Articles by "ওয়েব ডিজাইন"
অনলাইনে টাকা উপার্জনের যত উপায় আছে তার মধ্যে গুগল এ্যাডসেন্স হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয়, কিন্তু সবার মনে কিছু প্রশ্ন জাগে যে, এটা কি সত্য বা আদৌ সম্ভব? আমি কি সবসময় এ্যাডসেন্স থেকে টাকা উপর্জন করতে পারবো? আমি কি ওখান থেকে উপার্জিত টাকা দিয়ে আমার পরিবার সহ নিচের হাত খরচ চালিয়ে যেতে পারব? আজ এই সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি আপনাদের দেখাবে কিভাবে সফল ব্লগাররা তাদের ব্লগে Google AdSense হতে টাকা উপার্জন করছে?AdSense কি: কিভাবে Google AdSense থেকে টাকা উপার্জন করবেন?Google AdSense কি এ বিষয় নিয়ে নতুন করে লিখার কিছু নেই, তবে কিভাবে কাজ করে এ বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার নয়। এ পোষ্টটি লিখার আগে আমি বেশ কয়েকবার চিন্তা করেছিলাম যে, পোষ্টটি লিখব কি না? কারণ Google AdSense কি এ বিষয় সবাই জানে। তারপরও আমি প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করলাম। Google AdSense কি, কিভাবে কাজ করে, কিভাবে অনুমোদন করতে হয়, কিভাবে বেশী আয় করা যায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ইতোপূর্বে আমাদের ব্লগে বেশ কয়েকটি পোস্ট রয়েছে। আমার ব্লগের এ্যাডসেন্স সংক্রান্ত সবগুলো পোস্ট পড়লে Google AdSense বিষয়ে সকল নাড়ী-ভূড়ী নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।অন-লাইন হতে টাকা আয় করার যত প্রন্থা আছে তার মধ্যে Google AdSense নিঃসন্দেহে সাবার শীর্ষে অবস্থান করছে। সব ধরনের ব্লগারই তাদের ব্লগে Google AdSense বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে চায়। কারণ AdSense এর আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের সাইজ এবং ডিজাইনের কারণে এটিকে সবাই পছন্দ করে। তাছাড়া Google AdSense হতে অর্জিত টাকা গুগল খুব বিশ্বস্ততার সাথে পরিশোধ করে। এ সব কারনে Google AdSense সবার শীর্ষে অবস্থান করছে।Google AdSense কি?সবাই নিশ্চয় জাননে যে, Google AdSense হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা যেটি গুগল নিজে পরিচালনা করছে। গুগল বিভিন্ন বিজ্ঞাপনি কোম্পানির কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে তাদের আওতাধীন যত ওয়েবসাইট আছে যেসগুলো বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে আয় করে। গুগল AdSense বিজ্ঞাপন থেকে যত টাকা আয় করে তার ৬৮ ভাগ টাকা পাবলিশারদের দিয়ে থাকে এবং বাকী ৩২ ভাগ টাকা নিজেরা ভোগ করে।AdSense কি: কিভাবে Google AdSense থেকে টাকা উপার্জন করবেন?গুগল AdSense সাধারণত বিভিন্ন ধরনের Text, Link এবং Image আকারে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে। এ সব বিজ্ঞাপনে Per-Click এবং Per-Impression হিসাব করে পাবলিশারদের টাকা প্রদান করে থাকে। গুগল যত টাকা উপার্জন করে তার প্রায় ২৭ ভাগ আসে Google AdSense থেকে। এটি Publisher এর জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি। আপনি যদি এর একজন পাবলিশার হতে চান তাহলে কোন টাকা ব্যয় করতে হবে না। আপনি খুব সহজে আপনার ব্লগে এই বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে ভালোমানের টাকা উপার্জন করতে পারবেন।কিভাবে ব্লগে AdSense ব্যবহার করতে হয়?একটি ব্লগে গুগল এ্যাডসেন্স ব্যবহার করতে হলে প্রথমে AdSense এর সকল নিয়ম ও গাইডলাইন অনুসরন করে ব্লগ তৈরি করতঃ ব্লগে মিনিমাম ২০-২৫ ভালোমানের পোস্ট পাবলিশ করতে হয়। তারপর ব্লগে প্রতিদিন ১০০ টি ইউনিক ভিজিটর থাকলে আপনার ব্লগে এ্যাডসেন্স ব্যবহার করার জন্য আবেদন করবেন। গুগল এ্যাডসেন্স টিম আপনার আবেদনটি ৫/৭ দিনের মধ্যে রিভিউ করবে এবং ব্লগটি এ্যাডসেন্স এর উপযোগী হলে আবেদন অনুমোদন করবে। অনুমোদন করার পর আপনার ব্লগে এ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপন ব্যবহার করতে পারবেন এবং এ্যাডসেন্স থেকে টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। তবে আবেদন অনুমোদন না করে বাতিল করে দিলে ব্লগে এ্যাডসেন্স ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে কিছুদিন পর সবকিছু সমাধান করে আবার আবেদন করতে পারবেন।AdSense কি: কিভাবে Google AdSense থেকে টাকা উপার্জন করবেন?কিভাবে Google AdSense কাজ করে?Google AdSense এর একটি বিশালাকারে শাখা এবং ডেভেলপার টিম রয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত এটিকে দিনে পর দিন ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি গুগল এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স টেকনোলজি ব্যবহার করছে। গুগল সাধারণত প্রথমে একটি সাইটের যাবতীয় তথ্য এবং Cookies সংগ্রহ করে। তারপর বিশেষ পোগ্রামিং এবং JavaScript এর মাধ্যমে কন্টেন্ট এর উপর ডিপেন্ড করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে। এ সব বিজ্ঞাপন পাবলিশারদের দুটি উপায়ে আয় করার সুযোগ দেয়। কিছু ওয়েবসাইটের জন্য কেবল যারা ঐ সাইটটি অপেন করে বিজ্ঞাপন দেখে এবং কিছু ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার মাধ্যমে রেট ভিত্তিক টাকা প্রদান করে থাকে। তবে প্রত্যেকটি ব্লগ/ওয়েবসাইটের র্যাংকিং এর উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা বিজ্ঞাপন দেখার এবং ক্লিক রেটও রয়েছে। তাছাড়া বিজ্ঞাপনের সাইজ ও ধরণ অনুযায়ীও বিজ্ঞাপনের ক্লিক রেট ভিন্ন হয়ে থাকে।AdSense বিজ্ঞাপন ভিন্ন হয় কেন?আমি আগেই বলেছি গুগল AdSense এর বিজ্ঞাপন বিশেষ কিছু পোগ্রামিং এর মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়, যাতেকরে এটি যে কোন সাইটকেই দেখতে আকর্ষণীয় করে তুলে। তাছাড়া এটি কোন ওয়েবসাইটের লোড টাইমের উপরও কোন প্রভাব ফেলবে না। যখন কোন ভিজিটর ব্লগের কোন একটি পোষ্ট ভিজিট করে, তখন সাথে সাথে গুগল AdSense Scripts সমস্ত পোষ্টের কন্টেন্ট স্ক্যান করে নেয় এবং কন্টেন্ট এর সাথে মিল রেখে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। অধীকন্তু কোন্ দেশ হতে সাইট ভিজিট করা হচ্ছে সেটিও জেনে নিয়ে ঐ দেশ এবং এলাকা ভিত্তিকও বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। যার দরুন দেখা যায় বাংলাদেশ থেকে ভিজিট করার পর গুগল AdSense বাংলাদেশের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন শো করছে। আপনি যখন কোন সাইট ভারত থেকে ভিজিট করবেন তখন গুগল AdSense ভারতের বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখাবে।Google Adsense থেকে টাকা উপার্জন করার জন্য কি প্রয়োজন?Adsense বিজ্ঞাপন থেকে Google যত টাকা আয় করে তার ৬৮ ভাগ টাকাই দিয়ে থাকে পাবলিশারদের এবং বাকী ৩২ ভাগ টাকা নিজেরা ভোগ করে। কাজেই বুঝতে পারছেন আপনি কি পরিমানে টাকা উপার্জন করতে পারবেন। Google Adsense থেকে টাকা উপার্জন করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় নিম্নে সংক্ষেপে দেওয়া হলো -AdSense কি: কিভাবে Google AdSense থেকে টাকা উপার্জন করবেন?