Articles by "প্রেসক্রিপশন"
Showing posts with label প্রেসক্রিপশন. Show all posts

মরিচ ঝাল হয়ে ক্যাপসেইসিনের গুণে। মানে ক্যাপসেইসিন নামের একটি উপাদান থাকে বলেই মরিচ ঝাল হয়। মরিচে এর মাত্রা যত বেশি হবে ঝালের মাত্রাও ততই বাড়বে। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই উপাদান মানুষের স্থূলত্বের সঙ্গে জড়িত হরমোনের কার্যকারিতার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তাতে ভবিষ্যতে ঝালের গুণে কেবল খাবার মুখরোচক হয়ে উঠবে না বরং 'মেদ-ভুরি কি করি নিয়ে' যারা হন্যে হয়ে আছেন তারাও দেহের বাড়তি মেদ ঝরানোর পথ সহজেই খুঁজে পাবেন।
ঝাল মরিচ হয় মেদ ঝরানোর সহজ পথ দেখাবে!
ভারতের সেন্ট্রাল ফুড টেকনোলজিক্যাল রিসার্চ ইন্সটিটিউট বা সিএফটিআরআই'এর গবেষকরা দেখতে পেরেছেন অবেসট্যাটিন নামের শরীরের একটি হরমোনের কার্যকারিতা বাড়ায় ক্যাপসেইসিন। এতে শরীরের চর্বি ঝরতে সহায়তা করা হয়। কারণ এ হরমোনই 'পেট ভরে গেছে আর খেতে হবে না' বলে সংকেত পাঠায় মানব মস্তিষ্কে।

মানুষের হজমতন্ত্রে উৎপন্ন হয় অবেসট্যাটিন। মস্তিষ্কে সংকেত পাঠানোর মাধ্যমে আমাদের খাওয়া-দাওয়াকে গ্রহণ করার কাজে প্রভাব ফেলে এটি। এ ছাড়া শরীরের বিপাকীয় তৎপরতা বাড়িয়ে মেদ কমতে সহায়তা করে একই হরমোন। এ জন্য ভিন্ন ধরণের সংকেত অন্য কোষরাজির মাধ্যমে পাঠায়।সব মিলে মেদ কমানোর কাজে ক্যাপসেইসিন ব্যবহারের বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে অনেক সময়ই রোগীকে বাড়তি ঝাল খেতে নিষেধ করেন চিকিৎসক। এ নিবন্ধ পড়েই মেদ কমানোর আশায় তেমন রোগীরা বাড়তি ঝাল খাওয়া শুরু করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। শুধু ঝাল নয়, সুযোগ্য চিকিৎসক রোগীকে অন্যান্য খাওয়ার বিষয়ে যে সব উপদেশ দেন তা কোনও অবস্থায় চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া ভাঙ্গা উচিত নয়। খাদ্য-গবেষণা বিষয়ক যে কোনও নিবন্ধ বা খবর পড়ার সময় মনে রাখবেন, এটি এখনও চিকিৎসাবিদ্যার বইতে অন্তর্ভুক্ত হয় নি। বা সবার জন্যও এটি প্রযোজ্য নয়। এ বিষয়ে শেষ কথা বলবেন, আপনার সুযোগ্য চিকিৎসক।

ক্যাপসেইসিন সংক্রান্ত গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে সেল বায়োক্যামেস্ট্রি অ্যান্ড বায়োফিজিক্স সাময়িকীয় সাম্প্রতিক সংখ্যায়।

বাড়তি ওজন নিয়ে যারা চিন্তায় থাকেন, তাদের জন্য ‘বুলেটপ্রুফ কফি’ অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কফি ওজন কমানো থেকে শুরু করে কর্মক্ষমতা বাড়াতে পান করা যেতে পারে।
ওজন কমাতে ‘বুলেটপ্রুফ কফি’
নিয়মিত ‍‌এই কফি পানে ক্ষুধা কম লাগবে। এর স্বাদ সাধারণ কফির চেয়ে বেশি।

কফি বানাতে যা লাগবে 

কফি গুঁড়া এক চা চামচ, কফিমেট ৩ চা চামচ, চিনি এক চা চামচ(ইচ্ছা) গরম পানি এক মগ। আধা চা চামচ মাখন ও ১ টেবিল চামচ নারকেল তেল।

পদ্ধতি 

প্রথমে মগে কফি গুঁড়া নিয়ে সামান্য পানি দিয়ে বিট করে নিন। গরম পানিতে কফিমেট ভালো করে মিশিয়ে কফির মগে ঢেলে দিন। চিনি দিয়ে এবার মাখন এবং তেল মিশিয়ে নিলেই তৈরি হবে বুলেটপ্রুফ কফি।

রাতে ঘুমানোর আগে অনেকেই চা, কফি বা স্ন্যাক জাতীয় খাবার খেয়ে থাকে। রাতে ঘুমানোর আগে দূরে রাখতে হবে সাতটি খাবার। না হলে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।

যে সাত ধরণের খাবার রাতে না খাওয়া উচিত, সেগুলো হল:

১. অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার: এমন খাবারের জন্য আপনার জ্ঞান লোপ পেতে পারে। ঝালযুক্ত খাবারের বুকে জ্বালা ও পেটে ব্যথা হতে পারে।

২. ফ্যাটযুক্ত খাবার: এই খাবার মোটেও খাবেন না। পিৎজা, বার্গার, আলুর চিপস ইত্যাদি খেলে পরিপাকক্রিয়াতে সমস্যা ও ওজনও বৃদ্ধি পাবে।

৩. পনির: পনির শরীরকে মোটা বানিয়ে ফেলে, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, শরীরে উচ্চমাত্রায় চর্বি ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে।তাই পনিরকে খুব সংযতভাবে খাওয়া উচিৎ।

৪. ফল: অতিরিক্ত ফল খেলে শরীরে গ্যাসের সৃষ্টি হয় এবং হজম ক্ষমতায় বিভিন্ন বিঘ্ন বাঁধে। যদি রাতে ফল খেতেই হয়, তাহলে এককাপের বেশি ফল খাবেন না।

৫. মাংস: মাংস খুব হজম হতে দেরি হয়। এজন্য রাতে মাংস খাওয়া একদমই ঠিক নয়।

৬. চিপস, ভুট্টা, ভাঁজাপোড়া খাবার বা এ ধরনের বিভিন্ন খাবার বাহির থেকে এনে খাবেন না। এতে আপনার কোন উপকার তো হবেই না, আরো শারীরিক সমস্যা দেখা দিবে।

৭. মিষ্টিজাতীয় খাবার: এমন একদমই খাবেন না। আইসক্রিম, চকলেট, ক্যান্ডি বার ইত্যাদিতে ফ্যাট রয়েছে। ঘুমানোর আগে অবশ্যই ফ্যাটযুক্ত কোন খাবার খাবেন না।

এখন আর শুধুমাত্র শীতকালে নয়, সারা বছরই খুশকির সমস্যা লেগে থাকে। অতিরিক্ত দুষণ, ধুলো, ময়লার কারণে চুলের সর্বনাশ হয় অকালেই। খুশকি হল চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বিরাট একটা সমস্যা। অতিমাত্রায় চুল ঝরে যাওয়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া বা বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাল্প ইনফেকশন-এর জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ি এই খুশকি।

খুশকির সমস্যা থেকে রেহাই পেতে বাজারে চলতি নানা ধরনের শ্যাম্পু বা লোশন ব্যবহার করেন অনেকেই। কিন্তু এগুলিতে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবে কখনও কখনও উল্টে চুলেরই ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আর তাতে অকালে টাক পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নিচে দেখে নিতে পারেন কিছু কার্যকরী ঘরোয়া উপায় যেগুলি সামান্য খরচে খুশকির সমস্যা দ্রুত দূর করতে পারে কোনও রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই...

