাষার উৎস খুঁজতে আমাদের কতো পেছনে যেতে হবে?
একই পূর্বপুরুষ
পৃথিবীতে যতো ভাষা আছে সেগুলোর চরিত্র আলাদা আলাদা হলেও "এটাও সম্ভব যে বর্তমানে সব ভাষাই একজন পূর্বপুরুষের কাছ থেকে এসেছে," বলেন অধ্যাপক ফোলি। জীববিজ্ঞানের বিবর্তনের ইতিহাসের সূত্র ধরে বিজ্ঞানীরা ভাষা কবে শুরু হয়েছিল তার কাছাকাছি যেতে পেরেছেন। জিন-বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুসারে আমরা কমবেশি সবাই এসেছি আফ্রিকার একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে। ভাষার এই তালিকার বাইরেও হয়তো অন্যান্য ভাষাও থাকতে পারে, কিন্তু আজকের দিনে যেসব ভাষায় কথা বলতে শোনা যায় সেগুলোর সবই সম্ভবত একই ভাষা থেকেই বিবর্তিত হয়েছে।
জীবাশ্ম থেকে অনেক কিছু জানা সম্ভব।
জীবাশ্ম থেকে প্রমাণ
আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবাশ্ম থেকে কিছু ধারণা পাওয়া যায় যে আমরা ঠিক কবে থেকে কথা বলতে শুরু করেছিলাম। অধ্যাপক ফোলি বলছেন, "কথা হচ্ছে একধরনের শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া। এটা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই আমরা শব্দ তৈরি করে থাকি।" এটা করার জন্যে শরীরের পেশীর ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকতে হয়। "আমাদের বক্ষ এবং উদরের মাঝখানে যে ঝিল্লির পর্দা সেটি অন্যদের থেকে আলাদা। আমাদের কাছাকাছি যে প্রাণী, অর্থাৎ বানর বা এইপ, যারা কথা বলতে পারে না, তাদের ঝিল্লির তুলনায় আমাদের ঝিল্লিতে নার্ভের সংখ্যা বহুগুণে বেশি।" এসব নার্ভের অর্থ হচ্ছে "আমাদের স্পাইনাল কর্ড এইপের স্পাইনাল কর্ডের চেয়ে মোটা এবং আমাদের ভার্টিব্রাল কলামও একটু বেশি প্রশস্ত। নিয়েন্ডারথাল নামে আমাদের যে আত্মীয় বিলুপ্ত হয়ে গেছে, যারা ছ'লাখ বছর আগেও পৃথিবীতে বেঁচে ছিল, তাদের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে তাদের স্পাইনাল কলামও প্রশস্ত ছিল। কিন্তু আপনি যদি দশ লাখ বছর আগের হোমো ইরেক্টাসের দিকে তাকান, যারা মানবজাতির প্রাচীনতম পূর্বপুরুষ, তাদের দেহে এরকম ছিল না। এ থেকে একটা ধারণা পাওয়া যায় যে মানুষ কবে থেকে কথা বলতে শুরু করেছিল।
কারা কথা বলেছিল প্রথম?
