August 2019
রাজধানী ঢাকা সারাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগ। প্রতিদিন বেড়েই চলেছে এই রোগে আক্রান্ত্রের সংখ্যা। এরই মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত্র মারাও গেছেন বেশ কয়েকজন। ফলে ডেঙ্গু আতঙ্ক এখন সবার মধ্যেই। তবে এই রোগকে মোকাবেলা করতে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সবসময় মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। এছাড়া ঘর থেকে মশা তাড়ানোর জন্য কয়েল, অ্যারোসল বা অন্য যেকোনও পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। এরপরও যদি কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তাহলে উদ্বিগ্ন না হয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এসময় স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে পানি, খাওয়ার স্যালাইন, স্যুপ, দুধ, তাজা ফলের রস বেশি বেশি পান করতে হবে। ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হতে খুবই কার্যকর হতে পারে পেঁপে পাতার রস। এতে আছে কাইমোপ্যাপিন ও প্যাপাইন, যা রক্তের প্লালিলেটের সংখ্যা বৃদ্ধি ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। ফলে ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বেড়ে যায়। একাধিক গবেষণায়ও এর প্রমাণ মিলেছে। যেভাবে রস তৈরি করবেন পেঁপের পাতার রস করতে প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে, পরিষ্কার পাটা বা হামান্দিস্তায় থেঁতো করে নিন। এবার রস ছেকে নিয়ে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। যেভাবে খাবেন পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গু রোগীকে প্রতিদিন তিন বেলা তিন কাপ পরিমাণ পান করতে দিন। রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে। সূত্র: মেডিকেল এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, স্টার
আম খেতে ভালবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কাঁচা হোক বা পাকা, আম সকলেই খান, কিন্তু ফেলে দেওয়া আমের আঁটি। সেটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু জানেন কি, আমের আঁটিও স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর! আসুন এবার আমের আঁটির অজানা স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। প্রথমে আমের আঁটি শুকিয়ে ভাল করে গুঁড়ো করে নিন। এবার জেনে নিন আমের আঁটির গুঁড়োর আশ্চর্য ৫টি আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ- ১) খুশকির সমস্যায় ২-৩ চামচ সরিষার তেলের সঙ্গে এক চিমটি আমের আঁটির গুঁড়া মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ভাল করে মালিশ করুন। এতে চুল হবে উজ্জ্বল আর দূর হবে খুশকির সমস্যা।২) শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের পরিচর্যায় সরিষার তেলের সঙ্গে আমের আঁটির গুঁড়া মিশিয়ে দিনে অন্তত একবার মালিশ করে দেখুন। রুক্ষ ভাব কেটে গিয়ে ত্বক হয়ে উঠবে কোমল, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। ৩) ঝকঝকে দাঁত আর সুস্থ মাড়ি পেতে চান? আমের আঁটির গুঁড়া মাজনের মতো ব্যবহার করে দেখুন। উপকার পাবেন।৪) পিঁপড়া, মৌমাছি কামড়ালে মারাত্মক জ্বালা-যন্ত্রণা করে। আক্রান্ত স্থানে আমের রস বা আমের আঁটির গুঁড়া লাগালে সাময়িক ভাবে ব্যথার বোধ দ্রুত কমে যায়।৫) যে কোনো খাবারের সঙ্গে আমের আঁটির গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারলে উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চিরতার স্বাদ তেতো হলেও এই ফলটির রয়েছে নানান গুণ। চিরতার পাতলা ডালপালা ধুয়ে পরিষ্কার করে গ্লাস বা বাটিতে পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে ওই পানি খেতে অনেক উপকার পাওয়া যায়।ইউনানী চিকিৎসা অনুযায়ী চিরতা হৃৎপিণ্ড ও যকৃতের সবলকারক, চোখের জ্যোতিবর্ধক ও জ্বর রোগে বিশেষ উপকারী এই চিরতা। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে চিরতার উপকারিতা ও গুণাগুণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হল- ১। শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।২। নিয়মিত তিতা খাবার খেলে অসুখ হওয়ার প্রবণতা কম থাকে। চিরতা এর মধ্যে অন্যতম।৩। চিরতা খেলে যেকোনো কাটা, ছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত শুকায়।৪। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য চিরতা ভীষণ জরুরি পথ্য। চিরতার রস দ্রুত রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে দেয়।৫। উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, উচ্চরক্তচাপ, অতি ওজনবিশিষ্ট ব্যক্তির জন্যও চিরতা দরকারি।৬। টাইফয়েড জ্বর হওয়ার পর আবারও অনেকের প্যারাটাইফয়েড জ্বর হয়। তাই টাইফয়েড জ্বরের পরে চিরতার রস খেলে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়।৭। চিরতার রস কৃমিনাশক।৮। তারুণ্য ধরে রাখতেও চিরতার গুরুত্ব অপরিসীম।৯। শরীরের ঝিমুনিভাব, জ্বরজ্বর লাগা দূর করে চিরতার রস।১০। নিয়মিত তিতা বা চিরতার রস খেলে ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।১১। চিরতা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে।১২। যাদের ডায়াবেটিস নেই কিন্তু রক্তে চিনির পরিমাণ সবসময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে, তাদের জন্য চিরতা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
আমার এক বন্ধু রাত তিনটার সময় বুকের জ্বালাপোড়া বা চাপ বোধ করায় দ্রুত ঢাকার হৃদরোগের সবচেয়ে বড় সরকারী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেবার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। রোগীর অত্যধিক চাপ থাকায় সিসিইউতে কোন বেড নেই। ফলে মেঝেতে ম্যাট্রেস বিছিয়ে জরুরি চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ streptokinase প্রয়োগ করে রক্তনালীর ব্লক খুলে দেবার চেষ্টা করা হয়েছে। যা খুবই প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু হার্ট এ্যাটাকের পাঁচদিন পর এ্যানজিওগ্রাম করে রিং পরানো হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন থেকে যায়। কেন না সময়ই এখানে মুখ্য নিয়ামক (principal predictor) ।
হার্ট এ্যাটাক একটি জীবন বিপন্নকারী ব্যাধি। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে লেখালিখি করে বা টেলিভিশনে আমি বারবার বলে আসছি। হার্ট এ্যাটাক সম্পর্কে সচেতন সকলের একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরী।
প্রকট (acute) হার্ট এ্যাটাক দুধরনের হয়:১। STEMI, ২। NSTEMI , প্রথমটির ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসা হল সঙ্গে সঙ্গে এ্যানজিওগ্রাম করে রিং বা stent পরিয়ে দেয়া। এবং এটি করতে হবে লক্ষণ শুরুর ১২ ঘণ্টার মধ্যে, নইলে হার্টের মাংসপেশির মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। হার্ট ও ব্রেনের টিসু একবার ধ্বংস হলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না। সময়ই এখানে মুখ্য নিয়ামক। দেরি হয়ে গেলে বা দেরি করে রিং পরালে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এতে দীর্ঘমেয়াদী হার্ট ফেইল্যুর বা হার্টের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। যেসব জায়গায় (যেমন ঢাকার বাইরে দিনাজপুর, খুলনা, খাজা ইউনুস, চট্টগ্রাম ইত্যাদি ছাড়া) জরুরি এ্যানজিওগ্রাম বা রিং পরাবার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই সেখানে streptokinase বা tenectiplase দিয়ে রক্তনালীর ব্লক খুলে দিতে হবে। তবে এর সাফল্য জরুরি রিং (primary angioplasty) এর চেয়ে অনেক কম। এবং এসব ওষুধ প্রয়োগের ৩ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই এ্যানজিওগ্রাম করতে হবে। নইলে হার্টের মাংসপেশির অপূরণীয় ক্ষতি হবে। বাস্তবতা হল এই যে, অফিসটাইমের পরে কোন সরকারি হাসপাতালে জরুরি এ্যানজিওগ্রাম বা রিং পরানোর কোন সুযোগ নেই। সুতরাং যাঁদের সামর্থ্য আছে তাঁদের এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে রাত হোক দিন হোক বুকে অস্বাভাবিক ব্যথা , জ্বালাপোড়া , চাপ, গ্যাস বা শ্বাসকষ্ট হলে প্রথমেই জরুরি বিভাগে এসে ইসিজি করতে হবে। রাতে ব্যথা হলে সকাল পর্যন্ত বাড়িতে অপেক্ষা করা যাবে না।
এখন পর্যন্ত অফিসটাইমের বাইরে কেবল বেসরকারী হাসপাতালে জরুরি এ্যানজিওগ্রাম এবং জরুরি রিং ( primary angioplasty) পরাবার সুযোগ রয়েছে । আপাতঃদৃষ্টিতে এটি ব্যয়বহুল মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা নয়। কেননা মাত্র তিন দিনের মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। এতে হার্টের পাম্পিং বা কার্যক্ষমতা প্রায় স্বাভাবিক থাকে। দীর্ঘমেয়াদে রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয়ত রিং বা stent এর দাম সরকার নির্ধারিত হওয়ায় সরকারী বেসরকারী সব হাসপাতালে একই দাম নিতে বাধ্য। তাই সময়ক্ষেপণ করে পরে রিং লাগালে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। উন্নত বিশ্বসহ সারা দুনিয়ায় এটাই হল হার্ট এ্যাটাকের বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক চিকিৎসা।
আরেকটি বিষয়। STEMI হার্ট এ্যাটাক নির্ণয় করতে শুধুমাত্র একটি ইসিজি-ই যথেষ্ট , কোন রক্ত পরীক্ষার আবশ্যকতা নেই। ইসিজি করে যদি দেখা যায় রোগীর STEMI হয়েছে তাহলে সাথে সাথে তাকে জরুরি বিভাগ থেকে সরাসরি ক্যাথলাবে নিয়ে জরুরি এ্যানজিওগ্রাম করে রিং পরাতে হবে।
প্রকট হার্ট এ্যাটাকের দ্বিতীয় ধরণটি হল NSTEMI যেটা শুধু ইসিজি দিয়ে বুঝা যাবে না। রোগীর লক্ষণ, ইসিজি এবং রক্ত পরীক্ষা Troponin করে যদি দেখা যায় এটি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি তাহলে কিছু ওষুধ প্রয়োগ করে একধরণের রক্তজমাটবিরোধী হেপারিন (injection Clexane) দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব এ্যানজিওগ্রাম করে দেখতে হবে ব্লকের সংখ্যা, ধরণ ও মাত্রা কেমন। ব্লকের চরিত্রের উপর নির্ভর করবে রোগীর রিং লাগবে, বাইপাস (ওপেন হার্ট) সার্জারি লাগবে নাকি শুধু ওষুধ দিয়ে রাখা যাবে। এবং প্রয়োজনে দ্বিতীয় আরেকজন কার্ডিওলজিস্ট বা সার্জনের সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে।

ডা. মাহবুবর রহমান সিনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিওলজিস্ট ও সিসিইউ ইন-চার্জ, ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারের বার্সেলোনাতে ফেরা নিয়ে গুঞ্জন চলছেই। এরই মধ্যে বর্সার অফিসে দেখা গেল নেইমারের প্রতিনিধিদের। তাদের মধ্যে একজন পিএসজি’র আইনজীবী হুয়ান দি দিয়োস ক্রেসপো, যিনি দুই বছর আগে নেইমারের রিলিজ ক্লজ (২২২ মিলিয়ন ইউরো) বার্সেলোনায় ডিপোজিট করেছিলেন। বার্সার অফিসের সামনে নেইমারের আইনজীবীর প্রবেশের ছবি প্রকাশ করে স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম ‘মার্কা’ জানিয়েছে, ওই সময় ক্যাম্প ন্যুয়ের অফিসে উপস্থিত ছিলেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া বার্তমেউ। তবে আইনজীবীদের প্রবেশের ঠিক ১০ মিনিট পরই তিনি বেরিয়ে যান। এদিকে ঠিক কী হয়েছে বার্সার অফিসে তা নেইমারের আইনজীবী কিংবা ক্যাম্প ন্যু, কোনো পক্ষই নিশ্চিত করেনি। তবে নেইমারের আইনজীবী ক্রেসপো জানিয়েছেন, তার সফরের সঙ্গে নেইমার ইস্যু জড়িত নয়। একটি টেলিভিশন প্রোগ্রামের জন্যই নাকি বার্সায় গিয়েছিলেন তিনি।
এবিসির মধ্যরাতের জনপ্রিয় টক শো জিমি কিমেল লাইভে মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যালার্টের ‘টোন’ বাজানোয় ৩ লাখ ৯৫ হাজার ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জরুরি মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা পৌঁছে দিতে চালু করা ওই অ্যালার্ট নিয়ে ব্যঙ্গ করতে গিয়ে গতবছর ৩ অক্টোবর জিমি কিমেল লাইভে তিনবার ওই অ্যালার্ট টোন বাজানো হয়। যেদিন ওই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়, সেদিনই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে পরীক্ষামূলকভাবে ওই অ্যালার্ট পাঠানো হয়। ২০ কোটি মানুষের স্মার্টফোনে সেদিন সেই পরীক্ষামূলক ‘অ্যালার্ট’ পৌঁছায়। ফোনে বিশেষ ওই টোন বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে একটি নোটিফিকেশন আসে, যেখানে লেখা ছিল- এটা ন্যাশনাল ওয়্যারলেস ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট সিস্টেমের একটি পরীক্ষামূলক বার্তা। এটা পেলে কিছু করার প্রয়োজন নেই। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সন্ত্রাসী হামলার মত ঘটনায় জনগণকে সতর্ক করতে ওই অ্যালার্ট চালু করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি-ফেমা। সেরকম জরুরি কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেমাকে ওই অ্যালার্ট পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন-এফসিসি বলছে, প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যালার্টের টোন জিমি কিমেলের টক শোতে ব্যবহার করে এবিসি সম্প্রচার আইন ভেঙেছে। এফসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টেলিভিশন চ্যানেলগুলো জরুরি সতর্কবার্তায় শব্দ কোনো অনুষ্ঠানে ব্যবহার করতে পারে না। মানুষ যাতে ওই শব্দ শুনে সত্যিকারের অ্যালার্ট ভেবে আতঙ্কিত হয়ে না পড়ে, সেজন্যই এ নিয়ম। জিমি কিমেল লাইভে প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যালার্টের টোন শোনানোর কথা স্বীকার করলেও এবিসি বলেছে, তারা ভেবেছিল এই অ্যালার্টের টোন বাজানোর ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই। ওয়াল্ট ডিজনির মালিকানাধীন এই টেলিভিশন স্টেশন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিষয়টা ‘মিটে যাওয়ায়’ তারা খুশি। এফসিসি জানিয়েছে, এবিসি ওই টোন আর ব্যবহার না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ওই টোন বাজানোয় এএমসি নেটওয়ার্ড ১ লাখ ৪ হাজার, এএমসি ৬৮ হাজার এবং ডিসকোভারি ৬৭ হাজার ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে।
টেস্টের লাল বল হোক বা ওয়ান-ডের সাদা, দুই ধরণের বলের উপরেই চামড়ার আস্তরণ থাকে। লেদার ক্রিকেট বল যাকে বলে। যে কোন সংস্থার প্রস্তুত করা ক্রিকেট বলে চামড়ার কোটিং থাকে। কিন্তু ইংল্যান্ডের আর্লে ক্লাব যে বল এনেছে তাতে কোন চামড়ার আস্তরণ নেই। নিরামিষ বল নিয়ে এলো ক্লাবটি। অর্থাৎ, পশুর চামড়ার কোন অংশই এই ভেগান বল-এ থাকছে না। চামড়ার বদলে থাকছে রাবার কোটিং।আর্লে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান গ্যারি শাকলেডি বললেন, এই বল একটু বেশি লাফাবে। ফলে এই বলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে। আমরা এখনও পরীক্ষা চালাচ্ছি। এই বলের কোয়ালিটি আরও ভাল করে বাজারে আনব আমরা। ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা নিজেও প্রায় পাঁচ বছর হল আমিষ খাওয়া ছেড়েছেন। তাই এমন একটা বল আনার ভাবনাও তাঁর মাথাতে এসেছিল অনেকদিন আগেই। ভেগান বল যদি পুরোদমে বাজারে আসে তা হলে তা কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটের বিস্ময়কর আবিষ্কার হতে পারে। এমনটাই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
২০১৫ সালের গোড়ার দিকে (সঠিক তারিখটি এখন মনে নেই) একাত্তর টেলিভিশনের একটি টকশোয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস সম্পর্কে কিছু কথা বলেছিলাম। আমার সে বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ ওই বছরের ২০ মে ‘গুলশান অফিস নিয়ে অস্থিরতা’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। লিড নিউজ হিসেবে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে সে সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান অফিসকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি সুবিধাভোগী চক্রের তৎপরতার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছিল। ওই টকশোয় আমি বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত দুই কর্মকর্তা (বিশেষ সহকারী ও প্রেস সচিব) কীভাবে দলকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছেন, বেগম জিয়াকে নেতা-কর্মী ও মিডিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছেন, ব্যক্তিস্বার্থে গ্রুপিং সৃষ্টি করে দলের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করছেন তা সবিস্তারেই বলেছিলাম। একই সঙ্গে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলাম, এই দুই কর্মকর্তার কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তাঁর দলকে সীমাহীন খেসারত দিতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের রিপোর্টে দলটির নেতাদের অভিমতসহ তা আরও বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। ওই বছর ২৪ জানুয়ারি মারা যান জিয়া-খালেদাপুত্র আরাফাত রহমান কোকো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকার্ত মা খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে। কিন্তু তাঁকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ন্যক্কারজনক ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিলাম সম্ভবত ২৬ জানুয়ারি রাতে প্রচারিত একই টিভির টকশোয়। সেদিনের ঘটনা যারা টিভি পর্দায় প্রত্যক্ষ করেছেন, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, প্রধানমন্ত্রী ফেরত চলে আসার পর শিমুল বিশ্বাস একটি সাদা খাতা দেখিয়ে সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘আমরা তো প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের জন্য শোকবই রেডি করেছিলাম।’ আমি ওই টকশোয় তার এ কথাকে ‘অডাসিটি’ (ঔদ্ধত্য) আখ্যা দিয়ে বলেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী কি রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্বাক্ষর করবেন? ঘটনাটি উল্লেখ করলাম এজন্য, বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় নিয়ে এ ধরনের বহু অভিযোগ এযাবৎ প্রকাশিত হয়েছে।দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এ ধরনের অনেক ঘটনাই সেখানে ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে বিশেষ স্বার্থ হাসিলে তৎপর ছিল একটি চক্র। আর সে চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন ওই দুজন; কখনো যৌথভাবে, কখনো এককভাবে। একই বছরের ১৭ জুন ‘গুলশান কার্যালয়ে ঠান্ডা লড়াই’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ট্যাবলয়েড দৈনিক মানবজমিন। ওই প্রতিবেদনে চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস ও প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টাগ অব ওয়ারের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে এও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ‘তৃণ-মূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে গুলশান কার্যালয়ের গুটিকয় কর্মকর্তার ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তে চরম বেকায়দায় পড়ে বিএনপি। ২০১৫ সালের শুরুতে তিন মাসের আন্দোলনে ওইসব প্রভাবশালী কর্মকর্তাই ছিলেন হর্তাকর্তা।’ ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন, ২০১৫ সালের হঠকারী আন্দোলন বিএনপিকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সন্দেহ নেই। সেসব ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মচারীদের প্রভাব ও ভূমিকা এখন সর্বজনবিদিত। অনেকেরই স্মরণে থাকার কথা, ২০১৫ সালের ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন দুপুরে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। সেদিন একটি টেলিফোন সংলাপ ফাঁস হয়। টেলিফোনের কথকদ্বয় ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস। টেলিফোনে শিমুল বিশ্বাস মওদুদ আহমদের কাছে জানতে চান নির্বাচন বর্জন ঘোষণার সংবাদ সম্মেলন কোথায় করবেন? জবাবে মওদুদ আহমদ পাল্টা প্রশ্ন করেন ‘তুমি কোথায় করতে বল?’ অর্থাৎ শিমুল যেখানে বলবেন তিনি সেখানেই সংবাদ সম্মেলন করবেন। ওই রাতেই একটি টিভি টকশোয় মওদুদ আহমদের এ হীনমন্যতায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলাম, দলের স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য যখন চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মচারীর নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকেন, সে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি শঙ্কিত। একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী গুলশান কার্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর থেকেই দলের মধ্যে একটি বিভাজন তৈরি হতে শুরু করে। সে সময় কোণঠাসা হয়ে পড়েন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা। সেই শুরু ‘বিএনপি বনাম বিএনপি’ অঘোষিত যুদ্ধ। ওই কার্যালয়ের অতিশয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দুর্ব্যবহারের কারণে অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা সেখানে যাওয়া ছেড়েই দিয়েছিলেন। বেগম জিয়া না ডাকলে তারা সেখানে পদার্পণ করতেন না। আত্মসম্মান বাঁচানোর জন্যই সেখানে যাওয়া থেকে তারা বিরত ছিলেন। কয়েকবারের এমপি-মন্ত্রী, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্যদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওয়েটিংরুমে বসিয়ে রাখা হতো ‘ম্যাডাম ব্যস্ত আছেন’ বলে। অনেক সময় তারা নেত্রীর সঙ্গে দেখা না করেই চলে আসতে বাধ্য হতেন। শেষ দিকে মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খুব একটা যেতেন না। আর সে সুযোগে ওই চক্র তার বিরুদ্ধে চেয়ারপারসনের কান ভারী করে তোলে। স্থায়ী কমিটির মিটিংয়েও অনেকে যেতে উৎসাহবোধ করতেন না। এ সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য আমাকে বলেছেন, ‘কী যাব? আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই, পরে দেখি প্রচার হয়েছে উল্টোটা।’ কারা এ পরিবর্তন ঘটায়? এ প্রশ্নের জবাবে তারা অভিন্ন জবাব দিয়েছিলেন- ‘যারা ম্যাডামকে ঘিরে আছেন, ক্ষমতাবান, তারাই করেন।’গুলশান অফিস নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগের অন্ত নেই। তাদের সেসব অভিযোগ পত্রিকার খবরে উঠে এসেছে বহুবার। কমিটি বা পদ-পদবি বিক্রি, দলের ভিতরে কোন্দল সৃষ্টি, অনুগত লোকজনকে বিভিন্ন পদে পোস্টিং ইত্যাদির মাধ্যমে দলে বিভক্তি সৃষ্টির অভিযোগ পুরনো। এসব কথা কেউ যে নেত্রীর কানে তোলেনি তা নয়। কিন্তু নেত্রী তা ধর্তব্যের মধ্যে নেননি। ফলে ‘যাহা বাহান্ন তাহা তিপ্পান্ন’ই রয়ে গেছে। দিন গড়িয়েছে, দল দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছে। সম্প্রতি আবার গুলশান অফিসকে নিয়ে কথা উঠেছে। বিএনপির দুই অফিসের মধ্যে টানাপোড়েনের কাহিনি পুরনো। এখন আবার দলটির দুই বলয় সক্রিয় দুই অফিসকে কেন্দ্র করে। গত ২৮ জুলাই একটি দৈনিক ‘গুলশান-নয়াপল্টনে বিভক্ত বিএনপি’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে সে কথাই তুলে ধরেছে। তাতে বলা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় আর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশান কার্যালয় থেকে এবং সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়াপল্টনে বসে দলীয় সিদ্ধান্ত দেন। দুজনই আলাদাভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা নেন। এ নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্য অসন্তোষ বিরাজ করছে বলেও উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। নেতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, গুলশান ও নয়াপল্টনের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। জাতীয় ইস্যুতে সিদ্ধান্ত আসে গুলশান থেকে। দলের অভ্যন্তরীণ ও সাংগঠনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় নয়াপল্টনে। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা থেকে শুরু করে ৫৮৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ নেতার সম্পৃক্তি থাকে না। এসব কারণে দলটির অধিকাংশ নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন এবং তাদের সক্রিয় করার কোনো উদ্যোগও নেই বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে। গণমাধ্যমে যেসব খবর বিএনপি সম্পর্কে প্রকাশিত হচ্ছে তা একটি রাজনৈতিক দলের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। একসময়ের প্রতাপশালী রাজনৈতিক দল বিএনপির এ হতচ্ছাড়া দশা অনেককেই পীড়া দেয়। বিশেষ করে গণতন্ত্রমনস্ক ব্যক্তি, যারা চান দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতি চালু থাকুক, তাদের জন্য এটা মনঃকষ্টেরই কারণ। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য সুদিন-দুর্দিন অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। সুদিনকে সঠিক পন্থায় কাজে লাগানো এবং দুর্দিনে বিচক্ষণতার সঙ্গে দল পরিচালনাই শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব। বিএনপির এখন চরম দুর্দিন যাচ্ছে এটা অস্বীকার করা যাবে না। এক যুগ পার হয়ে গেছে দলটি রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাধারণত সাংগঠনিক শক্তি দৃঢ় করার কাজে মনোনিবেশ করতে দেখা যায়। কিন্তু বিএনপিতে এর একেবারে উল্টো চিত্র দৃশ্যমান। যেখানে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে সরকারের মোকাবিলা করতে সবার সচেষ্ট হওয়ার কথা, সেখানে নিজেদের মধ্যে শক্তি ক্ষয় করে দলকে আরও হীনবল করতেই নেতারা ব্যাপৃত। সাংগঠনিক বিষয়ে এমন সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা দলটিকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। যে সময়ে দলটিকে অধিকতর ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস কাম্য, নেতাদের কর্মকান্ডে সেখানে বিভক্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে। নিজেদের স্বার্থগত দ্বন্দ্বে তারা কর্মীদের সম্পৃক্ত করে দলটিকে ঠেলে দিচ্ছেন পেছনের দিকে। দলটি এতটাই নির্জীব হয়ে পড়েছে যে, চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে রাজপথে পা রাখার সামর্থ্যও হারিয়েছে। যদিও শীর্ষস্থানীয় নেতারা অহরহ বলে চলেছেন, দুর্বার আন্দোলন ছাড়া নেত্রীকে মুক্ত করা যাবে না এবং সে ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা নেত্রীকে মুক্ত করে আনবেন। কিন্তু সে দুর্বার গণআন্দোলন কবে কীভাবে তারা সংগঠিত করবেন, জনগণকে তাতে সম্পৃক্ত করবেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। শীর্ষনেতাদের এসব বায়বীয় আস্ফালন তৃণ -মূল নেতা-কর্মীদের মনে কেবল হতাশাই বাড়িয়ে দিচ্ছে। অবশ্য এরই মধ্যে নেত্রীর মুক্তি দাবিতে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রামে তিনটি বৃহদাকারের সমাবেশ দলটি করেছে। তবে সেসব সমাবেশ থেকেও নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা আসেনি। অনেকে এসব সমাবেশকে নেতাদের মুখরক্ষার সমাবেশ বলেও কটাক্ষ করছেন। এদিকে গত ২৯ জুলাই একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি নেতারা এখন সরকারের ভরসায় রয়েছে। একই দিনের অন্য একটি দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় উদ্বিগ্ন তার পরিবারের সদস্যরা দলের নেতাদের আন্দোলন বা আইনজীবীদের আইনি লড়াইয়ের প্রতি আর আস্থা রাখতে পারছেন না। তাই শেষ পর্যন্ত প্যারোলের দিকেই তারা ঝুঁকছেন। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। খবরে বলা হয়েছে, মুক্তির শর্ত হিসেবে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার শর্ত দিয়েছে সরকার। শামীম ইস্কান্দার ওই শর্তে রাজিও হয়েছেন বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে। খবরে বলা হয়েছে, বিএনপি যদি প্যারোল চায়, তাহলে সরকার তা বিবেচনা করবে। যদি তাই হয়, তাহলে খালেদা-ভক্তদের জন্য তা স্বস্তির বিষয় হলেও দল হিসেবে বিএনপিকে দাঁড় করাবে উত্তরহীন প্রশ্নের মুখে। প্রমাণিত হবে, দলটি তাদের শীর্ষনেত্রীর মুক্তির জন্য তিল পরিমাণ ভূমিকাও রাখতে পারেনি। এ ব্যর্থতার দায় তো তাদেরই নিতে হবে, যারা এ মুহূর্তে দলটির স্টিয়ারিংয়ে রয়েছেন।

মহিউদ্দিন খান মোহনলেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
তারুণ্যের হাতের ডানায় আবার সগৌরবে ফিরে এসেছে হাতঘড়ি। ফ্যাশনে, সৌন্দর্যে, ব্যক্তিত্বে, আভিজাত্যে হাতঘড়ি এখন নতুন নান্দনিকতার প্রতীক। শুধু তারুণ্যের নয়, সব বয়সী মানুষের হাতের কবজিতেই এখন হাতঘড়ি বেশ শোভা পাচ্ছে। মোবাইল ফোনের ডিজিটাল পর্দা উপেক্ষা করে হাতের ঘড়িতেই সময় খুঁজছেন মানুষ। সামর্থ্যরে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে ঘড়ি কিনছেন অনেকে।
বিত্তবান ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ কোটি টাকা দামের ঘড়িও পরেন। কারও সংগ্রহে আছে মেয়েদের গহনার মতো নানা ব্র্যান্ডের অসংখ্য ঘড়ি। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে একেক দিন একেকটা পরেন। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে দেশে হাতঘড়ির বাজার দ্রুত বাড়ছে।
বাংলাদেশে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর সবচেয়ে বেশি ঘড়ি আমদানি করে কল্লোল ইন্ডাস্ট্রিজ লি.। তারা ২৭টি ব্র্যান্ডের ঘড়ি বাংলাদেশের বাজারে বাজারজাত করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ডের ঘড়ি হলো রাডো, টিসট্, সিকে, সিটিজেন, কেসিও, সিকো, টাইটান, রোমানসন, ক্রিডেন্ট ও ওবাকু। কল্লোলের ঘড়ি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান টাইম জোনের ঢাকাসহ সারা দেশে ৪৪টি আউটলেট রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ২৩টি আউটলেট।
কল্লোল ইন্ডাস্ট্রিজের ঘড়ি বিভাগের ম্যানেজার মো. মাসুদ আলমের সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয় তাদের তেজগাঁও অফিসে বসে। তিনি বলেন, আমরা তিন হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা দামের ঘড়ি বিক্রি করি। এ ছাড়া সুইস ঘড়ি লনজিস আছে ৮০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের। মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ আমাদের ঘড়ির ক্রেতা। এ ছাড়া করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক গ্রাহক আছেন যারা ৫০০, ৭০০ কিংবা হাজার পিস ঘড়ি এক অর্ডারে কিনে নিয়ে যান। তারা নিজেদের ডিলার নেটওয়ার্কে এসব ঘড়ি বিতরণ করেন। বিশেষ করে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) কিংবা ডিলার সম্মেলনে ডিলারদের এসব ঘড়ি দেওয়া হয়। ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো তাদের বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমেও শত শত ডাক্তারকে ঘড়ি উপহার দেন। এ জন্য তারা প্রতিবার শত শত ঘড়ি নিয়ে যান।
বাংলাদেশে হাতঘড়ির বাজার প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। তারুণ্য এখন ঝুঁকছে হাতঘড়ির প্রতি। এখানকার তরুণরা ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে হাতঘড়ি পরছেন। বিয়ের গিফট হিসেবেও এখন প্রচুর ঘড়ি বিক্রি হচ্ছে। টাইম জোন ছাড়াও সাকো, ওয়াচেস ওয়ার্ল্ড, মোহাম্মদ অ্যান্ড সন্স বাংলাদেশে ঘড়ি আমদানি করছে। তিনি বলেন, ঘড়ি বিক্রির পর আমরা বিক্রয়োত্তর সেবা দিই। সুইজারল্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডের সার্ভিসিং সুবিধা আমাদের রয়েছে। আমাদের গ্রাহকদের মধ্যে অনেকের ২০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত ঘড়ি আছে।
অনেকের আছে তারচেয়েও বেশি। তারা জামা-জুতার সঙ্গে ম্যাচ করে ঘড়ি পরেন। ছেলেদের অনেকে এখন ঘড়ি নিয়ে ফ্যাশন করে। লাক্সারি ওয়াচ বুটিক শপ মোহাম্মদ অ্যান্ড সন্স বাংলাদেশে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘড়ি বাজারজাত করছে। তাদের শোরুমটি তেজগাঁও-গুলশান লিঙ্ক রোডের শান্তা ওয়েস্টার্ন টাওয়ারে। এটি মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান, যারা বিশ^ বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষ সাইকেল রপ্তানিকারক এবং দেশে বিএমডাব্লিউ এবং কিয়া গাড়ির আমদানিকারক। গত বছরের নভেম্বরে পাঁচটি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের ঘড়ি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। সেগুলো হচ্ছে জেনিথ, ট্যাগ হিউয়ার, মন্ট ব্ল্যাঙ্ক, ফ্রেডেরিক কনস্টেন্ট ও মোভাডো।
মোহাম্মদ অ্যান্ড সন্সের জেনারেল ম্যানেজার সাফায়েত চৌধুরী জানান, তাদের ঘড়ির দাম ৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু। সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। চাকরিজীবী ও করপোরেট ক্লায়েন্টরাই মূলত ঘড়ি কিনতে আসেন। তিনি বলেন, বিয়ের গিফট, ফেয়ারওয়েলে ব্যবহারের জন্যও অনেকে আমাদের ঘড়ি কিনেন। আমরা কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে ক্রেতাদের ১২ মাসের কিস্তিতে ঘড়ি কেনার সুবিধা দিচ্ছি। তবে ঘড়ি আমদানিতে উচ্চ হারের শুল্ক বড় বাধা বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ৩৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ শুল্ক বিদ্যমান থাকায় ঘড়ির আমদানি খরচ অনেক বেশি। ঘড়ি এখন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ফ্যাশন অনুষঙ্গ। তাই ঘড়ির ট্যাক্স কমানো উচিত।
স্মার্টফোনের কারণে বিশ্বব্যাপী হাতঘড়ির ব্যবহার এক সময় কমে গিয়েছিল। সেই অবস্থার এখন পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। ডিজিটাল ডিভাইসের আলোর অন্ধকার থেকে চোখের মুক্তি চাইছেন সচেতন মানুষ। সেজন্য বাংলাদেশে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন তাদের লাখ লাখ সদস্যকে স্মার্টফোনের নির্ভরতা কমিয়ে হাতঘড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্ব বাজারেও হাতঘড়ির চাহিদা বেড়েছে।
ফেডারেশন অব সুইস ওয়াচ ইন্ডাস্ট্রির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের ঘড়ি রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে এটি ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। সুইস ঘড়ির শীর্ষ বাজার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী লোকদের শহর হংকংয়ে রপ্তানি বেড়েছে ২১ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ৮ শতাংশ, চীনে ১৪ শতাংশ। বাংলাদেশে এখন বছরে ২০ শতাংশ হারে ঘড়ির বাজার বাড়ছে বলে আমদানিকারকরা জানান।
বিশ্বসেরা গণ্যমাধ্যমগুলোতে সুনির্দিষ্ট ড্রেসকোড রয়েছে। বিবিসি, সিএনএন, সিএনবিসি, ফক্স নিউজ, আল জাজিরা, এনডিটিভিসহ গুরুত্বপূর্ণ টিভি চ্যানেলগুলোতে উপস্থাপকের পোশাকের বিষয়ে একটি নীতিমালা মেনে চলা হয়। উপস্থাপকের ব্যক্তিত্ব ও সংবাদের গুরুত্বে যেমন নজর রাখা হয় তেমনি রুচিশীল ও সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে বেছে নেওয়া হয় টিভি উপস্থাপকদের পোশাক।
বিবিসির আন্তর্জাতিক সংবাদ পাঠকদের তালিকায় রয়েছেন বিশ্বসেরা উপস্থাপক। তাদের মধ্যে হিউ অ্যাডওয়ার্ডস, ফিউনা ব্রুস, র্যাচেল বার্ডেন, জর্জ, জেন হিল পরিচিত মুখ। সিএনএনে খবর পড়েন নাটালি অ্যালেন, গুলেরিমো, ক্রিস্টিন আমানপুর, ব্রুক বেল্ডউইন, ভিক্টর ব্ল্যাকওয়েল, কার্ল আজুজের মতো তারকারা। তারা টিভি উপস্থাপক ও হোস্ট দুই পরিচয়েই জনপ্রিয়।
সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যার খবর ছাড়াও বিভিন্ন সংবাদ বিশ্লেষণমূলক অনুষ্ঠানে তাদের দেখা যায়। বিশ্বজুড়েই বিবিসি দেখা যায়, সে কারণে তারা বেছে নিয়েছেন সারা বিশ্বে স্বীকৃত পোশাক। পুরুষ সংবাদ পাঠকরা পরেন কোট-টাই-শার্ট। কমপ্লিট স্যুটের পাশাপাশি তারা ব্লেজারও বেছে নেন কখনো কখনো। কখনোই চকচকে কোনো রংয়ের বা ডিজাইনের স্যুট পরেন না তারা। একই সংবাদ পাঠক দিনের অন্য সময় সংবাদ পরতে আসেন না। যদি কোনো কারণে আসেন সে ক্ষেত্রে একই পোশাক পরেন না। কব্জির ওপরের অংশ কোনোভাবেই টিভি পর্দায় আনেন না এই সংবাদ পাঠকরা।
স্যুটের নিচে সাদা শার্ট তাদের প্রথম পছন্দ। কখনো যদি ভিতরের শার্ট পরিবর্তন করেন, বেছে নেন এক রঙা শার্ট। সে ক্ষেত্রে পাল্টে পরেন হালকা রঙের স্যুট। টাইয়ের রং বেছে নেন স্যুটের সঙ্গে মানিয়ে। কখনোই ব্লেজার বা স্যুটের নিচে রঙিন শার্ট পরেন না তারা। স্যুটের রঙেও তাদের পরিপাটি মনোভাব প্রকাশ পায়।
ব্যক্তিত্ব বজায় রাখতে নেভি ব্লু, রয়েল ব্লু, ব্ল্যাক, অ্যাশ, চারকল গ্রে, লাইট গ্রে, ট্রু ব্লু- এই রংগুলোই বেশি দেখা যায়। সঙ্গে থাকে চেক টাই অথবা এক রঙা টাই। রাতের প্রধান খবরে লাল ও নেভি ব্লু রঙের টাই বেছে নিতে দেখা যায় বেশি। পুরুষ সংবাদ পাঠকরা সাইড ব্রাশ ও ব্যাক ব্রাশ দুইভাবেই চুল আঁচড়ে থাকেন। অনেকে হেয়ার ¯ন্ডেপ্র ব্যবহার করেন। চশমায় যাদের মানিয়ে যায় তারা কালো ফ্রেমের চশমা পরেন। মেকআপ নেন লাইটিং ও টিভি পর্দায় তাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বিবেচনা করে।
নারী সংবাদ পাঠকদেরও প্রথম পছন্দ থাকে ব্লেজার। বিশ্বজুড়ে স্যাটেলাইট সম্প্রচারে এই পোশাকই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বলে সাধারণত তারা এর বাইরে পোশাক পরেন না। তবে হালফ্যাশনে অনেকে স্যুটের কাটে বৈচিত্র্য এনেছেন। কখনো কখনো ফুলস্লিভ জামাও পরেন তারা। তবে সন্ধ্যা ছয়টা ও রাত দশটার খবরে তারা কমপ্লিট স্যুট বেছে নেন। ফ্যাশনসচেতনতার দিক থেকে তাই বলে পিছিয়ে থাকার পাত্র নন কেউ। নারী সংবাদ পাঠকদের ব্লেজারের নিচে সাদা শার্ট পরতে দেখা যায়।
সকালের সংবাদ বিশ্লেষণের অনুষ্ঠানে কখনো কখনো রঙিন জামা পরেন তারা। চুলের কাটও রাখেন মাননসই। মুখের সঙ্গে মানিয়ে চুলের কাট নেন। চুলে রং করার বিষয়টি একবারে নিষিদ্ধই বলা চলে। কাঁধ পর্যন্ত চুল রাখার ব্যাপারে অধিকাংশ নারী সংবাদ পাঠক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন বিশ্বজুড়ে। পরেন না কোনো উজ্জ্বল ও ভারি জুয়েলারি। আটোসাঁটো কোনো পোশাক বেছে নেন না। বেশির ভাগ সময়ই গলা পর্যন্ত ঢেকে জামা পরেন। ব্লেজারের কাটে ভি শেপ থাকলেও সেটা বেশি নিচে নামান না। ফুল হাতা জামা পরতে দেখা যায় তাদের।
ব্লেজারের সঙ্গে মানিয়ে জামার রং বাছাই করেন। নেভি ব্লু ও রয়েল ব্লু ব্লেজার বেশি পরতে দেখা যায় তাদের। অনেকে সাদা শার্টের ওপর লাল ব্লেজার পরেন। আজকাল বেশির ভাগ নারী সংবাদ পাঠক কনটাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন।
মার্কিন কংগ্রেসের দুই মুসলিম নারী সদস্যের ইসরায়েল সফরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর পর ইসরায়েল আজ বৃহস্পতিবার এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানায়।
ওই দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্য হলেন ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব। গত বছরের নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হন তাঁরা। তাঁরাই প্রথম দুই মুসলিম নারী, যাঁরা মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য হয়েছেন। আগামী রোববার তাঁদের ইসরায়েল সফরে যাওয়ার কথা ছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মার্কিন কংগ্রেসের এই দুই সদস্যের সফরে নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী যাঁরা ইসরায়েলকে বর্জনের আহ্বান জানান, তাঁদের ইসরায়েল সফর করতে দেওয়া হয় না।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রন ডেরমার অবশ্য এই দুই কংগ্রেস সদস্যের ইসরায়েল সফরের ব্যাপারে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। রাষ্ট্রদূত ডেরমার বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অসাধারণ বন্ধুত্ব ও মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি সম্মান জানিয়ে ওই দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যকে ইসরায়েল সফরের অনুমতি দেওয়া হবে।
তবে আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটারে এক বার্তায় বলেন, ‘ওই দুই কংগ্রেস সদস্যকে ইসরায়েল সফরের অনুমতি দেওয়া হলে তা হবে ইসরায়েলের দুর্বলতা। তাঁরা ইসরায়েল ও সব ইহুদিকে ঘৃণা করেন। কোনোভাবেই তাঁদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো যাবে না।’ ট্রাম্পের ওই টুইটার বার্তার পর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার কথা গণমাধ্যমে আসে।
সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিব প্রকাশ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসীবিরোধী এবং মুসলিমবিরোধী নীতির কঠোর সমালোচক বলে পরিচিত। ইলহান ওমর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য ও রাশিদা তালিব মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ইলহান-রাশিদার মতো অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হওয়া নেতাদের প্রতি বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। ট্রাম্প বলেছেন, এ ধরনের আইনপ্রণেতারা তাঁদের পরিবার যে দেশ থেকে এসেছেন, সে দেশে ফিরে যান। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
ভারত-শাসিত কাশ্মীর নিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আজ শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার আলোচনা হবে।
চীনের অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর নিয়ে এই আলোচনা হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদের এক কূটনীতিক বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিষদের ওই কূটনীতিক বলেছেন, একটি চিঠিতে রুদ্ধদ্বার আলোচনার অনুরোধটি জানায় চীন। এই আলোচনায় পাকিস্তানের কোনো প্রতিনিধি থাকবেন না।
বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার হওয়ায় আলোচনার বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে। কোনো গণমাধ্যমে আলোচনার বিষয়বস্তু প্রচারিত হবে না। এমনকি সাংবাদিকদেরও প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না।
নিরাপত্তা পরিষদের ওই কূটনীতিক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবারই বৈঠক হোক—এমনটা চেয়েছিল চীন। কিন্তু এদিন কোনো বৈঠকের শিডিউল ছিল না। তাই বৈঠকটি শুক্রবার হচ্ছে। বৈঠকটি আয়োজনের ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট কাজ করছেন।
সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করে। জম্মু-কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করে কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করে। ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। কাশ্মীর নিয়ে বৈঠক আয়োজনের জন্য তারা নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দেয়। পাকিস্তানের চিঠিতে নিরাপত্তা পরিষদ সাড়া না দেওয়ায় বুধবার চীনের পক্ষ থেকে একই প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে গোপনে পাকিস্তানে গিয়ে একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ায় ভারতের জনপ্রিয় শিল্পী মিকা সিংয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন এ নিষেধাজ্ঞা করে করেছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার করাচিতে এক ধনকুবেরের মেয়ের বিয়েতে নিজের টিম-সহ গান গাইতে গেয়েছিলেন মিকা। অনুষ্ঠানের বিষয়টি গোপন রাখার কথা থাকলেও একটি ছোট্ট ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে চলে আসে। আর এরপরেই বলিউডের এই জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীকে নিয়ে ভারতে নিন্দার ঝড় উঠে। এরই জের ধরে মিকা সিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলো অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন।
তবে কেবল নিষেধাজ্ঞা জারি করেই ক্ষান্ত থাকেনি অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কাস অ্যাসোসিয়েশন। গায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক গোবিন্দের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়িকা শামসুন নাহার শিমলা।
বুধবার মুম্বাই থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ‘ম্যাডাম ফুলি’ খ্যাত এ চিত্রনায়িকা।
এর আগে গোবিন্দের বিপরীতে ‘সমাধি’ নামে কলকাতার বাংলা একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন শিমলা। শিমলার নতুন চলচ্চিত্রটি নির্মাণ হবে হিন্দি ভাষায়; ছবিটি গোবিন্দ প্রযোজনা করলেও তিনি অভিনয় করবেন কি না তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্যের কাজ এগিয়ে চলেছে। এর আগে অল্প বাজেটের দুয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও বলিউডে এটিই হবে তার ক্যারিয়ারের বিগ বাজেটের চলচ্চিত্র।
“গোবিন্দদা’র সঙ্গে আগেও কাজ করেছি আমি। আমাদের আগের ছবিটি ফ্লপ হয়েছিল সেকারণে হিন্দি চলচ্চিত্রটি নিয়ে ভালোভাবে পরিকল্পনা করছি। উনার সঙ্গে আমার কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক করে শিগগিরই শুটিংয়ের তারিখ জানানো হবে।”
বাংলাদেশি অভিনেত্রী হিসেবে হিন্দি ভাষায় কাজের ক্ষেত্রে ‘ভাষাগত’ জটিলতা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।
“কোর্স করে হিন্দি ভাষাটা রপ্ত করেছি। এখনও পুরোপুরি পারি না; চালিয়ে নেওয়া যায় আরকি। তাছাড়া কাজের জায়গাটা প্রায় একই রকম। আমাদের অভিনয়ই তো করতে হয়।”
২০১৮ সালের শুরুর দিকে দেশ ছেড়ে ভারতে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন শিমলা। শুরুর দিকে কয়েকমাস কলকাতায় কাটিয়ে বর্তমানে মুম্বাইয়ের একটি ভাড়া ফ্লাটে বাস করছেন তিনি। মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে বলিউডের ‘সফর’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন তিনি। ছবিটি পরিচালনা করেন বলিউডের তরুণ পরিচালন অর্পণ রায় চৌধুরী।
অর্পণ বলেন, “ছবির শুটিং শেষ হয়েছে। কয়েকমাস আগে শিমলা ডাবিংও শেষ করেছেন। পোস্টার ডিজাইনিং শেষে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি পাঠানোর পরিকল্পনা করছি।”
এর বাইরে বলিউডের সংগীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ীর আরেকটি হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে বলে জানালেন মুম্বাইয়ের মীরা রোডের বাসিন্দা শিমলা।
“বাপ্পী লাহিড়ী এখন আমেরিকায় আছেন। উনি দেশে ফিরলে ছবিটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যাবে। ওই ছবিটি নিয়েও আমি দারুণ আশাবাদী।”
বলিউডে ক্রমেই ব্যস্ত হয়ে উঠা এ অভিনেত্রীকে ঢাকার চলচ্চিত্রে কবে দেখা যাবে?
ঝিনাইদহের শৈলকুপার মেয়ে বললেন, “বাংলাদেশে আমার সব আছে। ভালো কোনো চলচ্চিত্রের অফার পেলেই দেশে ফিরব। অন্যথায় আপাতত দেশের ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই।”
মুম্বাইয়ে পাড়ি জমানোর আগে তরুণ পরিচালক রুবেল আনুশের 'নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প' নামে একটি চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করেছেন। আরেক নির্মাতা রশিদ পলাশের 'নাইওর' নামে আরেক চলচ্চিত্রেও অভিনয় শুরু করেছিলেন এ অভিনেত্রী। কিন্তু প্রযোজকের অভাবে ছবিটি এখনও সম্পন্ন হয়নি বলে জানালেন তিনি।
“তবে ছবিটির জন্য পরিচালক এখনও আমাকে ‘না’ বলেননি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটি এখনও ছাড়িনি।”
১৯৯৯ সালে শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘ম্যাডাম ফুলি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার। প্রথম ছবিতেই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। পরে ‘গঙ্গাযাত্রা’, ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হেড কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। বৃহস্পতিবার কেকেআর জানিয়ে দিয়েছে, আগামী মৌসুমে তার হাতেই থাকবে নাইটদের রিমোট কন্ট্রোল।
২০০৮ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নাইট রাইডার্সে খেলেছেন ম্যাককালাম। আইপিএল-এর প্রথম সংস্করণের প্রথম ম্যাচেই নাইট রাইডার্স-এর হয়ে বিধ্বংসী ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। পরে আবার ২০১২-১৩ সিজনে কেকেআর টিমের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১২ সালে কেকেআর-এর আইপিএল জয়ের টিমেও সদস্য ছিলেন সাবেক এই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটার।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল)-এ ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের (টিকেআর) টিমে খেলেছেন ম্যাককালাম। ২০১৭ ও ২০১৮ সিপিএল চ্যাম্পিয়ন ত্রিনবাগো। কেকেআর-এর নতুন দায়িত্ব নিয়ে ম্যাককালাম বলেন, ‘‘এই দায়িত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় সম্মানের ব্যাপার। আইপিএল ও সিপিএল-এ (ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর দলটা দারুণ।’’
টাইব্রেকারে চেলসিকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপের শিরোপা ঘরে তুলল লিভারপুল। টাইব্রেকারে ট্যামি আব্রাহামের শটটি ঠেকিয়ে অল রেডসদের চ্যাম্পিয়নের মুকুট এনে দেন গোলরক্ষক আদ্রিয়ান।
বুধবার তুরস্কের ইস্তানবুলে ইউরোপের এই সুপার কাপে মুখোমুখে হয় ইংলিশ দুই জায়ান্ট লিভারপুল ও চেলসি।
নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যেখানে ৯৫ মিনিটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে লিভাপুলকে এগিয়ে দেন সেনেগাল তারকা মানে। তবে ১০১ মিনিটে চেলসির জর্জিনহো পেনাল্টি থেকে গোল করলে ২-২ গোলে শেষ করে ব্লুজরা।
টাইব্রেকারে লিভারপুলের পাঁচটি শটেই গোল হয়। তবে চেলসির আব্রাহামের শট বাঁচিয়ে জয়ের নায়ক বনে যান নিয়মিত গোলরক্ষক আলিসনের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া আদ্রিয়ান।
ধর্মে মনোযোগ দিতে ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে অভিনয়কে বিদায় জানালেন আমির খানের সঙ্গে ‘দঙ্গল’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া অভিনয়শিল্পী জাইরা ওয়াসিম।
ভারতের কাম্মীরে জন্ম নেওয়া ১৮ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি লিখেন, “অভিনয় আমাকে মানুষের ভালোবাসা আর সমর্থন দিলেও আমি উপলব্ধি করেছি, অভিনয়ই আমাকে ধীরে ধীরে ধর্মবিশ্বাস থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ধর্মে সঙ্গে আমার সম্পর্ক বিপন্ন হচ্ছে।”
অভিনয় ছেড়ে কোরআনের বিধান মেনে বাকি জীবন কাটানোর কথা জানান তিনি।
দীর্ঘ বিবৃতিতে বলিউডে নিজের অভিনয় শুরুর দিনগুলোর কথাও তুলে ধরে তিনি লিখেন, “পাঁচ বছর আগে আমি আমার জীবনটাকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তারই অংশ হিসেবে আমি বলিউডে পা ফেলেছি। এটি আমার জনপ্রিয়তার দরজা খুলে দেয়। মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিলাম। তরুণদের কাছে রোল মডেল হয়েছিলাম। কিন্তু পাঁচ বছর পর আমি উপলব্ধি করলাম, আমি আসলে এই পরিচয়ে সুখী নই।”
২০১৬ সালে ‘দঙ্গল’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় তার। পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে ভারতের ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড, ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে মুক্তি পায় তার আরেক চলচ্চিত্র ‘সিক্রেট সুপারস্টার’।
চলতি বছরের মার্চে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে ‘দ্য স্কাই ইন পিঙ্ক’ চলচ্চিত্রের শুটিং শেষ করেন তিনি।
আটক ইরানি তেল ট্যাংকার ‘গ্রেস ওয়ান’-এর মুক্তি রহিত করতে জিব্রালটার কর্তৃপক্ষকে শেষ মুর্হতে অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। গত ৪ জুলাই ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিন ভূমধ্যসাগর থেকে তেলবাহী এ ট্যাংকারটি আটক করেছিল। সেটিকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার জানায় ব্রিটিশ মালিকানাধীন জিব্রাল্টার। বিবিসি জানায়, ‘গ্রেস ওয়ান’ কে আটেকে রাখার আদেশ আর নবায়ন করা হবে না বলে জিব্রালটারের এটর্নি জেনারেল ইঙ্গিত দেওয়ার পর ট্যাংকারটি মুক্তি পেতে চলেছিল। ঠিক এ সময়ই যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে ছেড়ে না দেওয়ার অনুরোধ জানাল। জিব্রালটার বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে এ আর্জি জানিয়েছে। এগুলো বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ অনুরোধের ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তেল পরিবহনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের ট্যাংকারটিকে আটকে রাখার জন্য জিব্রালটারের আদালতে আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ট্যাংকারটি আটকে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইরানের তেল রপ্তানি এবং সিরিয়ার তেল আমদানি দুটোই এই ট্যাংকার দিয়ে করা হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইরান এবং সিরিয়া দু’ দেশের প্রশাসনকেই নিষেধাজ্ঞার চাপের রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর সে চেষ্টার অংশ হিসাবেই তাদের হঠাৎ করে ‘গ্রেস ওয়ান’ কে আটকে রাখার এ অনুরোধ। ইরানের ওই ট্যাংকারটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অশোধিত তেল নিয়ে সিরিয়ায় নিয়ে যাচ্ছিল অভিযোগেই এটিকে আটক করা হয়। তবে এরপর ট্যাংকারটি আর সিরিয়ায় যাবে না বলে ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে আশ্বাস পায় জিব্রালটার কর্তৃপক্ষ এবং পর এটিকে ছেড়ে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়। ইরানি ট্যাংকার গ্রেস ওয়ান আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্প্রতি উত্তেজনা অনেক বেড়েছে। ইরান পাল্টা জবাবে যুক্তরাজ্যেরও একটি ট্যাংকার আটক করেছিল। জিব্রালটার গ্রেস ওয়ানকে মুক্তি দিলে যুক্তরাজ্যের ওই ট্যাংকারটিও ইরানের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার দ্বার খুলে যাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু ইরানি ট্যাংকার আটকে রাখার যুক্তরাষ্ট্রের শেষ মুহূর্তের অনুরোধ তা ভেস্তে দিল।
ইতালির ভেনিস শহরে জগদ্বিখ্যাত চওড়া খাল গ্র্যান্ড ক্যানেলের ওপরকার স্টিল ও কাচের তৈরি পিচ্ছিল সেতুটি তৈরির সময় থেকেই সমস্যাশঙ্কুল হওয়ায় এর স্থপতিকে ৭২ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে আদালত।‘পন্টে ডেলা কসতিতুতসিওনে’ নামের এ সেতুটির নকশা তৈরি করেছিলেন স্প্যানিশ স্থপতি সান্তিয়াগো কালভাত্রা। কিন্তু ২০০৮ সালে সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকেই একে ঘিরে বিতর্ক চলে আসছে। সেতুটি একটি ‘আলোর গালিচা’ বলে কেউ হয়েছেন প্রশংসায় পঞ্চমুখ আবার কেউ কেউ এটি দেখতে ‘গলদা চিংড়ির’ মতো বলে সমালোচনাও করেছেন। সেতুটির কাচের সিঁড়ি বেয়ে চলাচলের সময় অনেকেই পিছলে পড়ে আহত হয়েছেন। তাছাড়া, বিকলাঙ্গ মানুষদের জন্য এ সেতু চলাচলের উপযুক্ত নয় বলেও প্রথম থেকেই সমালোচনা হয়ে এসেছে। উপরন্তু বৃষ্টি হলে কিংবা নগরী কুয়াশায় ছেয়ে গেলে সেতুটির কাচের সিঁড়ি আরো পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। শীতকালে ঘন ঘনই এমন হয়। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকা জানায়, এ সব সমস্যার কারণেই এবার ইতালির আদালতের নির্দেশে জরিমানা গুণতে হচ্ছে স্থপতি কালভাত্রাকে। আদালত বলেছে, তার নকশায় ত্রুটি ছিল। তিনি ৩শ’ ফুট দীর্ঘ এ সেতুটির নকশা এবং নির্মাণকাজে হেলাফেলা করেছেন। যদিও একদশক আগে সেতুটি নিয়ে সমালোচনার সময় কালভাত্রা বলেছিলেন, তিনি সেতুটি নকশা করেছেন। কিন্তু সেটির নির্মাণকাজে তার কোনো হাত ছিল না। তবে বিচারকরা বলছেন, সেতুটি চালু রাখতে অনেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে। সেতুর স্টিলের টিউবগুলো খুবই ছোট। আবার কিছু কিছু কাচের সিঁড়ি কমপক্ষে ২০ বছর টেকার কথা থাকলেও টেকেনি। সেগুলোকে এরই মধ্যে বদলাতে হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের চাপে সেতুটির হাল আরো খারাপ হচ্ছে।
সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় গোটা অর্থনীতির উপর বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। সরকারকে পদত্যাগ করে নিরেপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ারও এদিন দাবি জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচিত না হওয়ায় দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশের ক্ষতি করছে, রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছে। এ পথ থেকে মুক্তির একটাই পথ খালেদা জিয়ার মুক্তি দেওয়া। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নেই ওঠে না বলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার দেশের উন্নয়ন, আয়, স্থিতি বেশি বেশি দেখিয়ে উন্নয়নের রোল মডেলের নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করার কৌশল হাতে নিয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ট্যাক্স বসিয়ে চলছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনোয়াগ হচ্ছে না অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এবার চামড়া ব্যবসায় ধস নেমেছে। সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় গোটা অর্থনীতির উপর বিপর্যয় নেমে এসেছে।
আমেরিকা সীমান্তের কাছাকাছি চুকটোকা এলাকায় দুটি টিইউ-১৬০ পরমাণু বোমারু বিমান পাঠিয়েছে রাশিয়া। এটি রাশিয়ার সর্বপূর্ব অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি। যা থেকে বেরিং প্রণালী পার হলেই আমেরিকার আলাস্কা অঙ্গরাজ্য অবস্থিত।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, সোভিয়েত আমলে নির্মিত বোমারু বিমান দুটি ৮ ঘণ্টায় ৬,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চুকটোকা অঞ্চলের সারাটোভ শহরের আনাদির ঘাঁটিতে পৌঁছায়। সেখানে সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে বিমান দুটি। মহড়া চলবে চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে অপারেশনাল এয়ারফিল্ডে সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের অংশ হিসেবে টিইউ-১৬০ বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। টিইউ-১৬০ কৌশলগত বোমারু বিমান হচ্ছে সুপারসনিক বিমান যা ১২টি স্বল্প পাল্লার পরমাণু বোমা বহন করতে এবং কোনো বিরতি ছাড়াই ১২ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে।
সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় রাশিয়া কয়েকবার এই বিমান ব্যবহার করেছে। সাম্প্রতিককালে রাশিয়া টিইউ-১৬০ বিমানের সংস্কার করেছে, যার ফলে আগের চেয়ে এ বিমান এখন আরো বেশি কার্যকর ও ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রেডিও তেহরান
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে ভারতের পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অভিযোগ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে এবং আমরা এরই মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির দুটি সভা করেছি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পুরোপুরিভাবে অবহিত। আমরা প্রতিটি ইটের জবাব দেব পাথর দিয়ে।ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার পর প্রথমবারের মতো গতকাল বুধবার আজাদ কাশ্মীর পরিদর্শনে যান ইমরান খান। তিনি কাশ্মীরিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সেখানকার পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। ইমরান খান আরও বলেন, পাকিস্তানের ভেতরে ভারতের যেকোনো পদক্ষেপের শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেবে পাকিস্তান। ভারতের এইসব কর্মকাণ্ড কাশ্মীরেই শেষ হবে না। এই ঘৃণাপূর্ণ আদর্শ পাকিস্তানের দিকেও ধাবিত হবে।ভারতকে উদ্দেশ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তথ্যমতে- পুলওয়ামা হামলার পরে বালাকোটে তারা যেমন পদক্ষেপ নিয়েছিল, তার চেয়ে বেশি ভয়াবহ পরিকল্পনা নিয়েছে এখন। দখলীকৃত কাশ্মীর থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে দিতে তারা এখন আজাদ কাশ্মীরের দিকে নজর বাড়াতে চায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে ইমরান খান বলেন, “আপনার জন্য এটা আমার বার্তা: আপনি অ্যাকশনে যেতে পারেন এবং এর প্রতিটিরই পাল্টা জবাব দেয়া হবে। সেনাবাহিনী প্রস্তুত। শুধু সেনাবাহিনীই নয়, পুরো জাতি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি যুদ্ধ করবে। মুসলিমরা যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে তখন তারা বিশ্বের বিশাল ও সেরা সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছে। আপনারা যা করবেন তার জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। আমরা প্রতিটি ইটের জবাব দেব পাথর দিয়ে। এর আগে কাশ্মীরিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে ইমরান খান আজাদ জম্মু কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদে যান। সেখানে তিনি বলেন, "পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে আমি আমার কাশ্মীরি ভাই ও বোনদের সঙ্গে অবস্থান করছি। তিনি সিরিজ টুইটও করেছেন। তিনি বলেন, যদি এ ইস্যুতে যুদ্ধ হয় তাহলে তার জন্য দায়ী থাকবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।" তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো, যাদেরকে যুদ্ধ থামানোর জন্য গঠন করা হয়েছিল, তাদের প্রতি আমার বার্তা হলো- যদি যুদ্ধ হয় তাহলে আপনারা দায়ী থাকবেন। তবে ইমরান খান একথা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। এতে বরং আরও সমস্যার সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক রক্ষা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু আলোচনায় ভারতের কোনোই আগ্রহ নেই। তাদের একটিই আগ্রহ তাহলো, পাকিস্তানকে শিক্ষা দেয়া। তাদের অন্তর ঘৃণায় ভরা। নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কোনো ভ্রান্ত ধারণার ওপর থাকবেন না। আপনি একটি আইন পাস করেছেন বলে মনে করবেন না কাশ্মীরিরা পরাজয় বরণ করে নিয়েছে বরং তা লড়াইকে আরো কঠোর করেছে। তাদের ভয় চলে গেছে। আমরা দেখেছি, তারা রাস্তায় বেরিয়ে এসেছেন। শুধু সাহসী জাতিই এভাবে বেরিয়ে আসতে পারে। মোদি, আপনি কাশ্মীরিদের ক্রীতদাস বানাতে পারেন না। পাকিস্তানকে শিক্ষা দেয়ার জন্য আজাদ কাশ্মীর নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে আপনার। কিন্তু প্রস্তুত হোন। আমি আবার বলছি, আপনার প্রতিটি পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দেব আমরা। এখন সময় এসেছে আপনাকে শিক্ষা দেয়ার।"সূত্র: রেডিও তেহরান
কাশ্মীর নিয়ে দু'দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ ভারতীয় সেনা ও তিন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর এক টুইটার বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর দ্য ডনের তবে, তিন পাকিস্তানি নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ৫ ভারতীয় সেনা নিহতের বিষয়ে পাকিস্তানের দাবি অস্বীকার করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। খবর ইন্ডিয়া টুডের এদিকে, নিহত পাকিস্তানি সেনাদের পরিচয় প্রকাশ করেছে দ্য ডন। তারা হলেন নায়েক তানভির, ল্যান্স নায়েক তৈমুর ও সিপাহি রমজান।টুইট বার্তায় আসিফ গফুর জানান, জম্মু-কাশ্মীর পরিস্থিতি অন্য দিকে নিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী উসকানিমূলকভাবে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি ছোড়ে। এতে আমাদের তিন পাকিস্তানি সেনা শাহাদত বরণ করেছেন। এ ঘটনার পাল্টা জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। এতে ভারতের ৫ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেক। এ ছাড়া একাধিক বাঙ্কার ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে সীমান্তে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে বলেও টুইট বার্তায় উল্লেখ করেন।
ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী একটি পিকনিকের বাস ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লেগে সাতজনের প্রাণ গেছে; এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২১ জন। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি মো. শাহজাহান খান জানান। নিহতদের মধ্যে দুই জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন ফেনীর ছাগলনাইয়ার শাহাদাত ও ঢাকার বিক্রমপুরের সুজন মিয়া। কক্সবাজারগামী একটি পিকনিকের বাস বৃহস্পতিবার সকালে ফেনীর লেমুয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনায় পড়ে। ওসি শাহজাহান বলেন, ঢাকার মিরপুর থেকে ‘প্রাইম প্লাস’ পরিবহনের পিকনিকের বাসটি কক্সবাজারে যাচ্ছিল। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মহাসড়কে পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় বলে জানান তিনি। পরে হাসপাতালে একজনের আরও একজনের মৃত্যু হয় বলে ফেনী হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের নায়েক মাইদুল হক জানান। ফেনীর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আবু তাহের পাটোয়ারী বলেন, আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দশজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।ঘটনার বর্ণনায় পিকনিকের আয়োজক মিরপুরের পাপ্পু জানান, ঈদের ছুটি উপলক্ষে মীরপুরের বাসিন্দারা স্থানীয়ভাবে কক্সবাজার ও বান্দরবান যাওয়ার আয়োজন করে। সে অনুযায়ী চাঁদা সংগ্রহ শেষে বুধবার রাত ২টার দিকে মিরপুর থেকে দুইটি বাস কক্সবাজারের উদ্যোশে রওনা হয়। তার মধ্যে একটি বাস ফেনীতে দুর্ঘটনায় পড়ে; তবে অন্য বাসটি কক্সবাজারে পৌঁছায় বলে জানান তিনি। আহতদের মধ্যে রুমা আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, ভোরে যাত্রা বিরতির সময় কোন একটি রেস্তোরাঁয় যাত্রীরা সবাই নাস্তা করে। পরে সবাই বাসে উঠে ঘুমিয়ে পড়ার পর বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে।
Back To Top