১) নারিকেল তেল: নঋকেল তেল খুর্শকির প্রকোপ কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী! নারিকেল তেল চুলের গোড়া ময়েশ্চারাইজ করে খুশকি এবং স্ক্যাল্প ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। সপ্তাহে অন্তত দুইবার চুলের গোড়ায় সামান্য উষ্ণ নারিকেল তেল দিয়ে মালিশ করতে পারলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।

২) টকদই: খুশকির সমস্যা থেকে বাচঁতে টকদই বেশ কার্যকরী। খুশকি দূর করতে টকদই মাথার ত্বকে মিনিট দশেক ধরে ভালভাবে মালিশ করুন। এরপর ১০ মিনিট রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত দু’বার এই ভাবে চুলে টকদই ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

৩) পেঁয়াজের রস: দু’টো মাঝারি মাপের পেঁয়াজ ভাল করে বেটে এক মগ পানিতে (অন্তত ৩০০-৩৫০ মিলিলিটার পানিতে) মিশিয়ে নিন। মাথায় এই পেঁয়াজের রস ভাল করে মাখিয়ে মিনিট পনেরো মালিশ করুন। এরপর ৫ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে দুই-তিন বার পেঁয়াজের রস মাথায় মাখলে খুশকির সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই পাবেন।

৪) রিঠা: চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে রিঠা অত্যন্ত কার্যকরী। খুশকির সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রেও এর জুরি মেলা ভার! রিঠা পাউডার বা রিঠা সিদ্ধ পানি চুলের ত্বকে লাগিয়ে ঘণ্টা খানেক রেখে তারপর ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে অন্তত দুই বার রিঠার পানি মাথায় মাখলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।

৫) মেথি: খুশকির সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে পারেন মেথি। সারারাত দু’-তিন চামচ মেথি পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিন। সকালে মেথির থেকে পানি ছেঁকে নিয়ে ভাল করে বেটে নিন। তবে ছেঁকে নেওয়া পানি ফেলে দেবেন না। এ বার বেটে নেয়া মেথি চুলের গোঁড়ায়, মাথার ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে নিন। ঘণ্টা খানেক রেখে চুল ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার পর মেথি ভেজানো পানি দিয়ে আরও একবার চুল ধুয়ে নিন। এ ভাবে সপ্তাহে অন্তত দুইবার মেথি মালিশ করলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাওয়া যাবে।

শীত প্রায় এসেই পড়লো। এসময় পায়ের গোড়ালি ফাটা নিয়ে অনেকেই চিন্তির। তবে পা ফাটা রোধ করতে আপনাকে কয়েকটি ঘরোয়া টিপস মেনে চলতে হবে। অনেক বেশি হাঁটাচলা, দিনের দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কাজ করা, আবহাওয়াজনিত কারণ, পরিবেশ দূষণ, ডায়াবেটিকস, থাইরয়েড, খাবার গ্রহণে অনিয়ম, শরীরে পুষ্টির অভাব, বয়সের প্রভাব ইত্যাদি দেখা দিলেই মূলত এই সমস্যাটি দেখা দেয়।

প্রতিকারের ঘরোয়া টিপসগুলো হলোঃ

১-বেকিং সোডার ব্যবহার

একটি বালতি অথবা গামলায় তিন লিটার পানি ঢালুন। পানিতে তিন চামচ বেকিং সোডা ভালোভাবে মিশান। পানিতে ২০মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। পানি থেকে পা তুলে পিউমিক স্টোনের সাহায্যে পায়ের গোড়ালি আস্তে আস্তে ঘষুন। মরা চামড়া তুলে ফেলুন। এরপর পরিষ্কার পানিতে পা ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। পা শুকিয়ে এলে ময়েশ্চারাইজার ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে অন্তত তিন বার এইভাবে বেকিং সোডা ব্যবহার করুন। তাহলে পা কোমল ও আকর্ষণীয় হবে। পা ফাটা রোধ হবে।

২-অ্যালোভেরা জেলের ব্যবহার

পরিষ্কার পাত্রে তিন লিটার কুসুম গরম পানিতে পরিমাণ মত লবণ মিশিয়ে তাতে ২০মিনিটের জন্য পা ভিজিয়ে রাখুন। পানি থেকে পা তুলে মুছে শুকিয়ে নিন। শুকনো পায়ের গোড়ালিতে অ্যালোভেরা জেল আলতো করে ম্যাসেজ করে মোজা পরুন। এভাবে সারারাত রেখে পরদিন সকালে কুসুম গরম পানিতে পা ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে অন্তত দুই বার ব্যবহার করুন। আস্তে আস্তে গোড়ালি কোমল ও মসৃণ হবে।

৩-ভেজিটেবল অয়েলের ব্যবহার

পা ফাটা রোধের জন্য কার্যকরী কিছু ভেজিটেবল তেল আছে। যেমন- অলিভ অয়েল, তিলের তেল, নারকেল তেল, সরষের তেল ও বাদাম তেল ইত্যাদির ব্যবহারে পা ফাটা রোধ হয়, পা আকর্ষণীয় ও কোমল হয়। রাতে ঘুমানোর পূর্বে পরিষ্কার পায়ে তেলের মালিশ করে ঘুমান। অল্প দিনের অধ্যেই আশানুরূপ ফল পাবেন।

৪-গোলাপজল ও গ্লিসারিনের ব্যবহার

পা ফাটা রোধে গ্লিসারিন ও গোলাপজলের মিশ্রণ অধিক কার্যকরী। গ্লিসারিন ত্বককে কোমল করে আর গোলাপজলে আছে ভিটামিন এ, বি৩, সি, ডি ও ই। আরও আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিসেপটিকের মত উপাদান।যা ত্বকের জন্য কার্যকরী সমাধান বহন করে। প্রতিরাতে ঘুমানোর পূর্বে গ্লিসারিনের সঙ্গে সমপরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে পায়ে ম্যাসাজ করুন। অল্প দিনেই পা সুন্দর ও আকর্ষণীয় হবে। পা ফাটা রোধ হবে।

৫-মধুর ব্যবহার

পরিষ্কার পাত্রে দুই লিটার কুসুম গরম পানিতে দুই টেবিল চামচ মধু মিশান। এরপর পানিতে ১০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। পা মুছে শুকান এবং গ্লিসারিন, লেবুর রস এবং গোলাপ জলের মিশ্রন পায়ের ফাটা জায়গায় লাগিয়ে দিন। এভাবে কয়েকদিন ব্যবহার করুন।

৬-পাকা কলার ব্যবহার

পাকা কলা চটকে পায়ের ফাটা অংশে ২০মিনিট লাগান। কিছুক্ষণ পর কুসুম গরম পানি দিয়ে পা ধুয়ে ফেলুন। এতে প্রচুর ভিটামিন রয়েছে, যা পা ফাটা রোধ করতে সাহায্য করবে। পায়ের ত্বক কোমল ও মসৃণ হবে।

৭-ভেসলিন ও লেবুর রস

লেবুর রসের সঙ্গে ভেসলিন মিশিয়ে পা লাগাতে পারেন। পায়ের মরা কোষ তুলতে প্রতিদিন পিউমিক স্টোন দিয়ে পা ভালো করে ঘষুন। আস্তে আস্তে মরা চামড়া সরে গোড়ালি সফট হবে। গোড়ালি ফাটা রোধ হবে।

তেল, ঝাল, মশলা খেয়ে হাত তো ঠিকই ধুচ্ছেন, তবে কিডনি কি পরিষ্কার করছেন? না, তা কি সম্ভব নাকি! উত্তর হবে- হ্যাঁ, সম্ভব। হাতের কাছেই আছে এর সমাধান। কীভাবে পরিষ্কার করবেন? জেনে নিন, কিডনি পরিষ্কারের ঘরোয়া উপায়। তাও আবার মাত্র পাঁচ টাকায়।


১. পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন এক আঁটি ধনেপাতা।

২. এরপর কুচি কুচি করে কেটে একটি পাত্রে রাখুন।

৩. পাত্রে কিছুটা পানি দিয়ে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন।

৪. ঠান্ডা হলে ছেঁকে পরিষ্কার বোতলে রেখে দেন। ফ্রিজেও রেখে দেয়া যেতে পারে ওই বোতল।

৫. এরপর প্রতিদিন একগ্লাস করে ধনেপাতার জুস খেলেই হাতেনাতে মিলবে ফল।

কিডনির মধ্যে জমে থাকা লবণ এবং বিষাক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যাবে। শুধু কিডনিই নয়। এক আঁটি ধনেপাতায় আছে ১১% ফাইবার, ৪% প্রোটিন, ১% ক্যালরি, ১% কার্বোহাইড্রেট, ১% ফ্যাট। ম্যাঙ্গানিজ ২১%, পটাসিয়াম ১৫%, কপার ১১%, আয়রন ১০%, ক্যালসিয়াম ৭%। এতে রয়েছে ৩৮৮% ভিটামিন k, ১৩৫% ভিটামিন A, ৪৫% ভিটামিন C, ১৬% ফলেট।

বছরের পর বছর, দিনের পর দিন কিডনি ঠিক এভাবেই ছাঁকনির কাজ করে চলে। লবণ, বিষ এবং অবাঞ্ছিত পদার্থ শরীরে ঢুকতে বাধা দেয়। কিন্তু কিডনি অকেজো হয়ে গেলে শরীরের ক্ষতিকর বর্জ্য রক্তে জমা হয়। তখন বেঁচে থাকাই মুশকিল।