জিন-বিজ্ঞানের ভূমিকা
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবাশ্মের রেকর্ডের বাইরেও জিন-বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে ভাষার বয়স জানা সম্ভব হচ্ছে। "এফওএক্সপিটু নামের একটি জিন আছে। স্তন্যপায়ী প্রায় সকল প্রাণীর শরীরেই আছে এই জিন। কিন্তু মানবদেহে যেটি আছে সেটি এর রূপান্তরিত জিন," বলেন অধ্যাপক ফোলি। "জিনের এই রূপান্তর গবেষণা করেও বোঝা যায় কেন মানুষ কথা বলতে পারে, কিন্তু শিম্পাঞ্জি পারে না। কথা বলা ও ভাষার বিকাশে এই জিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কারণ যেসব মানুষের শরীরে এই জিনটি রূপান্তরিত অবস্থায় থাকে না, তাদের কথা বলতে অসুবিধা হয়।" মজার বিষয় হচ্ছে, এখনকার মানুষদের মতো নিয়েন্ডারথালদেরও এই এফওএক্সপিটু ধরনেরই জিন ছিল। এর ফলে ধারণা করা যায় যে তাদের মধ্যেও কোন না কোন ধরনের কথা বা ভাষা ছিল। তবে তাদের সেই ভাষা সম্পূর্ণ এবং উন্নত ছিল কিনা সেটা ভিন্ন বিষয়। অধ্যাপক টলারম্যান বলছেন, কথার সাথে ভাষার তফাৎ আছে। তবে কী কারণে কথা একসময় ভাষা হয়ে উঠে সেটা জিনগত তথ্যপ্রমাণ থেকে নির্ণয় করা কঠিন।
আকারে বড় হওয়া সত্ত্বেও বিলুপ্ত হয়ে গেছে নিয়েন্ডারথাল।
মস্তিষ্কের আকার
আদি-মানবের মাথার খুলির আকৃতি থেকে কি ভাষার উৎপত্তির সময় খুঁজে বের করা সম্ভব? অবশ্যই না। সবচেয়ে সহজ কারণ হলো আমরা ঠিক জানি না যে একটি ভাষা তৈরির জন্যে কতো বড় মস্তিষ্কের প্রয়োজন হয়। "নিয়েন্ডারথালসের মস্তিষ্ক আমাদের চেয়েও বড় ছিল। কারণ প্রাণী হিসেবেও তারা বড় ছিল," বলেন অধ্যাপক টলারম্যান।
প্রথম শব্দ কী ছিল
আমরা যখন মানবজাতির শুরুর দিকের ভাষা নিয়ে কথা বলছি, আমরা কি বলতো পারবো তখন মানুষের মুখ থেকে প্রথম কোন শব্দটি উচ্চারিত হয়েছিল? "সৎ উত্তর হচ্ছে: আমাদের আসলে কোন ধারণাই নেই," বলেন প্রফেসর ফোলি। মানব ইতিহাসের শুরুর দিকে যে শব্দগুলো চালু ছিল বলে ধারণা করা হয় সেগুলোর অর্থ হতে পারে 'ঈগল', 'চিতা' অথবা 'দেখো।' অনেকে মনে করেন, আমাদের পরিবেশের আশেপাশে সহজ ও সুনির্দিষ্ট কোন জিনিসই হয়তো মানুষের মুখ থেকে প্রথম এসেছিল। আরেকটি তত্ত্ব হচ্ছে প্রথম দিককার শব্দগুলোর মধ্যে এমন শব্দগুলোই ছিল যেগুলো আমরা এখন সবসময় ব্যবহার করি। যেমন: ইশ, হেই, ওয়াও, থ্যাংকস, গুডবাই- এধরনের শব্দ। এসব শব্দ প্রায় সব ভাষাতেই আছে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে মিল হচ্ছে যে এসবের কোন সিনটেক্স বা ব্যাকরণ নেই।
আদিম জীবনের একটি চিত্র।
খাওয়ার সময় ভাষা তৈরি হয়েছিল?
মানবজাতির শুরুতে কথা বলা শুরু হয়েছিল একে অপরকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি খাদ্য গ্রহণ করতে গিয়েও। আমাদের পূর্বপুরুষরা বড় বড় শিকারি প্রাণীদের হাতে নিহত পশুর মৃতদেহ থেকে মাংস খেয়ে জীবন ধারণ করতো। "হায়েনাদের হাতে নিহত পশুদের মরদেহ থেকে মাংস খেতে হলে আপনার সাথে আরো কিছু মানুষের প্রয়োজন হতো। কারণ এটা একটা বিপদজনক কাজ ছিল," বলেন অধ্যাপক টলারম্যান। "আপনি যখন খাবারের খোঁজে ঘর থেকে বের হলেন, একটা পশুর ভালো মৃতদেহও খুঁজে পেলেন এবং আপনার গ্রুপের লোকজনদের জানাতে চান যে আশেপাশেই ভালো খাবার আছে তখন তো একটা ভাষার দরকার হবে," বলেন তিনি। বিজ্ঞানীদের ধারণা খাদ্য গ্রহণের তাড়না এবং বেঁচে থাকার চেষ্টার কারণে মানুষের মধ্যে একে অপরকে জানানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
পরচর্চা বা গসিপের ভূমিকা
বিজ্ঞানীরা বলছেন, একসাথে মিলে কাজ করার ক্ষমতা থেকেও ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা তৈরি হয়েছে। "পরস্পরকে সহযোগিতা করাই এক্ষেত্রে পালন করেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, বলেন অধ্যাপক ফোলি, "বিশেষ করে জোটবদ্ধ হওয়া এবং চারপাশে কী হচ্ছে সেটা জানার চেষ্টা করা।"