১। একটি ভালোমানের ব্লগ/ওয়েবসাইটঃআপনার লেখালেখির অভ্যাস থাকলে একটি ব্লগ তৈরি করে ব্লগে আর্টিকেল শেয়ার করে খুব সহজে Google AdSense হতে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ব্লগ তৈরির বিষয়ে আপনার কোন অভীজ্ঞতা না থাকলে আমাদের ব্লগের BlogSpot দিয়ে ফ্রি ব্লগ তৈরি সংক্রান্ত পোস্টটি অনুসরন করে সম্পূর্ণ ফ্রিতে একটি ব্লগ ক্রিয়েট করে নিতে পারেন। আপনি যখন গুগল সার্চ ইঞ্জিনে কোন কীওয়ার্ড লিখে কিছু সার্চ করেন এবং সার্চ রেজাল্ট হতে একটি ব্লগে ভিজিট করেন তখন ঐ সমস্ত ব্লগে যে সমস্ত বিজ্ঞাপন দেখতে পান, সেগুলো বেশীরভাগ হচ্ছে গুগল এ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপন। ভালোমানের আর্টিকেল রাইটাররা তাদের ব্লগে শুধুমাত্র কন্টেন্ট শেয়ার করে AdSense হতে মাসে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছে। আমি নিজেও আমার ব্লগে এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে মাসে অল্পকিছূ টাকা আয় করছি। কাজেই ব্লগিং করে অনলাইন হতে দীর্ঘদিন যাবত টাকা ইনকাম করতে পারেন।২। ভালোমানের কনটেন্টঃআমি সবসময় একটা কথাই বলে থাকি যে, আপনি যদি একজন ভালোমানের ব্লগার হতে চান তাহলে অবশ্যই ব্লগে মানসম্মত ও নিত্য নতুন আর্টিকেল পাবলিশ করেন। আপনি যে বিষয়টি ভালো জানেন ও বুঝেন সেই বিষয় নিয়ে কারও কাছ থেকে কপি পেষ্ট করা নয় এমন কন্টেন্ট পাবলিশ করেন। কারণ Google Adsense সব সময়ই নিত্য নতুন আর্টিকেল পাগলের মত পছন্দ করে। এক সময় ছিল যখন গুগল এ্যাডসেন্স বাংলা ভাষা সাপোর্ট করত না কিন্তু ২০১৭ সাল হতে এ্যাডসেন্স বাংলা ভাষা সাপোর্ট করছে এবং বাংলা কন্টেন্ট যুক্ত ব্লগে এ্যাডসেন্স অনুমোদ দিচ্ছে। কাজেই এ্যাডসেন্স থেকে টাকা উপার্জন করতে চাইলে এখন বাংলা কন্টেন্ট নিয়েও কাজ করতে পারেন।৩। ভিজিটরঃআপনি যা কিছুই নিয়ে ব্লগিং করেন না কেন আপনার টার্গেট হচ্ছে ব্লগে ভিজিটর পাওয়া। আপনি যখন ব্লগে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর পাবেন তখনই আপনার এত পরিশ্রম সফল হবে। কারণ ভিজিটরহীন ব্লগ এর কোন মানেই হয় না। তাছাড়া Google Adsense হতে কি পরিমানে টাকা পাবেন তা নির্ভর করে করে ভিজিটরের উপর অর্থাৎ আপনার ব্লগে যত বেশী ভিজিটর আসবে আপনার আয়ও তত বাড়তে থাকবে।৪। কীওয়ার্ড বাছাইঃব্লগে বেশী পরিমানে ভিজিটর পাওয়ার জন্য Keyword বাছাই করতে হবে। আপনার ব্লগের কন্টেন্ট অনুযায়ী হাই কোয়ালিটির কীওয়ার্ড বাছাই করতে হবে। এতেকরে আপনার ব্লগে ভিজিটর বাড়ার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের ক্লিক মূল্য বাড়বে। এ ক্ষেত্রে আপনি Google Keyword Planner Tool এর সাহায্য নিতে পারে। ওখান থেকে জানতে পারবেন আপনার ব্লগ রিলেটেড কোন কোন কীওয়ার্ড ব্যবহার করে ভিজিটর সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করছে এবং কোন কীওয়ার্ডগুলো হাই কোয়ালিটির। সেখান থেকে বেছে বেছে হাই কোয়ালিটির কীওয়ার্ডগুলো আপনার ব্লগে ব্যবহার করবেন।AdSense কি: কিভাবে Google AdSense থেকে টাকা উপার্জন করবেন?৫। Google AdSense Policies:আপনি হয়তো ভাবছেন যে, Google AdSense একাউন্ট আছে তাই যে কোন অসদ উপায় অবলম্বন করে আয় বাড়ীয়ে নেবেন। কিন্তু মনে রাখবেন Google AdSense একাউন্ট অনুমোদন করা যতটা না কঠিন, তার চেয়ে আরও কঠিন এটিকে ঠিকিয়ে রাখা। কারণ Google AdSense Policies পরিপন্থি কোন কাজ করলে আপনার Account টি যেকোন মুহুর্তে Disable হতে পারে। আর একবার Account টি Disable হলে আর কোন দিন তা একটিভ করতে পারবেন না। কাজেই AdSense এ Apply করার আগে এবং Approved করার পরে Google AdSense Policies ভালোভাবে পড়ে নিয়ে ১০০ ভাগ মেনে চলার চেষ্টা করবেন। তাহলে আপনার একাউন্ট গুগলের কাছে বিশ্বস্ত হয়ে উঠবে এবং কোন দিনই Disable হবে না।AdSense এর টাকায় কি সংসার চালানো সম্ভব?এই প্রশ্নের জবাবে আমি বলবো যে, AdSense থেকে ১০০ ভাগ জীবন ধারন করা বা পরিবার চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ আপনি এখান থেকে সবসময় ভালোমানের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই। দেখা যাবে হয়তো আপনি কোন মাসে বেশ কিছু টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছেন, আবার কোন মাসে সামান্য কিছু টাকা উপার্জন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে এটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আপনার ব্লগটি যদি ভালোমানের হয়, ভাল কোয়ালিটির কন্টেন্ট থাকে এবং প্রচুর পরিমানে ভিজিটর থাকে তাহলে এখান থেকে প্রতিনিয়তই একটা Smart Amount উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। যা দ্বারা আপনার পরিবার পরিচালনা করতে সক্ষম না হলেও অনেকাংশেই সহায়তা করবে।শেষ কথাঃ উপরের বিশেষ গুনের কারনে গুগল AdSense বিজ্ঞাপন দাতা এবং পাবলিশারদের মন জয় করে নিয়ে সাবার শীর্ষে অবস্থান করছে। কারণ এলাকা ভিত্তিক বিজ্ঞাপন শো করার কারনে বিজ্ঞাপন দাতাদের বিশেষ সুবিধা হয়। অন্যদিকে যারা ব্লগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করেন তাদের সাইটে কোন প্রকার লোড টাইমের প্রভাব না করার কারনে তারাও পছন্দ করে। তাছাড়াও গুগল AdSense হতে উপার্জিত টাকা বিশ্বস্তাতার সাথে পরিশোধ করার কারনে সকল ধরনের বিজ্ঞাপনী সংস্থার শীর্ষে রয়েছে।যেহেতু AdSense অনলাইন থেকে টাকা উপার্জনের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বস্ত একটি মাধ্যম, সেহেতু আমার মনে হয় আপনি ব্লগিংকে পেশা হিসেবে না নিলেও সখ হিসেবে ব্যবহার করে সামান্য কিছু সময় ব্যয় করে খুব বেশী না হলেও অল্প কিছু টাকা উপার্জন করতে পারবেন। যা আপনার লেখা-পড়া কিংবা পেশার পাশাপাশি সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
একটি এ্যাডসেন্স একাউন্ট অনুমোদন করা যতটা না কষ্টকর তার চাইতে কয়েকগুন কষ্টকর হচ্ছে AdSense Account Banned হওয়া থেকে রক্ষা করা। সাধারণত কিছু ভালোমানের পোস্ট ও সামান্য পেজভিউ থাকলে খুব সহজে একটি এ্যাডসেন্স একাউন্ট অনুমোদন পাওয়া যায় কিন্তু অনুমোদন পাওয়ার পর সেটি ধরে রাখা ও আয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন এ্যাডসেন্স পাবলিশার এ্যাডসেন্স পলিসি না জানার কারনে কিংবা এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন ব্যবহারের যথাযথ নিয়ম না জানার কারনে দীর্ঘ দিনের কষ্টে অর্জিত গুগল এ্যাডসেন্স একাউন্টটি অল্প দিনেই Banned বা Disabled হয়ে যায়। আপনারা জানেন যে, একটি এ্যাডসেন্স একাউন্ট একবার Banned বা Disabled হওয়ার পর সেই একাউন্টটি কোনভাবে ফিরে পাওয়া যায় না।