শরীরে রক্তের মূল উপাদান আয়রন কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পরে চেহারায়। শরীরে আয়রন ডেফিসিয়েন্সি বা অ্যানিমিয়ার মবল কারণ অপুষ্টি, কৃমি, রক্তপাত ইত্যাদির পাশাপাশি ভুল জীবনযাপন। সঠিক খাবার ঠিক সময়ে না খাওয়াও এই অসুখকে ডেকে আনে।

পুষ্টিবিদদের মতে, এই রোগ ঠেকাতে সব অভ্যাস রাতারাতি বদলানো যায় না। তবে তাতে চিন্তা করার কিছু নেই। একটা–দু’টো করে বদলাতে শুরু করলেই কাজ হয় ম্যাজিকের মতো।

খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে–পরে চা, কফি, কোলা খেলে খাবারের আয়রন শরীরে ঠিক ভাবে শোষিত হতে পারে না। কাজেই এই অভ্যাস বদলে ফেলুন।

খালিপেটে নয়, ফল খান খাবার খাওয়ার পর। ফলের ভিটামিন সি খাবারের আয়রনকে শোষিত হতে সাহায্য করে। দিনে অন্তত দু’বার ঘরে বানানো টাটকা সুষম খাবার খান। ঘুমাতে যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক আগে রাতের খাবার খান।

আয়রন ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার একসঙ্গে খেলে কে আগে শোষিত হবে তা নিয়ে শুরু হয় লড়াই। সে জন্য মাছ-মাংস-ডিম খাওয়ার পর দুধের খাবার খাওয়া ঠিক নয়।

আমলকি। ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল।এর ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হয়।

আমলকিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকিতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে তিন গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমলকিতে কমলালেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। 

চলুন জেনে নিই আমলকি খাওয়ার ১০টি উপকারিতা সম্পর্কে- 

১. আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।

২. আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে। ৩. এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে। 

৪. আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকির আচার হজমে সাহায্য করে। 

৫. প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। 

৬. আমলকির রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ। চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়। আমলকি চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 

৭. প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে। আমলকির টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন। 

৮. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী। ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী। 

৯. শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে। এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। 

১০. ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

আপেল, কলা, শসা, বেগুন, লাউ, কুমড়া- এই স্বাস্থ্যকর ফল বা সবজিগুলির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মোটামুটি আমরা প্রায় সকলেই জানি। কিন্তু জানেন কি, এই স্বাস্থ্যকর ফল বা সবজিগুলির খোসাও খুবই উপকারী। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে আসুন জেনে নেওয়া যাক, কোন সব ফল বা সবজির খোসার কী গুণাগুণ-

১) আলুর খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আর পটাসিয়াম। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন বি, সি এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান। 

২) শসার খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান, পটাসিয়াম আর ভিটামিন-কে! ৩) লাউ বা কুমড়ার খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক যা ত্বককে সতেজ রাখে। বাড়ায় ত্বকের উজ্জ্বলতাও! 

৪) আপেলের খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পেকটিন। এই পেকটিন হল এক ধরনের ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে পেকটিন রক্তে সুগার আর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে। 

৫) বেগুনের খোসায় রয়েছে ‘নাসুনিন’ নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা অ্যান্টি-এজিং-এ সহায়ক। এ ছাড়াও বেগুনের খোসা ত্বককে সতেজ রেখে উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। 

৬) কলার খোসায় রয়েছে লুটেন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে সাহায্য করে। কলার খোসায় থাকা ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। আর এই সেরোটনিন মন মেজাজ ভাল রাখতে সাহায্য করে।

সুস্বাদু খাবার তৈরিতে এলাচ একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মশলা। রান্নার পাশাপাশি পানের স্বাদ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এলাচ। এলাচের রয়েছে নানা ভেষজও গুণ যা শরীরে নানা সমস্যা দূর করে থাকে। এলাচের স্বাস্থ্যগুণ;
হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে
২ বা ৩টি এলাচ, ১টি ছোট আদার টুকরো, ২-৩ টি লং এবং কয়েকটি ধনিয়া একসাথে গুঁড়ো করে নিন। এটি গরম পানিতে মিশিয়ে পান করুন। এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে গ্যাস, বমি বমি ভাব দূর করে থাকে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে
খাবার খাওয়ার পর এক টুকরো এলাচ কিছুক্ষণ চিবিয়ে নিন। অথবা এলাচ চা পান করুন প্রতি দিন সকালে। এটি আপনার পাচনতন্ত্র শক্তিশালী করে তোলে। এর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান মুখের দুর্গন্ধ দূর করে থাকে।

হেচঁকি দূর করতে
আপনি যদি ঘন ঘন হেঁচকি সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে এলাচি খাওয়া শুরু করুন। এটি আপনার পেশি রিল্যাক্স করে হেঁচকি দূর করে থাকে। 

ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর
এলাচি একটি ভেষজ উপাদান। এটি শরীরে অভ্যন্তরীণ ফাঙ্গাস, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া দূর করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। 

রক্তস্বল্পতা দূর করতে
এক বা দুই চিমটি এলাচ গুঁড়ো এবং হলুদ গুঁড়ো এক গ্লাস গরম দুধের সাথে মিশিয়ে নিন। এরসাথে অল্প পরিমাণে চিনি মিশিয়ে নিতে পারেন। প্রতি রাতে এটি পান করুন। এটি রক্তস্বল্পতা দূর করে দুর্বলতা দূর করে থাকে। এলাচে রিবোফ্লাবিন, ভিটামিন সি, নিয়াচিন আয়রন, কপার রক্ত স্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।

অ্যাসিডিটি দূর করতে
সমপরিমাণে এলাচ গুঁড়ো, জিরা গুঁড়ো, মৌরি একটি প্যানে ভেঁজে গুঁড়ো করে নিন। এক কাপ গরম পানিতে আধা চা চামচ এই গুঁড়ো মিশিয়ে নিন এবং পান করুন। এটি অ্যাসিডিটি , পেটের গ্যাস এবং পেট ফাঁপা রোধ করে থাকে। বাচ্চাদের গ্যাসের সমস্যা দূর করে থাকে এই পানীয়।

আপনি আসলে কেমন ধরণের মানুষ? 
একটি গ্লাসে অর্ধেক পানি থাকলে আপনি এটিকে কিভাবে দেখেন? অর্ধেক খালি নাকি অর্ধেক ভর্তি? 

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা বলছে, আশাবাদী ব্যক্তিরা হতাশাবাদীদের চেয়ে অনেক বেশি দিন বাঁচেন।


এই তত্ত্ব মতে, আশাবাদীরা হয়তো নিজেদের আবেগকে অনেক সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন যা তাদেরকে মানসিক চাপের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখে। 

মার্কিন গবেষকরা বলছেন যে, হতাশাবাদী ব্যক্তিরা যদি নিজেদের এমন ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে পারেন যেখানে সব ধরণের সমস্যা দূর হয়ে যাবে, এমন দৃষ্টিভঙ্গিও তাদের জন্য উপকারী হতে পারে। 

মানুষ কিভাবে আশাবাদী হয় এবং হতাশা বাদীরা জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক থাকতে কি কি করতে পারেন সে বিষয়ে কিছু উপায় সম্পর্কে জানবো আমরা। 

"নেতিবাচকতা নিয়ে পিছিয়ে থাকবেন না"
বলা হয় যে, "নদীর অপর পাশের ঘাস সব সময় একটু বেশি-ই সবুজ দেখায়"। কিন্তু এ ধারণা সবাইকে সমানভাবে তেমন প্রভাবিত করতে পারেনা।

সবারই সমস্যা থাকে। আমার জীবন যেমন, সেভাবেই একে উপভোগ করার চেষ্টা করা উচিত। আমার যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট আমার সন্তুষ্ট থাকা দরকার। ভালো স্বাস্থ্য, পরিবার, একজন ভালোবাসার জীবন সাথী আর পছন্দের একটি চাকরী এটুকুই অনেক সময় ভাল থাকার জন্য অনেক কিছু।"

উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা কাটাতে বিশেষজ্ঞরা নিজেকে ব্যস্ত রাখা, এর পেছনের সমস্যা খুঁজে বের করা নিয়ে, এবং সেগুলো সমাধান করার পর কেমন অনুভব হয় তা নিয়ে ভাবতে পছন্দ করার প্রতি জোর দেন। 

বিশেষজ্ঞরা অন্যদের নেতিবাচকতাকে তেমন পাত্তা না দিতে পরামর্শ দেন , 

"হাস্যরস বোধ"
"গান আত্মাকে তৃপ্ত করে, হাস্যরস বোধ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নতুন ধারণা দেয় তা্হই বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত গান শুনতে পরামর্শ দেন। রস বোধ মানুষকে ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করে।