"এই আড্ডা মারার মতো করে কথা বলার গুরুত্বও কম ছিল না। টুকটাক কথা বলা, পরচর্চা বা গসিপ এগুলো প্রতিদিনেরই অংশ," বলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ইতিহাসবিদ ড. লরা রাইট।
১৯৭৫ সালের ১৪ই জুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ায় প্রথম উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র স্থাপন করেন, তখন আমাদের অংশগ্রহণ ছিল শুধু ব্যবহারকারী হিসেবে। আর সেখান থেকেই পরবর্তীকালে নিজস্ব স্যাটেলাইট অর্জনের ভিত রচিত হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলা শুরু সেখান থেকেই। বাংলাদেশে প্রথম স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। সে সময় মহাকাশের ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে কক্ষপথ বরাদ্দ চেয়ে জাতিসংঘের অধীন সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে (আইটিইউ) আবেদন করে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের ওই আবেদনের ওপর ২০টি দেশ আপত্তি জানায়।কিন্তু থেমে থাকেনি লাল সবুজের দেশ। তারই ফলাফল আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের এর উৎক্ষেপণ।
চলুন ধাপে ধাপে আমরা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের বিস্তারিত তথ্য জানার পাশাপাশি বিশ্বের প্রথম স্যাটেলাইট, স্যাটেলাইটের কার্যাবলি এবং সেই সাথে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উপকারিতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি ।
বিশ্বের প্রথম স্যাটেলাইটের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
সময়টা ১৯৫৭ সাল, ৪ অক্টোবর, রাত ১০:২৯ । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির ক্ষমতা সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই অবগত সবাই। সেই সাথে প্রযুক্তির দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল রাশিয়া। ইতিহাসের সর্বপ্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক-১’ পৃথিবীর অভিকর্ষের মায়া কাটিয়ে চলে গেল তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে। স্পুটনিক রুশ শব্দ, যার অর্থই হলো ‘উপগ্রহ’।
A replica of Sputnik-1 at the US national air and space museum
অনেকটা ভলিবল আকৃতির সেই কৃত্রিম উপগ্রহটির ভর ছিল ৮৩৬ কেজি মাত্র। তবে স্থায়ীত্ব বেশিদিন ছিল না, মাত্র তিন মাস। সর্বমোট ৭০ মিলিয়ন কিলোমিটার আবর্তনের পর পৃথিবীর বুকে ছিটকে পড়ে।
আর সেই থেকেই মানুষ মহাশুন্যে পাড়ি জমানোর এতদিনের স্বপ্নকে বাস্তবে দেখা শুরু করে। একের পর এক সব দেশ স্যাটেলাইট পাঠাতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ৫৬টি দেশ এই পর্যন্ত নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হয়েছে। আমাদের দেশ আজ ৫৭ তম নিজস্ব স্যাটেলাইটের অংশীদার।
বঙ্গবন্ধু-১ এর বৈশিষ্ট্য, উৎক্ষেপণ এবং কিছু তথ্য
বঙ্গবন্ধু-১ হলো আমাদের দেশের প্রথম একটি ভূ-স্থির যোগাযোগ উপগ্রহ বা সহজ কথায় কৃত্রিম উপগ্রহ যা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে অবস্থিত ক্যাপ ক্যানাভেরাল-এর ‘কেনেডি স্পেস সেন্টার,লঞ্চ প্যাড ৩৯এ’ থেকে উৎক্ষেপিত হয়। বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর তারিখ ঠিক করা হয়, তবে হারিকেন ইরমার কারণে ফ্লোরিডায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলে তা পিছিয়ে যায়। ২০১৮ সালেও কয়েক দফা উৎক্ষেপণের তারিখ পিছিয়ে যায় আবহাওয়ার কারণে। চূড়ান্ত পর্যায়ে উৎক্ষেপণ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৪ মে ২০১৮ তারিখে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে দুই পর্যায়ের এই রকেটের স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট সম্পন্ন হয়। কৃত্রিম উপগ্রহটি ১০ মে ২০১৮ তারিখে উৎক্ষেপণের তারিখ ঠিক করা হয়; কিন্তু ১০ মে উৎক্ষেপণের সময় t-৫৮ সেকেন্ডে এসে তা বাতিল করা হয়।