এ্যাডসেন্স একাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বলতে পারেন যে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। কারণ এ্যাডসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে অল্প কিছু নিয়ম অনুসরণ করলে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়ে যায় কিন্তু এ্যাডসেন্স ধরে রাখার বা Banned হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার হাজার হাজার নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। সেই নিয়মগুলো যথাযথভাবে অনুসর না করলে এ্যাডসেন্স টিম আপনাকে কোন ধরনের নটিফিকেশন না জানিয়ে যেকোন সময় AdSense Account Banned করে দিবে। সে জন্য দেখা যায় যে, একটি এ্যাডসেন্স একাউন্ট অনুমোদন করা স্বাধীনতা অর্জনের মত সহজ এবং এ্যাডসেন্স একাউন্ট রক্ষা করা স্বাধীনতা রক্ষা করার চাইতে অধিক কঠিন।আপনাদের মধ্যে ইতোপূর্বে যাদের এ্যাডসেন্স একাউন্ট Banned বা Disabled হয়েছে কেবলমাত্র তারাই এ কষ্ট উপলব্ধি করতে পেরেছেন। আমার নিজের একটি এ্যাডসেন্স একাউন্ট অনেক দিন পূর্বে ব্যান হয়েছে। তখন আমার এ্যাডসেন্স একাউন্টে প্রায় ১৮০ ডলার জমা ছিল। এ্যাডসেন্স একাউন্ট ব্যান হওয়ার কারনে আমার একাউন্টের কোন টাকা উত্তোলন করতে পারিনি। আমার Banned হওয়া এ্যাডসেন্স একাউন্টটি উদ্ধার করার জন্য বেশ কয়েকবার গুগল এ্যাডসেন্স টিমের সাথে যোগাযোগ করেছি কিন্তু তারা কোনভাবে আমার এ্যাডসেন্স একাউন্টটি ফিরিয়ে দেয়নি। তাছাড়া আপনারা এটাও জানেন যে, একটি ওয়েবসাইট এর এ্যাডসেন্স একাউন্ট ব্যান হওয়ার পর সেই ওয়েবসাইট দিয়ে পুনরায় নতুন কোন এ্যাডসেন্স একাউন্ট অনুমোদন পাওয়া যায় না। অর্থাৎ একটি ব্লগ একবার ব্যান হওয়ার পর সেটি দিয়ে পুনরায় এ্যাডসেন্স অনুমোদনের সম্পূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যায়। আজকের পোস্টে আমরা একটি AdSense Account Banned হওয়ার প্রধান কয়েকটি কারন নিয়ে আলোচনা করব। সেই সাথে কিভাবে একটি AdSense Account Banned বা Disabled হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবেন সেই বিষয়ে আলোচনা করব। তাছাড়া গুগল এ্যাডসেন্স এর নির্দেশনা মোতাবেক প্রশ্ন ভিত্তিক AdSense Account Banned হওয়ার কারন ও Disable হওয়া থেকে কিভাবে রক্ষা করতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ উপায় তুলে ধরব।কি কি কারনে AdSense Account Banned হয়?মূল বিষয় শুরু করার আগে একটি বিষয় আপনাদের ক্লিয়ার করে বলছি যে, আপনার কষ্টে অর্জিত AdSense Account Banned হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সকল প্রকার চালাকি থেকে দূরে থাকতে হবে এবং এ্যাডসেন্স এর পূর্ণাঙ্গ Guideline অনুসরন করে এ্যাডসেন্স ব্যবহার করতে হবে। কারন গুগল এখন অনেক স্মার্ট, চালাক ও বুদ্ধিমান।গুগল এ্যাডসেন্স তাদের বিজ্ঞাপন এনালাইসিসের জন্য আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্ট (AI) ব্যবহার করে থাকে। কাজেই আপনার আয়ের পরিমান বৃদ্ধি করার জন্য যত ধরনের অবৈধ সুক্ষ চালাকি অনুসরণ করুন না কেন গুগল সেটি সহজে সনাক্ত করে নিবে। সাধারণত নিম্নোক্ত কারনে একটি AdSense Account Banned হয়ে থাকে।০১। Invalid Click: অধিকাংশ এ্যাডসেন্স একাউন্ট Invalid Click এর কারনে Banned বা Disabled হয়। বেশীরভাগ নতুন এ্যাডসেন্স পাবলিশারগণ তাদের ব্লগের নিজের বিজ্ঞাপনের উপরে নিজেই ক্লিক করে আয় বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে অনেকে VPN এর মাধ্যমে আইপি এড্রেস পরিবর্তন করে কিছুক্ষণ পর পর নিজের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে থাকেন। তাছাড়া নিজের বন্ধু বান্ধবদের ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার জন্য উৎসাহিত করেন। আপনি ভাবেন এ্যাডসেন্স এগুলো বুঝতে পারবে না এবং আপনার আয় বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। আমি আপনাকে সাবধান করে দিচ্ছে যে, আপনি এ ধরনের কাজ করে থাকলে খুব শীঘ্রই AdSense Account Banned হয়ে যাবে। কারণ Invalid Click এর কারনে প্রতিদিন হাজার হাজার এ্যাডসেন্স একাউন্ট Disabled হচ্ছে। তাছাড়া আপনার ব্লগের কোন ভিজিটর প্রতিনিয়ত বিজ্ঞাপনে ক্লিক করছে কি না সেটাও লক্ষ করুন। কারন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আপনার ব্লগের বিজ্ঞাপনে প্রচুর পরিমানে ক্লিক করলে আপনার AdSense Account Banned হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কিছু লোক হিংসাত্মকভাবে এ্যাডসেন্স Disable করে দেওয়ার জন্য এ কাজটি করে। এ ধরনের সমস্যার সম্মুখি হলে যথাশীঘ্রই বিষয়টি গুগল এ্যাডসেন্স টিমকে ইমেইল এর মাধ্যমে জানিয়ে রাখবেন। তাহলে এ্যাডসেন্স আপনার ইমেইল পড়ে বুঝতে পারবে এবং একাউন্ট ব্যান না করে জাস্টিফাই করবে।০২। Invalid Activities:একটি AdSense Account Banned হওয়ার ক্ষেত্রে Invalid Activities আরেকটি বড় কারন। Invalid Activities এর অনেক বিষয় রয়েছে। আপনি বার বার নিজের ব্লগের পোস্ট ভিজিট করলে সেটাও Invalid Activities বলে গন্য হবে। তাছাড়া আপনি কোন ধরনের সফটওয়ার ব্যবহার করে অটোমেটিকভাবে পেজভিউ বাড়ানোর চেষ্টা করলে সেটাও হবে Invalid Activities. এ ছাড়াও টাকার বিনিময়ে কোন ধরনের পেইড ট্রাফিক এর মাধ্যমে Page Impression বৃদ্ধি করলে সেটা Invalid Activities বলে গন্য হবে।০৩। এ্যাডসেন্স কোড পরিবর্তনঃগুগল এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন শো করানোর জন্য যে কোড দেয় সেগুলো কখনো পরিবর্তন করা যাবে না। কারন এ্যাডসেন্স কোড পরিবর্তন করে ব্যবহার করা এ্যাডসেন্স এর নিয়মের সম্পূর্ণ পরিপন্থি কাজ। কিছু লোক রয়েছে যারা এ্যাডসেন্স এর কোড কনভার্ট করে এবং বিজ্ঞাপনের ডিজাইন পরিবর্তন করে। আপনি পরিষ্কারভাবে জেনে রাখুন যে, এ ধরনের কাজ করলে গুগল যে কোন মুহুর্তে আপনার AdSense Account Banned করে দিবে।০৪। কপিরাইট কনটেন্টঃঅধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদনের পূর্বে সবাই ভালোমানের ইউনিক আর্টিকেল ব্লগে শেয়ার করে। তবে এ্যাডসেন্স অনুমোদনের পর ব্লগ/ওয়েবসাইটের কনটেন্ট এর উপর গুরুত্ব না দিয়ে আয়ের দিকে বেশী মনোযোগি হয়ে পড়ে। যার ফলে নিজে ইউনিক আর্টিকেল না লিখে বিভিন্ন ভালোমানের ব্লগ থেকে উন্নতমানের কনটেন্ট কপি করে ব্লগে শেয়ার করতে থাকে। এই কাজটি করার ফলে গুগল বট সহজে কপিরাইট কনটেন্ট সনাক্ত করে এ্যাডসেন্স এর কাছে রিপোর্ট করে। তাছাড়া কপিরাইট কনটেন্ট এর প্রকৃত মালিক যখন আপনার ব্লগের কনটেন্ট সম্পর্কে গুগল এর কাছে রিপোর্ট করবে এবং কপিরাইট কনটেন্টে এ্যাডসেন্স ব্যবহারের বিষয়টি জানাবে তখন এ্যাডসেন্স টিম মুহুর্তে আপনার AdSense Account স্থায়ীভাবে Banned করে দিবে।০৫। অপর্যাপ্ত কনটেন্টঃ আপনি নিশ্চয় জানেন যে, গুগল এ্যাডসেন্স টিম ২০১৮ সাল থেকে এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন ব্যবহারের সংখ্যা নির্ধারনের পলিসি বাতিল করে দিয়েছে। যার ফলে আপনি ইচ্ছামত যত খুশি ততটি বিজ্ঞাপন আপনার ব্লগে ব্যবহার করতে পারবেন। সেই সাথে গুগল এ্যাডসেন্স আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করেছে যে, আপনি যত খুশি তত বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেন, তবে যেখানে বিজ্ঞাপন ব্যবহার করছেন সেখানে কনটেন্ট এর তুলনায় বিজ্ঞাপন যাতে কোনভাবেই বেশী না হয়। এ বিষয়টি না বুঝার কারনে কম কনটেন্ট এর মধ্যে অধিক বিজ্ঞাপন ব্যবহার করার ফলে অনেকের AdSense Account Banned হয়ে যায়।০৬। অনুপোযুক্ত জায়গায় বিজ্ঞাপন ব্যবহারঃএ্যাডসেন্স এর CTR বৃদ্ধি করার জন্য অধিকাংশ এ্যাডসেন্স পাবলিশার চালাকি করে কন্টেন্ট এর ভীতরের অনুপোযুক্ত স্থানে বিজ্ঞাপনর এর কোড বসান। যেমন - ডাউনলোড লিংক এর কাছে বিজ্ঞাপন বসিয়ে দিয়ে লিখে দেন ডাউনলোড করার জন্য উপরের স্থানে ক্লিক করুন বা আকর্ষণীয় ফিচার্সটি ডাউনলোড করার জন্য উপরের স্থানে ক্লিক করুন। এ গুলো করার ফলে একজন পাঠক ভূলভাবে উৎসাহিত হয়ে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে। যার ফলে এ্যাডসেন্স এ ক্লিক করার পরিমান বৃদ্ধি পায়। গুগল এ্যাডসেন্স এ ধরনের কাজকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে ঘোষনা করেছে।