"নিজের প্রশংসা করুন"
নিজেই নিজের প্রশংসা করা একটা ইতিবাচক দিক। এর মাধ্যমে নিজের মধ্যে থাকা আবর্জনা বের করে দেয়া যায়। প্রত্যেকের নিজের জন্য এটা খুবই সঠিক এবং সহায়ক।

"কষ্টের সময়ও হাসুন"
ডাচ সংস্কৃতিতে একটি প্রবাদ রয়েছে। আর তা হলো: "গেন গ্রোটার ফারমাক ডান লিডফারমাক" অর্থাৎ, "দুর্ভোগের চেয়ে বড় বিনোদন আর কিছু নেই," 

তাই আজ আপনাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিচ্ছি আর তা হলো, নিজের দুর্ভাগ্য নিয়ে হাসো। এটি মেনে চলো এবং দেখবে জীবন হবে একটি বড় ধরণের আনন্দোৎসব।

"অনেকগুলো শখ তৈরি করুন"
সব সময় ভালো থাকতে অনেক গুলো প্লান তৈরি করুন যাতে "প্ল্যান এ ব্যর্থ হলেও সব সময়ই প্ল্যান বি থাকে" একজন মানুষের সব চেয়ে বড় ইতিবাচকতা আসে তার অনেক ধরণের শখ আর নির্মল বায়ু থেকে।

"ব্যায়াম করুন এবং সুস্থ থাকুন"
বন্ধুত্ব আর হাসির মতোই উপকারী আরেকটি বিষয় রয়েছে ইতিবাচক থাকার। আর তা হল শারীরিক ব্যায়াম।

নিয়মিত ব্যায়াম করুনঅ স্বার্থপরতা ত্যাগ করুন কৃতজ্ঞ হোন, তালিকা তৈরি করুন এবং সেগুলো পালন করুন, যা করতে আপনার ভালো লাগে সেগুলোই করুন।

হাসির সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের কতটা সম্পর্ক? আমাদের মুখের হাসি কি সবসময় আমাদের মনের ভাব প্রকাশ করে?

হাসি-আনন্দ দিয়ে বছরের একটি দিন আলাদাভাবে পালন করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ৪ অক্টোবর পালন করা হয় বিশ্ব হাসি দিবস।


মানুষ যখন ভালো থাকে, সুখে থাকে, আনন্দে থাকে, তখন সাধারণত প্রায়ই হাসে।

আমাদের মনের যে আনন্দ আবেগটা আছে, সেটার একটা তাৎক্ষণিক বহিঃপ্রকাশ হাসির মাধ্যমে হয়। সুতরাং যখন কাউকে প্রায়ই হাসতে দেখি, তখন বলা যায় যে, সে ভালো আছে।''

যারা সবসময় হাসে, তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে?

আমাদের যখন মন খারাপ থাকে, তখন আমরা কম হাসি। সহজে আমাদের হাসি আসে না।

যেমন বিষণ্ণতা থাকলে বা কোন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে সহজে আমরা হাসতে পারি না। হাসির শারীরিক দিকও আছে। হাসলে আমাদের হৃদযন্ত্র, শ্বাসযন্ত্র, এগুলোর একপ্রকার ব্যায়াম হয়।

সুতরাং যারা প্রায়শ হাসে, তারা শারীরিক মানসিক দিক থেকে ভালো আছে ধরে নেয়া যায়।

হাসির সাথে তাহলে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক কতটা?
হাসির সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। কারণ বিষণ্ণ থাকলে হাসিটা সহজে আসে না। "আমাদের সুখানুভূতির বহিঃপ্রকাশ হলো হাসি।"

সুতরাং দীর্ঘমেয়াদী সুখে থাকা অথবা তাৎক্ষণিকভাবে কোন কারণে উৎফুল্ল হয়ে যাওয়া, সেগুলো হাসির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

তাই যিনি হাসছেন, তিনি আসলে মানসিকভাবে ভালো আছে। অন্তত সে ভারাক্রান্ত নয় বলে মনে করে।

কেউ যদি একদম না হাসে, তার কী মানে?
আমরা দেখেছি, যারা খুবই বিষণ্ণ থাকে, তারা প্রায় হাসতে ভুলে যায়। তার আশেপাশের লোকজন বলে, তাকে তো কখনো হাসতে দেখি না।

তারা আসলে মানসিকভাবে ভালো নেই। হয়তো বিষণ্ণ আছে, অথবা অনেক বেশি দুশ্চিন্তায়, ব্যথা যন্ত্রণায় কাতর।

হাসির উপাদান তৈরি করা কী সম্ভব?
কেউ যদি হাসতে না পারে, যদি মনে হয় যে, তিনি হাসার মতো কিছু পাচ্ছেন না, তাহলে তিনি একজন মানসিক বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

পরিবারের সদস্যরা এমন দেখতে পেলে বা বুঝতে পারলে তারাও তাকে নিয়ে যেতে পারেন। কারণ এখানে চিকিৎসা করাটাই প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা

এছাড়া হাসির সিনেমা দেখা, কৌতুক পড়া, ঠাট্টা-তামাশা করা, তাতে কিন্তু আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, হাসির একটা সংক্রামক প্রবণতা আছে। হাসির একটা চেহারা আছে, সেটা দেখলে আমাদের মস্তিষ্কে সিগন্যাল যায়।

তাই হাসিখুশি মানুষের সাথে থাকলে, অন্যদের হাসতে দেখলে সেই হাসি অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে যায়।

"সেটিও আমাদের মনের অবস্থা কিছুটা ভালো করে।''

অত্যাধিক পরিশ্রমকালীন সময়ে, ভয় পেলে, হঠাৎ কোনো কারণে চমকে উঠলে মানুষের বুকে এক ধরনের কাঁপুনির মতো অনুভূতির সৃষ্টি হয়, এ অবস্থাকেই প্যালপিটিশন বা বুক ধড়ফড় করা বলা হয়ে থাকে। 
উপরোক্ত কারণে সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের প্যালপিটিশন হয়ে থাকে এবং এটাকে কোনো অসুস্থতা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। তবে অনেক ধরনের শারীরিক অসুস্থতার জন্য প্যালপিটিশন হতে পারে।


কারও জ¦র-কাশী হলে, অ্যাজমায় আক্রান্ত হলে, ডায়রিয়া বা বমি অথবা রক্তক্ষরণের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে, প্যালপিটিশন দেখা দিয়ে থাকে। এ ধরনের প্যালপিটিশন খুব সহজেই নিরাময় হয়ে যায় বিশেষ করে উপরে বর্ণিত কারণগুলো দূরীভূত হয়ে গেলে। কি কারণে প্যালপিটিশন হয়ে থাকে? যদি কোনো কারণে হার্ট বা হৃৎপিন্ড স্বাভাবিক গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে চলতে থাকে ঠিক তখনি মানুষ প্যালপিটিশন অনুভব করে থাকে। 
অনেকে বলে থাকেন যে তার এমন একটা অনুভূতি হচ্ছে যেন তার বুকে ঝড় বা তুফান হচ্ছে, কেউ কেউ বলে থাকেন বুকের মাঝে কি যেন একটা লাফাচ্ছে বা ছটফট করছে বা বুকের মাঝে হাতুড়ি পিটানোর মতো অনুভূতি হচ্ছে।

অনেক ব্যক্তিরা এমতাবস্থায় অনেক ভয় পেয়ে থাকেন। মানুষ কখনো কখনো এমন একটা সময় প্যালপিটিশন অনুভব করে থাকেন যখন তার হৃৎপিন্ড বা হার্ট দ্রুত নয় বরং স¦াভাবিক গতিতে চলতে থাকে। আমাদের বুকের মাঝে সার্বক্ষণিকভাবে হার্ট মিনিটে ৭০-৮০ বার বিট করতে থাকে, কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা কখনই তা অনুভব করি না। 


যদি কোনো সময় ব্যক্তি স্বাভাবিক হার্ট বিট হলেও তা অনুভব করে থাকেন তবে এ অবস্থাকেও প্যালপিটিশন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তার মানে হার্ট দ্রুত অথবা স্বাভাবিক যে গতিতেই চলুক না কেন, ব্যক্তি যদি হার্ট বিট অনুভব করতে থাকেন তবে সেটাকে প্যালপিটিশন বলে ধরে নেওয়া হয়। প্যালপিটিশনের সবচেয়ে বড় এবং মারাত্মক কারণগুলো হলো, বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ বা হার্টের অসুস্থতা, যেমন হার্ট ফেইলুর, হার্টের ভাল্বের সমস্যা, মাইয়োকার্ডাইটিস, কার্ডিওমাইয়োপ্যাথি, জন্মগত হৃদরোগ, বাতজ¦রজনিত হৃদরোগ, হার্টব্লক, রক্তশূন্যতা জনিত হৃদরোগ ইত্যাদি। প্যালপিটিশনের আরও একটি বড় কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপ্রেসার, থাইরয়েড হরমোনজনিত কারণে প্যালপিটিশন হয়ে থাকে। প্যালপিটিশনের আরও একটি মারাত্ম¡ক কারণ হলো অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং হার্টঅ্যাটাক বা হার্টস্টোক অথবা মাইয়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।