শেষ মিনিটে কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়। অবশেষে এটি ১১ মে উৎক্ষেপণ করা হয়। কৃত্রিম উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করার পর, বাংলাদেশ ১২ মে ২০১৮ তারিখে এটি থেকে পরীক্ষামূলক সংকেত পেতে শুরু করে।
Launch Pad 39A, Kennedy Space Center
বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন কর্তৃক বঙ্গবন্ধু-১ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। এর প্রধান কন্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে স্পারসো (SPARRSO)। বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালের ১১ই নভেম্বর ‘’থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস’’ নামক এক ফরাসি কোম্পানির সাথে যাবতীয় যন্ত্রপাতির ডিজাইন বা নকশার জন্য চুক্তি করে।
বিটিআরসিকে শুধু ডিজাইন এবং যন্ত্র নির্মানের জন্য গুনতে হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বমোট খরচ প্রায় ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা যার অর্ধেক সরকারি তহবিলের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক বিদেশি সংস্থার কাছে থেকে প্রাপ্ত।
এই কৃত্রিম উপগ্রহটির সর্বমোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ব্যান্ড আছে । হয়তো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে ট্রান্সপন্ডার ব্যান্ড কী । একদম সহজ! ধরুন একটি প্রেরক অ্যান্টেনা এবং আরেকটি প্রাপক অ্যান্টেনা । এই দু’য়ের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল গঠন, যা ইন্টার-কানেক্টেড ইউনিট সিরিজে যুক্ত থাকে ।
This is not actual Bangabandhu-1 satellite. But its’s 4000b2 space bus which is same as bangabandhu-1.
৪০ টি ট্রান্সপন্ডার ব্যান্ডের মধ্যে ১৪টি ‘সি’ ব্যান্ড এবং ২৬টি ‘কেইউ’ ব্যান্ড। সর্বমোট ৪০টি ব্যান্ডের মধ্যে ২০টি ব্যান্ড নিজেদের জন্য এবং বাকি ২০টি ব্যান্ড বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। এটি ৪০০০বি২ স্পেসবাস প্লাটফর্মের।
১৬০০ ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন(যার উৎস ২টি সৌর ব্যাটারি) স্যাটেলাইটটির ভর ১৩০০ কেজি হলেও বাহক রকেটসহ উৎক্ষেপণ ভর ছিল প্রায় ৩৬০০ কেজি ।
স্পেস এক্স এবং বঙ্গবন্ধু-১
এবার আসি স্পেস এক্স এর কথায়। এলন মাস্ক, যাকে আমরা কমবেশি সবাই চিনি। বর্তমানে প্রযুক্তির বরপুত্র বলা হয় কাকে? উত্তরটি চোখ বন্ধ করেই বলে দেয়া যায় বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা উদ্ভাবক এবং বিখ্যাত স্পেস এক্স এর কর্ণধার এলন মাস্কের নাম। যিনি ‘হাইপারলুপ’ নামক একটি নকশার পরিকল্পনা করেছেন যেখানে একটি বিশেষ টিউবের মধ্য দিয়ে দ্রুতগতির ট্রেন সিস্টেম পরিচালিত হবে। এলন মাস্কের আরো একটি বড় পরিচয় হচ্ছে তিনি ‘টেসলা মটরস’ এরও প্রধান নির্বাহী।
বলতে গেলে দ্রুতগতির যোগাযোগ ব্যবস্থার বর্তমান রক্ত মাংসের একক হচ্ছেন ‘এলন মাস্ক’। নাসার সাথে একযোগ হয়ে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনায় মত্ত এই স্বপ্নবাজ মানুষেরই রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স। আর এই স্পেস এক্স হলো আমাদের দেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১’ এর লঞ্চ অপারেটর। অর্থাৎ উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে দেয়ার গুরু দায়িত্ব কোম্পানিটির উপরে।