০৭ । অন্যান্য বিজ্ঞাপন ব্যবহারঃগুগল এ্যাডসেন্স তাদের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি অন্য বিজ্ঞাপন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে নিষেধ করছে না। তবে তারা বলছে যে, কিছু বিজ্ঞাপন কোম্পানি রয়েছে যেগুলো মানসম্মত নয় সেগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ সমর্থন করছে না। এ্যাডসেন্স এর পাশাপাশি Infolink এর মত কম গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞাপন ব্লগে ব্যবহার করলে যে কোন সময় আপনার AdSense Account Banned হতে পারে। তাছাড়া এ্যাডসেন্সের চাইতে অন্য কোম্পানির বিজ্ঞাপন কোন ভাবে যেন বেশী না হয় সেটিও লক্ষ্য রাখতে হবে।০৮। অবৈধ কন্টেন্টঃকপিরাই ছাড়াও আরো অনেক ধরনের অবৈধ কন্টেন্ট রয়েছে যেগুলো অনলাইনে শেয়ার করার জন্য গুগল কখনো অনুমোদন করে না। আপনি হয়ত একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, অনলাইনে অনেক ভালোমানের মুভি শেয়ারিং সাইট রয়েছে যেগুলো অনেক জনপ্রিয় এবং তাদের ব্লগে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর রয়েছে। অথচ সেই ওয়েবসাইটে এ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপন নেই। কারণ এ ধরনের ওয়েবসাইটগুলি অবৈধভাবে মুভির মালিকের অনুমতি ছাড়া শেয়ার করে থাকে। যার ফলে গুগল এগুলোতে এ্যাডসেন্স অনুমোদন করে না। আপনার ওয়েবসাইটে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হওয়ার পর এ ধরনের কোন অবৈধ কনটেন্ট ব্যবহার করলে AdSense Account Banned হতে পারে। অবৈধ কনটেন্ট এর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি রয়েছে।পর্ণগ্রাফি ও Adult কনটেন্ট।প্রতিহিংসামূলক বিষয়।জাতিগত বেধাবেধ।বর্ণবাধিতা।হ্যাকিং ও ক্রেকিং।জুয়া ও জুয়ার আড্ডাখানা।ড্রাগ, অ্যালকোহল এর প্রচারনা।অস্ত্র ও অস্ত্রোপচার।ছাত্র ছাত্রী ভূল শিক্ষা।শিশু ঝুকিপূর্ণ কন্টেন্ট।০৯। Unsupported Language:যে সমস্ত ভাষায় গুগল এ্যাডসেন্স সাপোর্ট করে না সেই ধরনের ভাষার ব্লগ/ওয়েবসাইটে কখনো এ্যাডসেন্স ব্যবহার করবেন না। পূর্বে যখন এ্যাডসেন্স বাংলা ভাষা সাপোর্ট করত না তখন অনেক এ্যাডসেন্স পাবলিশার বাংলা কনটেন্টের ব্লগে এ্যাডসেন্স ব্যবহার করার কারনের AdSense Account Banned হয়েছে। তবে এখন এ্যাডসেন্স বাংলা ভাষা সাপোর্ট করার কারনে ভাষা জনিত কোন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। তবে আপনি অন্য কোন ভাষায় ব্লগিং করলে আপনার কাঙ্খিত ভাষাটি এ্যাডসেন্স সাপোর্ট করে কি না সেটি যাচাই করে নিবেন। তাছাড়াও এ্যাডসেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রত্যেটি ব্লগ অনুমোদন করাতে হয় বলে এ সমস্যাটি অনেকটা অপ্রতুল হয়েগেছে।১০। AdSense Account Banned হওয়া অন্যান্য কারনঃউপরের সবগুলো কারন ছাড়াও এ্যাডসেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে আরো সতর্ককতা অবলম্বন করতে হবে। আপনি এ্যাডসেন্স এর সকল নিয়ম না মেনে বিজ্ঞাপন ব্যবহার করলে কোনভাবে আপনার এ্যাডসেন্স একাউন্টকে পরিপূর্ণ নিরাপদ বলতে পারবেন না। উপরের কারন ছাড়া নিচের কারনগুলোর জন্য আপনার AdSense Account Banned হতে পারে।ব্লগ/ওয়েবসাইটের Popup এ এ্যাডসেন্স ব্যবহার।সাইডবারে অথবা অন্য কোথায় Sticky বিজ্ঞাপন ব্যবহার।অনুমোদনকৃত নয় এমন ব্লগে বিজ্ঞাপন কোড বসানো (২০১৯ সালের নতুন আপডেট)।পূর্বের ব্যান হওয়া কোন ব্লগে বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা।লগইন পেজ, ওয়েলকাম পেজ ও 404 Error পেজে বিজ্ঞাপন ব্যবহার।কিভাবে AdSense Banned হওয়া থেকে রক্ষা করবেন?এ্যাডসেন্স একাউন্ট ব্যান হওয়ার মত উপরের ১০ টি প্রধান কারন থেকে আপনি ইতোপূর্বে বুঝতে পেরেছেন যে, একটি AdSense Account Banned হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য আপনাকে কি কি করতে হবে? একটি এ্যাডসেন্স একাউন্ট পরিপূর্ণ নিরাপদ রাখার জন্য উপরের কাজগুলো ছাড়াও আরো কিছু নিরাপত্তা অবলম্বন করতে হবে। এ্যাডসেন্স একাউন্ট নিরাপদ রাখার জন্য সবগুলো পদ্ধতি অনুসরণ করলে কখনো আপনার এ্যাডসেন্স একাউন্ট ব্যান হবে না। এখন আমরা গুগল এ্যাডসেন্স এর নিজেস্ব নির্দেশনানুসারে প্রশ্ন ভিত্তিক আলোচনা করব যে, আপনার এ্যাডসেন্স একাউন্ট পরিপূর্ণ নিরাপদ রাখার জন্য আপনার করণীয় কি?প্রশ্ন-১ঃ ভূলবশত আমার ব্লগের বিজ্ঞাপনের উপরে ক্লিক করে ফেলেছি! এতে কি কোন ধরনের সমস্যা হবে?উত্তরঃ গুগল এ্যাডসেন্স বলছে একজন এ্যাডসেন্স পাবলিশারের জন্য নিজের ব্লগের বিজ্ঞাপন ক্লিক করার কোন অনুমতি নেই। তবে ভূলবশত দু-এক বার হলে সেটা আমরা অন্য দৃষ্টিতে দেখব। কিন্তু আপনি বার বার নিজের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে সেটা মেনে নেওয়া হবে না এবং এ্যাডসেন্স একাউন্ট ব্যান করে দেওয়া হবে।প্রশ্ন-২ঃ আমার ব্লগের বিজ্ঞাপনে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বার বার ক্লিক করলে আমার করণীয় কি?উত্তরঃ এ ক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে রিসার্চ করতে হবে কিভাবে কোথা থেকে আপনার ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক হচ্ছে বা ভিউ হচ্ছে। রিসার্চ করার জন্য Google Search Console, Google Analytics ও অন্যান্য মাধ্যম হতে Invalid ক্লিক এর কারন যাচাই বাছাই করতে পারেন। রিসার্চকৃত ট্রাফিক সম্পর্কে AdSense Form এর মাধ্যমে বিষয়টি এ্যাডসেন্স টিমকে জানাতে পারেন। তারা আপনার বিষয়টি যাচাই করে দেখবে এবং আপনার নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তাছাড়া আপনি কাঙ্খিত Invalid IP টি ব্লক করার বিষয়ে গুগল এ্যাডসেন্স টিমকে জানাতে পারেন।প্রশ্ন-৩ঃ আমি কি আমার ব্লগের বিজ্ঞাপন দেখতে পারি? এতে কোন সমস্যা হবে কি না?উত্তরঃ এ বিষয়ে এ্যাডসেন্স আপনাকে Welcome জানাচ্ছে। আপনি অবশ্যই আপনার ব্লগের বিজ্ঞাপন দেখতে পারবেন এবং এতে কোন ধরনের Invalid Impression বৃদ্ধি পাবে না। তবে একটি বিষয় হুশিয়ার করছে যে, আপনি বার বার কোন কারন ছাড়া আপনার ব্লগ ভিজিট করবেন না এবং একটি পেজ বার বার Refresh করবেন না। কারনে অকারনে নিজের ব্লগে মাত্রাতিরিক্ত ভিজিট করলে ও পেজভিউ বৃদ্ধি করলে এ্যাডসেন্স ব্যান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে। প্রশ্ন-৪ঃ আমার নিজের পেজভিউ গণনা না হওয়ার জন্য কি নিজের IP ব্লক করতে পারি অথবা অন্য কারো IP ব্লক করতে পারি?উত্তরঃ গুগল এ্যাডসেন্স এখনো পর্যন্ত কারো IP ব্লক করার অনুমতি দিচ্ছে না। তবে তারা বলছে এ বিষয়টি সংযুক্ত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আপনার এ্যাডসেন্স একাউন্ট এর Invalid Click and Invalid Impression থেকে রক্ষা করার জন্য AdSense Publisher Toolbar ব্যবহার করা পরামর্শ দিচ্ছে।প্রশ্ন-৫ঃ IP এড্রেস পরিবর্তন করে ব্লগে/ওয়েবসাইটে ভিজিট করলে কি কোন সমস্যা হবে?