প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ মানুষের হৃৎপিন্ড প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার স্পন্দিত হয়ে থাকে অর্থাৎ প্রতিমিনিটে হার্ট বিটের সংখ্যা ৬০ থেকে ১০০টি, তবে বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের হার্ট ৭০ থেকে ৮০টি বিট দিয়ে থাকে। চিকিৎসকরা হাতের কব্জিতে নাড়ির বা পালস দেখে হার্ট বিট বা নাড়ি গতি নির্ণয় করে থাকেন। নাড়ির গতি যদি ৬০ থেকে ১০০ এর মাঝে থাকে তবে তাকে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যদি কারও নাড়ির গতি ১০০ থেকে বেশি বা ৬০ থেকে কম হয়ে যায় তবে তাকে অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই প্যালপিটিশনের সময় হার্টবিট ১০০ এর চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। 


কারও যদি পরিশ্রমকালীন সময়ে খুব সহজেই প্যালপিটিশন অনুভূত হয় এবং তার সঙ্গে বুকব্যথা এবং বিশ্রাম গ্রহণ করলে এসব সব অসুবিধা দূরীভূত হয়ে যায় তবে বুঝতে হবে তিনি মারাত্মক ধরনের হার্টের অসুস্থতায় ভুগছেন। হার্টের অসুস্থতা অনেকের প্যালপিটিশনের সঙ্গে পায়ে পানি জমা হওয়ার মতো অবস্থা হতে দেখা যায় এবং এ ক্ষেত্রে রোগীর পরিশ্রম ছাড়াই অর্থাৎ বিশ্রামকালীন সময়ে প্যালপিটিশন অনুভূত হতে থাকে। এ ধরনের রোগীরা হার্ট ফেইলুরে ভুগছেন বলে ধরে নেওয়া যায়।

যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তারাও প্যালপিটিশনে আক্রান্ত হতে পারে। যদি তার রক্তচাপের মাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায় অথবা দীর্ঘদিন যাবৎ উচ্চ রক্তচাপে ভোগার ফলে উচ্চ রক্তচাপ জনিত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তবে যে কোনো ধরনের প্যালপিটিশনকেই গুরুত্বের সহিত বিবেচনায় এনে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত, কারণ প্রায় ক্ষেত্রেই প্যালপিটিশন হৃদরোগের কারণেই হয়ে থাকে।

ডা. এম শমশের আলী, 


সিনিয়র কনসালটেন্ট 



(প্রা.), ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

বাংলাদেশে গ্যাস্ট্রিকের খুব জনপ্রিয় কিছু ঔষধের ব্র্যান্ড রয়েছে যেগুলোর মূল উপাদান বা জেনেরিক নাম হলো রেনিটিডিন। যেকোনো সময় ঔষধের দোকানে গেলেই এটি কিনতে পাওয়া গেছে।

এই রেনিটিডিনে ক্যান্সার হতে পারে এমন কিছু উপাদান পাওয়া যাওয়ায় বিশ্বের অনেক দেশ ঔষধটি বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে।



যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ এবং ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি এই ঔষধের ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে এটি নিয়ে অধিকতর গবেষণা করছে।

রেনিটিডিন ঔষধটা নিজে ক্যান্সার তৈরি করে না। খাওয়ার সাথে সাথেই কিছু ঘটবে না। এর নিজের ক্যান্সার জাতীয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। রেনিটিডিনের কাঁচামাল উৎপাদনের সময়, কিছু কাঁচামালের একটি মিশ্রণে ক্যান্সারের ঝুঁকিযুক্ত কোন উপাদান তৈরি হয়েছে। বিশ্বে বহু ল্যাবে এর কাঁচামাল তৈরি হয়। এটি সব কাঁচামাল উৎপাদকের ক্ষেত্রে ঘটেনি।

ধরুন রান্নায় যদি লবণ বেশি হয়ে যায় বা একটা ভুল মশলা দিয়েছেন তখন সেটি আপনি খেতে পারবেন না। বিষয়টা সেরকম।

এখন যেটি করা হচ্ছে সেটি সতর্কতা।

একসময় পেপটিক আলসার হলে অস্ত্রোপচার করতে হতো। রেনিটিডিন বাজারে আসার পর সেটির দরকার অনেক কমে গিয়েছিলো।

বাংলাদেশ মূলত ভারতের দুটি ল্যাব থেকে রেনিটিডিন ঔষধের কাঁচামাল আমদানি করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে এটি য্যানট্যাক নামে বিক্রি হয়।

এই দুটি ল্যাবের কিছু নমুনায় "কারসিনোজেনিক" উপাদান বা ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে এমন উপাদান পাওয়া গেছে।

সেই কাঁচামাল ব্যবহার করে যারা বাংলাদেশে ঔষধটি বানাচ্ছে সেই ঔষধের ক্ষেত্রে এই সাবধানতা।

যে কোম্পানির কাঁচামালের সাথে এর সম্পর্ক এবং দেশের যে কোম্পানি তাদের কাছ থেকে কাঁচামাল এনে রেনিটিডিন জাতিয় ঔষধ বানায় সেটি সরকারের সরাসরি ঘোষণা দেয়া দরকার বলে তিনি মনে করছেন।

রেনিটিডিনে যা পাওয়া গেছে
ক্যান্সার হতে পারে এমন কিছু উপাদান বলতে ঠিক কী বলা হচ্ছে সেটি ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক ফারুক বলছেন, রেনিটিডিন জাতীয় সবগুলো ট্যাবলেটে ক্যান্সার তৈরি করতে পারে এমন উপাদান পাওয়া গেছে বিষয়টি তেমন নয়।

কিছু ট্যাবলেটে পাওয়া গেছে। "বিষয়টা হল রেনিটিডিন তৈরি করতে যেসব কেমিক্যাল লাগে, উৎপাদনের সময় অতি সামান্য পরিমাণে কিছু বাই-প্রোডাক্ট কেমিক্যাল তৈরি হল। যেটি পরিশোধন করতে হয়। সেরকম কোন উপাদান হয়ত থেকে যেতে পারে।"

"ট্যাবলেটের আকৃতি যাতে ঠিক থাকে, ট্যাবলেট যাতে শক্ত থাকে সেজন্য ট্যাবলেট বানাতে আরও কিছু জিনিস লাগে। সেসব জিনিসের সাথেও কোন বিক্রিয়া হতে পারে। ঔষধের যে প্যাকেজিং সেই আবরণ থেকেও কিছু পদার্থ তৈরি হতে পারে যাতে ইমপিউরিটিজ আছে। হতে পারে রেনিটিডিন ঔষধটির নিজের রাসায়নিক গঠনের পরিবর্তন হলো।"

এফডিএ এটি নিয়ে এখনো গবেষণা করছে। সাবধানতা হিসেবে ঔষধটি অনেক দেশে বিক্রি করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশে মানুষজন অনেকসময় চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ইচ্ছেমত ঔষধ খেয়ে থাকেন। এখন সবচেয়ে বড় কাজ হবে দরকার না হলে ঔষধ খাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রেনিটিডিনের বিকল্প ঔষধ ব্যাবহার করুন। বাজারে এখন অনেক ধরনের ঔষধ আছে। আর রোগের আগে থেকে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিন। ভয় পাবেন না।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসে মাত্র পাঁচটি পরিবর্তন এনে হৃদরোগ ও স্ট্রোক থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারি।

ব্রিটেনে পুষ্টি ফাউন্ডেশন তাদের নতুন এক রিপোর্টে বলছে, বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও এই দুটো কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
এক পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটেনে যতো মানুষের অকাল মৃত্যু হয় তার অন্তত চার ভাগের এক ভাগের মৃত্যুর জন্যে দায়ী হৃদরোগ।
বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যাবে।

স্বাস্থ্য গবেষকরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

পুষ্টি ফাউন্ডেশনের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মানুষের দেহের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অণুজীব মাইক্রোবায়োম যদি সুস্থ থাকে এবং কোমরের আকার যদি খুব বেশি বেড়ে না যায়, পাশাপাশি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখা যায় তাহলেই হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনেই এসব অর্জন করা সম্ভব।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে খাবার-দাবারের বেলায় কী ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে?

১. বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খান

যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ আছে সেসব খাবার খাবেন। এসব খাবারের কারণে শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়।

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে সাহায্য করে এই ব্যাকটেরিয়া।

বেশি আঁশ আছে এরকম সবজির মধ্যে রয়েছে শিম ও মটরশুঁটি জাতীয় সবজি, কলাই ও ডাল জাতীয় শস্য এবং ফলমূল।

পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলছেন, আলু এবং শেকড় জাতীয় সবজি খোসাসহ রান্না করলে সেগুলো থেকেও প্রচুর আঁশ পাওয়া যায়।

এছাড়াও তারা হোলগ্রেইন আটার রুটি এবং বাদামী চাল খাবারও পরামর্শ দিয়েছেন।

২. স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট-বাঁধা চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলুন

খাদ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেসব খাবারে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট-বাঁধা চর্বি থাকে সেসব খাবার খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে বেড়ে যায় হৃদরোগের ঝুঁকিও।

চিজ, দই, লাল মাংস, মাখন, কেক, বিস্কিট ও নারকেল তেলে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।

চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
তারা বলছেন, হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে হলে স্যাচুরেটেড নয় এমন চর্বি (যেসব খাবারের উপর চর্বি জমাট বাঁধে না) সে ধরনের খাবার খেতে হবে।

এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে, তেল সমৃদ্ধ মাছ, বাদাম ও বীজ। অলিভ, রেপসিড, সানফ্লাওয়ার, কর্ন এবং ওয়ালনাট তেল দিয়ে রান্নার বিষয়ে তারা জোর দিয়েছেন।

দুধের বেলায় স্কিমড বা সেমি-স্কিমড (দুধ থেকে চর্বি সরিয়ে নেওয়া) দুধ খেতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে খাবারে যাতে বাইরে থেকে চিনি মেশানো না থাকে। লাল মাংসের বদলে খেতে হবে মুরগির মাংস। মুরগির চামড়া তুলে ফেলে দিন। গরুর মাংস খেলে তার উপর থেকে চর্বি ফেলে দিয়ে রান্না করতে হবে।

সপ্তাহে অন্তত একদিন এমন মাছ খেতে হবে যাতে প্রচুর তেল আছে।
ক্রিস্প ও বিস্কিটের বদলে নানা ধরনের বাদাম ও বীজ খেতে পারেন।

৩. লবণকে বিদায় জানান

লবণ বেশি খেলে শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এর ফলে বৃদ্ধি পায় হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও।

ব্রিটেনে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হয় যে এনএইচএস থেকে তাদের পরামর্শ হলো দিনে সর্বোচ্চ ৬ গ্রাম (এক চা চামচের পরিমাণ) লবণ খাওয়া যেতে পারে।

চিনি ও লবন পরিহার করুন।

তারা বলছে, লবণ কম-বেশি খাওয়া একটি অভ্যাসের ব্যাপার। লবণ যতো কম খাওয়া হবে তার চাহিদাও ততো কমে যাবে। 
এই অভ্যাস বদলাতে মাত্র চার সপ্তাহের মতো সময় লাগে। এই সময় পর দেখা যাবে আপনি যে খাবারের সাথে লবণ খাচ্ছেন না, সেটি আপনি বুঝতেই পারবেন না।

খাদ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন, লবণের পরিবর্তে মশলা দিয়ে খাবার প্রস্তুত করলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে।

৪. ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খাবেন

যেসব খাবারে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ বেশি থাকে সেগুলো আমাদেরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
শুধু তাই নয়, এসব খাবার হৃদরোগের ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়।

ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো খনিজ উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করে। হৃদরোগের যেসব কারণ আছে সেগুলো ঠেকাতেও এসব খনিজ ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।

অনেক খাদ্য বিশেষজ্ঞ মনে করেন, স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েটের মাধ্যমেই এসব ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া সম্ভব।
এসবের জন্যে ট্যাবলেটের উপর নির্ভর করতে হবে না। তবে তার মধ্যে ব্যতিক্রম হচ্ছে ভিটামিন ডি।

কারো শরীরে ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব থাকলে যেসব খাবার খাওয়া প্রয়োজন:
প্রতিদিন পাঁচটি ফল বা সবজি খাওয়া। ছোট্ট এক গ্লাস জুস। শিম ও ডাল জাতীয় শস্যও খেতে পারেন। বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবারে থাকে ভিটামিন ই।

মাছ, দুগ্ধজাত খাবার ও হোলগ্রেইনে পাওয়া যায় ভিটামিন বি। কলা, আলু এবং মাছে পটাশিয়াম।
ডাল ও হোলগ্রেইনে ম্যাগনেসিয়াম। দুগ্ধজাত খাবার ও সবুজ পাতার সবজি থেকে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম।

৫. বেশি মোটা হলে ক্যালরি কমিয়ে দিন

হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেওয়ার জন্য উপরের চারটি ধাপ অনুসরণ করলেই আপনি অনেক দূর অগ্রসর হয়েছেন।

কারণ আপনি যদি চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড চর্বিযুক্ত খাবার কম খান, ভিটামিন ও মিনারেল আছে এরকম খাবার বেশি খান তাহলে আবার মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম।
ওজন যাতে বেড়ে না যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে।
মনে রাখতে হবে মোটা হলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে কোমরে চর্বি জমা হলে।
পুরুষের কোমর যদি ৩৭ ইঞ্চি আর নারীর কোমর ৩১ দশমিক ৫ ইঞ্চির বেশি হয় তাহলে ওজন কমাতে হবে।
ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরো যেসব উপায়:

১. প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।
২. সপ্তাহে অন্তত আড়াই ঘণ্টা ব্যায়াম করুন।
৩. মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলুন।
৪. ধূমপান ছেড়ে দিন।

সারা বছর সীমিত পরিমাণে মাংস খেলেও কোরবানির ঈদ এলে অনেকের মাংস খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। আর কোরবানির ঈদে মাংস বলতেই থাকে গরু, ছাগল, খাসি অথবা উটের মাংস।

যেগুলো কিনা প্রাণীজ আমিষ বা রেড মিট। এই রেড মিটে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল থাকে যার কারণে অনেক ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে ।

বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিক, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরল বা স্থূলতার সমস্যায় যারা ভুগছেন কিংবা এসব রোগের প্রাথমিক লক্ষণ আছে তাদের জন্য স্বাভাবিকের চাইতে বেশি রেড মিট খাওয়া বিপদের কারণ হতে পারে।

তবে কিছু নিয়ম মেনে সেইসঙ্গে পরিমিত হারে রেড মিট খেলে এই আশঙ্কা প্রায় থাকেইনা বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ তাসনিম চৌধুরী। অতিরিক্ত মাংস খেলে কি কি সমস্যা হতে পারে

গরুর মাংসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, ভিটামিন এবং মিনারেলস।

যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হাড়, দাঁত ও মাংসপেশীকে সুগঠিত করতে সাহায্য করে।
গরুর মাংস রক্তস্বল্পতা দূর করে সেইসঙ্গে শরীরে শক্তি সরবরাহ করে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে গরুর মাংসে এমন অনেক পুষ্টি থাকার পরেও অতিরিক্ত খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষ করে হজমে সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, পেট ব্যথা এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মিজ চৌধুরী। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন পাইলসে আক্রান্ত রোগীরা।

অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তনালিগুলোয় চর্বির পরিমান বেড়ে যায়। এতে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা কমে যাওয়ায় যে কারও রক্তচাপ বেড়ে যেতে যেতে পারে।
যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, স্ট্রোক বা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

স্বাস্থ্যকর উপায়ে মাংস খাওয়ার ১১টি টিপস

বিবিসি বাংলাকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে মাংস খাওয়া কিছু টিপস জানিয়েছেন চৌধুরী তাসনিম

১. আপনার শারীরিক পরিস্থিতি, বয়স এবং স্বাস্থ্য বুঝে মাংস পরিমিত হারে খেতে হবে। খাবারের পরিমাণের ওপর এই নিয়ন্ত্রণ রাখাটা সবার জন্যই জরুরি।

চেষ্টা করুন তিন বেলা মাংস না খাওয়ার। রাতে রেড মিট এড়িয়ে চলাই ভাল।

২. কোরবানির মাংস বাড়িতে আসার সাথে সাথে সেটা ভালভাবে ধুয়ে, রক্ত পরিষ্কার করে রান্না করতে হবে অথবা ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মাংস বেশিক্ষণ বাইরে রাখলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে।

তবে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সম্ভব না হলে সঠিকভাবে মাংস জ্বাল দিয়ে রাখতে হবে এবং ছয় ঘণ্টা পরপর সেটা পুনরায় জ্বাল দিতে হবে।