আর তাই আমাদের বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি স্পেস এক্স-এর তৈরি ‘ফ্যালকন-৯’ নামক রকেটের স্পেস শাটলের কার্গো বে এর মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। ফ্যালকন হচ্ছে একটি রকেট পরিবার যেখানে ৩ ধরণের ফ্যালকন রকেটের সমাহার দেখা যায়।
‘ফ্যালকন-১, ফ্যালকন-৯ এবং ফ্যালকন হেভি’। তবে আমাদের বঙ্গবন্ধু-১, ৬ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ফ্যালকন -৯ রকেটের অত্যাধুনিক ১.২ ভার্সনের(ফুল থ্রাস্ট) নাকের ডগায় অবস্থান নিয়ে উড়াল দিয়েছিল পৃথিবী থেকে।
উৎক্ষেপণের মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় রকেটের নিচের অংশ পৃথিবীতে ফেরত আসে এবং উপরের স্যাটেলাইট চেম্বার নিয়ে যায় তার গন্তব্যস্থলে। সেখানে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (ISS)-এ পৌঁছার পর প্রয়োজনীয় ধাপ পার করে একে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ছেড়ে দেয়া হয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ফ্যালকন-৯ রকেট বেশ সফল। তবে মহাকাশে সর্বপ্রথম গাড়ি টেসলা রোডস্টার পাঠানো হয় কিন্তু ফ্যালকন-হেভি নামক রকেটের সাহায্যে।
Image: Falcon 9 FT (v1.2)
স্যাটেলাইটের কাজ এবং ধরণ:
আমরা জানি একটি স্যাটেলাইট পৃথিবীর চারদিকে ডিম্বাকার পথে পরিভ্রমণরত থাকে। তবে একে উৎক্ষেপণের পর একটি নির্দিষ্ট দ্রুতি প্রদান করা হয় যাতে কক্ষপথে ঘুরতে থাকে এবং কেন্দ্রমুখী বলের মাধ্যমে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
আমরা পদার্থবিজ্ঞানে পড়েছি যে কোনো বস্তুকে ১১.২ কি.মি/সেকেন্ড বেগে উপরে নিক্ষেপ করলে তা আর পৃথিবীতে ফেরত আসে না। অর্থাৎ চাঁদের মত পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু একটি স্যাটেলাইটকে ২৫০ কি.মি. উপরে তুলে এবং পৃথিবী পৃষ্ঠের সমান্তরালে এমন ভাবে উৎক্ষেপ করতে হয় যেন তা প্রতি সেকেন্ডে ৮ কি.মি পথ অতিক্রান্ত করে। যা রকেটের সাহায্য ছাড়া একদমই অসম্ভব।
সাধারণত পৃথিবী থেকে রেডিও অ্যাকটিভ বা বেতার তরঙ্গ ব্যবহারের মাধ্যমে স্যাটেলাইটে তথ্য প্রেরণ করা হয়। সেক্ষেত্রে স্যাটেলাইট তখন প্রাপক যন্ত্র হিসেবে কাজ করে এবং রিসিভ করা উপাত্তকে বিবর্ধিত করে পুনরায় পৃথিবীতে প্রেরণ করে। স্যাটেলাইট থেকে আসা সিগন্যাল কিছুটা কম শক্তিসম্পন্ন যার জন্য প্রথমে ডিশ অ্যান্টেনা ব্যবহার করে প্রাপ্ত সিগন্যালকে কেন্দ্রীভূত করা হয় এবং রিসিভার দিয়ে গ্রহণ করে পরবর্তী কাজগুলো সম্পন্ন হয়। আমরা নিরবিচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা পেয়ে থাকি।
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট হচ্ছে জিওস্ট্যাশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট যা শুধুমাত্র যোগাযোগ ক্ষেত্রে অর্থাৎ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ, টেলিভিশন সম্প্রচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। তবে আপাতত আবহাওয়া সম্পর্কিত কোনো উপাত্ত সংগ্রহে ভূমিকা রাখতে পারছে না বঙ্গবন্ধু-১।
এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইট আছে। মিলিটারি, ওয়েদার, ন্যাভিগেশন, আর্থ অবজারভেশন সহ আরও বিভিন্ন স্যাটেলাইট কাজের ধরন অনুযায়ী মহাকাশে স্থাপন করা হয়। এক এক স্যাটেলাইটের কাজের ধরণ বিবেচনায় এক এক উচ্চতায় স্থাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন স্যাটেলাইটের কাজে ভিন্নতা থাকলেও প্রতিটি স্যাটেলাইটেরই শক্তির উৎস হচ্ছে সূর্য। এদের গায়ে সৌরকোষ লাগানো থাকে যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শক্তি গ্রহণ করে তথ্য প্রেরণে ভূমিকা রাখে।
কমিউনিকেশন এবং ভূ-স্থির স্যাটেলাইট কী?