উত্তরঃ নরমালি কোন সমস্যা হবে না। তবে বার ভিজিট করলে বা ক্লিক করলে সমস্যায় পড়তে হবে। এ ধরনের কাজ না করার পক্ষে গুগল এ্যাডসেন্স বলছে। প্রশ্ন-৬ঃ হঠাৎ করে আকস্মিকভাবে আমার ব্লগে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর বৃদ্ধি পেয়েছে, এ ক্ষেত্রে আমার এ্যাডসেন্স একাউন্টের কোন সমস্যা হবে কি না? উত্তরঃ এ বিষয়ে এ্যাডসেন্স বলছে যে কোন সময় আপনার ব্লগের ট্রাফিক বৃদ্ধি হতে পারে। এটা কোন সমস্যা নয়। তবে আপনার এ্যাডসেন্স এর CTR ঠিক আছে কি না দেখতে হবে। প্রচুর পরিমানে CTR বৃদ্ধি পেলে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত CTR 15% এর এর মধ্যে থাকলে কোন সমস্যা হয় না। তাছাড়া আপনার ট্রাফিক Valid কি না সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে হঠাৎ ভিজিটর বৃদ্ধি পেলে কোন সমস্যা হবে না।প্রশ্ন-৭ঃ গুগল Custom Search Box এ এ্যাডসেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে সার্চ বক্সটি কি আমি নিজেও ব্যবহার করতে পারব?উত্তরঃ এ বিষয়ে এ্যাডসেন্স সরাসরি নিষেধ করছে যে, আপনার নিজের ব্লগে পোস্ট খোঁজার ক্ষেত্রে গুগল Custom Search Box টি ব্যবহার করবেন না। তবে অন্যরা ব্যবহার করলে কোন সমস্যা হবে না।প্রশ্ন-৮ঃ Invalid Traffic বলতে কি বুঝানো হচ্ছে?উত্তরঃ নিজের ব্লগে নিজেই ক্লিক ও বার বার অপ্রয়োজনে ভিজিট বা অন্যের দ্বারা ক্লিক ও বার বার ভিজিট বা কোন বট ও সফটওয়ার এর সাহায্যে অটো ক্লিক ও ভিজিট করানোকে Invalid Traffic বলে। তবে গুগল বলছে শুধুমাত্র এগুলোর মধ্যে Invalid Traffic সীমাবদ্ধ নয়। এগুলোর বাহিরে আরো অনেক Invalid Traffic রয়েছে।এ্যাডসেন্স একাউন্ট নিরাপদ রাখার পরামর্শঃআমার মনেহয় আপনি ইতোপূর্বে একটি AdSense Account Banned হওয়া থেকে রক্ষা করার সকল কৌশল জেনে গেছেন। একজন এ্যাডসেন্স পাবলিশার উপরের সকল নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরন করলে আমার মনেহয় কখনো এ্যাডসেন্স একাউন্ট Disabled হবে না। আপনি একজন WordPress ইউজার হয়ে থাকলে এ্যাডসেন্স একাউন্ট রক্ষা করার জন্য AICP Plugin টি ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার এ্যাডসেন্সকে বার বার ক্লিক থেকে রক্ষা করবে। তবে আপনি BlogSpot ব্যবহার করে থাকলে আপনার এ্যাডসেন্স এর CTR ঘন ঘন চেক করতে হবে। সহজে ও বার বার CTR চেক করার জন্য AdSense মোবাইল এ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন। কোন কারনে আপনার এ্যাডসেন্স এর CTR খুব বেশী হয়ে গেলে ব্লগ থেকে বিজ্ঞাপন কোড সরিয়ে নিবেন এবং সেই বিষয়ে এ্যাডসেন্স টিমকে জানিয়ে রাখবেন।
আসসালামু ওয়ালাইকুম,
আজ আমি সব ওয়েব ডেভেলপারদের জন্য ওয়েবসাইট বা অ্যাপ শেয়ার করছি যা ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডিজাইনের কোম্পানী। এই টুল ব্যবহার করে ওয়েব ডেভেলপাররা তাদের কাজটি সহজেই, সময়মত এবং সম্পূর্ণভাবে করতে পারবে যেমনটি তারা চায় অর্থাৎ তাদের মনের মত টুল।এই টুল গুলোর বর্ণনা ভিডিও আকারে লেখার শেষে দেয়া আছে দেখতে পারেন। আর টুল গুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে নামের শিরোনামের লিঙ্ক গুলো ব্যবহার করতে পারেন। চলুন দেখি কি কি টুল আছে ১ঃ পেমো অ্যাপ / Paymoapp
পেমো একটি অনলাইন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন যা ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট, ক্রিয়েটিভ এজেন্সি, সফটওয়্যার এবং আইটি সার্ভিসেস, স্থাপত্য ও নির্মাণ, লিগ্যাল সার্ভিসেস, মার্কেটিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা বিজনেস কনসালটেন্টের মতো জায়গাগুলিতে ব্যবহৃত হয়।এই পেমো অ্যাপ টুলস প্রধানত আপনার টিমকে টাইমসাইট ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প অ্যাকাউন্টিং ইত্যাদি বিষয়ে সাহায্য করে।যা আপনাকে আপনার বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা সহজ ও সাবলীল করে তুলবে। ২ঃ ক্রিয়েটলি / Creately
এক ওয়েব ডেভেলপারকে বিভিন্ন ডায়াগ্রাম, সাইট ম্যাপ ইত্যাদিতে কাজ করতে হয়। সৃজনশীল ডায়াগ্রামিং সরঞ্জামগুলি এটি করার জন্য সবচেয়ে সহজতম একটি। এই টুল দিয়ে, আপনি সাধারণত ডাটাবেস, সাইটম্যাপ বা এমনকি একটি ইউআই বা ইউএমএল মেকআপ ডায়াগ্রাম তৈরি করতে পারেন। ৩ঃ টিম গান্ট্ট / Team Gantt
এই টিম গান্ট্ট অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে আপনি আপনার প্রকল্পের ই-মেইলগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস আপডেট করতে পারেন। এই টিম গান্ট্ট আপনার টাস্কের নির্ভরযোগ্যতা তৈরি এবং প্রকল্প বেসলাইন স্থাপন করতে সাহায্য করবে।
৪ঃ রাইক/Wrike
রাইক একটি প্রকল্পের ম্যানেজমেন্ট সফ্টওয়্যার। এটি ব্যবহারকারীকে প্রকল্প, সময়সীমা, সময়সূচী এবং অন্যান্য কাজের কার্যক্রম পরিচালনা এবং ট্র্যাক করতে সহায়তা করে। এই টুল বর্তমানে প্রায় ৪৭,০০০ এর ও বেশি কোম্পানি ব্যবহার করে। ৫ঃ নোটিজম টুল /Notism tool
নোটিজম একটি ভিজ্যুয়াল ডিজাইন ফিডব্যাক টুল। এটি আপনাকে একটি সহজ, কার্যকর এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ নকশা তৈরি করতে সাহায্য ও সহজ করে দেয়। আর এর ধারা যে প্রোটোটাইপ গুলো তৈরি করবেন সেগুলোতে অনেক অসাধারন কিছু যুক্ত করার ফিচার পাবেন।
৬ঃ ক্রাউডবেস/Crowdbase
ক্রাউডবেস এমন একটি সিস্টেম যা ব্যবহারকারীদেরকে সর্বাধিক দক্ষতার সাথে প্রাসঙ্গিক ধারণা এবং তথ্য একত্রিত ও ব্যবস্থাপনাকে সহজ করে দেয়। তারপর তা নিরাপদভাবে তাদের একটি খুব ব্যক্তিগত এবং নিরাপদ পরিবেশে সংরক্ষণ করে এবং টীমে শেয়ার করে। ক্রাউডবেস প্রতিষ্ঠাতা তার নিজের অ্যালগরিদম এবং প্রযুক্তির দ্বারা জ্ঞানকে তথ্যকে সহজ এবং ঝামেলা ছাড়া শেয়ার করতে দেয়। এর ফলে আপনার দলের সদস্যদের কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে, এবং কাজের প্রতি সঠিক ধারনার জন্ম দিবে।
৭ঃ কাজুয়াল / Casual
এটি আপনাকে আরও টেমপ্লেট তৈরি করতে, চাক্ষুষ পণ্যগুলির রাস্তার মানচিত্র তৈরি করতে এবং ফ্লোরাইটিং অঙ্কন ইত্যাদি তৈরি করতে এবং আরও সুন্দর এবং হালকা জিনিসগুলি করতে দেয়। আর তৈরি হবার পর সেগুলোকে কাজুয়ালেই সংরক্ষণ করার সুবিধা পাবেন। ৮ঃ টিমফোকাস/ Teamfocus
টিমফোকাস আপনাকে আপনার সহকর্মীদের সাথে সংযুক্ত থাকার এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপনার প্রকল্পটি শেষ করতে সহায়তা করে। আপনি টিমফোকাস এর মাধ্যমে আপনার সহকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সুন্দর কাজের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। ৯ঃ গ্লাসকিউবস /Glasscubes
আপনার কাজের প্রয়োজনে আপনি সহকর্মী, ক্লায়েন্ট বা অন্য অংশীদারদের সাথে সংযোগ স্থাপন করেন, ও প্রয়োজনে তথ্য সংরক্ষণ ও শেয়ারিং করেন। আর এজন্যই গ্লাসকিউবস নিশ্চিত করে যে আপনি সবগুলি কাজ জাতে সর্বাধিক ফলপ্রসূ উপায়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারেন। এই সব সুবিধার জন্যই এখন এই টুল বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি, এলজি সহ অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানে ব্যাবহৃত হচ্ছে। ১০ঃ রেডবুথ / Redbooth
আমার শেষ টুলটি হল রেডবুথ। রেডবুথ ব্যস্ত টীম গুলোর সহজে ব্যবহারযোগ্য অনলাইন টাস্ক এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফ্টওয়্যার। এটি আপনার কোম্পানির অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল হোস্ট করার জন্য 256-বিট এনক্রিপশন ব্যবহার করে। এর দ্বারা আপনি আপনার তথ্যের ৫ গুণ বেশি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে পারবেন।
নিচে আলোচিত ৩০টি প্রয়োজনীয় টুলস দ্বারা আপনি জানতে পারবেন কিভাবে ওয়েব পেজ তৈরী করতে হয়, এর জন্য কি কি টুলস লাগবে, কোথায় সেগুলো পাবেন,কিভাবে আপলোড করতে হয়,ম্যানেজ করার টুলস,জনপ্রিয়তার মাপকাঠি এবং সার্চ ইন্জিনে কিভাবে নিবন্ধন করতে হয় ইত্যাদি।যারা ওয়েব পেজ নিয়ে কাজ করতে চান তাদের এটি কাজে আসবে আশা করি।
ওয়েব পেজ তৈরী করার টুলস
ড্রিমওয়িভার– ওয়েব সাইট প্যাকেজ তৈরী করার জন্য খুবই জনপ্রিয়।
হটস্ক্রিপ্ট – আপনার সাইটকে আকর্ষনীয় করার জন্য উম্মক্ত স্ক্রিপ্ট। (মুক্ত)
এইচটিএমএল কীট -ওয়েব পেজ কোডিং করার টুলস।
অটোরিপ্লেস-একাধিক ওয়েব পেজের টেক্সসমুহ সহজেই বদল করার জন্য। (মুক্ত)
ন্যামো ওয়েব এডিটর– ওয়েব সাইট তৈরী করার টুলস।
নোটপ্যাড++– নোটপ্যাড থেকে অধিকতর উন্নত সংস্করন। (মুক্ত)
সেরিফ ওয়েবপ্লাস-ওয়েব পেজ তৈরী করার সফটওয়্যার।
চিত্রলেখ (গ্রাফিকস) ডিজাইন টুলসঅ্যাডোবে ফটোশপ-জনপ্রিয় ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার।
কুলটেক্স-অনলাইন লোগো গ্রাফিকস তৈরী করার জন্য। (মুক্ত)
ইরফানভিউ– ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার। (মুক্ত)
পিক্সি-যেকোন রংয়ের এইচটিএমএল মান জানার জন্য।(মুক্ত)
সেরিফ ড্রপ্লাস-গ্রাফিকস এডিটিং সফটওয়্যার।
ওয়েব সাইট ব্যবস্হাপনা টুলস
কনট্রিবিউট-সহজেই সাইট এবং ব্লগ হালনাগাদ করার জন্য।কফিকাপফ্রিএফটিপি-ওয়েব সাইট আপলোড এবং ব্যবস্হাপনা (মুক্ত)
ইমেল চেক-স্প্যামাররা আপনার ওয়েব সাইট ইমেল এড্রেস দেখতে পায কি না তা যাচাই করা (মুক্ত)
ফায়ারফক্স ওয়েব ডেভেলপার এক্টেনশন-ওয়েব সাইট প্রকাশনা বা তৈরী (মুক্ত)
ফাইলজিলা-ওয়েব সাইট ফাইলস আপলোড এবং ব্যবস্হাপনা (মুক্ত)
লিংক পপুলারিটি-আপনার ওয়েব সাইট সার্চ ইন্জিনের নিকট কতটা জনপ্রিয় তা যাচাই করার জন্য।(মুক্ত)
অ্যালেক্সা টুলবার-অ্যালেক্সা সাইট তথ্যের জন্য(মুক্ত)
লিংক্স ব্রাউজার-টেক্স ব্রাউজারে আপনার কেমন দেখাবে তা যাচাই করে দেখা(মুক্ত)
ডব্লিউথ্রিসি ভ্যালিদেটর-আপনার পেজের কোডিংয়ের মান যাচাই করা(মুক্ত)
ফ্লাশ এনিমেশন
ফ্লাশ প্রো(প্রিমিয়ার ফ্লাশ তৈরী করার সফটওয়্যার
সুইস ম্যাক্স-ফ্লাশ ফাইল তৈরী করার টুলস।
এফোরডেক্স-কাঠামো(টেম্পলেট) ব্যবহার করে সহজেই ফ্লাশ সাইট তৈরী করা।
ডিভআইও-ডিজিটাল ক্যামেরা থেকে ভিডিও এভিআই তে নেওয়া।(মুক্ত)
কুলমুভস-সহজেই ফ্লাশ এনিমেশন তৈরী করা।
টারবাইন এনকোডার– সচল চিত্র(ভিডিও) কে স্টিমিং ফ্লাশে পরিবর্তন করা (মুক্ত)
আপনি যদি সত্যি একজন ভালো ওয়েব ডিজাইনার হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে বিভিন্ন ওয়েবসাইট এর বাহ্যিক চেহারা দেখে নিতে হবে। আপনার ওয়েবসাইট দেখে যেন সব বয়সের মানুষ পছন্দ করে সেভাবে চিন্তা করে ওয়েবপেজ তৈরি করতে হবে।
পেজটি লোড হতে কত সময় লাগছে, বিভিন্ন ব্রাউজার এ কেমন দেখাচ্ছে, পেজ এর কন্টেন্টগুলো কেমন হচ্ছে এবং পেজটি সম্পন্ন হবার পর কেমন দেখাচ্ছে এর সব কিছুই লক্ষ্য করতে হবে। আসুন জেনে নেই ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে কিছু আশ্চর্যজনক ও মজাদার তথ্য-
১. সব ওয়েব ব্রাউজারে ওয়েবপেজ বিভিন্ন রকম দেখা যায়:
আপনি যখন আপনার বাসায় কম্পিউটারে কোন ওয়েবপেজ গুগল-ক্রম এ দেখেন, ঠিক সেই পেজটি যখন আইফোন-এ সাফারিতে দেখবেন পেজটি অন্য রকম দেখাবে। একই ওয়েবসাইট বিভিন্ন যায়গায় ভিন্ন রকম কেন? কারন এটি নির্ভর করে পারসিং এবং রেন্ডারিং এর উপর।
ব্রাউজারগুলো কোড যেভাবে অনুবাদ করে সেভাবেই প্রদর্শন করে। মাঝে মাঝে কিছু কোড অনেক ব্রাউজার চিহ্নিত করতে পারে না, তাই সব ব্রাউজার এ একই পেজ পাওয়া যায় না। যারা
ওয়েবপেজ ডিজাইন করেন, তারা এইচটিএমএল ও সিএসএস সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানেন। তাই সব ধরনের ডিভাইস এ যেন ওয়েবপেজটি ভালভাবে প্রদর্শিত হয়। তা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
২. ডিজাইনের কারনেই ব্যবহারকারীরা আপনার ওয়েবপেজ এর উপর আকৃষ্ট হবে:
ইন্টারনেটে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ওয়েবপেজ এর ডিজাইন ও কনটেন্ট পরিবর্তন করা হচ্ছে। নেলসন নরমান গ্রুপ একটি প্রতিবেদনে বলেছেন, ব্যবহারকারীরা একটি পেজ এ যেয়ে যদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি সাথে সাথে না পান, তাহলে তারা অন্য পেজ এ খুব দ্রুত চলে যান। তাই সকল প্রয়োজনীয় তথ্য যেন খুব সহজেই পাওয়া যায় সেভাবে পেজটি তৈরি করতে হবে।
৩. দুই বছরের পুরানো পেজটি খুব বেশিই পুরাতন:
কোন পেজ ডিজাইন করলে তা অবশ্যই আপডেট করতে হবে। কারন, নতুন নতুন ফিচার এর কারনে আপনার পেজটি হয়ত অনেক পুরানো মনে হতে পারে। তাই, ওয়েবপেজটি যেন বর্তমান
সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক হয়, কোডিং এর মান যেন পেশাদারদের মত হয়। পুরানো ওয়েবপেজগুলো সব ব্রাউজার এ প্রদর্শন না ও করতে পারে। তাই, অবশ্যই পেজ কে সময়ের সাথে সাথে প্রয়োজনীয় আপডেট দিতে হবে।
৪. টেম্পলেট আপনার ওয়েবসাইট এর কার্যক্ষমতা সীমিত করতে পারে:
অনেকেই ওয়েবসাইট এ বিভিন্ন ধরনের টেম্পলেট ব্যবহার করে। যে কেউ যারা ওয়েবসাইট ডিজাইন সম্পর্কে সাধারন জ্ঞান রাখেন তারা বিভিন্ন টেম্পলেট ব্যাবহার করে পেজ ডিজাইন করে। কিন্তু, টেম্পলেট এর কারনে পেজগুলো অনেক ভারী হয়ে যায়। যার ফলে অনেক সময় ধরে লোড হয়। আর কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়।
৫. ছবি এবং ভিডিওর নেতিবাচক ও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে:
বিভিন্ন ওয়েবপেজ এ নানা রকম ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হয়। এর ভালো ও খারাপ দুই দিকেই প্রভাব রয়েছে। ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন পেজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলে। কিন্তু ছবি ও ভিডিও এর সাইজ যদি বড় হয় তাহলে পেজ এর লোডিং এর সময় বৃদ্ধি পায়। তাই, অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যে ছবি ও ভিডিও এর সাইজ যেন ঠিক থাকে।
নাহলে ব্যবহারকারীগণ সেই পেজ থেকে সরে যাবে। ওয়েবপেজ ডিজাইন করার সময় অবশ্যই সর্বপ্রথমে লোড এর সময় বিবেচনায় রাখতে হবে। কোন মেয়াদ উত্তীর্ণ ও অপ্রয়োজনীয় কিছু ব্যবহার করা যাবে না।
বর্তমান বিশ্বায়নের এইযুগে সবকিছু হয়ে যাচ্ছে অনলাইনমুখী।ব্যাক্তি থেকে শুরু করে সামাজিক,রাষ্টীয় সব কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পিছনে থাকছে ইন্টারনেটের এক বিশাল অবদান।আর এমন একটা যুগে নিজের ব্যাক্তিগত বা ব্যাবসায়িক কোন অনলাইন পরিচিতি থাকবে না তা কি আর হয়?হ্যা সবার হয়ত কমবেশি ফেসবুকে বা অনন্যা সামাজিক মাধ্যমে নিজের একটা স্টাটাস আছে।কিন্তু সেখানে রয়েছে অনেক সীমাবদ্বতা।সেখানে আমরা নিজেকে বা নিজের ব্যাবশাকে ঠিক নিজেরদের মতো করে উপস্থাপন করতে পারি না।তাদের বেধে দেওয়া ডিজাইন আর সীমাবদ্বতার ভিতরেই থাকতে হয়।এতে কী আর পরিপূর্নতা আসে?না ,আসে না।তাই যারা নিজেকে বা নিজের ব্যবসায়ে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় নিজের মতো করে প্রকাশ বা প্রচারনার জন্য একটি ওয়েবসাইট করার কথা ভাবছেন তাদের জন্যও আজকের এই বিশেষ আর্টিকেলটি।
ওয়েবসাইটঃ
মুলত দুইভাবে করা যায়।ফ্রি আর পেইড।ফ্রিতে করতে চাইলে আপনি Blogspot.com,wordpress.com এ গিয়ে ফেসবুকের মতো করে নিজস্ব একটা প্রোফাইল করতে পারবেন মাত্র। ফ্রি জিনিসের বা পন্যের ভবিষ্যত কী…সেটা আশা করি কারোরই আজানা নয়।একটা জিনিস মনে রাখবেন…আপনার ওয়েবসাইট কিন্তু ১/২ দিন এর জন্য নয়,সারাজীবনের জন্য।তাই ফ্রীর প্রসঙ্গ এখানেই শেষ করছি। আর যদি চান,আকর্ষনীয় ডিজাইন ও পরিপূর্ন তথ্যে দিয়ে সুন্দর একটি কাঠামো গঠন করতে তাহলে আপনাকে অবশ্যই পেইড বা টাকা দিয়ে ওয়েবসাইট করার দিকেই যেতে হবে।আর এজন্য দরকার ডোমেইন আর হোস্টিং।এখানেই যত ঝামেলা।সঠিক ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন ও হোস্টিং ঠিক করতে না পারার কারনে অনেকেই বিশেষকরে নতুনরা ওয়েবসাইটের ১২টা বাজিয়ে ফেলে।
আর যাদের ডোমেইন/হোস্টিং নিয়ে ধারনা নেই তাদের জন্য ছোট্ট করে বলছি-
ডোমেইনঃসহজকথায় আপনার ওয়েবসাইটের এড্রেস বা ঠিকানাই হলো আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন।যেমনঃফেসবুকের ডোমেইন হলো facebook.com।ডোমেইন টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় ও প্রতিবছর ভাড়া দিতে হয়।
ডোমেইন কই পাবোআমাদের দেশে অনেক ডোমেইন প্রোভাইডার আছে যেখানে আপনি প্রায় ৮০০ টাকা হলেই একটি টপ লেভেলের ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।এটা রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ।পরবর্তী বছর থেকে আপনাকে প্রতিবছর ৮০০ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে।
সতর্কতাঃঅনেক ভুয়া বা প্রতারক প্রতিষ্ঠান আছে,যারা আপনাকে ফ্রি বা ২০০/৩০০/৫০০ টাকায় ডোমেইন দেওয়ার কথা বলবে……এদের থেকে সর্বদা সাবধান থাকবেন।এরা ১ম বছর আপানাকে বিভিন্ন অফার দিয়ে লোভ দেখিয়ে ডোমেইন কিনাবে ,কিন্তু পরের বছর থেকে সেই আপনার কাছ থেকেই টাকাগুলো উঠিয়ে নিবে।তখন ওয়েবসাইট বাচাতে তাদের চাওয়া পূরন করতে আপনি বাধ্য থাকবেন।নতুবা আপনার ওয়েবসাইট শেষ।তাই…টাকা একটু বেশী লাগলেও যাদের কোন হিডেন-ফি তাদের কাছ থেকে কিনুন।আপনার ওয়েবসাইট কিন্তু সারাজীবনের,১/২ দিনের জন্য না।
এবার হোস্টিং নিয়ে আলোচনা করা যাকঃ
হোস্টিংঃ ধরুন আপনি একটি বাড়ি করবেন।এজন্য আপনার দরকার একটি জায়গা নির্বাচন করা।ধরা যাক ,আপনি ঢাকাতে ২ একর জায়গার উপ বাড়িটি করবেন।তাহলে,ঢাকা হলো আপনার ডোমেইন বা ওয়েবসাইটের এড্রেস আর ২ একর পরিমানটা হলো আপনার হোস্টিং।
হোস্টিং কই পাবোঃ
যারা ডোমেইন সেল করে তাদেরকাছেই আপনি হোস্টিং পাবেন।তবে এক্ষেত্রেও প্রতারক থেকে সদা-সাবধান থাকবেন।টাকা একটু বেশি লাগে লাগুক।
দাম কেমনঃ
এটা নির্ভর করবে আপনি কত GB হোস্টিং চাচ্ছেন তার উপর।যদি ব্যাক্তিগত ওয়েবসাইট করেন তাহলে সবমিলিয়ে ২ GB হোস্টিংই যথেস্ট ও এটাই পারফেক্ট। আর 2 GB হোস্টিং এর মুল্য প্রায় ১৪০০ টাকা।আবার যদি ব্যবশায়িক ওয়েবসাইট করেন তাহলে নজর দিতে হবে ১০ GB বা তারও উপরে( ব্যবশায়ের আকারের উপর নির্ভরশীল)। এটার দাম পরবে আপনার প্রায় ২৩০০-৫০০০ টাকা।মানে যে যেমন লাভ করে আর-কী।কেউ একটু বেশী লাভ করে আবার কেউ কম।তবে এক্ষেত্রে নজর রাখতে পারেন-অনেক কোম্পানি মার্কেটিং করার জন্য অনেক কম লাভে হোস্টিং দিয়ে থাকে তাদের উপর।
চেস্টা করবেন একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই ডোমেইন ও হোস্টিং নেওয়ার জন্য।তাহলে ওরাই সব সেটিংস করে দিবে
আবার অনেক কোম্পানি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধাও দিয়ে থাকে।এতে করে পরবর্তীতে তাদের কাস্টমার সাপ্লাই দিয়ে ভালো পরিমান আয়ও করতে পাড়েন
হোস্টিং কেনার আগে যে বিষয়গুলো মনে থাকা চাইঃ
লোডিং স্পিডঃ
ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড অব্যশ্যই হাই থাকতে হবে।তা না হলে পড়তে হবে নান বিড়ম্ভনায় গুগল থেকে পেনাল্টিও খেতে পাড়েন।হোস্টিং প্রভাইডারের সাথে কথা বলে জেনে নিন কী-রকম লোডীং স্পিড তারা দিবে।
ব্যান্ডউইথঃ
আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর নির্ভর করবে আপানার ব্যান্ডউইথ এর উপর।যদি বেশী ব্যান্ডউইথ কিনেন তাহলে বেশী ভিজিটর আসতে পারবে আর কম ব্যান্ডউইথ কিনলে একটা সীমাবদ্বতা থাকবে।তাই যারা আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ দেয় তাদের কাছ থেকে কিনার চেস্টা করুন
আপটাইমঃ
অব্যশ্যই ৯৯.৯৯% থাকতে হবে।আর সচরাচর সবাই ৯৯.৯৯% দেয়
মানিব্যাক গ্যারান্টি-
মানিব্যাক গ্যারান্টি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। অনেক কোম্পানিই ৩০ দিনের মানিব্যাক গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। কেনার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন কোম্পানি মানিব্যাক গ্যারান্টি দিচ্ছে কিনা।
৫)সাপোর্টঃ
অব্যশ্যই ২৪ ঘন্টা লাইভ -সাপোর্ট যারা দিবে তাদের কাছ থেকে কিনুন।এটা খুব গুরুত্বপুর্ন
৬ কন্ট্রোল প্যানেল-
আপনার ওয়েব সাইট ম্যানেজ করার জন্য কন্ট্রোল প্যানেল প্রয়োজন। কন্ট্রোল প্যানেলের সাহায্যে আপনি আপনার ওয়েব সাইট সহজেই ম্যানেজ করতে পারেন। ওয়েব হোস্টিং এ সব চেয়ে সহজ এবং অধিক ফিচার সমৃদ্ধ কন্ট্রোল প্যানেল হচ্ছে সিপ্যানেল। তাই সবসময় সিপ্যানেল হোস্টিং নেয়ার কথা চিন্তা করুন।
এফিলিয়েট মার্কেটিং
আমারতো বাজেট কম? ভাই কমের ভিতর ভালো কেমনে পাবো।কমের মধ্যে ভালো পাবেন না। তবে আপনি ১৩০০/১৪০০ টাকায় কিনে খুব তাড়াতাড়ি সেটার দাম উঠিয়ে নিতে পারবেন। শুধু দামই না আপনার নিয়মিত একটা ইনকামের ব্যবস্থা করতে পারবেন। কেমনে?কেনার আগে খুজ নিন কোম্পানিটি এফিলিয়েট সুবিধা দেয় কিনা। যদি দেয় তাহলে পরবর্তীতে তাদেরকে কাস্টমার সাপ্লাই দিয়ে আপনি একটা ভালো এমাউন্ট আয় করতে পারবেন।
৭) সার্ভার লোড-
সাভার ওভার লোড কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন কোম্পানির সাপোর্টে কথা বলে
SSD ও HSD:
আপনার হোস্টিং অব্যশ্যই SSD হতে হবে।সাপোর্টে কথা বলে জেনে নিন তারা SSD না HSD প্রোভাইড করছে।
তাছারাও ইমেইল,দৈনিক ব্যাকাপ, personal client supporet,visrus protection ইত্যাদি বিষয়গুলোও অনেক বিবেচনা করবেন।
এখানে আমার দেখা ও ব্যবহার করা শুধু বাংলাদেশের নয়,পুরো world-wide ডোমেইন ও SSD হোস্টিং প্রোভাইডার Host4coder এর নাম না বললেই নয়।অন্যতম বিস্বস্ত ও হাই-স্পিড হোস্টিং প্রোভাইডার হিসেবে খুব কম সময়ের মধ্যেই গ্রাহকদের নজর কাড়তে পারেছি এটি।আপনারা চাইলে তাদের কাছ থেকে নিতে পাড়েন ।গুগলে একটু সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন।তাদের ফেভারিট হওয়ার অন্যতম কারণ হলো,তারা শুরুতেই আপনাকে ৫০ জিবি হোস্টিং ও আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ প্রোভাইড করবে মাত্র ১৪১৪ টাকায় আর এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধাটিও থাকছে।গত ০২ বছরের রিসার্চে দেখা যায় Godaddy,Bluehost ইত্যাদি বিশ্বসেরা হোস্টিং কোম্পানির মতো Host4coder এরও আপটাইম ১০০%।তবে হ্যা ,কিনার আগে অব্যশ্যই অন্যান্য ডোমেইন-হোস্টিং প্রোভাইডার দেরদেও সার্ভিস সম্পর্কে ভালোভাবে খোজ-খবর নিয়ে আপনার জন্য যেটা best মনে করবেন তাদের কাছ থেকেই কিনুন।শুধু তিনটি জিনিস মাথায় রাখবেন-
১)স্পেস
২)ব্যান্ডউয়িথ
৩)প্রোগ্রামিং সাপোর্ট
এই সহজ তিনটি বিষয় বিবেচনা করে সহজেই আপনি চিনে নিতে পারবেন সেরা হোস্টিং প্রোভাইডারদের।
প্রায়ই প্রশ্নের মুখে পড়েন ওয়েব, ইন্টারনেট, ওয়েবপেজ ও ওয়েবসাইট কি? ওয়েবডিজাইনসহ বেসিক আইটি জ্ঞানের জন্য এতথ্যগুলো কাজে লাগাতে পারেন। ওয়েব: ওয়েব হচ্ছে ইন্টারনেট সার্ভারের একটি সিস্টেম যা বিভিন্ন ফরম্যাটেড ডকুমেন্ট সাপোর্টকরে। এসব ডকুমেন্ট এইচটিএমএলে ফরম্যাট করা থাকে যা দিয়ে অন্য ডকুমেন্টের সঙ্গে লিংক করা যায়।ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহারকরে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে ঢোকা যায়।
ওয়েব পেজ: ওয়েব পেজ হল একটি ডকুমেন্ট যা হাইপার টেক্সট মার্ক আপ ল্যাঙ্গুয়েজ বা এইচটিএমএলে লেখা। এটি ইন্টারনেটবা অন্য নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট ব্রাউজার দিয়ে অ্যাক্সেস করা যায়। কোনো ইউআরএল অ্যাড্রেস ব্যভহার করে ওয়েবপেজেযাওয়া যায়। এতে টেক্সট, গ্রাফিকস. হাইপার লিংক, ফাইল, অন্য ওয়েবপেজ থাকতে পারে।ওয়েবসাইট: ইন্টারনেটে প্রচুর তথ্যথাকে।এসব তথ্য বিভিন্ন উৎস থেকে আসে। এগুলো কোনো ফাইল বা ওয়েবপেজ আকারে সজ্জিত থাকে। এসবওয়েবপেজগুলোকে গ্রুপ করে একটি অস্তিত্ব তৈরির নাম ওয়েবসাইট। তাই ওয়েবসাইটকে ওয়েবপেজের গ্রুপ বলা যেতে পারে।এতে টেক্সট, ছবি বা বিভিন্ন মাল্টিমিডয়া ফাইল থাকে।
অনেকেরই প্রায় সময় বলতে শুনি “আমার একটা ওয়েব সাইট বানানোর খুব ইচ্ছা।” তো তারা কি করে বিভিন্ন সাইট থেকেওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল ও আর কিছু লাগিন এর কাজ জেনে একটা ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল দিয়ে সুন্দর দেখে একটা ফ্রিতে পাওয়াপ্রিমিয়াম থিম একটিভ করে বানিয়ে ফেলে একটা ওয়েব সাইট।
এত সোজা একটা ওয়েব সাইট বানানো ?? !! না এত সোজা কাজ না। ওয়েব সাইট তৈরির সাথে অনেক কিছু জরিত আছে। সেটাইনিচে গাইড লাইন আকারে আলোচনা করা হল।
ডোমেইন নেইম নির্বাচনঃ
ওয়েব সাইট বানালে অবশ্যই একটা ডোমেইন নাম লাগবে। মানে যেই নাম অ্যাড্রেস বারে দিয়ে ক্লিক করলেই ওই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটটি চলে আসবে। ডোমেইন নাম যে কোন একটা হলেই হয় এটা ভুল আবার সত্য। মানে যদি আপনি প্রফেশনাল ভাবে সাইটতৈরি করতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে ইউনিক নাম নির্বাচন করতে হবে। শুধু ওই নামটা খালি থাকলেই হবে না তার সাথেআরও কিছু জিনিস যুক্ত করতে হবে। যেমনঃ
১.যেই নামে ডোমেইন নিবেন গুগলে ওই নামটি সার্চ দিয়ে দেখবেন ওই নামে কোনফেসবুক পেজ, গুগল প্লাস পেজ, টুইটার একাউন্ট, ইউটিউব একাউন্ট ইত্যাদি আছে কিনা। যদি থাকে তবে সেই নাম না নেওয়া ভাল।
২.ডোমেইন নামের মদ্ধে “-/_” হাইফেন বা হ্যস চিহ্ন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন।
৩.ডোমেইন নামটা ৭/৮ অক্ষরেরমদ্ধে যদি নিতে পারেন তবে ভাল। বেশি বড় নিবেন না।
৪.ইংরেজিতে জটিল বানান এমন ডোমেইন নাম নিবেন না। এতেভিজিটর সহজে নাম মনে রাখতে পারবেনা। আপনার সাইটের নাম লিখতে গিয়ে ভুল লিখে অন্য সাইটে চলে যাবে।
৫.একটি নামেডোমেইন আছে তার আশে পাশের বানানের ডোমেইন নাম নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। যেমনঃ www.facebook.com আছেআপনি নিয়ে নিলেন www.facebooks.com বা www.face-book.com
৬.ডোমেইন নামটা উচ্চারনে সুন্দর ও সহজ শব্দ বাযে সব শব্দ আমরা সব সময় ব্যবহার করি এমন শব্দ দিয়ে ডোমেইন নাম নেবার চেষ্টা করুন।
৭.আপনি যে ধরনের সাইটবানাতে চান সেটার সাথে মিল রেখে ডোমেইন নাম কিনুন।
হোস্টিং কেনাঃ
ডোমেইনের পরেই যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার সেটা হল হোস্টিং। হোস্টিং হল আপনি যে সাইটটা তৈরি করবেন সেটা যাবতীয়স্ক্রিপ্ট, ফাইল ও এত দরকারি জিনিসপত্র রাখার জন্য জায়গা এর আপনি বা আপনার ভিজিটর যে ওয়েব সাইটটা ভিজিটকরতেছে সেটা জন্য কিছু কে.বি খরচ হয়। সেটাকে বলা হয় ব্যান্ডউইথ। এগুলো সহ আরও অনেক কিছু সম্বলিত থাকে হোস্টিংএর মদ্ধে। হোস্টিং কি এটা আর কিছু বললাম না কারন বেশির ভাগ মানুষই জানেন এটা কি। আর কেউ যদি না জানেন মন্তব্যতেজানাবেন। বিস্তারিত বুঝানোর চেষ্টা করবো।হোস্টিং কোনটা নিবেন, কতটুকু নিবেন !!!
আমরা সাধারন ভাবে যে সাইট বানাবতার জন্য শেয়ার হোস্টিং নিলেই হবে। আর দাম খুব কম। কেউ যদি একটু ভাল স্পীড বা ভাল সার্ভিস পেতে চান তারাভি.পি.এস নিতে পারেন। সাধারন ভাবে আমাদের ১ জিবি জায়গা(Space) হলেই যথেষ্ট এটাই সহজে খরচ হবেনা। তবেব্যান্ডউইথ টা একটু বেশি নেওয়া ভাল কারন। জত ভিজিটর বাড়বে তত ব্যান্ডউইথ খরচ হবে।
আর কিছু জিনিস দেখবেন।যেমনঃ কয়টা সাবডোমেইন বানানোর সুযোগ দিবে, কয়টা ডাটাবেস তৈরি করতে দিবে। ইত্যাদি।তথ্য সংগ্রহঃআপনি কি কাজেরজন্য সাইট বানাতে চান। ব্লগ সাইট, পার্সোনাল ইনফরমেশন সাইট, বিজনেস সাইট, পোর্টফলিও সাইট ইত্যাদি। কোনটা বানাতেচান। যেটা বানাবেন সেইটার আনুশাঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করুন।
যেমনঃ বিজনেস সাইট হলে বিজনেস সম্পর্কিত তথ্য, স্কুল ওয়েবসাইট হলে স্কুল সম্পর্কিত তথ্য ইত্যাদি।প্লাটফর্ম নির্বাচনঃআপনি যেই ওয়েব সাইটটা বানাবেন সেটা কিসে বানাবেন HTML এনাকি PHP তে নাকি কোন CMS(WordPress, Joomla, Drupal) ব্যবহার করবেন। যদি ব্লগ সাইট হয় তবে CMSহিসাবে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে পারেন। যদি বিজনেস সাইট হয় তবে HTML আর মাদ্ধমে করতে পারেন বা চাইলে PHPতেও করতে পারেন। অবশ্য আরও অনেক প্লাটফর্ম এ করা যায় যেমনঃ ASP.NET, Python, Ruby, ColdFusion ইত্যাদি।সাইট ডেভলপঃএবার শুরু ওয়েব সাইট ডেভলপের কাজ। সাইট ডেভলপের ক্ষেত্রে কিছু জিনিস মাথায় রাখবেন।যেমনঃ
১.ওয়েবসাইটের সুন্দর একটি লোগো বানাবেন। সেটা সাইতে ব্যবহার করবেন।
২. সাইটের ব্যাকগ্রউন্ডে আকর্ষণী একটিব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করবেন যাতে সাইটটি সুন্দর ভাবে ফুতে উঠে। তবে ব্যাকগ্রউন্ড এ এমন কোন কালার ব্যবহার করবেন নাযেটা চোখে বেশি লাগে মানে বেশি উজ্জ্বল কালার।
৩.সাইটের ফন্ট বেশি ছোট রাখবেন না। ভিজিটরের যাতে পরতে কোন সমশানা হয় এমন সাইজ ব্যবহার করবেন। ফন্ট কালার কালোই ভাল দেখা যায়।
৪.সাইটের আউটলুক সুন্দর করার চেষ্টা করবেন।যাতে ভিজিটর ভিজিত করে শান্তি পায়।
৫.ভিজিটরকে যাতে ধরে রাখা যায় বেশি ক্ষণ বা যাতে এবার ফিরে আসে সেই বাবস্থাকরুন। যেমনঃ RSS ফিড যোগ করুন। সাইড বারে ও পেজের/ পোষ্টের শেষে একই রকম পোস্ট বা বেশি পঠিত পোস্ট লিঙ্করাখুন। এছাড়াও প্রয়োজনীয় লিঙ্ক সাইড বারে দিন।
৬. সাইটে যদি বিজ্ঞাপন থাকে মানে এডসেন্স বা অন্য কিছু। তবে অতিরিক্তআঁকারে বিজ্ঞাপন দিবেন না। বিজ্ঞাপন গুলো সাজিয়ে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করবেন। এস.ই.ও করুনঃএসইও(SEO) বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলতে বুঝায় বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে একটি সাইটকে তুলে ধরাসাইটে কি আছে তা সার্চ ইঞ্জিনকে বুঝানো।
আমরা যেকোনো কিছু লিখে গুগলে সার্চ দিলে দেখা যাবে অনেক পরিমানে ফলাফলপাওয়া যায় এর মধ্যে প্রথম ২/৩ পেজে যে সাইট গুলো আমরা পাই সেগুলোই আমরা দেখে থাকি। এটাই হল এসইও মানে সাইটেএসইও করলে সার্চ ইঞ্জিন আপনার সাইটকে আগে নিয়ে আসবে আগে থেকলে ভিজিটররা বেশি দেখবে। এটাই মূলত এসইও রকাজ।