৩. রান্নার আগেই মাংসের চর্বি কেটে আলাদা করে ফেলুন। এছাড়া মাংসের ভেতরে যে চর্বি আছে সেটা গলাতে গরম পানিতে মাংস সেদ্ধ করে নিতে পারেন।

৪. রান্নার সময় মাংসের টুকরোগুলো ছোট করে কাটলে সেইসঙ্গে মাংসটি টক দই, লেবুর রস, সিরকা, পেঁপে বাটা দিয়ে মেখে রাখলে একদিকে যেমন কম সময়ে মাংস সেদ্ধ হয়, তেমনি চর্বির ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কাটানো যায়।

৫. মাংস অল্প তেলে রান্না করতে হবে। তেলটি অলিভ অয়েল হলে সবচেয়ে ভাল।

৬. মাংস উচ্চতাপে ভালভাবে সেদ্ধ করে খেতে হবে। সবচেয়ে ভাল আগুনে ঝলসে খেতে পারলে।
এতে জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকেনা। আধা সেদ্ধ মাংস বা স্টেক পরিহার করাই ভাল।

৭. একদিনে কয়েক পদের রেড মিট রান্না না করে মাংসের পাশাপাশি প্রতি বেলায় যথেষ্ট সবজি অথবা সালাদ রাখুন।
মাংসের পাশাপাশি প্রতি বেলায় যথেষ্ট সবজি অথবা সালাদ রাখুন।
কেননা সবজিতে থাকা ফাইবার মাংসের চর্বি হজমে সাহায্য করে।
এছাড়া সবজি থাকার কারণে মাংস খাওয়ার পরিমাণও কিছুটা কমানো যায়।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে প্রচুর পরিমাণে পানি, সরবত, ফলের রস, ইসবগুলের ভুষি ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চৌধুরী তাসনিম।

৯. গরুর মাংসের মগজ, কলিজা সেইসঙ্গে ঝোল বা স্টকে সবচেয়ে বেশি চর্বি থাকে, তাই খাওয়ার সময় সেগুলো পরিমিত খাওয়াই ভাল।

১০. মাংসের তৈরি ভাজা আইটেমে তেল বেশি মনে হলে খাওয়ার আগে টিস্যুতে বাড়তি তেলটা শুষে নিতে পারেন।

১১. কোরবানির ঈদে যেহেতু মাংস বেশি খাওয়া হয় তাই অতিরিক্ত ক্যালরি পোড়াতে প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।

তবে খাওয়ার পরপরই সেটা করতে যাবেন না। এতে ফলাফল উল্টো হতে পারে।

স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মাংস রান্না করে পরিমাণ বজায় রেখে খেলে যেকোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়িয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অতীতে যে কোন সময়ের তুলনায় বেশি। 
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত দুই সপ্তাহে অন্তত আটজন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে চিকিৎসকও আছেন। স্বাভাবিকভাবেই ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে মানুষের মাঝে প্রবল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কোন শরীরে কোন লক্ষণ দেখলে আপনি বুঝবেন যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী হতে পারে?

১. ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো কী?

সাধারণভাবে ডেঙ্গুর লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেবার পর আবারো জ্বর আসতে পারে। এর সাথে শরীরে ব্যথা মাথাব্যথা, চেখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ (র‍্যাশ) হতে পারে। তবে এগুলো না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।

২. জ্বর হলেই কি চিন্তিত হবেন?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ বলছেন, এখন যেহেতু ডেঙ্গুর সময়, সেজন্য জ্বর হল অবহেলা করা উচিত নয়।

জ্বরে আক্রান্ত হলেই সাথে-সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।

তিনি বলছেন, ''ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তারা জ্বরকে অবহেলা করেছেন। জ্বরের সাথে যদি সর্দি- কাশি, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা অন্য কোন বিষয় জড়িত থাকে তাহলে সেটি ডেঙ্গু না হয়ে অন্যকিছু হতে পারে। তবে জ্বর হলেই সচেতন থাকতে হবে।''

৩. বিশ্রামে থাকতে হবে

সরকারের কমিউনিক্যাবল ডিজিজ কন্ট্রোল বা সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অন্যতম পরিচালক ড. সানিয়া তাহমিনা বলেন, ''জ্বর হলে বিশ্রামে থাকতে হবে। তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, জ্বর নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করা উচিত নয়। একজন ব্যক্তি সাধারণত প্রতিদিন যেসব পরিশ্রমের কাজ করে, সেগুলো না করাই ভালো। পরিপূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন।''

৪. কী খাবেন?

প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন - ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে। এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে, পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।

৫. যেসব ঔষধ খাওয়া উচিত নয়

অধ্যাপক তাহমিনা বলেন, ''ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে।''

চিকিৎসকরা বলছেন, প্যারাসিটামলের সর্বোচ্চ ডোজ হচ্ছে প্রতিদিন চার গ্রাম। কিন্তু কোন ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

৬. প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা নিয়ে চিন্তিত?

ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা এখন আর মূল ফ্যাক্টর নয় বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক তাহমিনা।

তিনি বলেন, ''প্ল্যাটিলেট কাউন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কোন প্রয়োজন নেই। বিষয়টি চিকিৎসকের উপর ছেড়ে দেয়াই ভালো।''

সাধারণত একজন মানুষের রক্তে প্ল্যাটিলেট কাউন্ট থাকে দেড়-লাখ থেকে সাড়ে চার-লাখ পর্যন্ত।

৭. ডেঙ্গু হলেই কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়?

ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ভাগ রয়েছে।

এ ভাগগুলো হচ্ছে - 'এ', 'বি' এবং 'সি'।

প্রথম ক্যাটাগরির রোগীরা নরমাল থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী 'এ' ক্যাটাগরির।

তাদের হাসপাতালে ভর্তি হবার কোন প্রয়োজন নেই। 'বি' ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের সবই স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন তার পেটে ব্যথা হতে পারে, বমি হতে পারে প্রচুর কিংবা সে কিছুই খেতে পারছে না।

অনেক সময় দেখা যায়, দুইদিন জ্বরের পরে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হওয়াই ভালো।

'সি' ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ'র প্রয়োজন হতে পারে।

৮. ডেঙ্গুর জ্বরের সময়কাল

সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে।

কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের সময়কাল আরো এগিয়ে এসেছে। এখন জুন মাস থেকেই ডেঙ্গু জ্বরের সময় শুরু হয়ে যাচ্ছে।

৯. এডিস মশা কখন কামড়ায়

ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা অন্ধকারে কামড়ায় না। সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা তৎপর হয়ে উঠে। এডিস মশা কখনো অন্ধকারে কামড়ায় না।

১০. পানি জমিয়ে না রাখা

অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলছেন, ''এডিস মশা 'ভদ্র মশা' হিসেবে পরিচিত। এসব মশা সুন্দর-সুন্দর ঘরবাড়িতে বাস করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এডিস মশা সাধারণত ডিম পাড়ে স্বচ্ছ পানিতে। কোথাও যাতে পানি তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি জমা না থাকে।

এ পানি যে কোন জায়গায় জমতে পারে। বাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা টায়ার কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে।

গরমে মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

গরম বলতে যা তা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ফলে মানুষ নিত্যদিন নানা মানসিক ও শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে মাথাব্যথা সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন কারণে এ মাথাব্যথা হতে পারে। স্ট্রেস, ভয়, শারীরিক কোনো সমস্যা, বিষষ্নতা, ওষুধ সেবন, অ্যালকোহল পান, কম ঘুম, পরীক্ষার চাপের কারণেও মাথা ব্যথা হয়। তবে গরমকালে প্রায় প্রত্যেকেই এ সমস্যায় ভোগেন। তাই কিছু নিয়ম মেনে চললে সহজেই মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়।

পর্যাপ্ত পানি পান : গরমের সময় ঘামের সাথে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ তরল পদার্থ বেরিয়ে যায়। এর ফলে আমাদের শরীর হয়ে পড়ে পানিশূন্য। ফলে দেখা দেয় নানা রকম সমস্যা। মাথা ব্যথা, প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়া, দুর্বলতাসহ আরও অনেক সমস্যা। এমনকি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলে শরীরও ক্লান্ত হয়ে পরে। তখনও এ সমস্যাগুলো আরও প্রকট রূপে দেখা দেয়। এজন্যই গরমের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত। তবে এক্ষেত্রে একজন প্রাপ্ত বয়স্কের প্রতিদিন অন্তত ৩ লিটার ( ১৩ গ্লাস ) পানি পান করা উচিত।

রোদ থেকে সতর্কতা : গরমের সময় যারা বাইরে চলাফেরা করেন তাদের অবশ্যই ক্যাপ, সানগ্লাস, ছাতা ব্যবহার করা উচিত। কারণ এ সময় রোদ বা সূর্যের আলো সরাসরি মাথার উপরে পড়ার কারণেও মাথা ব্যথা হতে পারে।

অতিরিক্ত গরমে ধূমপান : বাইরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও অনেককেই ধূমপান করতে দেখা যায়। এমনিতেই এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তার উপর গরমের কারণে শরীর পানি শূন্য হয়ে পড়লে তখন এটি শরীরের জন্য মারাত্নক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন খুব বেশি মাথা ব্যথা হতে পারে। তাই গরমের সময় ধূমপান না করাই ভাল। আর যদি ধূমপান করতেই হয় তাহলে ধূমপানের আগে অবশ্যই কিছুটা পানি পান করুন। সেইসাথে একটু বিশ্রাম নিন।

ভারী কাজ করার সাবধানতা: গরমকালে শরীরের পানি শূন্যতার কারণে আমরা অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যায়। তাই যেকোনো ভারি কাজ করার সময় সব সময় পানি রাখতে হবে। তাহলে বেশি সমস্যায় পড়তে হবেনা।

কোমল পানিও বা কোল্ড ড্রিঙ্কস: গরমের সময় তৃষ্ণার্ত হয়ে আমরা প্রায়ই কোল্ড ড্রিঙ্কস পান করি।এটা অবশ্যই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কারণ প্রায় সব ধরনের কোল্ড ড্রিঙ্কস এর মধ্যে অতিরিক্ত চিনি ও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানো থাকে। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর।এর ফলেই অনেক সময় দেখা দিতে পারে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা। তাই এ সময়ে কোমল পানি পান করা একেবারেই নিরাপদ নয়।

মাথা ব্যথা দূর করার কিছু সহজ উপায়


ছোট বড় প্রায় সকলেই নানা কারণে বিভিন্ন সময় মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। সাধারণত ঘুমের ঘাটতি, ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা, মাইগ্রেন ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে মাথাব্যথা। অনেকে এই ব্যথা দূর করার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন, অনেকে আবার ব্যথানাশক ঔষধ খেয়ে থাকেন। কিন্তু খুব সহজে কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে এই মাথাব্যথার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন জানি কীভাবে মুক্ত হবেন এই ব্যথা থেকে।
১. আদা 
আদার অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান মাথা ব্যথা কমাতে ভূমিকা রাখে। আদার উপকারী উপাদান সমূহ রক্ত প্রবাহ ঠিক রেখে মাথাব্যথায় দ্রুত আরাম দেয়। মাথাব্যথা শুরুর সাথে সাথে আদা চা খেতে পারেন, ব্যথা কমে যাবে।
২. পানি পান করুন
একচুমুক পানি পানও আপনাকে এক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা সারাতে কাজে দেবে। যখন আমাদের শরীর আর্দ্র হতে থাকে তখন ব্যথা ধীরে ধীরে কমে।
৩. লেবু  
ঝটপট মাথাব্যথা সারিয়ে তুলতে লেবুর তুলনা হয়না। ব্যথা শুরু হওয়ার সাথে সাথে আপনি যদি গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে খান তাহলে মাথাব্যথা দ্রুত কমে আসবে। আপনি যদি লেবু পেস্ট করে কপালে লাগান তাতেও মাথা ব্যথা কমবে আর সাথে খেতে পারেন এক কাপ লেবু চা।
৪. লবঙ্গ
কিছু লবঙ্গ তাওয়ার মধ্যে গরম করে নিন। গরম লবঙ্গ একটি রুমালের মধ্যে নিন। এক মিনিট এর ঘ্রাণ নিন এবং দেখুন মাথা ব্যথা চলে গেছে।

৫. মিষ্টিকুমড়োর বিচি খান
মিষ্টি কুমড়োর বিচি ভেজে খেলে মাথাব্যথার সমস্যা থেকে দুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কারণ মিষ্টি কুমড়োর বিচিতে হয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট যা মাথাব্যথা উপশমে কাজ করে থাকে।

৬. কাঠবাদাম খাওয়ার অভ্যাস রাখুন
অনেক সময় আবহাওয়া, ধুলোবালির কারণে মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়, আবার অনেক সময় মানসিক চাপের কারণেও মাথা ব্যথা শুরু হয়। এই সকল ধরনের ব্যথা কমানোর জন্য একমুঠো বা দুইমুঠো কাঠবাদাম চিবিয়ে খান। কাঠবাদামে রয়েছে ‘স্যালিসিন’ যা ম্যথাব্যথা উপশমে কাজ করে রবং দ্রুত ব্যথা নিরাময় করে।
৭. পান পাতা
পান পাতার প্রাকৃতিক মাথা ঠাণ্ডাকারী উপাদান মুহূর্তেই মাথা ব্যথা সারিয়ে তুলতে কার্যকারী অবদান রাখে। মাথাব্যথা সারাতে ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে তাজা দেখে তিন থেকে চারটি পান পাতা নিয়ে মোলায়েম করে ছেঁচে কপালে লাগিয়ে রাখুন। আধা ঘণ্টার মধ্যে এটি আপনাকে মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি দেবে।
৮. লবণযুক্ত আপেল
ব্যথা যদি বেশি হয় তবে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।এক টুকরো আপেল চিবুতে পারেন তবে এতে একটু লবণ ছিটিয়ে নেবেন। এটা দ্রুত ব্যথা মুক্ত করতে সাহায্য করবে। 
৯. হাসি খুশি মন
অনেকেই হয় তো বিশ্বাস করবেন না, তবে মনকে যদি ইতিবাচক এবং ভালো বিষয়ের দিকে নিয়ে যান তবে মাথা ব্যথা ৬০ সেকেন্ডেই দূর হবে। চেষ্টা করেই দেখুন না!
১০. পেপারমিন্ট 
মাথাব্যথা সারিয়ে তোলার আরো একটি কার্যকরী উপায় হলো কপালে পেপারমিন্ট মালিশ করা আর ঘাড়ে সামান্য পেপারমিণ্ট মালিশ করা। এরূপে করেই দেখুন মাথাব্যথা একদম সেরে যাবে।
১১. আইসব্যাগ
বাজারে নানা আকারের অনেক আইসব্যাগ কিনতে পাওয়া যায়। একটি আইসব্যাগে বরফ ভরে নিয়ে তা মাথার ওপরে অর্থাৎ ঠিক মাথার তালুতে খানিকক্ষণ ধরে রাখুন। দেখবেন মাথা ব্যথা উপশম হচ্ছে। তবে যাদের হুটহাট ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার প্রবণতা আছে তারা এই পদ্ধতি পালন করাই ভালো। 

সূত্র : বিভিন্ন ব্লগ থেকে সংগৃহিত ও সম্পাদিত
প্রায়ই এমন হয়, ছোট একটি হিসাব করতে গিয়েও ভুল হয়ে যায়, আবার হয়ত কোনো কাজে রান্নাঘরে যাওয়ার পর কিছুতেই মনে পড়ছে না, কেন এসেছি।
এধরনের আরও কিছু ঘটনা ঘটে। যেমন কারো সঙ্গে কথা বলার সময় নাম মনে না থাকা, প্রিয়জনের জন্মদিন ভুলে যাওয়া, ঘরের চাবি রেখে আসা। প্রতিদিন ব্যবহার করা হয় সেই মেইলের পাসওয়ার্ড ভুলে যাই।
মস্তিষ্ক অ্যাক্টিভ থাকলে এই সমস্যাগুলো কমে আসে। কারণ আমাদের মস্তিস্ক আসলে পেশির মতোই। যত বেশি ব্যবহার করবেন, তত শক্তিশালী হবে।
মস্তিস্ক অ্যাক্টিভ রাখতে জীবন-যাপনে যে বিষয়গুলো রাখতে হবে: 
•    নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে
•    পর্যাপ্ত ঘুম
•    ধূমপানসহ সব ধরনের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে
•    স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।
কার্যক্ষমতা বাড়াতে মস্তিষ্কের চমৎকার কিছু ব্যায়াম শিখে নিন: 
•    বাজারের লিস্ট করুন। লিখুন ১০/১২টি আইটেম। লিস্ট না দেখে ১০টি আইটেম মনে করার চেষ্টা করুন
•    গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো নতুন ও জটিল কিছু যেমন- গিটার, ভায়োলিন, পিয়ানো ইত্যাদি বাজাতে শিখলে মস্তিষ্কের বয়স বাড়ে না
•    কলম, পেন্সিল ও কাগজ ছাড়া মনে মনে হিসাব কষতে শুরু করুন
•    নতুন ভাষা শেখা, শব্দ শোনার সময় মস্তিষ্ক উদ্দীপ্ত হয়
•    ছবি আঁকা, পাজল মেলানো মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।