এক কথায় যোগাযোগ সম্পন্নের জন্য যে স্যাটেলাইট। একটু বুঝিয়ে বলি। আপনি যদি কোনো স্যাটেলাইটকে পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে প্রায় ৩৫ হাজার ৭৮৬ কি.মি. উচ্চতায় স্থাপন করেন তবে তার পৃথিবীর চারদিকে সমবেগে একবার আবর্তন করতে সময় লাগবে ২৪ ঘন্টা(২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড)। আবার পৃথিবীও নিজ কক্ষপথে চারদিকে একবার ঘূর্ণন সম্পন্ন করতে সময় নেয় ২৪ ঘন্টা। তার মানে পৃথিবীর সাপেক্ষে আপনি ভূ-উপগ্রহকে দেখলে মনে হবে স্থির হয়ে আছে। আর যেহেতু ভূপৃষ্ঠের সাপেক্ষে কক্ষপথ স্থির সেহেতু এই কক্ষপথের নাম হচ্ছে জিওস্ট্যাশনারি অরবিট বা ভূ-স্থির কক্ষপথ।
তবে একটু সমস্যা আছে । আমাদের পৃথিবীর আকৃতিগত বক্রতার কারণে এই ধরণের শুধু একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ রক্ষার্থে পুরো পৃথিবীকে সেবাদান করতে পারে না ।
সেক্ষেত্রে তিনটি স্যাটেলাইটকে পরষ্পর ১২০ ডিগ্রি কোণে জিও স্ট্যাশনারী অরবিটে স্থাপনের মাধ্যমে সহজেই পুরো পৃথিবীর কভারেজ প্রদান সম্ভব।
কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমাদের টেলিভিশন সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ, রেডিও বার্তা প্রদান, দ্রুতগতির নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা ইত্যাদি নিশ্চিত হবে।
আর আমাদের বঙ্গবন্ধু-১ হচ্ছে ঠিক এরকম ভূ-স্থির কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট।
বঙ্গবন্ধু-১ এর কক্ষপথ
২০১১ সালে বাংলাদেশের পাঠানো ভবিষ্যত স্যাটেলাইটের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ১০২ ডিগ্রি পূর্ব স্লট নির্ধারন করেছিল। সেক্ষেত্রে রাশিয়ান সর্ববৃহৎ স্যাটেলাইট কোম্পানি ‘ইন্টারস্পুটনিক’ এর কাছ থেকে অরবিটাল স্লটের জন্য চুক্তিও করা হয়। আমাদের দেশ সবসময়ই চেয়েছিল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে যেন ১০২ ডিগ্রি পূর্ব স্লটকেই দেয়া হয়।
কিন্তু দু:খের বিষয় সেই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া সহ প্রায় ২০টি দেশ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য আপত্তি প্রকাশ করে। তবে তার মূল কারণ ছিল ১০২ ডিগ্রি স্লট নিয়ে। কারণ ১০২ ডিগ্রির আশেপাশে অন্যান্য স্যাটেলাইটের অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট এবং সেই সাথে অন্যান্য স্যাটেলাইটেও ফ্রিকোয়েন্সি পেতে সমস্যা হতে পারে।
তখন আমাদের দেশ পুনরায় ভিন্ন একটি উপায় বের করে এবার ৬৯ ডিগ্রিতে আবেদনের চিন্তা করে। কিন্তু তা বাতিল করতে হয় সিঙ্গাপুর, চীন এবং মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য আপত্তির কারণে। তাই স্পুটনিকের কাছ থেকে ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ স্লট কিনে নেয়া হয়, যার জন্য খরচ পড়েছে প্রায় ২১৯ কোটি টাকা (২.৮০ কোটি মার্কিন ডলার)। কিন্তু আমাদের দেশের অবস্থান ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে বিধায় স্যাটেলাইটের অবস্থান হয় ইন্দোনেশিয়া বরাবর।
আমাদের এই স্যাটেলাইটের প্রাথমিক মেয়াদ ধরা হয়েছে ১৫ বছর। এর মানে হলো ‘স্পুটনিক’ আমাদেরকে তাদের ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখাকে ১৫ বছরের জন্য ভাড়া দিয়েছে। তবে আরও দু’বার ১৫ বছর করে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত কক্ষপথ কেনা যাবে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকার আরও দুটি স্লটের জন্য আবেদন করবে। স্লট দুটি হলো ৬৯ ডিগ্রি পূর্ব এবং ১৩৫ ডিগ্রি পূর্ব। অদূর ভবিষ্যতে আরও ২টি স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীর কভারেজ নেয়া সম্ভব হবে।
তাই আপাতত ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ কক্ষপথেই স্থাপিত হয় আমাদের লাল সবুজের গর্বের বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট।
বঙ্গবন্ধু-১ নিয়ন্ত্রণের গ্রাউন্ড স্টেশন:
একটি স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে ছেড়ে দিলেই যদি কাজ শেষ মনে করেন, তবে ভুল ভাবছেন। একে কন্ট্রোল করতে হয়। ২৪ ঘণ্টা রক্ষণাবেক্ষণ না করলে যেকোনো সময় কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়তে পারে। আর সেই লক্ষ্যে আমাদের দেশ থেকেই বঙ্গবন্ধু-১-কে নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ করছে দেশের সেরা ১৮ জন স্যাটেলাইট প্রকৌশলী। গ্রাউন্ড স্টেশন দু’টি হলো ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরের বিসিএসসিএল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।
ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া ৩ বছরের জন্য একে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিলেও মূল কাজ সম্পাদিত হয় জয়দেবপুরের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকেই।
বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু-১ :
প্রযুক্তিগত উন্নয়নে মানুষের কল্যাণের পরিধি কখনোই ছোট হয় না। যে দেশ প্রযুক্তিতে যত বেগবান, সেই দেশ ততো বেশি সমৃদ্ধশালী। রাশিয়ার ইতিহাসে চোখ রাখলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে। আমাদের দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। অর্থাৎ যোগাযোগের ব্যবস্থাও উন্নত হচ্ছে। তার মানে স্যাটেলাইটের ব্যবহারও বাড়ছে। কিন্তু আমরা সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট সেবা ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করে আসছি, যার জন্য সরকারকে প্রতি বছর গুণতে হয় ১২৫ কোটি টাকা। তাহলে একবার ভাবুন দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু!
একটি হিসেবে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সেবায় শুধু বৈদেশিক মুদ্রাই সাশ্রয় হবে না, উপরন্তু এর কিছু অব্যবহৃত অংশ মায়ানমার, নেপাল, ভূটানের মতো দেশে ভাড়া দিয়ে প্রতি বছর ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা সম্ভব। যার ফলে বঙ্গবন্ধু-১ প্রকল্পের সর্বমোট খরচ তুলতে ৫-৭ বছরের বেশি লাগবে না। এখন আর আমাদেরকে অন্য দেশের স্যাটেলাইটের উপর নির্ভর করে চলতে হবে না। টেলিভিশন সম্প্রচারের খরচও অনেকটা কমে যাবে।
এছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্র যেমন টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা উন্নত হবে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তথ্য আদান-প্রদানে গোপনীয়তা অত্যন্ত জরুরি যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশ ‘স্যাটেলাইট ফোন’ ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের জন্য এই প্রথম বারের মত নিজস্ব স্যাটেলাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
This is offical photo of Falcon 9 Block 5, carrying Bangabandhu-1. Source: Twitter, SpaceX Update.
কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটের অন্যতম সেবা হচ্ছে দূর্যোগের সময়েও দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রদান যা বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় কম খরচ সহ প্রযুক্তিখাতে এক নতুন ভিত্তি রচনা করবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে দেশের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এই স্যাটেলাইট প্রয়োজনীয় ‘ই-সেবা’ প্রদান করে জরুরি মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় এই স্যাটেলাইট সাফল্যের সাথে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই দুনিয়ায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট থেকে ৩ ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে।
টিভি চ্যানেলগুলো তাদের সম্প্রচার কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য স্যাটেলাইট ভাড়া করে। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট চ্যানেলের সক্ষমতা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। আবার দেশের টিভি চ্যানেলগুলো যদি এই স্যাটেলাইটের সক্ষমতা কেনে তবে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। এর মাধ্যমে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস চালু সম্ভব।
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মোট ফ্রিকোয়েন্সি ক্ষমতা হলো ১ হাজার ৬০০ মেগাহার্টজ। এর ব্যান্ডউইডথ ও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে ইন্টারনেটবঞ্চিত অঞ্চল যেমন পার্বত্য ও হাওড় এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া সম্ভব। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং সেবা, টেলিমেডিসিন ও দূরনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থা প্রসারেও ব্যবহার করা যাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট।
বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে। তখন এর মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে।