![]() |
| বিশ্বকাপ থেকে নিজের পাওনাটা বুঝেই তবেই বিদায় নিয়েছেন টেন্ডুলকার। ফাইল ছবি |
১৯৯২ সালে শুরু, থেমেছেন বিশ্বকাপের ছোঁয়া পেয়ে; ঘরের মাঠে ২০১১-এর বিশ্বকাপে। ক্যারিয়ারে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন টেন্ডুলকার। এক জাভেদ মিয়াঁদাদ ছাড়া আর কারও সৌভাগ্য হয়নি এতগুলো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার। শুধু এ রেকর্ডটিই মিয়াঁদাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন টেন্ডুলকার। বাদবাকি রেকর্ডগুলো সব ডন ব্র্যাডম্যানের ৯৯.৯৪ টেস্ট গড়ের মতো। যেদিকে ঈর্ষা নিয়ে তাকানো যায়, কিন্তু বাস্তবে অস্পৃশ্য মনে হতে বাধ্য।
বিশ্বকাপে মোট ৪৫টি ম্যাচ খেলেছেন টেন্ডুলকার। তাতে ৫৬.৯৫ গড়ে ২২৭৮ রান করেছেন! রেকর্ডটির মহিমা বুঝতে ছোট একটি তথ্য দেওয়া যাক। বিশ্বকাপ ইতিহাসে টেন্ডুলকারের পরে যিনি আছেন, এক ম্যাচ বেশি খেলেও রান ৫২৫ কম! অস্ট্রেলিয়ার সর্বজয়ী অধিনায়ক রিকি পন্টিং পাঁচ বিশ্বকাপে ৪৬ ম্যাচ খেলে ১৭৫৩ রান করেছেন। পন্টিং অবশ্য এর বদলা নিয়েছে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি পন্টিংয়ের কাছেই খোয়াতে হয়েছে টেন্ডুলকারকে, না হলে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটিও তাঁরই থাকত।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই যিনি সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিও যে তাঁর, এতে আর আশ্চর্যের কী! ৪৫ ম্যাচে ছয়টি সেঞ্চুরি টেন্ডুলকারের। এ ক্ষেত্রে টেন্ডুলকারের কাছাকাছি আসতে পেরেছিলেন পন্টিং ও কুমার সাঙ্গাকারা। ২০১৫ বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে চার সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড করে সাঙ্গাকারা টেন্ডুলকারকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন। কে জানে, শ্রীলঙ্কার দৌড় কোয়ার্টার ফাইনালে না থামলে হয়তো টেন্ডুলকারের রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারতেন
এই বিশ্বকাপে খেলছেন এমন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সম্ভাবনা আছে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডকে স্পর্শ করার। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, অতিমানবীয় একটি আসর না কাটলে অন্তত এই বিশ্বকাপে টেন্ডুলকারকে ধরতে পারছেন না কেউ। রেকর্ডটি ছুঁতে হলে অন্তত চারটি সেঞ্চুরি করতে হবে শিখর ধাওয়ান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, হাশিম আমলা, বিরাট কোহলি ও ক্রিস গেইলকে!
ছয় সেঞ্চুরির পাশাপাশি ১৫টি হাফ সেঞ্চুরিও আছে ‘লিটল মাস্টারের’ দখলে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯টি ফিফটি আছে জ্যাক ক্যালিসের। এই বিশ্বকাপে খেলছেন এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে শচীনের কাছাকাছি আছেন ক্রিস গেইল। তাঁর ফিফটির সংখ্যা? মাত্র চারটি!
![]() | ||||||||
| বিশ্বকাপে ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়ার পর গেইল। ফাইল ছবি |
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি চারও এসেছে শচীন টেন্ডুলকারের ব্যাট থেকে। মোট ২৪১টি চার মেরে দুইয়ে থাকা রিকি পন্টিংয়ের চেয়ে এগিয়ে আছেন পাক্কা ৯৬ ব্যবধানে! সর্বোচ্চ ছয়ের রেকর্ডটি অবশ্য করতে পারেননি টেন্ডুলকার, ৩৭টি ছয় নিয়ে এই রেকর্ডের যৌথ ভাগীদার ক্রিস গেইল ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। তবে বাউন্ডারি থেকে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান তোলার রেকর্ড ঠিকই তাঁর। ২৪১ চারের পাশাপাশি ২৭টি ছয়; ১১২৬ রান কেবল বাউন্ডারি থেকেই তুলেছেন টেন্ডুলকার!
বিশ্বকাপে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছয় মেরেছেন ক্রিস গেইল। গত বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরিটি করার পথে ১৬টি ছয় মেরেছিলেন। আর এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি চার মারার রেকর্ডটি অন্য ডাবল সেঞ্চুরিয়ানের। গত বিশ্বকাপেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ইনিংসটি (২৩৭*) খেলার পথে ২৪টি চার মেরেছিলেন গাপটিল।
![]() |
| এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি এখন গাপটিলের। ফাইল ছবি |
বিশ্বকাপে কমপক্ষে এক হাজার রান করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ গড়ের মালিক ডি ভিলিয়ার্স। ২৩ ম্যাচে ৬৩.৫২ গড়ে ১২০৭ রানের মালিক ডি ভিলিয়ার্স। হুট করে অবসর না নিয়ে ফেললে এই বিশ্বকাপেও নিশ্চিতভাবেই প্রোটিয়া দলে থাকতেন। আর এতে করে টেন্ডুলকারের একটি রেকর্ডও বেঁচে গেছে। মাত্র ২৩ ম্যাচেই যে চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন এবি।





Post A Comment:
0 comments so far,add yours